Breaking News

গল্পঃ এক টুকরো ভালোবাসা পর্ব - ০৪

সকালে আবির অফিসে যায় ।মায়া আলমারিতে কাপড় রাখার সময় ই একটা ডাইরি পায় ।ডাইরি টা আবিরের ।ডাইরি তে আবির নিজের মনের কথা লিখে রাখত ।মায়া পড়া শুরু করল

আবির লিখেছে
ছোট বেলা থেকেই মা বাবা আমাকে সময় দিত না। ভালোবাসতো না ।শুধু টাকা দিত ।একদিন আমার অনেক জ্বর আসে সারারাত বিছানায় ছটফট করি কিন্তু আমাকে দেখার কেউ নেই ।মাঝে মাঝে বুয়া আসত না। বাসায় খাবারের কিছু থাকত না। আমার ক্ষুধা লেগেছে কিনা তা ও দেখার কেউ নেই ।কেউ আমাকে ভালোবাসে না ।কি দোষ আমার ।মায়া কে যখন প্রথম বার দেখি আমার মনে হয়েছিল এইটা ই আমার ভালোবাসা ।আমি মায়া কে হারাতে চাই না ।মায়ার থেকে আমি বেশি কিছু চাই না ।শুরু এক টুকরো ভালোবাসা ছাড়া ।মায়া কি আমাকে সেই ভালোবাসাটা দিবে ।সেই অধিকার কি আমার আছে ।
আবিরের ডাইরি পরে মায়ার অনেক খারাপ লাগে ।আবিরের জন্য এক ধরনের অনুভূতি তৈরি হয় ।মায়া ঠিক করে আবিরের সাথে তার ভালোবাসার যাত্রা শুরু করবে ।মায়া নিচে গিয়ে চাকরকে জিজ্ঞেস করে আবিরের কি খেতে পছন্দ ।তারা বলে আবিরের বিরিয়ানি খুব পছন্দ ।মায়া আবিরের জন্য বিরিয়ানি রান্না করে ।রাতে আবির বাসায় আসলে মায়া বলে
মায়া:তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নিচে চলুন ।
নিচে যেতে ই আবির দেখে মায়া বিরিয়ানি রান্না করছে। আবির বসে ।আবির বলে
আবির:এইটা কি তুমি রান্না করছ ।
মায়া:হুমম।
আবির:একটা আবদার রাখবে ।
মায়া:কী??
আবির:আমাকে খাইয়ে দাও ।
মায়া বসে আবিরকে খাইয়ে দেয় ।মায়া ও খেয়ে নেয় ।আজ আবির মায়ার ব্যবহার দেখে রীতিমত অবাক হয়।রাতে ঘুমানোর সময়  মায়া দেখে আবির মায়া কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।মায়ার গলায় দু এক ফোঁটা পানি পড়ল ।মায়া বুঝতে পারল আবির কাঁদছে ।মায়া আবির কে বলল
মায়া:কি হল আপনার ।??
আবির মায়ার মুখের কাছে এসে বলে
আবির:আমাকে কি ভালোবাসা যায় না ।আমি কি এতই খারাপ ।তোমার এক টুকরো ভালোবাসা ই যথেষ্ট ।
এই কথা বলার সাথে সাথে মায়া আবিরের ঠোট নিজের দখলে নিয়ে নেয়  ।আবির বুঝতে পারে মায়া আবির কে মেনে নিয়েছে ।আজকের রাত আবিরের জন্য অনেক মধুময় ।মায়া আর আবির নিজেকে একে অপর কে বিলিয়ে দিচ্ছে ।সকালে ঘুম থেকে উঠে মায়া নিজেকে আবিরের বাহুদোরে দেখে ।মায়া শাওয়ার নিয়ে বাইরে আসতে ই দেখে আবির ঘুমিয়ে আছে। আবির কে ডাকতে যাবে আবির মায়ার হাত টান দিয়ে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে বলে
আবির:ভালোবাসি প্রিয়তমা ।
মায়া আবির থেকে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে আবির তখন বলে উঠে
আবির:মায়া তুমি কি এখন ও রাহাত কে পছন্দ কর ।
আবিরের কথা শুনে মায়ার চোখ বড় বড় হয়ে যায় ।মায়া বলে
মায়া:রাহাত কে এক সময় ভালো লাগত ।কিন্তু এখন আমার সাথে আপনার বিয়ে হয়েছে ।আর এখন আমি শুধু আপনার ।
আবির মায়া কে বুকে জড়িয়ে ধরে ।
দিন দিন মায়া র প্রতি আবিরের ভালোবাসা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে ।আবির মায়া কে নিয়ে বেশি পসেসিভ হয়ে যাচ্ছে ।মায়া কে বাসা থেকে বের হতে দেয় না। বাসায় কোন ছেলে চাকর রাখে নি। আর মেয়ে চাকরের সাথে ও মায়া কে বেশি কথা বলতে দেয় না ।আর রাত গুলো মায়া আর আবিরের মধুচন্দ্রিমা ।
আর ওই দিকে রাহাত আশার অনেক খেয়াল রাখছে ।
