Breaking News

তুমিময় শহর। পর্ব -০৭

সিমি আবারো বললো,
—নাহ আমি ই নাতাশা। সালিফ তোমাদের মিথ্যা বলছে!
মিনহাজ তাদের কে একটু অপেক্ষা করতে বলে গিয়ে উপরে চলে যায়। মিনিট কয়েকের মাথায় ফিরে আসে। হাতে কারো ছবি! সালিফ কে দেখিয়ে বললো,
—এসব কি বলছো তুমি সালিফ? এটাই আমার মেয়ে নাতাশা। ও যখন কানাডায় ছিলো তখন ওর ফুপি ওকে না জানিয়ে আমার কাছে লুকিয়ে ছবি পাঠাতো। এই দেখো সেই ছবি!
ছবি মেয়ে টা আর সিমির চেহারা হুবহু এক। কোনো খুঁত নেই। সালিফের ফোন টা বেজে উঠে। সে দ্রুত কল রিসিভ করে।

—হ্যাঁ ডাক্তার আরমান আপনি এসেছেন?
—জি আপনি কোথায়?
সালিফ ঘর থেকে বেরিয়ে গেটের সামনে গিয়ে দেখে ডাক্তার আরমান দাঁড়িয়ে আছে। সালিফ তাকে নিয়ে ভেতরে আসে। আরমান কে দেখা মাত্রই সিমির কিছু একটা হয়ে গেলো। মাথার চুল গুলো টেনে ছেড়ার মতো করে চেঁচিয়ে বললো,
—তুমি! তুমি এখানে? কোথায় ছিলে এতোদিন??
মিনহাজ রেগে গেলেন! তার মেয়ের সাথে এসব কি হচ্ছে! এতোক্ষণ যাবৎ সহ্য করেছেন আর না। তিনি কড়া দূরে বললেন,
—সালিফ অনেক হয়েছে আর না প্লিজ স্টপ ইট!

—হাহাহা।
—বেয়াদবের মতো হাসছো ও? এই যে আপনি কে কেন এসেছেন?[আরমান কে উদ্দেশ্য করে]
—আংকেল আমি বেয়াদব কি ভালো সেটা আমি ই জানি। কারো বিচার করার দরকার। আপনাদের যা জানার তা জানিয়ে দেওয়ার জন্যই এসেছি। ডাক্তার আরমান আপনি বলুন!
—উনি কি বলবে?
—নাহ তুমি কিছু বলবে না! বাবা তোমরা এর কথা বিশ্বাস করো না![সিমি কে ইহান আর ফারদিন জোড় করে নিয়ে যায় সালিফের ইশারায়!]
এবার ডাক্তার আরমান বলে উঠলো,
—জি আমি ডাক্তার আরমান। আমি যেই হসপিটালে জব করি ওই হসপিটালের ই রোগী ছিলো সিমি। রোগী ও ঠিক নয় উনি এসেছিলো তার ফেইস প্লাস্টিক সার্জারি করতে।
—তার মানে?

—এই মেয়েটি আসলে আপনাদের মেয়ে নাতাশা নয়। এই মেয়েটি সিমি। ওর মুখ প্ল্যাস্টি কসার্জারি করে বদলে দেওয়া হয়েছে।
—চুপ করুন ডাক্তার আমার মেয়ের সম্পর্কে আর একটাও বাজে কথা বলবেন না!
—আমি বাজে কথা বলছি ও না।
নাতাশা আর সিমি একসাথেই কানাডায় ছিলো। অদ্ভুত ব্যাপার হলো দুজন ই বাংলাদেশি ছিলো। তাই দুজনের মাঝে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক টা ছিলো জড়ালো। নাতাশা যেদিন আসার কথা সেদিন বিমান দুর্ঘটনায় সে মারা যায়। এই খবর সিমি জানতে পারে। নাতাশার বাবা মা জানার আগেই খবর টা চাপিয়ে দেওয়া হয়। সিমির পেছনে রয়েছে একটা কালো অতীত। খুবই গরিব ঘরের মেয়ে ছিলো সে। রায়হান নামের একটা ছেলে কে খুব ভালোবাসতো। সে জানতো রায়হান ও তাকে ভালোবাসে। কিন্তু না রায়হান তাকে ধোকা দেয়। যাওয়ার আগে বলে যায় সিমি লো ক্লাস মেয়ে। তার স্ট্যাটাসের সাথে যায় না। রায়হান কে পাগলের মতোই ভালোবাসতো সিমি।

