Breaking News

দ্যা ভ্যাম্পার কিং



এলো মেলো লম্বা চুল মেয়েটার, চোখে গোল গোল চশমা। উচ্চতা পাঁচ ফুট পাঁচ ইঞ্চি হবে।
মেয়েটার মুখে এক রাশ ক্লান্তির ছাপ,
এক দলা কালো মেঘ যেন মেয়েটার মুখের ওপর এসে ঝুঁকে পড়েছে।
চোখের পাতাগুলো সহজে চোখ থেকে সরতেই চাইছে না- বড্ড ঘুম যে পেয়েছে তার।
.
নির্জন সড়কের দ্বার ঘেঁষে ধীরু পায়ে হেঁটে চলেছে নীলান্তিকা। পেশায় সে একজন সাংবাদিক।
অন্ধকারাচ্ছন্ন নির্জন পরিবেশ তার মনে অবিরল ধারায় অশুভ চিন্তার ক্ষীণ স্রোতের জন্ম দিচ্ছে।
মগজের ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে অসংখ্য বাজে চিন্তাধারা।
মগজের ভেতর থাকা সেই চিন্তাগুলোর মধ্যাকার একটা অশুভ চিন্তা বাস্তবে ফলেও গেল।
আচমকা একটা তীক্ষ্ণ আর্তনাদের শব্দে সে থমকে দাঁড়িয়ে গেল।
একটা অজানা ভয় তার গলা অব্দি ওঠে আসতে লাগল।
তার পা জোড়া পূর্বের তুলনায় যেন কয়েক গুণ ভারি হতে লাগল।
ভয়ের কারণে সে এক কদমও এগুতে পারছে না।
কিছুক্ষণ সে চুপ করে কান খাড়া করে দাঁড়িয়ে রইল। মৃদু করুণ আর্তনাদের শব্দ এখনো আসছে।
নীলান্তিকা সাহস জুগিয়ে শব্দের উৎস খুঁজার চেষ্টা করল।
খাড়া কান এই কর্মে তাকে সহায়তা করল ; কানগুলো মগজকে বলে দিল শব্দের উৎসটা কোথায়।
কর্ণে আসা আর্তনাদের শব্দটা তার হাতের বাঁ দিক হতে আসছে।
শব্দের উৎসটা বুঝতে পেরে নীলান্তিকা বাঁ দিকে মুখ করে দাঁড়ালো।
বাঁ দিকে সরু একটা অন্ধকার গলি গেছে।
.
দূর থেকে সে লক্ষ্য করল অন্ধকার গলির মধ্যে এক টুকরো আলো –
ল্যাম্পপোস্টের আলো। শব্দের উৎসের দিকে যাবার জন্যে তার মন সায় দিল না।
তবে সাংবাদিক বলে কথা, সাহস জুগিয়ে ধীরু পায়ের সে এগিয়ে যেতে লাগল।
কিছুটা এগুতেই সে আর সেই করুন আর্তনাদের শব্দটা পেল না।
আরো কিছু দূর এগুতেই সে মাটিতে একজন লোককে পরে থাকতে দেখল।
দ্রুত পায়ের সে লোকটার কাছে গেল।
লোকটার দিকে তাকাতেই নীলান্তিকা ভয়ে এক হাত দূরে ছিটকে গিয়ে পড়ল।
জোরে জোরে সে শ্বাস নিতে লাগল। তার কপাল বেয়ে ঘাম গড়িয়ে পরতে লাগল।
তার সামনে পরে আছে একটা প্রায় রক্ত শূন্য মৃত দেহ।
রক্ত শূন্য হবায় দেহটি পুরো সাদা বর্ণ ধারণ করেছে, চামড়া আলগা হয়ে ঝুঁলে আছে।
সাপের খোলসের মতো এ যেন মানুষ খোলস।
নীলান্তিকা লক্ষ্য করল লোকটার ডান হাতের একটা আঙুল মৃদু কাঁপছে ।
সে লোকটার কাছে গেল, লোকটা বিড় বিড় কিছু বলার চেষ্টা করছে।
নীলান্তিকা লোকটার মুখের সামনে কান নিতেই শুনতে পেল, ‘ভ্যাম্পায়ার কিং অবশ্যই ফিরে আসবে। ’
এরপর সে আর লোকটার মুখে আর কোনো শব্দ উচ্চারণ করতে শুনে নি। লোকটা মারা গেছে!
