Breaking News

গল্প: এক টুকরো ভালোবাসা | পর্ব:০৫

●●●বর্তমানে ●●●

মায়া কে ডাক্তারা  দেখছে। কিছুক্ষণ পর ডাক্তার এসে বলল
ডাক্তার:আপনার ওয়াইফ এর অবস্থা অনেক খারাপ আর আপনার ওয়াইফ কে মারার আগে রেপ করা হয়েছে ।
আবির:কী,?
ডাক্তার:ধৈর্য ধরেন। সব ঠিক হয়ে যাবে ।
এই কথা শুনে আবির নিচে বসে পড়ে।আবির ভাবতে থাকে
আবির:আমার এত বড় ক্ষতি করলি তুই ।মায়া কে ভালোবেসে ছিলাম এইটা ই কি আমার দোষ ছিল ।তোর ভালোবাসাকে আমার করেছিলাম ।এইটা ই কী আমার দোষ ।মায়া তো সব জেনে আমাকে আপন করে নিয়েছিল ।আমি তোকে ছাড়ব না।
●●●Flash back ●●●
ফাহাত সবাইকে ডেকেছে রাহাত আর আশার সম্পর্ক ভাঙার জন্য ।সবাই আসার পর আশা আর আবিরকে ফাহাত কিছু ছবি দেখায়। মায়া আর রাহাত যখন দেখা করেছিল। এই ছবি তখন ফাহাত তুলেছে ।
ফাহাত আশা আর আবিরকে বলে
ফাহাত:দেখলে তো ওরা একে অন্যকে কত ভালোবাসে। আমাদের সরে আসা উচিত। তাই আশা আমার কাছে ফিরে আসো।
আবির একটা হাসি দিয়ে বলল
.
আবির:যে যেখানে আছে সেখানে ই ভালো আছে আর মায়া ও রাহাতের দেখা করার কথা ।আপনি তো জানেন ই ফাহাত সাহেব বাঙালী মেয়ে রা কখনো কোন কিছু স্বামীর থেকে লুকিয়ে করে না ।আমাকে মায়া বলে গিয়েছিল  ।আর আমি আমার স্ত্রীকে যথেষ্ট বিশ্বাস করি ।
মায়া আবিরের দিকে ছলছল চোখে তাকিয়ে আছে ।মায়া বলে উঠল
মায়া:আমি আশার সাথে দুই মিনিট কথা বলতে চাই।
মায়া আর আশা একটা রুমে আসল
মায়া:এত কিছু হওযার পর ও তুই কেন আবার ফাহাত এর কাছে ফিরে যাবি ।
আশা কেঁদে ওঠে আর বলে
.
আশা:আমি যে রাহাত এর যোগ্য না। রাহাত আমাকে বিয়ে করছে শুধু আমার বাচ্চা র জন্য ।আমি ওকে আর কষ্ট দিতে চাই না।
মায়া:আমি যদি বলি ও তোকে ভালোবেসে ফেলেছে। আর তোকে এখন হারাতে চায় না।
আশা:কি??
মায়া:হ্যাঁ, রাহাত এর সাথে যখন দেখা হয়েছে তখন আমাকে ও এইটা ই বলেছে।
অন্যদিকে  রাহাত আবির কে বলছে
রাহাত:আবির,মায়া তোমাকে অনেক ভালোবাসে ফেলেছে ।
ওই দিন মায়ার সাথে দেখা হওয়ার পর মায়া শুধু তোমার কথা ই বলেছে।
ও তোমাকে অনেক ভালোবাসে। ভালোই হয়েছে তুমি মায়া কে বিয়ে করেছ ।
রাহাতের কথা শুনে আবির অনেক খুশি হয়ে যায় ।
মনে হচ্ছে আজকে চাঁদ টাকে নিজের হাতে পেয়েছে।
আশা আর মায়া রুম থেকে বের হয়।
সবাই আশার সিদ্ধান্ত জানতে চাইলে আশা বলে ও রাহাত এর সাথে ই থাকবে।
এই কথা শুনে রাহাত আশাকে সবার সমানে জড়িয়ে ধরে ।
আজকে আশা আর রাহাতের ভালোবাসার নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে।
ফাহাত মায়ার দিকে রাগে গজগজ করতে করতে তাকিয়ে থাকে। পরে ফাহাত চলে যায় ।
মায়া আর আবির বাসায় আসে ।মায়া খেয়াল করল আবির তাকে ইগনোর করছে ।
মায়ার বুকটা ছেত করে উঠল ।মায়া আবিরকে জিজ্ঞেস করছে
.
মায়া:আবির কি হল ।?
আবির কোন কথা না বলে ল্যাপটপে কাজ করছে। মায়ার ভালো লাগছে না ।
মায়া বারান্দায় চলে যায় ।কিছু ক্ষণ পর মায়া র মনে হয় কেউ তার ঘাড়ে গরম
নিশ্বাস ত্যাগ করছে।মায়া বুঝতে পারে এইটা আবির ।
পেছনে ফিরতে ই আবির মায়া কে জোরে চেপে ধরে আর বলে
