Breaking News

ভাবনায় তুমি । পর্ব-০২


রিমার অতিত নিয়ে মনে কোনো অভিযোগ নেই রিদের। রিমার অতিত কি ছিলো, কেমন ছিলো তার অতিত? যদিও ভালো ছিলোনা তবুও সব মেনে নিতে একবার ভাবলোনা তার ভালোবাসার জন্য।
প্রত্যেকেরই একটা না একটা অতিত থাকে। তাই বলে অতিত ভেবে পরে থাকাটা বোকামি।
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে রিদের মেসেজ।
“গুড মর্নিং,,,,
রিমা একটু মুচকি হেসে রিপ্লাই দেয়,
” গুড মর্নিং।
মেসেজ সিন করে সাথে সাথে। মনে হয় রিমার মেসেজেরই অপেক্ষা করছিলো সে।
“তাহলে অবশেষে মোহারানির ঘুম ভাঙলো। ব্রেকফাস্ট করলেন কি?
“উহু,,,
” কেনো?
“করবো এখন।
” আজ কি ফ্রি আছেন?
” আপনার কথায় মনে হচ্ছে আমি খুবই ব্যাস্ত মানুষ?
” তা বলছিনা, আজ দেখা করতে পারবেন?
” কেনো?
” সকাল থেকে আপনাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে তাই?
” কারণ?
” জদি বলি ভালোবেসে ফেলেছি তাই,,,
কিছুক্ষন নিরবতায় কাটলো।
” আপনি কি আছেন না আমার ঘুমিয়ে পরেছেন?
” উহু,,
” তাহলে? কথা বলছেন না যে?
” কিভাবে বলবো?
” মানে?
” আপনি যে আমায় এখনো আপনি করে বলছেন তাই। তা ছারা আমি আপনার বয়সেও ছোট।
” ওকে,,, এখন বলো দেখা করতে পারবে?
” আচ্ছা,,
” কি আচ্ছা?
” পারবো,,,
” ওকে, আমি তোমার বাসার নিচেই আছি। তারাতারি রেডি হয়ে বাইরে আসো। ব্রেকফাস্ট টা একসাথেই করবো।
রিমা দ্রুত বিছানা থেকে নেমে বারান্দায় গেলো। দেখে রিদ নিচেই গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে। সাথে সাথেই রিমা মেসেজ দিলো,,
” কখন আসলেন।
” হলো কিছুক্ষন,,,
” এতোক্ষন দাড়িয়ে ছিলেন, বিরক্ত লাগেনি? ফোন দিতে পারতেন একটা।
” বিরক্ত লাগলে কি দাড়িয়ে থাকতাম? আর ফোন দিই নি তাই? একটু কল লিষ্ট চেক করো তো।
রিমা কল লিস্ট চেক করে দেখে বেশ কয়েকটা মিসড কল। জ্বিবে ছোট্ট করে একটা কামর কাটে সে।
,
,
,
কয়েকদিন পর,
সন্ধায় একসাথে হেটে বেরাচ্ছে দুজন। রিমার হাতের আঙুলের ফাকে নিজের আঙুল দিয়ে হাতটা চেপে ধরেছে রিদ। রিমা কিছু বললো না, শুধু মুচকি হাসি দিলো। কিন্তু হটাৎ তার মনে হলো তুষারের কথা। নিমেশেই মুখের হাসিটা মিলিয়ে গেলো হাওয়ায়।
একসাথে এভাবে কতটা পথ পারি দিয়েছিলো তারাও। রিমার আজও মনে হচ্ছে তুষার তাকে ছেরে যায় নি। সব কিছু আগের ন্যায় ই আছে, বেড়ে গেছে শুধু দুরুত্বটা।
রিদ আড় চোখে রিমার দিকে চেয়ে বলে,
” হটাৎ মন খারাপের কারণ?
” কই না তো?
” অতিত যেমনই হোক না কেনো, তা ভুলে যাওয়াটাই উত্তম। ভালোবাসা মানে শ্রদ্ধা, সম্মান, একে অপরের হাতটা সারা জীবনের জন্য শক্ত করে ধরে রাখার প্রতিজ্ঞাটাই হলো ভালোবাসা। যেই ভালোবাসায় এগুলো ছিলোনা ওই ভালোবাসার জন্য কষ্ট পাওয়াটা বোকামি।
রিদের কথায় কিছুটা অবাক হলো রিমা,,
” আজব তো, সে কিভাবে জানলো আমার মনের কথা? তার কি মন পড়ে ফেলার কোনো জাদু আছে?
