Breaking News

বউয়ের শাসন

বউয়ের শাসন

-আপনি আবার ঠান্ডা পানি খেয়েছেন তাইনা ??
-কই নাতো ??
-সত্যি সত্যি বলেন ।।
-ইয়ে মানে সকালে মনে ছিলোনা তাই ভুলে খেয়েছি।।
-তাইতো এত কাশি হচ্ছে এখন।।
–সরি বাব্বা।।
–আমায় সরি বলে কিছু হবেনা।। আমি না থাকলে আপনি এমনই করেন সবসময়।।
–হম্ম।।
–কি হম্ম ? আর গোছল করেছিলেন আজকে ?
–এইযে মানে সেদিন করেছিলাম যে।।
–মানে আমি আসার পর দুইদিন গোছল ও করেন নাই তাইনা।।
–আসলে খুব ঠান্ডা তো তাই।।
–অফিসেও জাননি মনেহয় বউয়ের শাসন।।
–উঠতে দেরি হয়েছিল তো তাই ভাবলাম বিকেলে যাবো একবারে মিটিং এ ।।
–হম্ম।।
–আচ্ছা রাখছি।।
-শুনুন, আমায় মিস করেন না ??
–এখানে মিস করার কি আছে।।দুইদিন মাত্র হলো গিয়েছো।।
–বুঝেছি ।। এখন আমি না থাকলেই আপনার ভালো লাগে।।
–আরে বাব্বা তেমন কিছু না।।
— তেমনই।। আগের মতো আর ভালোবাসেন না ।।
–কে বললো।।
–আমি বুঝতে পারি।।
–আচ্ছা ।। পরে কথা বলি ।।
–ঠিক আছে।। আমায় নিতে আসবেনা না ??
–জানিনা।। থাকো কয়দিন।। পরে দেখা যাবে।।
— হম্ম (খুব গভীর মনে)।।
ফোন রেখে দিলাম।। ওপাশে রুমি, আমার বউ।।
আমার পাঁচ বছর ছোট ।।
চার মাস হয়েছে আমাদের বিয়ের ।।
পারিবারিক ভাবেই।।
ভালোইখানি দূরে আমাদের গ্রামের বাসা থেকে।।
বাবার পছন্দ মেয়েটা।। ভালোই সাংসারিক মেয়েটা।।
দুইদিন হয় ওর বাবার বাসায় গিয়েছে।।
তাই একা পরে গিয়েছি শহরের বাসায়।।
যাওয়ার সময় বলে গেছে একমাস থেকে আসবো।।
কিন্তু আমি জানি প্রত্যেকবারের মতো এক সপ্তাহ পরেই চলে আসবে।।
সকালের অফিস তো মিস হয়ে গেল।। বিকেলে মিটিং টা ধরতে পারলেই হলো।।
রুমি দুই তিনদিনের খাবার রান্না করে সব বুঝিয়ে দিয়ে গেছে।।
এটা এভাবে গরম করবেন, ওটা এভাবে খাবেন।। রান্নাগুলো খুব ভালো ওর।।
অফিস করে আড্ডা দিতে দিতে রাত হয়ে গেছে।। রুমির ফোন
এক ঘন্টা পর পর।। বাসায় গেছেন না নাই।। কি করছেন।। কি
খেয়েছেন।। বেশি আড্ডা দিতে নেই।। কোনো অফিসের
মেয়ের সাথে আড্ডা দিচ্ছেন নাকি।। রাতে শুইয়ে আবার ফোন।।
–শুয়েছেন ??
–হম্ম।।
–ঘুমাবেন ?
–হম্ম।।
–আমার না কেন জানি ঘুম আসছেনা।।
–চোখ বুঝে ফেল ঘুম আসবে।।
–না সেটা না ।।
–তাহলে?
–আজকে কি হয়েছে জানেন ??
–না।।
–আমার পুরোনো একটা বান্ধবী এসেছিল।। অনেকসময়
কথাবার্তা বললো।। ওর একটা ছোট কিউট বেবি আছে।। অনেক
কিউট দেখতে।।আর না ওর জামাই ……….।।
–(আমি নাক ডেকে ঘুমোচ্ছি।।)
–হেলো।। ওই ।। ঘুমোচ্ছেন ??
—-( আওয়াজ নাই।।)
–আমার এখানে ঘুম আসছেনা ।। আর উনি নাক ডেকে ঘুমোচ্ছেন।।
একটা পাপ্পি ও দিলো না।। গুড নাইট তো বলতে পারতো।।……..।।(রেগে গেছে )
আরো কিছুক্ষন আবেগ করে ফোন রেখে দিলো।।
পরেরদিন শুক্রবার।। আমার ভয় একটাই।।গোছল করতে হবে ঠাণ্ডাতে।।
সকালে দশটার দিকে ভাত আর ডিম ভাজি বানালাম।।
ভাবছি গোছল করে খেয়ে নামাজ এ যাবো।। খেতে বসে মনে হলো একটু লবন বেশি হয়েছে।।
কি আর করার।। খেয়ে নিলাম জোর করে।। নামাজের পরে একটা বন্ধুর ফোন আসলো।।
বলে তোর বউ বাসায় নাই চলে আয়।। তোর ভাবি বিরিয়ানি রান্না করেছে।।
যেখানে বিরিয়ানি সেখানে আমি না যাই হতেই পারেনা।। জামা পরে বের হবো।।
এমন সময় কলিং বেলের আওয়াজ।।