.
.
নীলান্তিকা লোকটার পাশে বসে আছে। তার মনে ভয়ের ছিটে ফোঁটাও নেই। গভীর রাতে সে যে একটি লাশের পাশে বসে তা তার মানবচিত্তে নেই। উন্মাদের মতো সে মগজের ভেতর ভ্যাম্পায়ার নামক ক্ষীণ, তকে গম্ভীর শব্দটা ভেঙে চুড়ে অনুধাবন করার চেষ্টা করছে।
আযানের মধুর শব্দে নীলান্তিকার ভাবনার জগত থেকে ফেরা হলো। দ্রুত সে পুলিশকে খবর দিলো। ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পুলিশ মিনিট বিশেকের মতো সময় নিলো। প্রাথমিক জিজ্ঞাসা বাদের পর নীলান্তিকা বাড়ি ফেরার অনুমতি পেল।
বাড়ির দরজায় কড়া নাড়তেই তৎক্ষণাৎ নীলান্তিকার মা দরজা খুললেন। নীলান্তিকা কিছু বলার আগেই তার মা কষে একটা চড় মারলেন। নীলান্তিকা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল।
_ ‘সারা রাত কোথায় ছিলি। আমাদের নাক তো তুই কাটিয়েছিস। রাত ভর না জানি কার সাথে ছিলি তুই।’ চিৎকার দিয়ে বললেন নীলান্তিকার মা।
.
_ ‘মা, আপনি জানেন রাত ভর আমি একটা রক্ত শূন্য মৃত দেহের সাথে ছিল।’
নীলান্তিকার কথা শুনে তার মা বড় বড় চোখে তার দিকে তাকিয়ে রইল। সে আবারও বলে উঠে, ‘আমাকে আগে সবটা বলতে তো দেন। ’
নীলান্তিকার মা তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দিলো। নীলান্তিকা দ্রুত তার মাকে পুরো ঘটনা খুলে বলল। সব কিছু শুনে নীলান্তিকার মা রাহেলা বেগম বললেন, ‘তুই ঠিক আসছিস তো। কিছু হয়নি তো! আমি না বুঝেই তোর গালে চড় মেরে বসলাম।’
_ ‘আচ্ছা, বাদ দেও। খুদা লেগেছে কিছু খেতে দেও।’
.
.
_ ‘শোনেন সাহেব আমি এখানে খোশগল্প করতে আসিনি। অযথা, অবাঞ্ছনীয় কথা বলা মোটেও আমার পছন্দ নয়। আমি বলছি কী, আমাকে ভ্যাম্পায়ার কিং এর ছবিটা দেন। আপনি তো যুবক বয়সে তাকে দেখেছেন। আর নিজ হাতে তার একখানা সাদা কালো ছবিও এঁকেছেন।’ বেশ গম্ভীর গলায় কথাটা বলল রনি।
_ ‘এক মুঠো কাজু বাদাম সাথে এক কাপ চা আর একটা রবীন্দ্র সঙ্গীত-আমারো পরানে যাহা চায় ; বলেন তো সুখী মানুষ হতে আর কী লাগে?’ একটু হেসে কথাটা বললেন রকিব হোসেন।
_ ‘জনাব, কথার প্রসঙ্গ আপনি পাল্টাচ্ছেন। এবার কী আমি বাধ্য হবো জোর গলায় কথা বলতে।’ চোখ রাঙ্গিয়ে কথাটা বলল রনি।
_ ‘দেখো মশাই, লাল চোখ দেখলে আমি প্রচণ্ড ভয় পাই। বড়দের সাথে এভাবে কথা বলতে নেই। ’
রনি চটে গিয়ে জনাব রকিব হোসেনের গালে কষে একটা চড় মারল। জনাব রকিব গালে হাত দিয়ে রনির দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। অপলক দৃষ্টি, চোখ জোড়ায় ধীরে ধীরে রাগ ফুটে উঠছে। বয়সের ভারে লোকটার কালসে চোখের মণিটা ঘোলাটে হয়ে গেছে। কিন্তু এখন যেন এই ঘোলাটে চোখ জোড়া রনিকে গিলে ফেলতে চাইছে। রনি কিছুটা ভয় পেল।
.
