Breaking News

দ্যা ভ্যাম্পার কিং । পর্ব -৭ এবং শেষ



ইহক এসে ইভানকে বলল, ‘ইওবার্ড তার সৈন্যদল নিয়ে পৃথিবীতে হামলা করেছে।’
“ওদের দ্রুত থামাতে হবে।’’
নীলান্তিকাকে রেখে ইভান ও ইহক জঙ্গলের দিকে ছুটে গেল। তাদের পেছন পেছন নীলান্তিকাও ছুটে গেল।
“আমাদের সাথে এসো না। বিপদে পড়বে।’’ নীলান্তিকাকে বলল ইভান।
“আমাকে মানুষ করো।’’
“সামনে বিপদ আর তুমি এখন মানুষ হওয়ার জন্যে বাচ্চাদের মতো বায়না ধরেছ। ভ্যাম্পায়ার একবার হলে আর মানুষ করা যায় না।’’
জঙ্গলে এসে তারা পৌঁছাল। চারিদিকে ভ্যাম্পায়ার আর ভ্যাম্পায়ার।
ইভান আর ইহক সৈন্য ভ্যাম্পায়ারদের মারতে শুরু করল।
বিশাল এই সৈন্য দলকে তারা কিভাবে পরাজিত করতে তা তারা জানে না।
এই বিশাল সৈন্য দলকে হারানোর সম্ভাবনা খুবই কম। যতক্ষণ গায়ে জোর আছে তারা লড়ে যাবে।
নীলান্তিকা চুপচাপ দাঁড়িয়ে যুদ্ধ দেখে যাচ্ছে।
সে জানে সেও মানব ভ্যাম্পায়ার। তার মধ্যেও ইভান ও ইহকের মতো ক্ষমতা রয়েছে।
তবে সে পারদর্শী নয়, যদি হতো তাহলে সে অবশ্যই তাদের সাহায্য করত।
আচমকা একটা ভ্যাম্পায়ার নীলান্তিকার দিকে তেড়ে আসতে লাগল। নীলান্তিকা উল্টো দিকে দৌড় দিতে লাগল।
হঠাৎ সে অনুভব করল সে বাতাসে ভাসছে। পেছন ফিরে সে তাকিয়ে দেখে তার পিঠে এক জোড়া ডানা।
কিন্তু পেছনে সেই ভ্যাম্পায়ারটা উড়ে আসছে। নীলান্তিকা ঘুরে ভ্যাম্পায়ারটাকে লাথি মারল।
সাথে সাথে ভ্যাম্পায়ারটি ধপ করে জমিনে পড়ে গেল।
নীলান্তিকা নিজের দেহে অশুড়ে শক্তি অনুভব করল।
যেন দশ থেকে বারোজন শক্তিশালী যুবকের শক্তি তার শিরার সঞ্চলিত হচ্ছে।
সেও সৈন্য ভ্যাম্পায়ারদের হত্যায় নেমে পড়ল।
.
ইভান ইহককে বলল, ‘ভাই, ইওবার্ডকে ধরতে করে। তাকে পরাজিত করতে পারলেই হলো। ’
“কিন্তু নিকটে যাওয়াই তো প্রায় অসম্ভব।’’
“আমি তোকে নিরাপত্তা দিচ্ছি। তুই গিয়ে ইওবার্ডের সাথে যুদ্ধ কর।’’
ইহক ইওবার্ডের দিকে এগিয়ে যেতে লাগল আর ইভান ইহকের দিকে তেড়ে যাওয়া ভ্যাম্পায়ারগুলোকে মেরে চলেছে। আচমকা ইভানের বুকে একটি ভ্যাম্পায়ার ঘুষি মারল। ইভান ছিটকে দূরে গিয়ে পড়ল।
একে একে আরো অনেক ভ্যাম্পায়ার ইভানকে মারতে লাগল। ইভান পাল্টা আক্রমণ করতে পারছে না।
ইভানের চারিদিকে থাকা ভ্যাম্পায়ারগুলোকে আচমকা কেউ এসে মারত লাগল।
ইভানের দৃষ্টি স্থির হতেই সে দেখতে পেলো সেনাপ্রধান!
সেনাপ্রধান ইভানের দিকে হাত এগিয়ে দিল। ইভান সেনা প্রধানের হাত ধরে উঠে দাঁড়াল।
সেনাপ্রধান ইভানের পিঠে চাপড় মেরে বললেন, ‘ঠিক আছ তো?’
ইভান হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ালো। সেনাপ্রধান তার বাহিনী নিয়ে ইভানের পক্ষে যুদ্ধ করতে লাগল।
অপর দিকে ইহক ইওবার্ডের কাছে পৌঁছে গেল।
“ভাই, তো এসে গেলে তুমি।’’ ইহককে উদ্দেশ্য করে বলল ইওবার্ড।
“দেখ ভাই যুদ্ধ থামা। নই আমি তোকে মারতে বাধ্য হবো।’’
ইওবার্ড এক গাল হাসল। ইওবার্ডের পাশ থেকে কয়েকজন ভ্যাম্পায়ার ইহকের দিকে এগিয়ে যেতে লাগল।
.
.
নীল আচমকা ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। সে হেঁটে কোথাও যাচ্ছে।
অনিশা পেছন থেকে কয়েকবার নীল বলে ডাক দিল কিন্তু নীল সাড়া দিল না।
সে দ্রুত পায়ে কোথাও এগিয়ে যাচ্ছে। মিনিট দশেক পর অনিশা বুঝতে পাড়ল নীল জঙ্গলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অনিশা গিয়ে নীলের হাত ধরে টানতে লাগল, থামাতে চাইল সে।
কিন্তু কোনো কাজ হলো না। নীল যেন তার নিজের ভেতর নেই।
