Breaking News

গল্পঃ এক টুকরো ভালোবাসা | পর্ব - ০৩

মায়া:আমাকে একটু সময় দিন ।আমি আপনাকে আমার স্বামী হিসেবে মানি নি ।

আবির মায়ার কাছে এসে বলল
আবির:সময় যেহেতু চাচ্ছো দিতে রাজি আছি কিন্তু  আমাকে ভালো না বেসে থাকতে পারবে না ।
এই কথা বলে আবির মায়া কে বুকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে থাকে ।মায়া নিজেকে ছাড়াতে যাবে তখনই  আবির বলে
আবির:এখন যদি কিছু কর তাহলে আমার খারাপ রূপ টা দেখবে।
মায়া ভয়ে  আর কিছু না ভেবে ঘুমিয়ে যায় ।সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে পাশে আবির নেই ।বিছানা থেকে উঠেই দেখে আবির সোফায় বসে ল্যাপটপে কাজ করছে ।মায়াকে দেখে আবির একটা গাঢ় লাল রংয়ের শাড়ি দিল মায়া কে পড়ার জন্য ।মায়া কিছু না বলে বাথরুমে চলে যায় ।মায়া মনে মনে ভাবতে থাকে সে তো শাড়ি পড়তে পারে না এখন।এরই মধ্যে আবির বাইরে থেকে ডাকতে থাকে। মায়া কোন রকম শাড়ি পেঁচিয়ে বের হয়ে আসে। আবির মায়া কে দেখে বলে
আবির:আগুছালো রূপে তোমাকে আরো আকর্ষণীয় লাগে।
মায়া এ কথা শুনে নিচে চেয়ে থাকে। মায়ার ঘৃনা হচ্ছে আবির এর থেকে ।আবির মায়া কে শাড়ি পড়াতে থাকে ।এই দেখে মায়া বাধা দিলে আবির বলে
আবির:আমি যেই কোন সময় আমার অধিকার খাটাতে পারি ।কিন্তু আমি চাই না যে আমাদের ভালোবাসার এই পবিত্র মুহূর্ত জোরজবরদস্তিতে হোক ।
আবিরের কথা শুনে মায়া আর আবিরকে বাঁধা দিল না। আর আবির সুন্দর করে মায়া কে শাড়ি পড়াচ্ছে।শাড়ি পড়ানো শেষ হলে। আবির মায়া কে আয়নার সামনে নিয়ে আসলে মায়া দেখে আবির অনেক সুন্দর করে শাড়ি পড়িয়েছে আর কুচি ও সুন্দর হয়েছে। মায়া মনে মনে ভাবতে থাকে আর জানি কত মেয়ে কে এভাবে শাড়ি পড়িয়েছে।এর জন্য ই এত এক্সপার্ট ।আবির বলে উঠে
আবির:আর কোন মেয়ে কে না তুমি ই প্রথম যাকে আমি স্পর্শ করেছি আর শাড়ি পরিয়েছি।
আবিরের কথা শুনে মায়া চোখ বড় করে তাকাল আর মনে মনে ভাবতে থাকে ।এ আমার মনের কথা কীভাবে জানল ।তখন ই আবির মায়ার কমড় ধরে ঘাড়ে চুমু দিতে থাকে ।মায়ার অনেক অস্বস্তি লাগছে ।তাই মায়া আবির কে সরিয়ে দেয়  ।আবির মায়া কে বলে
আবির:আমি ও দেখি আর কত আমার ভালোবাসা থেকে দূরে থাকতে পার ।
আবির আর  মায়া নিচে যায় গিয়ে দেখে আবিরের মা বাবা যে যার মত আছে ।কাজের লোক খাবার বেড়ে দিচ্ছে ।কারো সাথে কোন কথা নেই ।দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে এই পরিবারের মানুষের মধ্যে দুরত্ব তা অনেক। মায়া আর আবির নাস্তা করল ।আবির মায়া কে বলল
আবির :আজকে তোমাকে তোমার বাসায় দিয়ে আসব ।
এই কথা শুনে মায়া খুশি হয়ে যায় ।
আবির বলে
আবির:সন্ধ্যার দিকে তোমাকে নিয়ে আসব ।
মায়া মাথা নাড়ায় ।মায়া কে পৌছে দিয়ে আবির
অফিসে চলে যায় ।মায়া তার মাকে কেঁদে কেঁদে  বলে  মায়া :মা আমি আর থাকতে পারছি না ।
