Breaking News

দ্যা ভ্যাম্পার কিং। পর্ব -৫



ইওবার্ড পুরো ভ্যাম্পায়ার রাজ্যে তল্লাশি এবং সন্দেহভাজন ভ্যাম্পায়ারদের হত্যার নির্দেশ জারি করলেন।
সেনাপ্রধান তার সৈন্য বাহিনী নিয়ে ছড়িয়ে পড়লেন পুরো ভ্যাম্পায়ার রাজ্যে।
ইওবার্ড বসে বসে ভাবছে, কে ভ্যাম্পায়ার ডাইরী চুরি করে দুঃসাহসিকতার পরিচয় দিচ্ছে?
কোনো সাধারণ ভ্যাম্পায়ারের পক্ষে এই দুঃসাহসিকতা দেখানোর কথা নয়।
চার্লসের ছেলেরা অথবা রাজ মহলের বিশ্বস্ত কেউ জড়িত।
ভাবনার জগতে কিছুক্ষণ ঘুরপাক খাবার পর ইওবার্ড এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলো যে,
‘রাজ মহলের দায়িত্বে থাকা সকলের তল্লাশি করাটা প্রয়োজন।’
ইওবার্ড বার্তাবাহককে নির্দেশ দিলো সেনাপ্রধান এবং তার দলবলকে রাজ দরবারে হাজির করতে।
সেনাপ্রধান এবং তার দলবল রাজ দরবারে হাজির হতেই ইওবার্ড পুরো মহলে সবাইকে জড়ো করল।
কিছু প্রহরী দ্বারা সকল কক্ষে তল্লাশি চালালেন।
কিন্তু কোনো কাজে আসলো না, ভ্যাম্পায়ার ডাইরী পাওয়া গেল না।
প্রহরীদের দিয়ে এরপর রাজ দরবারের দায়িত্বে থাকা প্রতিটা ব্যক্তির পরিধেয় পোশাকে তল্লাশি চালানো হলো,
এমন কী সেনাপ্রধানেরও।
এতে সেনাপ্রধান ক্ষুব্ধ হলেন,
তিনি নিজের পদবিটা ভুলে গিয়ে ইওবার্ডকে একটা বিদঘুটে প্রশ্ন করে বসলেন।
“ইওবার্ড আমি তোমার থেকে বয়সে অনেক বড়।
নবীন রাজারা হুট করে যখন যা ইচ্ছে করতে পারে না। আমি বয়সে তোমার থেকে নিম্নে পাঁচ গুণ বড়।
তিন প্রজন্মের সুরক্ষা আমি নিশ্চিত করেছি। আমার উপর সন্দেহ করার কোনো অবকাশ নেই।
এই অবধি তিন রাজার এক রাজাও কখনো আমাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেননি। কিন্তু আজ তুমি করলে!
পুরো রাজ দরবারের সবার সামনে! ’’
ইওবার্ডের চোখে চোখ রেখে মোটা তীক্ষ্ণ গলায় কথাগুলো বললেন সেনাপ্রধান।
শরীরে তাঁর অজস্র রাগ! রাগ কোনো মতে নিয়ন্ত্রণ করে তিনি ইওবার্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।
ইওবার্ড বুঝতে পাড়ল এখন যদি সে সেনাপ্রধানের সাথে দুর্ব্যবহার করে তাহলে রাজ্যের মানুষ তার পক্ষ হয়ে
আর লড়বে না। সে জনমত হারাবে। তাকে এখন সেনাপ্রধানের সামনে মাথা নত করতে হবে।
গণতন্ত্র কথা বলে! যে চুরি করে সে চোর নয়, যে ধরা পড়ে সেই হলো চোর।
এই নীতির উপর বিশ্বাস রেখেই ইওবার্ড এখন মাথা নত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
.
.
ইওবার্ড হুট করে হাঁটু গেঁড়ে বসে পড়ল। মাথা নিচু করে সে বলল,
‘মাননীয় সেনাপ্রধান ক্ষমা করবেন আমাকে। আমি বুঝতে পারিনি ।
আসলে ভ্যাম্পায়ার ডাইরী চুরি হবার কারণে আমি খুবই চিন্তিত।
চিন্তা মগজকে দুর্বল করে ,হরমন নিসরণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে এক সাথে মগজে অসংখ্য ভাবনার জন্ম হয় ।
কোনটা রেখে কোনটা করবে বুঝতে পারে না। আমার সাথেও তেমনি ঘটে। যার ফলে পুরো রাজ দরবারের
সবাইকে সমবেত করি এবং তল্লাশির মতো নিচু হীনমানসিকতার কাজ করে বসি।
ক্ষমা করবেন আমাকে। নতুন রাজা আমি। আমিই তো ভুল করব এখন!
আপনারা ভুলগুলো না ধরিয়ে দিলে রাজ্যের জন্যে কাজ করব কী করে?’