রিদ এবার ঘুরে দাড়ায় রিমার সামনে।
” ভুলে যাও তোমার অতিত। ভুলে যাও তোমার জীবনে কি কি হয়েছে। শুধু আমার এই দুটি হাত শক্ত করে ধরে রেখো সারা জীবন। বিশ্বাস রাখো তোমার দিকে তাকিয়ে থাকা এই দুটি চোখের উপর।
হটাৎ ই রিমার ভাবনার সমাপ্তি হলো একটা মেসেজের শব্দে। কিছুক্ষন পর হয়তো হয়ে যাবে অন্য কারো, রিদের সাথে কাটানো মুহুর্ত গুলো চোখের সামনে ভেষে উঠছে বার বার।
ফোনটা হতে নিলো রিমা। দেখে রিদের ই মেসেজ।
” ভালো থেকো তুমি। সংসার জীবনে সুখি হও এই দোয়াই করি সব সময়।
রিমা তড়ি ঘরি করে মেসেজ দিতে গেলো, তখন দেখে এতোক্ষনে সে রিদের ব্লক লিষ্টে চলে গেছে।
নাম্বারে ফোন দিয়েও দেখে বিজি।
চোখ দুটু ঝাপসা হয়ে এলো রিমার। ছারলো একটা বড় দির্ঘশ্বাস।
হারিয়ে গেলো রিদের সাথে কাটানো শেষ মুহুর্তটায়।
রিমার জম্মদিনের পার্ট ছিলো। সেইসাথে রিমার সাথে রিদে এ্যাংগেইজ মেন্টের ডেটও ছিলো আজ।
পার্টিতে এসে রিদ খুজছে রিমাকে। এদিক ওদিক তাকাচ্ছে কিন্তু রিমাকে দেখতে পাচ্ছেনা সে। টিটু চাচাকে জিজ্ঞেস করে রিমা কোথায় আছে তা জানতে,
” মামুনি তো দেখলাম খুব তরিঘরি করে ছাদের দিকে গেলো একটু আগে।
চাচাকে ধন্যবাদ দিকে ছাদের দিলে হাটা ধরলো রিদ।
ছাদে পা রাখতেই যেনো নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারছেনা সে। মাথায় যেনো আকাশ ভেঙে পরলো তার।
রিমা দাড়িয়ে আছে তার সামনেই। আর তাকে জড়িয়ে ধরে আছে অন্য একটি ছেলে। ছেলেটি একনাগারে বলে যাচ্ছে সব। আর রিমা দাড়িয়ে দাড়িয়ে অশ্রু বিষর্জন দিচ্ছে।
“” বিশ্বাস করো রিমা আমি তোমায় ঠকাই নি। তোমায় নিজের থেকেও বেশি ভালোবেসেছিলাম আমি। এমন একটা দিন কাটেনি এমন একটা রাত কাটেনি যখন আমি তোমার কথা ভাবিনি। তোমার শুন্যতা আমায় শেষ করে দিচ্ছে তিলে তিলে।
রিমা কাদু কাদু গলায় বলে উঠে,
” তাহলে এতো দিন আমার থেকে দুরে ছিলে কেনো?
” আমি তোমায় কখনোই দুরে ঠেলে দিতে চাইনি রিমা। আমি বাধ্য হয়েছিলাম। তুমি হয়তো জানতে না, আমার একটা কঠিন অসুখ ছিলো। ডাক্তার বলেছিলো বাচার চান্স খুবই কম। উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যেতে হবে। তাও কোনো গ্যারান্টি দিতে পারছেনা তারা। তাই তোমাকে কিছু না জানিয়েই হুট করেই চলে যাই চিকিৎসার জন্য।
” তুমি কি জানো, তুমি চলে যাওয়ার পর মুহুর্তটা আমার কিভাবে কেটেছে? কতোটা কষ্ট হয়েছিলো এই বুকে। আমায় তো একটিবার বলে যেতে পারতে তাইনা?