মায়া  তার মাকে সব খুলে বললো ।এই শুনে মায়া র মা বলল আবির
তোকে মন থেকে ভালোবাসে। না হলে তুই দেখ এত বড়লোক
ঘরের ছেলে তোকে কেন পছন্দ করবে ।আমি তোর মা আমি বুঝি ।
মায়া বুঝে গেল এখানে তার ডাল গলবে না ।সন্ধ্যার দিকে আবিরের ফোন আসে ।
আবির :তাড়াতাড়ি নিচে আস এসে তোমাকে না দেখলে খবর আছে ।
আমি বাবা মা র কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তাড়াতাড়ি নিচে চলে আসি ।দেখি আবির এখন ও আসে নি। হঠাৎ দেখি রাহাত দাড়িয়ে আছে ।মাথায় ব্যান্ডেজ করা।রাহাত মায়াকে দেখে বলে
রাহাত:শাড়িতে তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে ।
মায়া:রাহাত আমি,,,,,,,,,,,,
রাহাত:আবির অনেক বড়লোক তোমাকে অনেক ভালো রাখবে ।
রাহাতের কথা শুনে মায়া ভাবছে সব খুলে বলবে রাহাত  কে কিন্তু এই সময় ই পেছনে দেখে আবির দাড়ানো ।আবিরের চোখ লাল হয়ে আছে ।রাহাত আবিরকে দেখে বলে
রাহাত:hi Mr abir nice to meet you .
আবির:same to you
বলে মায়া কে বলে গাড়িতে যাও ।মায়া বুঝে গেছে আবির অনেক রেগে আছে ।রাহাত আবিরের যাওয়ার দিক চেয়ে আছে ।ঠিক এই সময় ই রাহাত আশাকে কান্না করতে দেখে। আশাকে জিজ্ঞেস করার পর আশা রাহাত কে সব খুলে বলে ।রাহাত আশাকে জানায় ফাহাত তো একদিন আগে ই দেশ ছেড়ে চলে গেছে। আশার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল ।
অন্যদিকে আবির জোরে গাড়ি চালাচ্ছে।মায়া বলে
মায়া:আমাদের এক্সিডেন্ট করবে তো ধীরে চালান।
আবির কিছু না বলে গাড়ি চালাতে থাকে ।আবিরের বাসায় মায়া কে টানতে টানতে নিয়ে বিছানায় ফেলে দেয় ।আবির মায়া কে বলে
আবির:তোর সাহস কি করে হলো রাহাত এর সাথে কথা বলার ।
মায়া:আমি,,,,
আবির:চুপ একদম চুপ ।আমি তোকে এত ভালোবাসি তা কি তোর চোখে পড়ে না ।আর তোর শাড়ির অনেক প্রশংসা করছিল না ।
এই বলে আবির এক টান দিয়ে মায়ার শাড়ি খুলে ফেলে।
মায়াকে টান দিয়ে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে বলে
আবির:আজকে আমি তোর এত কাছে চলে আসব যাতে তুই আমাকে ছাড়া আর
কারো কাছে যেতে না পারিস ।
এই বলে মায়া কে খাটে ছুড়ে ফেলল আর  মায়ার হাত দুটো শক্ত করে চেপে ধরল ।
আবির মায়া কে বলল
আবির:আজকে আমি তোকে আমার করে নিব ।
মায়া চিৎকার করছে কিন্তু কেউ তার শব্দ শুনছে না। আবির মায়ার ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দেয় ।
ধীরে ধীরে আবিরের চুমু গুলো কামড়ে পরিনিত হচ্ছে ।
আবির মায়ার শরীর থেকে সব কাপড় খুলে ফেলে ।আজ আবির মায়া কে
ভালোবাসার স্পর্শ দিচ্ছে না হারানোর ভয়ের স্পর্শ দিচ্ছে ।মায়ার থামানোর
চেষ্টায় আবির আরো হিংস্র হয়ে উঠছে ।এক সময় মায়া না পেরে জ্ঞান হারায় ।
কিন্তু আবির এই দিকে কোন লক্ষ্য ই করছে না ।
