ভয়ংকর ছায়া । জুনায়েদ

মধ্যরাতে ঘুম থেকে উঠে খেয়াল করলাম আমার স্ত্রী নীলা বাড়ির পাশে কবরস্থান এর দিকে যাচ্ছে!!!!আমি খুব ভয় পেয়ে গেলাম!!! প্রতিদিন ওই একই ঘটনা ঘটছে!!! মধ্য রাতে ঘুম থেকে উঠে একদিন ও আমার স্ত্রী নীলাকে বিছানায় পায় না!!! আমি নীলাকে জিজ্ঞেস করলাম তুমি প্রতিদিন মধ্যরাতে কোথায় যাও!! কিন্তু নীলা জানালো কই নাতো সে কোথাও যাই না!!!
কিন্তু আমার খুবই সন্দেহ হলো!!! আমি মনে মনে ভাবছি একটা না একটা ঘটনা নিশ্চয়ই আছে এখানে!!!কয়েকদিন ধরে নীলার আচার-আচরণ ও বদলে গেছে!! ও কেমন জানি উগ্র মেজাজের হয়ে উঠছে দিন দিন!!!! খুব অল্প কথাতেই রেগে যায়!!! আর কথায় কথায় আমার দিকে রেগে তাকাই!!! নীলার এই কয়েকদিনের ব্যাবহার আমাকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে!!!
সেদিন বাইরে খুব বৃষ্টি হচ্ছিলো!! আমি খেয়াল করলাম নীলা জানালার পাশে দাড়িয়ে আছে!!! আর খেয়াল করলাম নীলা একধারে বাইরের ওই কবরস্থানের দিকে তাকিয়ে আছে!!! আমি নীলাকে পিছন থেকে ডাকলাম!!! নীলা আমার দিকে তাকালো!!! কিন্তু অবাক করার মতো কথা কী জানেন??? নীলার চোখ গুলো একদম লাল টুকটুকে ছিলো!!! আমি নীলার চোখ গুলো দেখে খুব ভয় পেলাম!!
আমি জোরে নীলাকে ধাক্কা দিয়ে ডাকলাম!!! তখন নীলার হুঁশ হলো!!! তৎক্ষনাৎ নীলার চোখ গুলো আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে গেলো!!! আমি নীলাকে জিজ্ঞেস করলাম এখানে একা একা দাঁড়িয়ে কী করছো??? নীলা বললো কী জানি ওর কেন জানি ওই কবরস্থানের দিকে তাকিয়ে থাকতে ভাল লাগে!!!
আমি অবাক হলাম নীলার কথা শুনে!!! কী বলছে নীলা???? কবরস্থানের দিকে কারো তাকিয়ে থাকতে ভাল লাগে নাকি???আমার মনে হচ্ছে নীলা একটু মানসিক রোগে ভোগছে!! তাই ভাবলাম নীলাকে নিয়ে ডাক্তার এর কাছে যাবো!!!আমি নীলাকে বললাম সামনের সপ্তাহে আমরা দুজনে মিলে ডাক্তার এর কাছে যবো!!! নীলা আমাকে জিজ্ঞেস করলো কেন?? আমি বললাম এমনি দরকার আছে!!!!
আজ বাইরে প্রচুর পরিমানে বৃষ্টি হচ্ছিলো!!! আর মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ ও চমকাচ্ছিলো!!! বাইরের দৃশ্যটা খুব ভয়ংকর ছিলো!!! আজ ও আমার স্ত্রী নীলার সাথে একই ঘটনা ঘটলো!!! মধ্যরাতে আমার স্ত্রী নীলা ঘুম থেকে উঠে পড়লো!!! আর উঠেই হাটতে থাকলো!! আমিও জেগেই ছিলাম!!! মনে মনে ভাবলাম আজ দেখবো মধ্যরাতে নীলা প্রতিদিন কোথায় যায়!!!??
নীলা ঘুম থেকে উঠে হাটতে থাকলো প্রথমে ঘরের দরজা খুললো!!! তারপর সদর দরজা খুললো!!!আমি অবাক হলাম এতো রাতে নীলা বাইরে কী করতে যাচ্ছে??? বাইরে খুব জোরে বাতাস বয় ছিলো!!! আর খুব বৃষ্টি ও হচ্ছিলো!!মাজে মাঝে বিদ্যুৎ ও চমকাচ্ছিলো!! কিন্তু আশ্চর্য কথা যে নীলা একটু বৃষ্টি হলেই ভয় পায় আজ সেই নীলা ঝড়ের মধ্যে বাইরে যাচ্ছে!!!