সে চলে যাওয়ায় পাগল পাগল হয়ে গিয়েছিলো। ঠিক করেছিলো নিজেকে রায়হানের যোগ্য করে ওর সামনে যাবে। এর জন্য সিমি পাগলামি শুরু করে। বাবা মার কথা শুনে নি! ভুল পথে পা বাড়াতেও দ্বিধা করে নি। খারাপের পথে গিয়ে কানাডায় চলে যায়। কানাডায় গিয়ে তেমন একটা লাভ হয় নি। ঠিক তখনি নাতাশা সেজে আসার প্ল্যান টা মাথায় আসে। যেই ভাবা সেই কাজ নাতাশার মুখ নিজেই প্ল্যাস্টিক সার্জারি করে নিয়ে নেয়। যে কজন এসবের সাক্ষী ছিলো তারা টাকার লোভে পড়ে মুখ বন্ধ রাখে কিন্তু আরমান সব টা জেনে যায়।

ডাক্তার আরমান কে খুন করার পরিকল্পনা থাকলে সে এর আগেই বেপাত্তা হয়ে যায়। অনেক খুঁজে ও তাকে পায় নি সিমি। আরমান ই সালিফ কে এসব জানায়। এতোকিছু করার পর ও সিমির টাকার লোভ ছিলো প্রচুর নাতাশার বাবার সম্পত্তি তেও তার পোশায় নি তাই সালিফের সব সম্পত্তি ও দখল করার পরিকল্পনা ছিলো। ভালোবাসার নাটক করে। সব কিছু পাওয়ার পর রায়হানের সামনে দাঁড়াবে এই আশায়। সব ঠিক সিমির প্ল্যান মোতাবেক হলেও আরমান এসে সব লন্ডভন্ড করে দেয়।
নাতাশার বাবা মা সব শোনার পর ধপ করে সোফায় বসে পড়ে। বিশ্বাস ই করতে পারছেন না যেনো। সিমি কে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। যেহুতু সে একবার খুব করার পরিকল্পনা আরমানের জন্য করেছিলো এখন সব প্ল্যান বরবাদ করায় তা আরো বিগড়ে যেতে পারে। এর কোনো গ্যারান্টি নেই। তার উপর প্লাস্টিক সার্জারি করে এতো দিন ধোকা দিয়ে সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়া টাও অপরাধ।
সিমি বার বার বলছিলো,

—আমি ফিরে আসবো! এর প্রতিশোধ আমি নিবোই! ছাড়বো না তোমাদের!
সালিফের বাবা মা ও ঠিক বিশ্বাস করতে পারলো না। পুরো ব্যাপারটি ই অবিশ্বাস্য।
নাতাশার বাবা মার অবস্থা করুন।
কেটে গেছে কয়েক টা দিন।
মিহি ক্লাস রুমে ঢুকতে নিবে সালিফ এসে আচমকা তাকে টেনে নিয়ে যায়। মিহি ভয় পেয়ে গেছে!
—আরে কে আপনি? এভাবে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?
—বিয়ে করতে!(হো হো করে হেসে!)
সালিফ কে দেখে চুপসে গেলো মিহি। সালিফের এই একটা দিক খুব অপছন্দ।
মিহি তাকে দেখলেই গাল ফুলিয়ে বসে থাকে।
মিহি কি যেনো একটা ভেবে নিজেকে সালিফের কাছে থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে চলে যেতে নিবে সালিফ এসে সামনে দাঁড়ায়!

—কোথায় যাচ্ছো?
—সেই কৈফিয়ত আপনাকে দিতে আমি বাধ্য নই!
—তোমাকে বাধ্য হয়ে হবে। আমি না বলা পর্যন্ত কোথায় যেতে পারবে না!
—কেন?
—আমি বলেছি তাই!
—আমি বললেই আমি শুনবো কেন?
—এতো কিছু জানিনা! তোমার শুনতে হবে ব্যাস!
—অধিকার ফলাচ্ছেন?
—এখানে যদি তোমার মনে হয় আমি অধিকার ফলাচ্ছি তবে হ্যাঁ সেটাই!
—কে আপনি আমার যে আমার উপর অধিকার ফলাবেন?
—সেটা তোমাকে বলতে হবে?
—হ্যাঁ অবশ্যই!