কিছুটা তোতলিয়ে সে বলল, ‘ দেখেন আমার কথা মতো কাজ করলে আপনার গায়ে হাত তুলতে হতো না। কিন্তু আপনি মশাই কথা ঘুরাচ্ছিলেন, যেটা আমার মোটেও পছন্দ নয়।’
জলদগম্ভীর কণ্ঠস্বরে রকিব সাহেব বললেন, ‘স্মরণে রাখো, মগজে লিখে রাখো। দুটো ব্যক্তি যখন কথা বলে তখন পছন্দ অপছন্দের বিষয় টানতে নেই। জিনিস ক্রয় করার সময় পছন্দ অপছন্দ খাটে, মানুষের বেলায় খাটে না। মানুষ আর বস্তু এক নয়। যুবক বয়স তোমার, তাই রক্ত গরম। চড়া মেজাজ। তবে যে যুবক রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে জানে সে যুবক কোথাও হেনস্তা হয় না।’
রনি কিছু একটা বলতে নিলো, কিন্তু পারল না। রকিব সাহেব আবারও বলে উঠলেন, ‘কথাগুলো আমার নয়, কথাগুলো ভ্যাম্পায়ার কিং এর। জানো ভ্যাম্পায়ার কিং কে?‘
.
রনি উৎসুক দৃষ্টিতে রকিব সাহেবের দিকে তাকালো। রকিব সাহেব রনির মুখের খুব কাছে এসে বললেন, ‘ সে আমার ছোটো বেলার বন্ধু ছিল। বর্তমানে সে মৃত। বহু বছর আগে।সে মারা গেছে। ভ্যাম্পায়ার জগতের সাথে পৃথিবীর কোনো যোগ সূত্র নেই। যে পথ দিয়ে পৃথিবী থেকে ভ্যাম্পায়ার জগতে যাওয়া যায় সেটি বন্ধ। তাই অহেতুক ভ্যাম্পায়ার জগত নিয়ে গবেষণা বাদ দেও। যুবক বয়স, সুদর্শন তুমি। যৌবন কাল কোনো পরিত্যক্ত নগরীর পেছনে ব্যয় না করাই শ্রেয়। তোমার চড়ের বদলা চাইলে আমি নিতে পারতাম। নিলাম না, এবারের মতো ছেড়ে দিলাম।’
.
রনি কেন জানি ভয় পাচ্ছে। রুমটা পূর্বের তুলনায় অনেকখানি শীতল হয়ে গেল। যেন সে একটা মর্গের ভেতর রয়েছে। সে তার মনের ভয়টা কমাতে রকিব সাহেবকে বলল, ‘আসলে আমার রাগ একটু বেশি। নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। জানেনই তো রাগে মানুষ যা করে মন কখনই তা করতে চায় না। ’
_ ‘তাই তো তোমায় ক্ষমা করে দিলাম। এবার তুমি আসতে পারো।’
রনি বুঝতে পারল রকিব সাহেব তাকে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলছেন। রনি আর কথা না বাড়িয়ে সেখান থেকে চলে এলো।
.
.
রনির এই ভ্যাম্পায়ার জগত নিয়ে গবেষণার সঙ্গী হলো তার বড় ভাই রিয়াজ। রনি বাড়ি ফিরেই রিয়াজকে সবটা খুলে বলল। রিয়াজ সবটা শুনে ভয় পেয়ে বলল, ‘রকিব সাহেব ভ্যাম্পায়ার কিং এর বন্ধু? এর মানে তো রকিব সাহেবও ভ্যাম্পায়ার! কারণ ভ্যাম্পায়ার কিং এর জন্ম হয় প্রায় দুই শ বছর আগে। ভাই আমার তুই ঠিকাছিস!’
রনি ভয়ে কাঁপতে লাগল।
_ ‘রকিব হোসেন বলেছিলেন তিনি চাইলে আমার চড়ের বদলা নিতে পারতেন। কিন্তু আমায় মাফ করে দিয়েছেন! এর মানে বৃদ্ধ রকিব সাহেব একটা ভ্যাম্পায়ার। ভাজ যুক্ত চামড়ার ভেতরে অশুড়ে শক্তি রয়েছে!