আমি ওর সাথে সাথেই বাইরে এলাম!!! নীলা সোজা কবরস্থানের দিকে যাচ্ছিলো!!! আমি খুব ভয় পেলাম!!! নীলা কবরস্থানে ঢুকেই কবরাস্হানের একে বারে শেষের দিকে একটা পুরনো কবরের পাশে গিয়ে বসে পরলো!!! আর অঝর দ্বারায় কদতে থাকলো!!! আমি পিছন থেকে নীলাকে ডাকলাম!!! নীলা আমার দিকে তাকলো!!! তাকানো মাত্র যা দেখলাম তা দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না!!!
আমি দেখলাম নীলার চোখ দুটো লাল টুকটুকো!!! আর মুখটা কী বিশ্রি দেখতে!! নীলার দাত গুলো সম্পূর্ন কালো ছিলো!!!
আর বেশ লাম্বা লাম্বা ও ছিলো!! নীলার নখ গুলো কী উদ্ভুদ ছিলো!!! নীলা ওর হাতের নখ গুলোর দ্বারা কবরের মাটি সরাতে থাকলো!!! আমি প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেলাম!! আমি নীলার পিঠে হাত দিলাম!!আর জিজ্ঞেস করলাম কী করছেন এই সব??? নীলা রেগে আমার দিকে তাকালো!! তার পরে কি হয়েছিলো আমার আর মনে নেই!!!
আমার জ্ঞান ফিরলে আমি নিজেকে আমার রোমের বিছানায় আবিষ্কার করলাম!!আমি নীলাকে ডাকলাম আর জিজ্ঞেস করলাম কাল রাতে তুমি কবরস্থানে গিয়ে ছিলে কেন??? নীলা বললো কবরস্থানে??? আমি কবরস্থানে যেতে যাবো কেন??মনে হয় ঘুমের মধ্যে কোন বাজে সপ্ন দেখেছো!!! আমি একটু না অনেকটাই অবাক হলাম!!
তার মানে এটা সপ্ন ছিলো!!! কিন্তু আমার তা বিশ্বাস হচ্ছিলো না!! এত বড় ভুল আমার কোন দিন ও হতে পারে না!! এটা সপ্ন কী করে হতে পারে!!!? আমি আমার নিজের চোখে নীলাকে কবরস্থানে দেখিছি!! তাহলে কী ভাবে এটাকে সপ্ন বলে মেনে নিই!!নীলার প্রতি আমার সন্দেহ আরো বাড়তে থাকলো!!! ঠিক দুপুর বেলা আমি কবরস্থানে গেলাম!! যে এটা আদোও সপ্ন ছিলো কী না দেখতে??
আমি কবরস্থানে ঢুকেই শেষের ওই কবরটার দিকে এগিয়ে গেলাম!!! যেখানে কাল নীলাকে বসে থাকতে দেখেছি!!! আমি ওই কবরের পাশে গিয়ে দেখলাম কবরটার উপরে কারো বড় বড় নখের দাগ পরে আছে!!! দেখে যেন মনে হচ্ছে কেউ বড় বড় নখ দিয়ে আঁচড়েছে!! আমি ওই দাগ গুলো দেখে ভয় পেয়ে গেলাম!! আমার গলা শুকিয়ে আসতে থাকলো!!
আমি নিচু হয়ে দাগ গুলো দেখছিলাম!!!ঠিক হঠাৎ কেউ একজন আমার পিঠে হাত দিলো!! আমি চমকে উঠলাম!! আর ভয় ও পেলাম!! ভয়ে ভয়ে পিছনে তাকিয়ে দেখি পাহারা দার!!! আমি একটু হাফ ছেড়ে বাঁচলাম!!! কবরস্থানের পাহারাদার আমাকে বললো স্যার আপনি এই ভর দুপুর বেলা কবরস্থানে কী করছেন??? আরো বললো আপনি এই কবরের পাশে ই বাবা কেন??
আমি কিছু বলছি না!!! পাহারাদার আমাকে বললো এই কবরের পাশ থেকে চলে যান!! নয়তো বিপদে পরবেন!! আমি বললাম কেন?? ও বললো এটাকে অভিশপ্ত কবরস্থান বলা হয়!! এই কবরের আশে পাশে কেউ আসে না!! আমি যে এই কবরস্থানের পাশে
দাড়িয়ে কথা বলছিলাম সেটা নীলা জানালা দিয়ে দেখছিলো!!! আসলে আমার ঘর থেকে কবরস্থান টা সম্পুর্ন দেখা যায়!!!
পরের দিন সকাল বেলা সবার চেঁচামেচি তে আমার ঘুম ভাঙ্গলো!!! বাইরে এসে শুনি কবরস্থানে কারো লাশ পরে আছে!! আমি দৌড়ে গেলাম!!! আর গিয়ে অবাক হলাম!!! এটাতো ওই পাহারাদারের লাশ যার সাথে আমি কালকে কথা বললাম!! আমি খেয়াল করলাম ওর সমস্ত শরীরে কারো বড় বড় নখের দাগ!!!
চলবে!!!
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url