Breaking News

গল্প: এক টুকরো ভালোবাসা | পর্ব -০৮

আজ ছায়া আর আবিরের বিয়ে।ছায়া কে রেডি করিয়ে আবির নিচে বসে আছে ।দেখে সাবিত আর ফাহাত ও এসেছে ।সবাই ছায়া কে ডাকছে। কিন্তু ছায়া নিচে আসসে না। তাই সবাই উপরে যায় ।দেখে ছায়ার হাত পা দড়ি দিয়ে বাধানো।আবির ফাহাত আর সাবিত এর মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে। সাবিত এর ফাহাত জ্ঞান হারায় ।যখন জ্ঞান ফিরে তখন দেখে আবির তাদের হাত পা আর মুখ বেধে রাখছে ।

আবিরের চোখ দুটো লাল হয়ে আছে ।যেন এখন ই গিলে খাবে ওদের । আবির ছায়ার মুখ থেকে কাপড়টা সরিয়ে বলে
আবির:আমার মায়ার সাথে এমন কেন করলি?? সব বল। তোদের আজ সব কিছু শুনতে চাই ।
ছায়া কিছু বলছে না তাই আবির চাবুক দিয়ে ছায়া কে মারছে ।ছায়া বলে
ছায়া:আমি বলছি ।আমাকে মেরো না ।আবির আমি তোমাকে অনেক আগে থেকে পছন্দ করতাম ।মায়া কে ফুল দেওয়া, লুকিয়ে লুকিয়ে ওকে দেখা সবাই আমি খেয়াল করতাম।কিন্তু ,,,,
আবির একটা চিৎকার দিয়ে
আবির:কিন্তু কি
ছায়া:কিন্তু আমি তোমার এই ভালোবাসা দেখে মায়া র প্রতি জেলাস ফিল করতে থাকি। মায়ার উপর অনেক রাগ হয় ।মায়া র থেকে আমি সুন্দর ।আমার পছন্দ করার কথা ছিলো তোমাদের কেন যে মায়ার ডাইরি টা ফেলতে চাইলাম ।আমি যখন তোমার বাসায় আসি ।মায়ার প্রতি তোমার ভালোবাসা আমার একদম ই ভালো লাগে না ।তাই আমি আস্তে আস্তে মায়া র মনে তোমার জন্য সন্দেহ সৃষ্টি করতে থাকি  আর একদিন তো আমি আপনার সরবতে ঘুমের টেবলেট মিলিয়ে দেই। এর পর আভার রুমে আপনাকে ঘুম পারিয়ে দেই ।
.
মায়া এসে আমাকে আর তোমাকে এই অবস্থায় দেখে রাগ করে ।তোমাকে ভুল ও বুঝে ।
তখন ই রাহাত আর আশা এসে সব দেখে। আমি মনে করেছিলাম মায়া তোমাকে ছেড়ে চলে যাবে ।
কিন্তু মায়ার মনে ছিল তোমার প্রতি অগাধ বিশ্বাস ।
রাহাত আর আশার চলে যাওয়া পর যখন মায়া আমাকে ঘুমের
টেবলেটের পাতা দেখায় তখনই বুঝে গিয়েছিলাম যে মায়া সব জেনে গেছে ।
আমাকে অপমান করে বের করে দিয়েছে। এই টার বদলা তো নেওয়া ই লাগে ।
আমি সাবিত আর ফাহাত কে আসতে বলি ।ওদের বলি যে মায়া কে শেষ করে দিতে ।
মায়ার জন্য ফাহাত আশা আর ওর সন্তান কে পাই নি এর জন্য মায়ার প্রতি অনেক ক্ষোব ফাহাতের এই টা ই আমি কাজে লাগাই ।সাবিত ও রাজি ছিল কেননা মায়া তোমার জন্য সাবিতের ভালোবাসা কে আপন করে নেয় নি।
.
অনেক অপমান করেছিল সাবিত কে। তাই আমরা একটা প্লান করি। সাবিত অফিসের এক আর্জেন্ট কাজে তোমাকে কিছু সময়ের জন্য অফিসে পাঠাবে।আর এরই মধ্যে আমি ,সাবিত আর ফাহাত মায়া কে মেরে ফেলব । আমরা ভিতরে গিয়ে দেখি মায়া সোফায় বসে আছে ।আমাকে দেখে মায়া উঠতেই আমি ওকে ধাক্কা দেই ।মায়ার প্রতি এতই জেলাসি ছিল যে সাবিত আর ফাহাত আমার চোখের সামনে মায়া কে রেপ করেছে ।আমি কিছুই বলি নি ।ওদের কাজ শেষ হওয়ার পর আমি মায়ার পেটে ছুরি মারলাম ।আর ওর পেটে এক টা লাথি ও দিলাম ।পরে আমরা তাড়াতাড়ি বাসা থেকে বের হয়ে আসলাম ।