—তবে আমি বাধ্য নই!
—আমি আমার অমতে অনেক কিছুই করেছেন যার না আছে কোনো ভূমিকা না আছে উপসংহার।
ব্যাস আর না। সিনিয়র সিনিয়রের মতোই থাকুক প্লিজ!
মিহি এতো কড়া কথা গুলো সালিফের সহ্য হলো না।
যেই মিহি মুখ ফুটে দু’চারটা কথা ও বলতে পারতো না সে আজ এতো বড় কথা গুলো কিভাবে বললো!
ঠিক নিতে পারলো না সালিফ। আসলেই তো সে মিহি কে হয়? যার জন্য সে অধিকার খাটাতে পারে!
কিছুই তো না তাহলে এতসব কিসের জন্য! সব কিছুই তো মূল্যহীন!
মিহি আর এক মুহূর্ত ও দাঁড়িয়ে চলে যায়।
ক্লাসে বসে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারে নি সে।
নিশ্চুপে কাঁদতে থাকে। রাইসা আর তূর্ণা অবাক। বুঝতে পারলো না হঠাৎ কি হয়ে গেলো মিহির।
তাকে জিঙ্গেস করে ও লাভ হচ্ছে না। কিছুই বলছে না সে।
মুখে না বললে কারোই তা জানার সাধ্য নেই!

সালিফ ভার্সিটি থেকেই চলে যায়। মিহি ক্লাস শেষ করে বাসায় যায়। মন টা ভীষণ খারাপ।
চিৎকার করে কাঁদতে পারলে শান্তি পেতো। রাত বাজে ১০ টা।
ফোন টা লাগাতার বেজেই চলেছে। নোহান ফোন দিয়েছে।
মিহি ফোন টা বন্ধ ও করতে পারছে না তাহলে দেখা যাবে নোহান তার বাবা মা কে বলবে
“আন্টি মিহি আমার ফোন ধরছে না কেন?”

তখন তারা এসে কানের কাছে জোড়ে জোড়ে বলে যাবে,
— মাথা থেকে ওসব উল্টা পাল্টা চিন্তা মুছে ফেল। নিজেকে তৈরি কর নোহানের জন্য।
মিহি বেলকনিতে বসে হাত পা ছেড়ে দিয়ে কান্না করছে। চুল গুলো এলোমেলো।
সালিফ সারাটা দিন ভেবেছে কেন সে মিহির উপর অধিকার খাটায়!
কেন মিহির কথা গুলো আজ সারাটা দিন তাকে ভাবালো!

মিহির জন্য কেন খারাপ লাগে! অস্থিরতা কাজ করে। সব কিছুর উত্তর পায় সালিফ।
সে মিহি কে ভালোবেসে ফেলেছে। এই জন্যই এতো কিছু।
সালিফ কথা টা মিহি কে বলার জন্য আর থাকতে না পেরে ছুটে আসে মিহির বাসায়।
ছাঁদের দেওয়ার টপকে মিহির রুমে চলে আসে। ভাগ্যিস দরজা খোলা ছিলো।
দরজা ঠাস করে আটকিয়ে দেয় সালিফ।

মিহি তার বাবা মা এসেছে মনে করে জলদি করে চোখের পানি
মুছে নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে উঠে দাঁড়ায়। সালিফ মিহি
কে রুমে না পেয়ে বেলকনিতে এসে দেখে মিহি দাঁড়িয়ে আছে। মিহি কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বললো,
—আম্মু আমি নোহান কে বিয়ের জন্য প্রস্তুত।
কথাটা শুনে সালিফ শক্ড হওয়ার মতো একদম স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।
মিহি বিয়ে করবে মানে কি? কানে ভুল শুনেছেন কিনা সালিফ সেটা নিয়া দ্বিধায় পড়ে যায়।
মিহি কোনো রেসপন্স নেই পেছন ফিরতেই থ হয়ে যায় সালিফ কে দেখে…….!

চলবে?

No comments

info.kroyhouse24@gmail.com