রাজ দরবারে উপস্থিত সবাই সমস্বরে বলতে লাগলেন, ‘আপনি হলেন দ্বিতীয় চার্লস।
আপনার ভুলগুলো পাপ নয়, বরং সু-মিষ্ট পানির মতো পবিত্র।’
সেনাপ্রধান ডান হাত উপরে তুলে বললেন, ‘চার্লস একজনই।
প্রবীণ নবীন কোনো ভ্যাম্পায়ারের সাথেই চার্লসের তুলনা হয় না। মাননীয় বাদশা উঠে দাঁড়ান।’
ইওবার্ড উঠে দাঁড়াল। সেনাপ্রধান আলিঙ্গন করে বললেন, ‘আমাদের মহামান্য রাজা চার্লসের মতো
হতে চাচ্ছেন, এটা আমাদের জন্যে কল্যাণকর ; শুধু আমাদের জন্যে নয় বরং পুরো ভ্যাম্পায়ার জাতির জন্যে। ’
সেনাপ্রধান ইওবার্ডের কানের কাছে নিজের মুখটি নিয়ে বললেন, ‘রাজনীতি আমরাও পারি।’
ইওবার্ড সেনাপ্রধানের কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল, ‘আপনি স্বশিক্ষিত রাজনীতিবিদ আর আমি শিক্ষিত রাজনীতিবিদ, পার্থক্য এখানে।’
.
একটা বলে ইওবার্ড একটা টানা হাসি হাসল।
“প্রথম প্র্রথম বসন্তের ছোঁয়ায় যৌবনে সদ্য পা রাখা যুবক, যুবতীরাও অনেক কিছু করে।
কিন্তু পরের বসন্তে আর সেই আবেশটা থাকে না।
’’ ইওবার্ডের পিঠে চাপড় মেরে সেনাপ্রধান হেঁটে রাজ দরবার থেকে প্রস্থান করলেন।
ইওবার্ডের মুখে থাকা টানা হাসিটা এখন আর নেই। এখন তার মুখটা মলিন হয়ে আছে।
হুট করে ইওবার্ডের মগজে একটি বাক্য উচ্চারিত হলো, ‘রাজনীতিতে শিক্ষা নয় অভিজ্ঞতাই মুখ্য। ’
.
ভ্যাম্পায়ার ডাইরী হাতে না পেয়ে ইওবার্ড অন্য উপায় ভাবল।
“পৃথিবীতে যাবার পথ ভ্যাম্পায়ার ডাইরী থেকে আমি পড়েছি।
কেবল মাত্র অমরত্ব এবং অলৌকিক শক্তি লাভের উপায়টি জানা নেই।
আগে পৃথিবী দখল করব, তারপর ভ্যাম্পায়ার ডাইরীর সন্ধান করব।
আমার রাজ্যে নিশ্চয়ই চার্লসের পুত্রদের খবরী রয়েছে।
আমি হায় হুতাশ করলে চার্লসের পুত্ররা আমার উপর আক্রমণ করার সুযোগ পাবে।
সাবধানে আমাকে সব করতে হবে।’’
ইওবার্ড সৈন্যদের প্রস্তুত হবার নির্দেশ দিলেন। বারো ঘণ্টার ভেতর তারা পৃথিবীতে আক্রমণ করবে।
.
.
“নীল, তুমি এমন হতাশায় ভুগছ কেন? হঠাৎ কী হলো তোমার?’’ নীলকে প্রশ্ন করল অনিশা।
“জানি না! কেমন জানি লাগছে। মনে হচ্ছে বিশাল এক ভয়ানক সৈন্য দল পৃথিবীর দিকে তেড়ে আসছে। ভূমির নিচ থেকে তারা ভূমির উপর আসছে।’’
.
.
কাজের ফাঁকে এই ক’দিনে নীলান্তিকার সাথে সেই নতুন ছেলেটার বেশ ভাব জমেছে।
নীলান্তিকা জানতে পাড়ল ছেলেটার নাম ইভান।
আজ হঠাৎ নীলান্তিকা ইভাবনকে সেই রক্ত শূন্য লাশের সাথে কাটানো রাত এবং পরবর্তীতে সেই
রক্ত শূন্য লাশটাকে জীবিত দেখার ঘটনা সংক্ষেপে বলল। ইভান সবটা শুনে বলল,
‘তোমাকে বিশ্বাস করি, ঘটনাটাও সত্য ধরছি। যদি এমনি ঘটে থাকে তাহলে সেই রক্ত শূন্য ব্যক্তিটা সাধারণ
কোনো জীব নয়। তুমি বলেছ, তুমি তার মুখ থেকে ভ্যাম্পায়ার কিং ফিরে আসবে এই কথাটা শুনেছ।’
“হ্যাঁ, তবে ভ্যাম্পায়ার কী আমার জানা নেই।’’
.