সে যেন এখন অন্য কেউ। বিচিত্র দুনিয়ার কোনো শব্দই যেন তার কানে পৌঁছাচ্ছে না।
নীলের সাথে জঙ্গলের ভেতর প্রবেশ করতেই অনিশা থমকে দাঁড়াল।
চারিদিকে বিচিত্র কিছু প্রাণী দৌড়ে বেড়াচ্ছে।
অনিশা ভয় পেয়ে নীলের হাত জড়িয়ে ধরল।
কিছু সংখ্যক ভ্যাম্পায়ার নীলের দিকে তেড়ে আসলো।
কিন্তু নীলের সামনে এসে তারা থমকে দাঁড়াল। বিপরীত দিকে তারা চলে গেল।
নীল বরাবর ইওবার্ডের দিকে এগিয়ে গেল।
দূর থেকে নীলকে দেখে সেনাপ্রধান এবং ইভান তার দিকে এগিয়ে গেল।
সেনাপ্রধান অভিবাদন জানিয়ে বললেন, ‘ পূর্ববর্তী সেনা প্রধান আপনি বেঁচে আছেন?’
নীল হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ালো।
একে একে সকল ভ্যাম্পায়ার নীলকে দেখে দাঁড়িয়ে গেল।
সাময়িক ভাবে যুদ্ধ থেমে গেল। ইওবার্ড এখন সৈন্য বিহীন। পরাজিত হলো সে।
.
.
অনিশা জানতে পারল নীল হলো ভ্যাম্পায়ার জগতে পূর্ববর্তী সেনাপ্রধান।
চার্লসের রাজ্যত্ব কালে নীল ছিল সেনাপ্রধান। তখন চার্লসের পর সবাই নীলকে মান্য করত।
সেই সুবাদে আজকের যুদ্ধে সকল ভ্যাম্পায়ার নীলকে দেখে সম্মান দেখিয়ে থেমে যায়।
“তা হঠাৎ তুমি ভ্যাম্পায়ার রাজ্য থেকে কোথায় চলে যাও?’’ নীলকে প্রশ্ন করল ইভান।
“চার্লসকে হত্যা করার পর আমাকেও হত্যা করার চেষ্টা করা হয়।
তারা অনেকাংশে সফলও হয়। আমাকে মৃত ভেবে আমার লাশ নদী ভাসিয়ে দেওয়া হয়।
নদী পথ গুহা অবধি আসে।
সেখানে আমার জ্ঞান ফেরার পর আমি গুহা পার করে পৃথিবীতে চলে আসি।
তবে দুঃখের বিষয় হলো অতীতের কোনো কথাই স্মরণে ছিল না।
আমি যেহেতু অর্ধ মানব ভ্যাম্পায়ার ছিলাম সেহেতু সহজেই আমি পৃথিবীর আবহাওয়ার সাথে
নিজেকে খাপ খাওয়িয়ে নেই। নতুন একটা জীবন শুরু হয়। চাকরি পাই, বিয়ে হয়।
ভুলে যাই অতীতের সবটা। কিন্তু এই ক’দিনে সব কিছু ধীরে ধীরে স্মরণ হয়।
আজ যে যুদ্ধ হচ্ছে সেটা আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলে দেয়। তাই ছুটে আসি জঙ্গলে। ’’
.
.
এর পরের ঘটনা খুবই সংক্ষিপ্ত। ইওবার্ডকে জেলে বন্দি করা হয়।
উত্তরাধিকারী সূত্রে ভ্যাম্পায়ার রাজ্যের নতুন রাজা হয় ইহক।
সেনাপ্রধান হয় ইভান। তবে নীল আর ভ্যাম্পায়ার রাজ্যে ফিরে যায়নি।
সে তার নতুন জীবনটাই বেশি ভালোবেসে ফেলেছে। মানবের মতোই চলাচল তার।
ভ্যাম্পায়ার সত্ত্বা তার ভেতর নেই বললেই চলে।
নীল ইতস্তত হয়ে বলল, ‘তোমাকে ধোঁকা দিয়েছি আমি। ক্ষমা করে দিও।’
“কোন দিক দিয়ে ধোঁকা হলো আমি বুঝতে পারছি না। তুমি তো জেনে শুনে কিছু করোনি।
আর আমি খুশি কারণ তুমি এখন আর আজে বাজে স্বপ্ন দেখবে না।
কারণ এগুলো তোমার অতীত আর তুমি জানো।
এখন তো মনে হয় না তুমি আর ডিপ্রেশনে যাবে।
আমি তোমার চড়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছি।
ভ্যাম্পায়ারের সেনাপ্রধানের চড়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছি। এর চেয়ে সুসংবাদ আর কী হতে পারে?’’
নীল ভ্রু কুঁচকিয়ে বলল, ‘এত সত্য কথা বলা কার থেকে শিখেছ?’
অনিশা কিছু বলল না।
নীল আবারও বলতে শুরু করল, ‘ভ্যাম্পায়ার সত্ত্বা অনেকাংশে সুপ্ত হয়ে গেছে।
ক’দিনের ভেতর পুরোপুরি সুপ্ত হয়ে যাবে। তারপর আমাকেও মানব বলা যাবে।’
“তোমাকে আমার কোনো দিক দিয়েই ভ্যাম্পায়ার মনে হয় না। ইভানকে দেখো,
কী সুন্দর ও শক্তিশালী সে। আর তুমি ছাগলের মতো দেখতে।’’
“থামো, আর সত্য কথা বলতে হবে না।’’

<>সমাপ্ত<>

No comments