রিয়াজ রনিকে নিয়ে রকিব সাহেবের বাড়ির দিকে রওনা দিলো। রকিব সাহেব বিপদজনক নয়, কারণ রনিকে তিনি ছেড়ে দিয়েছেন। হয়তো ভ্যাম্পায়ার জগত নিয়ে তিনি তাদের আরো কোনো তথ্যও দিতে পারেন।
রনি ও রিয়াজ রকিব সাহেবের বাড়ির সামনে এসে থামকে দাঁড়ালেন। সেখানে কোনো বাড়ি নেই! শুধু একটা ধুধু খোলা মাঠ।
রনি ভাঙা গলায় বলল, ‘এমা বাড়িটা কোথায় গেল!’
রনি এবং রিয়াজ স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ব্যাখ্যাতীত এই ঘটনার কোনো আসন্ন যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা দিতে তাদের মগজ অক্ষম।
.
.
প্রতিটা পত্রিকার প্রধান খবর হলো শহরে একটি রক্ত শূন্য দেহ পাওয়া গেছে। তবে লোকটার পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। পত্রিকায় মৃত ব্যক্তিটার একটা ছবিও দেওয়া হয়েছে। তার নিচে রয়েছে একটি ফোন নম্বর। কেউ ব্যক্তিটা যদি চিনে থাকে তাহলে যোগাযোগ করতে।
নীলান্তিকা এখনো সেই রক্ত শূন্য পাণ্ডুর মুখটির কথা ভুলতে পারছে না। যতবার চোখ বন্ধ করছে ততবারই সেই মুখটা তার সামনে ভেসে উঠছে।
নীলান্তিকার চোখের সামনে এক দিকে যেমন রক্ত শূন্য মুখটার কাল্পনিক চিত্র ভাসছে, আরেক দিকে তেমনি মগজে ভ্যাম্পায়ার নামক শব্দটা তোলপাড় করে যাচ্ছে। তার চিত্ত এখন কল্পবিজ্ঞানের তত্ত্বকথায় হারিয়ে গেছে। একটা শব্দ যে মানুষের চিত্তকে অন্য জগতে পাঠিয়ে দিতে পারে তা হয়তো সে কখনো ভাবেনি। এ যেন এক জোয়ার, ভাটা বিহীন জোয়ার। একবার ফাঁসলে বের হবার কোনো উপায় নেই।
.
.
_ ‘দেখে রিকশা চালান চাচা! এখনই তো আমি রিকশার তলে পরতে নিয়ে ছিলাম।’ একটু বিরক্ত হয়ে কথাটা বলল নীল।
হাসপাতাল থেকে বের হতেই একটা গতিশীল রিকশা প্রায় নীলের ওপর দিয়ে যেতে নিয়েছিল। ভাগ্য ভালো সে খেয়াল করে এবং তৎক্ষণাৎ সরে পড়ে।
.
নীল রিকশা চালককে আর কিছু না বলে হাঁটা ধরল। তার মস্তিষ্কে কিছু চিন্তা খেলে যাচ্ছে।
এটা তার প্রতি মুহূর্তেরই স্বভাব। সাধারণ মানুষের তুলনায় সে অত্যধিক মাত্রায় চিন্তা করে থাকে।
তাই তো বিগত কয়েক মাস ধরে তাকে হাসপাতালের চৌকাঠে পেরুতে হচ্ছে।
তার সমস্যা একটু ভিন্নধর্মী। দুটো সত্ত্বা তার ভেতর বিরাজ করে।
এই রোগটি অনেক মানুষেরই হয়ে থাকে।
যাদের জীবনে বিভৎস কিছু ঘটেছে রোগটা বেশির ভাগ সময় তাদেরই হয়ে থাকে।
এই মানসিক রোগে আক্রমণ রোগিরা সপ্তাহ খানেক ভালো থাকে।
ভালো বললে ভুল হবে অত্যধিক ভালো থাকে। পুরো সপ্তাহ জুড়ে তাদের ভেতর পুরো এনার্জি থাকে।
অনেক কাজ করতে পারে, শুধু তাই নয় যেটা তারা ভাবে সেটা নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে করার চেষ্টা করে।
তবে আট দশ দিন পর তারা কেমন জানি হয়ে যায় মানসিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।
আজান ভয় তাদের জড়িয়ে ধরে। অতীতের কোনো করুণ ঘটনা তাদের প্রতি মুহূর্ত জ্বালাতন করে।
তবে নীলের বেলায় কিছুটা ভিন্ন। কারণ তার কোনো নিষ্ঠুর অতীত নেই।
সে বরাবরই হাসি খুশি একজন মানুষ।
তবে নিষ্ঠুর অতীত স্মরণের বদলে সে কল্পনা জগতে হারিয়ে যায়।
যুদ্ধ বিগ্রহ! তবে প্রতিটা ভাবনার শেষটা হয় অসম্ভব বিভৎস!