এই কথা বলার পরই আবির ছায়া,সাবিত আর ফাহাত কে চাকু দিয়ে আচ্ছা মত গুতাতে থাকে ।সাবিত আর ফাহাতের যৌনাঙ্গ কেটে দেয় ।ছায়ার মুখে পাথর মেরে থেঁতলে দেয়। যে কেউ লাশ দেখলে ভয় পেয়ে যাবে ।
আবির পুলিশকে খবর দিয়ে মায়ার কাছে চলে যায় ।হাসপাতালে এসে দেখে সবাই কান্না করছে ।রাহাত ,আশা ,মায়ার মা বাবা সবাই। আবির দেখে মায়া আর বেচে নেই ।আবির কান্নায় ভেঙে পড়ে।এই সময় পুলিশ এসে পরে। রাহাত পুলিশ কে দেখে বলে
রাহাত:মায়ার হত্যাকারী আবির ।নিয়ে জান ওকে । তখনই পুলিশ বলে
পুলিশ:মায়া কে আবির মারে নি ।
রাহাত:তাহলে ।
পুলিশ রাহাত কে ভিডিও দেখায়। এই ভিডিওটা আবির করেছে যখন ছায়া সত্যি কথা বলছিল।
মায়ার মা বাবার বিশ্বাস হচ্ছে না যে নিজের বোন বোনের সাথে এমন করতে পারে। আবির রাহাতকে বলল
আবির:মায়ার হত্যাকারীকে শাস্তি না দিয়ে কীভাবে আমি আমার শান্তিতে থাকতে পারি ।আমি মায়াকে হাসপাতাল এ নিয়ে যাওয়ার সময় ই সব বুঝে যাই ।
.
পুলিশ :তাহলে আমাদের মিথ্যা বললেন কেন যে আপনি বাসা
থেকে মায়ার সাথে ঝগড়া করে বের হয়েছেন।
আবির:আমি যদি সত্যি বলতাম ।তাহলে মায়ার খুনিকে আপনারা ধরে ফেলতেন।
আর এক সময় ওরা টাকার জোরে ছুটে ও আসত।
আমি তা চাই না ।তাই আমি ই ওদের শাস্তি দেই।
পুলিশ:তিনটা খুন করেছেন। আপনার তো ফাঁসি হবে।
আবির একটু হেসে বলে
.
যেই জগৎ এ আবিরের মায়া  নেই এই জগৎ তে কি আবির থাকতে পারে ।আবির রাহাতকে বলল
আবির:যাওয়ার আগে আমার মেয়ে কে দেখতে দিবে।
আশা আবিরের সামনে তার মেয়ে কে নিয়ে আসে। আবির তার বাঁচ্চাকে কোলে নিয়ে বলল
আবির:আমার মেয়েটা পুরো মায়ের মতো হয়েছে ।
আবির রাহাতকে বলে আমার মেয়ের নাম মায়াবী রেখ।
আর আমি যাওয়ার পর আমার মেয়ে কে দেখে রেখ ।
পুলিশ আবিরকে নিয়ে চলে যায় ।তিনটা খুনের দায়ে আবিরের ফাঁসি হয়।
আবিরের শেষ ইচ্ছা জানতে চাইলে আবির বলে
.
আবির:আমার কবর টা মায়ার কবরের সামনে হবে। আবিরের ফাঁসি হয়ে যায় ।এই প্রথম কোন মানুষ ফাঁসির শাস্তি হাসতে হাসতে  গ্রহন করল ।আর মায়াবী কে রাহাত আর আশা নিজের মেয়ের মতো দেখা শুনা করে ।আবিরের মা বাব আবিরকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগে।
কিছু ভালোবাসা এই জগৎ তে পূর্ণতা পায় না। পরকালের জন্য থাকে ।মায়া আর আবির নিশ্চয়ই পরকালে তাদের ভালোবাসা কে সার্থক করতে পেরেছে ।
                       সমাপ্ত

No comments