কেউ তো আসার কথা না।। দরজা খোলার সাথে সাথে দেখি রুমি।।
কিছু বলবো তার আগেই ঠাস করে জড়িয়ে ধরলো।। পেছনে শালাবাবু, রুমির ছোটভাই।।
রুমির বেগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।। শালাবাবু কে ইশারায় জিজ্ঞেস করলাম ঘটনা কি ?
বললো বলতেছি একটু পর।। কিছুক্ষন পর রুমি ছাড়লো।।
দুইচোঁখে হালকা পানি।। চোখদুটো মুছে দিলাম।। কিছু জিজ্ঞেস করলামনা।।
রুমি চলে গেল রুমে।। আমি আর শালাবাবু সোফায় বসে।।
ঘটনায় জানা গেল ওদের বাসার আশেপাশে একজন মেয়ে কালকে বাসায় ফিরেছে।।
মেয়েটাকে খুব মারধর করতো ওর বর।। বেশ ধনি ঘরেই বিয়ে হয়েছিল।।
রোজ নেশা করে মারধর করতো।।
— সেটা দেখে আপু বেগ গোছাতে শুরু করেছে।। আম্মু
মানা করার পরেও ও চলে আসবে।। আপু বলে আপনি খুব
ভালো।। কখনো হাত উঠানো তো দূরের কথা বেশি রাগ ও
করেননা ওর ওপর।। ও আপনাকে হারাতে চায়না।। তাই আমাকে
পাঠিয়েছে আম্মু সাথে।।আমি চলে যাবো বিকেলের বাসে।।
(শালাবাবু)
–একটা ফোন করতে আসার আগে।।
–আপু ফোন করতে দেয়নি।। বলে আপনি জানলে আসতে দিতেননা।।
(বুঝতে পারছিনা ।। এতটা আবেগী হয়ে গেছে রুমি।। এত
তাড়াতাড়ি আসার কি ছিল।। জানতাম এক সপ্তাহ খানি পর আসবে।। কিন্তু
তিন দিন পর আসবে জানতামনা।।আমার বিরিয়ানি ও মিস যাবে।।)
বন্ধুকে ফোন করে জানালাম যেতে পারবোনা।। ঘটনা বললে
বললো তুই খুব লাকি ।। তোর ছোট্ট বউ খুব ভালোবাসে
তোকে।।পরে একদিন আসিস বউকে নিয়ে।।
সন্ধ্যার বাসে শালাবাবু চলে গেল।। বাসে তুলে দিয়ে কিছু
চকলেট নিলাম রুমির জন্য।। একটা ছোট ছেলে ফুল বিক্রি
করছিল।। ওর সবগুলো ফুল নিলাম।। বাসায় এসে সেগুলো রুমে
রেখে দিলাম লুকিয়ে।।
এদিকে রুমি রান্না করেছে।। আমার ডিম গুলো আলুর সাথে
মিশিয়ে কি যেন সুন্দর রান্না করেছে।। লজ্জায় আমার দিকে
তাকাচ্ছেনা রুমি।। হালকা এড়িয়ে চলছে।। আমিও তেমন কিছু বলছিনা। বউয়ের শাসন
খাওয়ার পর আমি আগেই শুতে গেলাম।।কালকে অফিস আছে
সকালে।। ও রুমে আসার পর চুল আচড়াতে লাগলো।। কিছুক্ষন
পর পাশে শুইয়ে পড়লো।।দুইজন দুইদিকে।। শান্তি।। কেউ কিছু  বলছিনা।।কিছুক্ষণ পর–
–এইযে ঘুমাইছেন ?(রুমি)
–না।।
–একটা কথা বলি ??
–বলো।।
–আমায় না একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরেন প্লিজ।।আমার খুব ভয়
করছে।।
(রুমি আস্তে করে বুকে মাথা রাখলো।। দুইহাত দিয়ে জড়িয়ে
নিলাম ওকে।।)
–কিসের ভয় বাব্বা ??
–আপনাকে হারানোর ।। আপনি হারিয়ে গেলে আমি মনেহয়
বাচবোনা।।
–অমন বলেনা বাব্বা।। আমি কোথাও যাচ্ছিনা।।
–আচ্ছা বলবনা।। খুব ভালোবাসি আপনাকে।।
–আমিও ভালোবাসি ছোট্ট বউটাকে।।
–তাহলে এভাবে রাখবেন তো সারা জীবন।।
–হম্ম।।(ছোট্ট করে চুমু দিলাম কপালে)
–এখন আর ভয় লাগছেনা।।
–হম্ম।।
–জানেন ……।।(এটা হয়েছে ওটা হয়েছে।।একটার পর একটা বলেই যাচ্ছে )
কিছুক্ষন পর আর কথা নাই।। ঘুমিয়ে গেছে ।। জড়িয়ে ধরেই
ঘুমোচ্ছে।। হালকা আলোতে মুখটা মায়াবী লাগছে।। জানিনা
কতদিন বেঁচে থাকবো।। তবে নিশ্চই ভালোবাসবো ছোট্ট
বউটাকে।।একটু পর মনে হলো চকলেট আর ফুল দিতেই
ভুলে গেছি।। যাক সকালে উঠে সারপ্রাইস দিয়ে দেবনি।।
সমাপ্ত।।

No comments