Breaking News

গল্প: এক টুকরো ভালোবাসা | পর্ব: ০৭

●●●বর্তমান ●●●

ডাক্তারের কাছ থেকে মায়ার এই অবস্থার কথা শুনে আবির পুরো ভেঙে পড়েছে ।রাহাত হাসপাতালে এসেই আবির কে কলার ধরে মারতে লাগল
রাহাত:কেন করলে মায়ার সাথে এমন। ???কী দোষ করেছে ওওও?তোমার আর ছায়ার সম্পর্ক জেনে গেছে তার জন্য ওকে এত বড় শাস্তি দিবে ।তোর মত জানোয়ার দের  বাঁচার কোন অধিকার নেই ।
আবির শুধু রাহাতের কথা শুনছে আর চোখের জল ফেলছে।
রাহাত :আমি তোকে পুলিশে দিব ।
এই কথা শুনে আবির রাহাত কে একটা ধাক্কা মেরে হাসপাতাল থেকে চলে যায় ।আশা আর রাহাত মায়াথ জন্য দোয়া করছে ।
আবির ছায়াকে ফোন দেয়
আবির:যা চেয়েছ তাই ই হয়েছে ।এখন কোথায় তুমি??
ছায়া:আমি তোমাদের বাসায় ।
আবির:আমি আসসি জান ।
আবির ছায়ার কাছে চলে গেল ।দেখল ছায়া বউ সেজে আবিরের জন্য বসে আছে ।
আবির রুমে ঢুকতে ই ছায়া বলে
ছায়া:এসেছ জান।মায়া কেমন আছে?
আবির:ওই ধর্ষিতার নাম মুখে ও নিবা না।
ছায়া:ওর সন্তান যে তোমার পেতে?
আবির ছায়ার কাছে এসে বলল
আবির:তো কি হয়েছে তোমরা যা করেছ আবির তো মনে হয় ও আর ওর মেয়ে বাঁচবে না।
ছায়া:তোমার মুখে এই কথা শুনে বিশ্বাস ই হচ্ছে না ।
আবির:কী আর করবো বলো ছায়া ।আগে যদি জানতাম তুমি মায়ার থেকে ও দেখতে সুন্দর আর হট তাহলে ওকে বিয়ে না করে তোমাকে ই করতাম। শুধু শুধু নিজের ভাইয়ের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করেছি।
ছায়া:সত্যি বলছ??
আবির ছায়াকে নিজের বুকে নিয়ে বলল
আবির:হ্যাঁ জান।তুমি যখন এই বাসায় আসো ।আস্তে আস্তে তুমি আমাকে তোমার ভালোবাসার জালে ফেলে দিলে ।আর আমাদের ওই রাতের কথা কি আমি ভুলতে পারি ।
ছায়া :ওই রাতে তো আমাদের মাঝে কিছুই হয় নি ।আমি তোমার সরবতে ঘুমের টেবলেট খাওয়িয়ে  তোমার জামা কাপড় খুলে তোমার সাথে শুয়ে থাকি। যাতে মায়া তোমাকে ভুল বুঝে চলে যায় ।কিন্তু ওই ব্যাহায়ার বাচ্চা তোমাকে ছাড়ল না ।তাই তো এই কাজ করতে হল আমায়।
আবির:বাহ তুমি তো খুব চালাক ।আমি তো তোমার নেশায় শেষ হয়ে যাচ্ছি।
এই বলে আবির ছায়ার কাছে আসতে চায় কিন্তু ছায়া থামিয়ে বলে
ছায়া:তুমি আমাকে মায়া মনে করছ ।আমাকে বিয়ে করা ছাড়া স্পর্শ করতে পারবে না ।
আবির একটু হেসে বলে
আবির:ঠিকাছে ।
ছায়া আবিরের বুকে ঘুমিয়ে পড়ে ।
অন্যদিকে
হাসপাতালে রাহাত আর আশা মায়ার জন্য কেঁদে চলছে ।একটু পর ডাক্তার এসে বলে যে
ডাক্তার:রোগীর একটা মেয়ে হয়েছে ।