আবির:সবাইকে ঢোল পিটিয়ে বলতে পার ।অথচ একবার আমার কাছে বলতে পার না।
মায়া আবিরের সব কিছু লক্ষ্য করছে ।মায়া কিছু বলছে না
দেখে আবির চলে যেতে নেয় ।তখনই মায়া আবিরকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে আর বলে
.
মায়া:আবির, ভালোবাসি আপনাকে। অনেক ভালোবাসি।
মায়া র কথা শুনে আবিরের চোখ থেকে পানি পড়ছে।
মায়া নিজের ঠোট দিয়ে আবিরের চোখের পানি শুষে নেয় ।
আবির আর মায়া গভীর ভালোবাসায় ডুব দেয় ।
সকালে মায়া আবিরের জন্য নাস্তা বানায় ।ঠিক তখনই কেউ আসে। মায়া কে জিজ্ঞেস করে
,,,,,,,,:আপনি এখানে কি করছেন ?
মায়া:আমি মায়া ।আবিরের স্ত্রী ।আপনাকে তো চিনলাম না ।
তখনই আবির নিচে নেমে আসে ।আবির বলে
আবির:সাবিত ভাইয়া আপনি এখানে ।
সাবিত:মায়া তোর বউ ।
.
তখনই আবিরের বাবা মা এসে সাবিতকে দেখে আদর করতে
থাকে ।মায়া সবাইকে নাস্তা দেয় ।সাবিত শুধু এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ।
মায়ার কিছু অস্বস্তি লাগছে। খাবার শেষে আবির সাবিত কে নিয়ে স্টাডি রুমে যায় ।
দরজা লাগানোর সাথে সাথে সাবিত আবিরের কলার ধরে বলে
সাবিত:ভাই হয়ে তুই এইটা কীভাবে পারলি?
আবির:তুই মায়া কে ছেড়ে চলে গিয়েছিলি ।তো এখন আবার আমি কীভাবে তোর ভালোবাসা কে কেড়ে নেই।
সাবিত:,,,,,,,,,,
আবির:দেখ ভাই যা হবার হয়ে গেছে ।মায়া আমাকে এখন ভালোবাসে। আমাদের সুখের সংসার টা নষ্ট করিস না।
এই বলে আবির চলে যায় ।
সাবিত বিশ্রী একটা হাসি দিয়ে বলল
.
সাবিত:দোষ আমার ছিল ।মায়া কে পাওয়ার জন্য হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম।কিন্তু এখন আমি মায়া কে নিজের করে নিব।আর সত্য জানলে মায়া আমার কাছে ফিরে আসবেই।আবিরের অনেক চিন্তা হচ্ছে সাবিত যদি মায়া কে সব সত্যি বলে দেয় ।মায়া যদি আমাকে ছেড়ে চলে যায় ।এই কথা ভাবতে ভাবতে ই মায়া এসে বলে
মায়া:কী হলো আবির ?অফিসে যাবে না ।
আবির:হ্যাঁ  ,যাচ্ছি
.
আবির চলে যায় আর সাবিতকে নিয়ে ওর বাবা মা ব্যস্ত হয়ে পড়ে।আবির চলে গেলে মায়া দুপুরের রান্না করতে থাকে এইসময় সাবিদ এসে বলে
সাবিত:আচ্ছা মায়া, আবির এর সাথে তোমার বিয়ে কি করে হয়??
মায়া কিছুটা চমকে গিয়ে সাবিত কে মিথ্যা বলল।সবাইকে আর বলা যাবে না আবির কীভাবে মায়া কে বিয়ে করেছে ।
মায়া:ভাইয়া, আমি আবিরের অফিসে চাকরি করতাম ।আমাকে দেখে তার পছন্দ হয়েছে ।তখন মা বাবার কাছে আমার সমন্ধ পাঠায়।আর বাবা মা এই ভালো সমন্ধ দেখে বিয়ে দিয়ে দেয় ।
সাবিদ:ওওউও ।তাহলে টাকার জন্য আমার ভাইকে ফাসাই সত তোমাদের মত মিডেল ক্লাস মেয়ে কি ই বা করতে পারে ।এই কথা বলে সাবিত চলে যায় ।
.
মায়া র চোখে পানি এসে পরে আর ভাবতে থাকে সাবিত কত নিচু মনের মানুষ ।দুপুরে খাবার শেষে মায়া বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে।  হঠাৎ মনে হল পিছনে কে জেন। মায়া মনে করে আবির এসেছে ।পিছনে তাকাতেই দেখে
মায়া:সাবিত ভাইয়া,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
চলবে …….

No comments