Breaking News

গল্প : এক টুকরো ভালোবাসা | পর্ব:০২

পরের দিন মায়া অফিসে যায় ।পাঁচ মিনিট লেট হওয়াতে বস মায়া কে অনেক কথা শোনায়।এমন করে কয়েকদিন কেটে যায় ।বসের অত্যাচার দিন দিন বাড়ছে ।সব কাজ ই মায়া কে দিয়ে করায় ।ওই দিকে আশা আর ফাহাতের ও ভাব জমেছে ।একদিন অফিস ছুটির পরে মায়া বাসায় যেতে নেয় তখন একটা গাড়ি মায়ার সামনে দাঁড়ায়।মায়া দেখে তার বস।মায়া কে বলে গাড়ি তে উঠতে পৌছে দিবে ।মায়া প্রথমে রাজি হয় না পরে উঠে ।

মায়া:স্যার আমার বাসা এইদিকে না ।
মায়ার বস বলে উঠে ।
আমার নাম আবির চৌধুরী ।আমাকে আবির বলে ডেকো ।
মায়া:স্যার আপনি অফিসের বস আপনাকে কিভাবে নাম ধরে ডাকি।
হঠাৎ গাড়ি থামল ।মায়া দেখে একটা জায়গায় অনেক বাতি জলছে সুন্দর করে সব সাজানো ।মায়া গাড়ি থেকে নামে ।আবির মায়ার হাত ধরে বলে
আবির:মায়া, i love you.অনেক ভালোবাসি তোমায় ।
মায়াকে কিস করতে যাবে তখনই মায়া আবিরকে ঠাপ্পর দেয় ।আর বলে
মায়া:আপনার সাহস কীভাবে হল আমাকে কিস করতে আসেন ।বড়লোক এর জন্য যা মন চায় করবেন ।আমি আপনাকে ভালোবাসি না ।আমার থেকে দূরে থাকবেন ।
এই বলে মায়া চলে যায় ।আবির মায়ার যাওয়ার দিক চেয়ে থাকে।
মায়া বাসায় আসার পর একটা লম্বা শাওয়ার নেয়  আর  ঠিক করে কালকে ই চাকরি ছেড়ে দিবে ।
আবিরের বাসায়
আবির ওয়াইল্ড হাতে বসে আছে আর সামনের দেয়ালে  মায়ার অনেক গুলো ছবি ।আবির মুচকি হাসি দিয়ে বলে
আবির:কালকের পর থেকে তুমি শুধু আমার মায়া ।শুধু আমার ।
এই বলে কাচের গ্লাসটা ভেঙ্গে দেয়  আর গিটার নিয়ে গুনগুন করতে থাকে
“Tuje hasil karunga yeh zid hea
         Chahe kuch bhi kare jahan
Me likhunga yeh takdir teri
         Chahe kuch bhi likhe asma
Teri hazrate teri hone pe na hone pe
hak hea mera jine se bhi haz hea
           Dard de hea yeh jo dard hea
Yeh dard hi mera ishq hai ha
                                           ishq hea”””
সকালে মায়া অফিসে যায় ।আবিরের কেবিনে ঢুকে রেজিকনেশন লেটার দেয় ।আবির এক বার ও মায়ার দিকে তাকায় না ।মায়া নিচে গাড়ির জন্য দাড়িয়ে থাকে হঠাৎ পেছন থেকে আবির ওকে অজ্ঞান করে গাড়িতে ঢুকিয়ে নিয়ে যায় এক অচেনা গন্তব্যে।
মায়ার ধীরে ধীর জ্ঞান আসসে ।হঠাৎ মায়া অনুভব করল কেউ তার ঠোঁটে গভীর চুমু দিচ্ছে ।চোখ খুলেই দেখে আবির মায়ার উপর ।মায়া আবির কে ধাক্কা দেয় ।আবির সরে যায়
মায়া:আমাকে কোথায় নিয়ে আসলেন ??
একটু পরে খেয়াল করে মায়া একটা লেহেঙ্গা পড়ে আছে ।
মায়া:এইটা আমাকে কে পড়াল ।
আবির:আমি ।
মায়ার দুচোখে পানি এসে পড়ল ।
মায়া :আপনার কত বড় সাহস আমার গায়ে হাত দেওয়ার ।আপনাকে আমি পুলিশে দিব ।
মায়ার কথা শুনে আবির রেগে যায় আর মায়া কাছে এসে দুই হাত বিছানার উপর চেপে ধরে আর ঠোঁট কামড়াতে থাকে ।মায়া ব্যাথায় কুকরে উঠছে ।ছাড়ানোর চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না । একটু পড়ে আবির নিজে থেকে মায়া কে ছেড়ে দেয় আর টানতে টানতে নিচে নিয়ে যায় দেখে কাজি বসা সাথে আরো মানুষ ওও।
মায়া:এইসব কি ?
আবির :আজকে আমাদের বিয়ে ।
মায়া:আমি আপনাকে বিয়ে করব না ।