সাধারণ মানুষের মনে এমন ধারণা বছর খানেক ধরে জীবিত থাকলে নির্ঘাত সে সাইকোতে পরিণত হবে।
তাই নীল নিজ দায়িত্বে এসেছে ডাক্তারের কাছে।
যাতে এসব হিংস্র ভাবনা তার মগজে যেন না আসে।
তার মগজে হরমন অধিক মাত্রায় নিঃসরণ হয়,
তাই ডাক্তার কিছু ঔষধ দিয়েছে।
যা খেলে সে গভীর ঘুমে ঢলে পড়ে আর অনাকাঙ্ক্ষিত বিভৎস চিন্তাধারা থেকে মুক্তি পায়।
তবে প্রায় দেড় বছর হয়ে গেছে! এখনো তার মগজে বিভৎস চিন্তা আসছে।
চিকিৎসার প্রভাব তার উপর তেমন একটা পড়ছে না।
সে আর ঔষধ নির্ভর হতে চায় না,
রোগটা থেকে সে সম্পূর্ণ রূপে পরিত্রাণ চায়।
তাই আজ কাল ডাক্তারের নিকট ঘনঘন তার যাওয়া পড়ছে।
.
.
জানলার কার্নিশ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে নীল। রাত তখন আনুমানিক দুটো।
নীলের চোখের সামনে খেলে যাচ্ছে কিছু বিভৎস দৃশ্য। যেন সব বাস্তব!
নীলের জেগেছে একজন নেশা। হয়তো একে খুনের কিংবা রক্তের নেশা বলে।
নিজ হাতের আঙুল সে কামড়াচ্ছে।
.
.
চোখে হাই পাওয়ারি চশমা, তার ওপর ম্যাগনেফাইন গ্লাস দিয়ে বছর ষাটের এক লোক খবরের কাজ পড়ার চেষ্টা করছে। লোকটার এত আকাঙ্ক্ষা কিসের কে জানে!
লোকটার পাশে বসে আছে দু’জন যুবক। হ্যাঁ! রনি আর রিয়াজ।
রনি লোকটাকে বলল, ‘গত দিনের পত্রিকা।
শহরে একটা রক্ত শূন্য মৃত দেহ পাওয়া গেছে। তবে লাশের পরিচয় এখন অব্দি শনাক্ত করা যায়নি।’
কথাটা বলে রনি একটু থামল। সে থামতেই লোকটা বলে উঠলেন, ‘লাশের পরিচয় খুঁজে লাভ নেই। ওটা মানুষ নয়! ভ্যাম্পায়ার। আর লাশটা দেখবে আজ রাতেই গায়েব হয়ে যাবে। দেখে নিও!’
_ ‘ভ্যাম্পায়ার’ গম্ভীর গলায় বলল রিয়াজ।
লোকটার সামনের দাঁতগুলো বেরিয়ে আছে, দাঁতগুলো দেখিয়ে লোকটা বললেন, ‘হ্যাঁ, ভ্যাম্পায়ার। রক্তচোষা দানব। এমন ভান করছ যেন কিছুই জানো না। ’
_ ‘না, তা না। বলছি কী, আপনি নিশ্চিত হলেন কী করে যে লাশটা মানুষের নয়। বরং ভ্যাম্পায়ারের।’ স্থির গলায় বলল রিয়াজ।
লোকটা আচমকা রিয়াজের গালে একটা চড় বসিয়ে দিলো। চড় মেরে লোকটা বললেন, ‘মাথাটা বিগড়ে দিলি। ফাজলামো করতে এসেছিস? ভ্যাম্পায়ার নিয়ে বিশ বছর গবেষণা করে চলেছি, আর তুই আমাকে এমন ফালতু প্রশ্ন করলি।’
রনি কিছু একটা বলতে নিলো, কিন্তু তার আর সুযোগ হয়ে উঠল না। লোকটা ঠাস করে রনির গালেও একটা চড় মারলেন।
_ ‘হতচ্ছাড়াগুলা।’

চলবে…

No comments