আশার আজকে বাচ্চা হবে ।মায়া আর আবির ও হসপিটালে এসেছে ।আশার একটা মেয়ে বাবু হয় ।সবাই খুশি ।মায়া রাহাত কে হ্যান্ডশেক করে শুভেচ্ছা জানায় ।আবির তা সহ্য করতে পারে না ।আবির মায়া কে নিয়ে বাসায় আসে আবিরের দুই চোখ রাগে লাল হয়ে আছে ।মায়া বার বার জিজ্ঞেস করছে ।কিন্তু আবির কিছুই বলছে না ।এইদিকে বৃষ্টি পড়া শুরু হয়ে গেল। আবির মায়া কে টানতে টানতে ছাদে নিয়ে যায় আর লক করে দেয়। মায়া সন্ধ্যায় বৃষ্টিতে ভিজতে থাকে। মায়া আবির কে খোলার জন্য বলে কিন্তু আবির খুলে না ।অন্যদিকে আবির ঝর্নার নিচে দাঁড়িয়ে ভিজতে থাকে ।দুই ঘন্টা পর আবির মায়া কে ছাদ থেকে বেডরুমে নিয়ে আসে। মায়া র ড্রেশ চেন্জ করে। মায়ার জ্বর উঠে যায় ।আবির সারারাত মায়ার দেখা শুনা করে ।সকালে মায়ার জ্বর ঠিক হয়ে যায়  ।উঠে দেখে আবির মায়া কে বুকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে আছে কিন্তু আবিরের শরীর অনেক গরম ।মায়া দেখে আবিরের জ্বর এসেছে ।মায়া আবির চে জলপট্টি দেয় ।ঔষধ খাওয়ায় ।দুপুরে আবির একটু ঠিক হলে অফিসে যেতে চায় কিন্তু মায়া যেতে দেয় না ।আবির মায়ার থেকে রাগ করে আছে। মায়া তা বুঝতে পেরেছে ।রাতে আবির বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে ।মায়া একটা নীল কালারের থ্রি পিস পরে আবিরকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে ।আবিরের সামনে যেতে আবির মায়া কে মাথা থেকে নিচ পর্যন্ত দেখে। মায়া কে বলে
আবির:শাড়ি পড়ো নাই কেন?
মায়া:আমি শাড়ি পড়তে পারি না ।
মায়া র দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ।থ্রি পিস টা টাইট ছিল তাই মায়া র ফিগার বোঝা যাচ্ছে ।আবির মায়া কে এক টান দিয়ে নিজের কাছে মিশিয়ে বলে
আবির:অন্য কারো সামনে যদি থ্রি পিস পরে যাও তাহলে কিন্তু
মায়া:তাহলে কিন্তু কি
আবির:তাহলে তোমাকে এই রুমে বন্দি করে রাখব। তাও শিকল দিয়ে ।
মায়া আবিরের কথা শুনে ভয় পেয়ে যায় ।কারন মায়া জানে আবির মায়ার বিষয়ে কখনো মজা করে না।
মায়া:আপনি আমাকে ভালোবাসেন না ।তাই এমন কষ্ট দেন।
এই বলে মায়া যেতে নিলেই আবির মায়ার চুলের মুঠি ধরে বলে
আবির:আমি তোকে যত ভালোবাসা তার কোন সীমা নেই ।
এই বলে মায়ার ঠোঁটে রুডলি কিস করতে থাকে ।মায়া আবিরকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে ।কিন্তু আবিরের শক্তিতে পেরে উঠতে পারে না ।আস্তে আস্তে আবির মায়া কে ছেড়ে দেয় ।মায়া জোরে জোরে নিশ্বাস নিতে থাকে। আবির এর কপাল মায়ার কপাল এর সাথে ঠেকিয়ে বলে
আবির:অনেক ভালোবাসি মায়া ।অনেক।
এই বলে মায়া কে কোলে করে বিছানায় শুয়ে দেয় আর আবির মায়া পিঠে হাত দিয়ে জামার চেইন টা খুলে দেয় ।মায়া আবেশে আবিরকে বলে
মায়া:তাহলে আমাকে এত কষ্ট দেন কেন??
আবির:সব ভালোবাসা দিয়ে পুষিয়ে দিব।
আবির মায়ার ঘাড়ে চুমু দিতে থাকে ।মায়া আর আবির একসময় ঘুমিয়ে যায় ।মায়ার আর আশার সংসার ভালো ই কাটতে থাকে ।
একদিন ফাহাত দেশে ফিরে আসে।আশা আর রাহাতের বিয়ের কথা শুনে ফাহাত  ভিতরে ভিতরে  কষ্ট অনুভব করে ।রাহাতের কোলে তার সন্তান কে দেখে ফাহাত এর বুক ছিড়ে যায় ।ফাহাত রাহাত কে বলে ও আশা আর নিজের মেয়ে কে আপন করে নিবে।রাহাত কিছু নি ভেবে মায়া কে ফোন দিয়ে দেখা করতে বলে ।মায়া বলে
মায়া:ফাহাত আশাকে নিতে চায় ।তুমি কি ওকে নিয়ে যেতে দিবে ??
রাহাত:মায়া আমি আশাকে ভালোবেসে ফেলেছি ।ওকে হারাতে চাই না ।
রাহাত এর কথা শুনে মায়া খুশি হয়ে যায় ।মায়া ও রাহাত কে বলে যে ও আবির কে ভালোবেসে ফেলেছে ।
●●●বর্তমানে ●●●
মায়া কে ডাক্তারা  দেখছে। কিছুক্ষণ পর ডাক্তার এসে বলল
ডাক্তার:আপনার ওয়াইফ এর অবস্থা অনেক খারাপ আর আপনার ওয়াইফ কে মারার আগে রেপ করা হয়েছে ।
চলবে
আশা করি গল্পটা আপনাদের ভালো লেগেছে ।

No comments