এক সময় আবির ও ক্লান্ত হয়ে মায়ার বুকে ঘুমিয়ে পড়ে ।
সকালে ঘুম থেকে উঠে মায়া দেখে আবির নেই। বিছানা থেকে ওঠার সময় মায়ার পুরো শরীর ব্যথা ছিল ।
কোন রকম চাদর পেঁচিয়ে মায়া বাথরুমে যায় ।
কল ছেড়ে লম্বা শাওয়ার নেয় আর আবিরের দেয়া দাগ দূর করার বৃথা চেষ্টা করে ।
কিছুক্ষণ পরে মায়া বেরিয়ে আসে ।কাল রাতের কথা মনে
করতে ই মায়ার গায়ে কাটা উঠে যায় ।আয়নার সামনে চুল মুছছে তখনই
পেছন থেকে আবির মায়া কে জড়িয়ে ধরল ।মায়া ভয় পেয়ে দূরে সরে গেল। আবির বুঝতে
পারল কাল রাতের জন্য মায়া আবিরের থেকে ভয় পাচ্ছে।আবির মায়া কে সোফায় বসিয়ে বলল
আবির:মায়া, তোমার সাথে এমন করতে চাই নি ।কিন্তু কালকে
রাহাত কে দেখে আমার মাথা ঠিক ছিল না ।তোমাকে হারানোর ভয়
আমাকে এতটাই পাগল করে দিয়েছিল যে আমি তোমার সাথে খারাপ কিছু করতে বাধ্য হলাম ।
মায়া আবিরের কথার কোন রেসপন্স করল না ।
কয়েকদিন  এভাবেই চলে যায় ।আবির ঘুম থেকে উঠে আর অফিস থেকে
ফিরে মায়ার সাথে অনেক কথা বলে ।মায়া কোন কথা বলে না এতে আবিরের
কোন ভ্রূক্ষেপ নেই। এই কয়দিন আবির ও মায়ার কাছে আসে নি ।মায়া মনে মনে ভাবে
মায়া:আল্লাহ্ আগে তো মানুষ বলত মেয়ে রা নাকি বেশি কথা বলে
এখন তো দেখছি আবির মেয়েদের ও ফেল করে দিয়েছে ।
দিন দিন মায়া আবিরের নতুন রূপের সাথে পরিচিত হচ্ছে ।
আজ অফিস থেকে ফিরে আবির মায়ার কাছে যায় ।
আবিরের মুখে আজ বিজয়ের হাসি ।আবির মায়াকে একটা কার্ড
দিয়ে বলল এই নাও ।মায়া খুলে দেখে দুইদিন পর
রাহাত আর আশার বিয়ে ।মায়া নিজের চোখে বিশ্বাস করতে পারছিল না ।
মায়া বাথরুমে ঢুকে কল ছেড়ে কান্না করতে লাগল ।
বিয়ের দিন আবির আর মায়া যায় ।মায়া কে দেখে আশা মাথা নিচু করে থাকে ।
মায়া এটা বুঝতে পারে ।তাই মায়া আশার কাছে গিয়ে নিজে থেকেই
আশার সাথে কথা বলে ।আশা মায়া কে ফাহাতের কথা তার বাচ্চার কথা
সব জানায় ।মায়া আশাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল
মায়া:রাহাত অনেক ভালো ছেলে ।তোকে মাথায় তুলে রাখবে ।অনেক সুখি হবি তুই ।
আশা:আর তুই। ?? তুই কি সুখি ??
মায়া:আবির আমাকে অনেক ভালোবাসে ।
আশা :আর তুই ।??
এই সময় ই কাজি এসে পড়ে ।আশা আর রাহাত এর বিয়ে টা হয়ে যায় ।
আবির মায়া গাড়িতে করে নিয়ে যাবে তখনই মায়া দেখে ফুচকার দোকান ।
আবির বুঝতে পারে। আবির গাড়ি থামিয়ে দুই প্লেট ফুচকা নিয়ে আসে ।
মায়া আর কিছু না ভেবে ই খেতে থাকে ।আবির অপলক দৃষ্টিতে মায়ার দিকে
তাকিয়ে থাকে ।আর মনে মনে বলে
আবির:কী আছে তোমার মাঝে যা আমাকে এতটা ঘায়েল করে ।
মায়ার ডাকে আবিরের হুস ফিরে ।আবির দেখে মায়া দুই প্লেট ফুচকা নিজেই শেষ করেছে ।আবির মায়া কে নিয়ে বাসায় চলে যায়।
সকালে আবির অফিসে যায় ।মায়া আলমারিতে কাপড় রাখার সময় ই একটা ডাইরি পায় ।
চলবে………..

No comments