ইভান আশপাশ দেখে নিলো। নীলান্তিকার খুব কাছে নিজের মুখটা এনে বলল,
‘ভ্যাম্পায়ার অর্থাৎ রক্ত চোষক প্রাণী। যে প্রাণীর খাদ্য হলো রক্ত।
যাদের চোখের দৃষ্টি সাধারণের তুলনায় অনেক বেশি। এরা আঁধারে দেখে,
এদের দেহের শক্তি মানব তুলনায় দশ থেকে বারো গুণ বেশি। এদের চোখ হয় শীতল,
চোখে কোনো মায়া থাকে না। শরীর হয় পেশি বহুল।’
নীলান্তিকা আনমনা হয়ে বলল, ‘তার মানে তুমি ভ্যাম্পায়ার?’
ইভান কিছু বলার আগেই নীলান্তিকা আবারও বলতে লাগল, ‘দুঃখিত!
মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে। তোমার চোখগুলো শীতল তো তাই আরকি…!’
নীলান্তিকা আর কিছু বলতে পারল না, ইভান বলল, ‘আমি আসলেই ভ্যাম্পায়ার।’
নীলান্তিকার কিছুক্ষণের জন্যে স্তব্ধ হয়ে গেলো।
বড় বড় চোখে সে ইভাবনের দিকে চেয়ে আছে।
ইভান নীলান্তিকার হাত ধরে টেনে অফিস থেকে বাহিরে নিয়ে আসলো।
নীলান্তিকা ভয়ে কিছু বলতে পারছে না। অফিস থেকে মিনিট পাঁচেক দূরে একটি
দালানে নীলান্তিকাকে নিয়ে আসলো ইভান। নীলান্তিকা চিৎকার দিতে চাইল কিন্তু ভয় তার
গলাটা শক্ত করে চেপে ধরে আছে। একটা রুমের ভেতর এনে ইভান বলল,
‘ভয় পাবার কিছুই নেই। আমি তোমার কোনো ক্ষতি করব না।’
ইভান একটু থামল, কিছুটা ইতস্তত করে সে বলল, ‘আমি তোমাকে পছন্দ করি!
তোমার কোনো ক্ষতি করব না। ওদিন সেই বৃদ্ধ লোকটা….
দুঃখিত ভ্যাম্পায়ারকে আমার ভাই হত্যা করে। কিন্তু সে বেঁচে গেল,
তাই তুমি পরবর্তীতে তাকে পথে দেখতে পাও। ’
নীলান্তিকা আচমকা ইভানকে প্রশ্ন করল, ‘ ভ্যাম্পায়াররা কোথায় থাকে?’
“মাটির শত ফুট গভীরে।’’
“তাহলে তুমি এখানে কী করছ? বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য আছে নিশ্চিয়ই।’’
ইভান একটা গাল হাসল, হেসে সে বলল, ‘সাংবাদিকরা যেকোনো পরিস্থিতিতে প্রশ্ন
করার স্বভাবটা ছাড়বে না।’
নীলান্তিকা আর কিছু বলল। ইভান নীরবতা ভেঙে বলল, ‘নিজ জন্মভূমি ছেড়ে প্রাণ
রক্ষার্থে পৃথিবীতে আশ্রয় নিয়েছি। ’
নীলান্তিকা জোর গলায় বলল, ‘তার মানে তো আপনি এবং আপনার ভাই অপরাধী।’
ইভান হেসে বলল, ‘আমি ইভান, চার্লসের বড় ছেলে। আর আমার বাবা ছিলেন
পুরো ভ্যাম্পায়ার জগতের সকলের প্রিয় রাজা।’
“ছিলেন? তারা মানে তিনি মারা গেছেন?’’
“হ্যাঁ, আমার চাচা এবং আমার বাবার দেহ রক্ষী কিছু সৈন্য নিয়ে বাবাকে হত্যা করেছে।
আমাকে এবং আমার ভাইকেও হত্যা করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা পালিয়ে পৃথিবীতে চলে আসি, আশ্রয় নেই। ’’
.
.
রাজ দরবারে ইওবার্ডের সামনে হাজির হলো এক বৃদ্ধ ভ্যাম্পায়ার।
ইওবার্ড বৃদ্ধ ভ্যাম্পায়ারকে চিনতে পেরেছে।
তার খবরী, যে কিনা চার্লসের পুত্রদের পেছনে গিয়েছিল।
বৃদ্ধা ইওবার্ডকে বললেন, ‘চার্লসেরা পুত্ররা পৃথিবীতে অবস্থান করছে।
পৃথিবীতে যাবার পথ আমি….’
তিনি আর কিছু বলতে পারলেন না।
ইওবার্ড তাকে থামিয়ে দিয়ে বলল, ‘আমি পৃথিবীতে যাবার পথ জানি।’
চলবে……

No comments