রাহাত:আর মায়া ও কেমন আছে ?
ডাক্তার:দেখুন রোগীর অবস্থা অনেক খারাপ ।আর বাচ্চা টার ও ।রোগীর পেতে চাকু ঢোকানো হয়েছে যা বাচ্চার শরীরে ও লেগেছে ।বলতে গেলে দুইজন ই এখন বিপদের মুখে।
রাহাত আর আশা কথাটা শুনে ঠিক থাকতে পারে না। রাহাত পুলিশের কাছে আবিরের নামে কেস করে ।
পুলিশ রাহাতকে জিজ্ঞেস করে
পুলিশ:আপনি আবির সাহেব কে কেন দোষী মনে করছেন?
রাহাত:মায়া প্যাগনেন্ট হওয়ার পর যখন ছায়া ওই বাড়িতে যায় তখন আবির আর ছায়ার অনেক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হয়ে যায় ।আর নিজের অপরাধ লুকানোর জন্য আবির মায়া কে দোষ দেয়।একদিন মায়ার বাসায় আমরা যেয়ে দেখি আবির আর ছায়া এক রুমে আপত্তি কর অবস্থায় আছে ।মায়া কে অনেক বললাম আমাদের সাথে চলতে। আবির মায়া কে ভুলভাল বুঝিয়ে আর যেতে দেয়নি।সেদিন ছায়া ও এ বাড়ি থেকে চলে যায় ।
পুলিশ:আচ্ছা আমরা ঘটনা টা দেখছি।
পুলিশ আবিরকে থানায় নিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করল
পুলিশ:আচ্ছা, এমন কি হয়েছে যে আপনি আপনার স্ত্রী কে খুন করলেন ।
আবির:আমি ওকে খুন করতে যাব কেন ।ওর তো কতগুলো আসিক আছে তারাই খুন করেছে ।শুনেন নাই তারা ওকে রেপ ও করেছে ।
পুলিশ:আপনি আপনার স্ত্রী সম্পর্কে এমন নোংরা কথা কীভাবে বললেন?
আবির:দেখুন অফিসার, বিয়ের পর ওঃ অনেক ভালোবাসতাম ।কিন্তু ও কি না আমার ভাইয়ের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে গিয়েছিল ।আর যে আপনাকে এই কেস টা করেছে মি রাহাত উনি ও মায়ার এক পুরোনো আশিক।
পুলিশ :আচ্ছা, যখন এই সব ঘটনা ঘটে আপনি কই থাকেন শুরু থেকে বলেন?
আবির:ওইদিন সকালে আমার ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয় ।উঠে দেখি মায়া আমার ভাইকে আকরে ধরে আছে ।মায়ার সাথে রাগারাগি  করে চলে যাই ।আর বাসায় এসে দেখি ওর এই অবস্থা।
পুলিশ:আপনার কারো উপর সন্দেহ?
আবির:না ,কারো উপর নেই ।
আবিরের বিরুদ্ধে কোন কিছু না পাওয়ায় পুলিশ আবিরকে ছেড়ে দেয় ।
এদিকে মায়ার অবস্থা আরো খারাপ হচ্ছে আর বাচ্চার অবস্থা আশার যত্নে ধীরে ধীরে ভালো হচ্ছে ।আবির একবার ও মায়া কে দেখতে যায় নি। এমন কি তার সন্তান কে ও না । আবির ছায়া কে বিয়ের জন্য বলে। ছায়া তো ভিষন খুশি ।
হাসপাতালে আশা আর রাহাত মিলে মায়া আর তার বাচ্চার দেখা শুনা করছে ।
আজ আবির আর ছায়ার বিয়ে ।
চলবে……
ছোট করে দেওয়ার জন্য দুঃখিত।

No comments