” আমি তোমায় বলে যাইনি কারন, আমার জদি কিছু হয়েও যেতো তখন যেনো তুমি কষ্ট না পাও। আমার মৃত্যুর সংবাদ শুনেও যেনো তোমার মুখ থেকে আফসোসের নিশ্বাস না বের হয়। যাই হোক তুমিতো জানতে আমরা একে অপরকে কতটা ভালোবাসতাম তাই না? ভেবেছিলাম আরো কয়দিন পর তোমার কাছে এসে সব কিছু খুলে বলবো। কিন্তু শুনলাম আজ তোমার জম্মদিনেই নাকি তোমার এ্যাংগেইজ মেন্ট ও হয়ে র্যাবে তাই আর ঠিক থাকতে পারিনি আমি। ছুটে চলে এলাম। জদি আমি অন্যায় করে থাকি তাহলে প্লিজ হাত জোর করে বলছি আমায় ক্ষমা করে দাও। ফিরিয়ে দিওনা আমায়। তোমাকে ছারা নিশ্বাস নিতেও আমার কষ্ট হয় প্রতিটি ক্ষনে। সারাক্ষন আমার ভাবনায় থাকো শুধু তুমি।
সেখানে আর একমুহুর্তও না থেকে দ্রুত পায়ে প্রস্থান করে রিদ।
নিচে গিয়ে দেখে, তার মা এগিয়ে এলো তার দিকে।
” কি রে বাবা কোথায় গিয়েছিলি। কখন থেকে খুজছি তোকে। আর রিমা কোথায়?
” আমার শরির ভালো লাগছেনা মা। চলো বাসায় চলো।
” মানে কি রিদ? তুই বুঝছিস তুই কি বলছিস। আজ কি তুই জানিস না? এমন একটা দিনে তুই,,
” প্লিজ মা প্রশ্ন করোনা, তোমরা থাকতে চাইলে থাকো।
তখনি রিমার বাবা এসে দাড়ায় সেখানে,
” কি হলো রিদ, সব কিছু রেডি হয়ে যাচ্ছে আর তুমি এখন কোথায় যাচ্ছো?
” আঙ্কেল প্লিজ আপনি রাগ করবেন না। আমার শরিরটা প্রচুর খারাপ করছে। আমার মনে হয় আর কিছুক্ষন এখানে থাকলে আমি দম আটকে মারা যাবো।
আর কিছু না বলে সেখান থেকে দ্রুত পায়ে বাইরে চলে যায় রিদ।
ছাদে তুষার এখনো জড়িয়ে ধরে আছে রিমাকে। খুব শক্ত করে নিজের সাথে জড়িয়ে নিয়েছে তাকে। দম নিতেও কষ্ট হচ্ছে রিমার।
” প্লিজ রিমা ফিরিয়ে দিওনা আমায়।
রিমা তুষারের কাছ থেকে নিজেকে ছারিয়ে দৌড়ে নিচে চলে যায়। কি করবে ভেবে পাচ্ছেনা সে।
মানসম্মনের কথা ভেবে বিষন্ন মনে পার্টিটা শেষ করে রিমা।
রত তখন গভির প্রায় ২ টার কাছা কাছি। ঘুম নেই রিমার চোখে। কি করবে সে নিজেও বুঝতে পারছেনা। কি করা উচিৎ তার। তুষারকে কাছে টেনে নেওয়া? নাকি যেই মানুষটা তার সব কিছু জেনেও তাকে ভালোবেসেছে তাকে? কিছুই মাথায় আসছেনা তার।
তার কি উচিৎ ছিলোনা তুষারের জন্য আর কিছুদিন অপেক্ষা করা? কেনো সে রিদের সাথে জড়িয়ে নিয়েছে নিজেকে। নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিকো তনুন মানুষটার সাথে। আর রিদকেও কেনো সে স্বপ্ন দেখিয়েছিলো?
এর মাঝে ফোন এলো একটা অচেনা নাম্বার থেকে। এতো রাতে আবার কে কল দিলো?
প্রথমবার রিসিভ করলোনা সে। দ্বিতীয় বার রিসিব করে।
” হ্যালো, আসসালামুআলাইকুম।
” ওয়ালাইকুম সালাম।
” কে বলছেন?
” কারো অনুভুতি।
একটা দির্ঘশ্বাস নিলো রিমা। করন সে বুঝতে পেরেছে এটা তুষার।
” এতো রাতে কি মনে করে?
” কি করছো।
” কিছুনা।
” ঘুমাওনি কেনো?
” ঘুম আসছেনা।
” এতো ভেবোনা রিমা। আমি জানি তুমি এখনো আমায় ভালোবাসো। তুমি নিজের মনকে প্রশ্ন করো সে কি চায়? আর রিদের কথা ভেবো না। প্রয়োজনে আমি তার পায়ে ধরে হলেও তোমায় ভিক্ষা চাইবো। তাও একটিবার বলোনা ভালোবাসি।

No comments

info.kroyhouse24@gmail.com