আবির মায়া কে একটা ভিডিও দেখায় যেখানে একটা গাড়ির সাথে রাহাত কে বেধে টানা হচ্ছে ।মায়া বলে
মায়া:প্লিজ আপনি রাহাতকে ছেড়ে দিন ।ওর অনেক কষ্ট হচ্ছে ।প্লিজ ।
আবির:Then marry me .love me ,dame it .
মায়া:ভালোবাসা জোর করে হয় না ।
আবির:তোমার এক টুকরো ভালোবাসা আমার জন্য যথেষ্ট ।এখন বল আমাকে বিয়ে করবে নাকি রাহাত মরবে ।
মায়া কাঁদতে কাঁদতে বলে
মায়া:আমি বিয়ে করব ।
কাজি বিয়ে পড়ায় ।বিয়ে পড়ানো শেষ হলে আবির মায়া কে টানতে টানতে রুমে নিয়ে লক করে দেয় ।মায়া কান্না করতে থাকে ।আর রাহাত এর কথা চিন্তা করতে থাকে ।এই সময় আবির এসে পড়ে
আবির:রাহাত কে ভুলে যাও ।ও তোমাকে true love করে না ।
মায়া:তা আপনার থেকে আমার জানতে হবে না। আপনার মত মানুষ দুনিয়াতে না থাকাই ভালো ।
আবির:জান এখন তুমি আমাকে রাগিয়ে দিচ্ছ।
আবির আস্তে আস্তে মায়ার কাছে আসতে থাকে ।
মায়া: আপনি আমার কাছে আসবেন না ।
আবির মায়ার হাত ধরে মায়া কে তার পুরনো ড্রেশ দিয়ে চেন্জ করে আসতে বলে ।মায়া দৌড়ে বাথরুমে ঢুকে চেন্জ করে আসে ।আবির মায়া কে কিছু ছবি দেখায় ।মায়ার শরীরে কোন কাপড় নেই ।আর আবিরের ও ।মায়া কান্না করতে করতে বলে
মায়া:আপনি আমার সাথে কেন এমন করছেন  ??
আবির:আজকে তোমার বাসায় যাব তোমার সাথে ।তোমার আর আমার বিয়ের কথা বলতে ।তুমি যদি উল্টা পাল্টা কিছু কর তাহলে তোমার আর আমার ছবি তোমার বাবা ,মা এলাকার লোক সবাই দেখবে ।আর যদি বাব মা কে ভালোবেসে থাক তাহলে রাজি হয়ে যাবে ।না হলে এই ভুলের পরিণাম তোমার বাবা মা কে দিতে হবে।
মায়া কান্না করতে থাকে ।আবির মায়ার সাথে মায়া র বাসায় যায় আর মায়ার বাবা মা র সাথে কথা বলে ।মায়া র বাব মা আবিরের পজিশন এর কথা শুনে অনেক খুশি হয়ে যায় ।মায়া র বাব মা বিয়ে তে মত দেয় ।মায়ার বাবা মায়া কে জিজ্ঞেস করে কীরে মা কী বলস?
মায়া তখন জোরে বলে
মায়া:আমি এই বিয়ে তে রাজি না ।বাব।
আবির অগ্নি দৃষ্টিতে মায়ার দিকে তাকায় ।মায়ার বাবা বলে আমার পছন্দ হয়েছে এইটাই ফাইনাল ।মায়া তার বাবা কথা শুনে থ খেয়ে যায় ।রাগে কষ্টে রুমে চলে যায় ।মায়ার বিয়ে এক সপ্তাহ পর ।
আর অন্য দিকে আশা প্যাগনেন্ট হয়ে যায় ।কিন্তু ফাহাত এই বাচ্চা নিতে রাজি না ।মায়া কে সব বলবে বলে আশা মায়ার বাসায় আসে কিন্তু জানতে পারে মায়ার বিয়ে আর কয়েকদিন পর তাই কিছুই জানায় না ।আর রাহাত ও হসপিটালে ।মায়ার একদিন ফাহাত এর সাথে দেখা হয় ফাহাত কে রাহাত এর কথা জিজ্ঞেস করে। ফাহাত তো কিছু বলেই না উল্টো মায়ার সাথে খারাপ ব্যবহার করে।দেখতে দেখতে বিয়ের দিন এসে পড়েছে ।
আজ মায়ার বিয়ে সব কিছু অনেক বড় সর করে আয়োজন করা হয়েছে ।সবাই অনেক খুশি ।মায়া বাদে ।ছায়া এই সব বিয়ে থেকে দূরে আছে ।কি যেন খোব তার মধ্যে ।বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে ।আবির মায়া কে নিয়ে তাদের বাসায় চলে যায় ।দেখে আবিরের বাবা মা মায়ার জন্য দাড়িয়ে আছে ।মায়া কে বরণ করার জন্য ।সব কাজ শেষ হওয়ার পর মায়া আবিরের খাটে বসে আছে ।একসময় মায়া ঘুমিয়ে যায় ।হঠাৎ মায়া অনুভব করল কেউ তার ঠোঁটে গভীর চুমু দিচ্ছে  মায়া আবিরকে ধাক্কা মেরে বলে
মায়া:আমাকে একটু সময় দিন ।আমি আপনাকে আমার স্বামী হিসেবে মানি নি ।
চলবে………

No comments