Breaking News

Eternal love । গভীরের প্রেম । পর্ব – ০২



এই মেয়ে আমার কথা এমনি এমনি শুনবে না,একে ভয় দেখাতে হবে।” মিম রুমে এসেই বন্ধুদের হাসতে হাসতে বলে,
– “কি হলোঁ তোরা এভাবে হা করে তাকিয়ে ছিলি কেন স্যারের দিকে?” সারা মিম’কে জড়িয়ে ধরে বলল,
– “ইমান স্যার শার্টলেস ছিলেন,সেটা কি পরেনি তোর চোখে?” মিম ভ্রু কুঁচকে বলল,
– “একজনের ফেলে দেওয়া থুথু কি তোদের মুখে তুলে নিতে খুব ভালে লাগে?” নীলাসা মিম’কে ঔষধ খাইয়ে দিয়ে বলল,
.
– “এভাবে বলো না প্লিজ বান্ধবী শুনতে খারাপ লাগে।”
– “নয়তো কি বলবো? এমন ভাব করছ যেন তোরা জানোই না স্যারের ভিশন সুন্দরী একটা গার্লফ্রেন্ড আছে।”
– “তাতে কি? আমরা বলে দিচ্ছি স্যারের বিয়ে কিংবা সংসার কোনো টাই করা হবে না ওই সিলভানার সাথে।” প্রিয়ম বললো,
– “ঠিক,উনি যে মানুষ? তোর কি মনে হয় সে বিয়ে করবে ইমান স্যারের সাথে?”
– “আরে ভাই তাতে আমাদের কি? তোদের এতো কারেন্ট আসে কোথা থেকে?” সারা জিজ্ঞেস করলো,
– “কি ব্যাপার বান্ধবী? তোমার কি আজ কথা হয়নি তোমার সেই ফেসবুক ফ্রেন্ডের সাথে?”
– “আরে ওই লোকটা জাস্ট আমার বন্ধু,ওনা’কে কেন টেনে আনছিস এসব ঝামেলার মাঝে? তবে হ্যাঁ আমি ইমান স্যারের সাথে এখুনি দেখা করতে যাবো কারণ আমি একটা জরুরী কথা বলতে ভুলে গেছি তাকে।” লেইলা হঠাৎ মিমের হাত টেনে ধরে বলে,
– “এখন যেও না প্লিজ,আমি ইমান স্যার’কে এই মাএ দেখে এলাম সিলভানা ম্যামের সাথে।” মিম দ্রুত পা পা ফেলে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে নামতে বলে,
– “তাতে কি? সে শুধু একজন আউটসাইডার,তার এখন কোনো কাজ নেই আপাতত আমাদের মাঝে।ইনফ্যাক্ট আমি গেলে স্যার আমার সাথে কথা বলতে বাধ্য! কারণ উনি নাকি এই কেসের ইনর্চাজে আছে?” নীলাসা বললো,
– “এই মেয়ে নির্ঘাত আজ মার খেয়ে আসবে ইমান স্যারের কাছ থেকে।” মিম সোজা এসে ইমানের রুমের দরজা নক করলো,ইমান বাহিরে বেড়িয়ে এসে বিরক্ত হয়ে বলল,
.
– “তুমি কেন এসেছ? এতো রাতে? পারমিশন আছে? এতো সাহস কে দিয়েছে তোমাকে?” মিম মেকি হেসে বললো,
– “স্যার আমি কিছু একটা বলতে ভুলে গিয়েছিলাম আপনা’কে।” ইমান কর্কস গলায় বললো,
– “এখন যাও! সকালে শুনবো সব ঠিক আছে?” মিম বলল,
– “আমি যে এতো কষ্ট করে এলাম তার কি কোনো দাম নেই আপনার কাছে? নাকি আপনি পুরো বিষয় টা গুরুত্ব দিয়ে ভেবে দেখছেন না,আপনি জানেন না গার্লস কোয়ার্টারে মেয়েরা সবাই কত ভয় পেয়ে আছে?” ইমান মিম’কে ঝাড়ি মেরে বলল,
– “এই মেয়ে তুমি কোন সাহসে গলা উঁচিয়ে কথা বলো আমার সাথে?”
– “আপনি যদি ভেবে থাকেন আমি আপনা’কে ভয় পাই,তাহলে সেটা আপনার মস্ত বড় ভুল ঠিক আছে?”
– “একদম বেয়াদবি করবে না,নেহাৎ অসুস্থ বলে আজকে ছেড়ে দিলাম তোমাকে।” মিম প্রচণ্ড রেগে গিয়ে বিড়বিড় করে বলল,
– “ইউজলেস,রুম আটকে সারাক্ষণ পরে থাক প্রেমিকার সাথে।” ইমান রুদ্রমূর্তি ধারণ করে তাকিয়ে রইলো,মিম হনহন করে বেড়িয়ে গেলো কোয়ার্টার থেকে।কিছুক্ষণ পর,সিলভানা এসে ইমান’কে বলল,
– “কি ব্যাপার? তুমি এতো কথা-কাটাকাটি করছিলে কার সাথে?”
– “আরে ওই মেয়েটা,যার মাথা ফেটেছে এমনি তে ভয় পায় আর আজ খুব মেজাজ দেখিয়ে চলে গেলো আমাকে।”
– “তাহলে ওর কথা শুনতে পারতে? নিশ্চয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ খবর দিতে এসেছে তোমাকে?”
– “সেটা সকালে ও দেওয়া যেও সিলভানা,তুমি তো একটু পরেই চলে যাবে এখান থেকে?”
– “তবুও তুমি নাকি এই কেসের ইনর্চাজ? আজ গাফিলতি হয়ে গেলো না তোমার পক্ষ থেকে?”
– “আরে বাদ দেও,কেক টা কাটো আগে হ্যাপি বার্থডে সুইটহার্ট,খুব তাড়াতাড়ি গিয়ে বিয়ের বিষয়ে কথা বলবো তোমার বাবার সাথে।” সিলভানা হাসলো,তারপর কেক কেটে এক পিস তুলে দিলো ইমানের মুখে।এদিকে,মিম’কে চুপচাপ দেখে সারা এসে বলল,
.
– “কি ব্যাপার? স্যার কথা শুনিয়েছে তোকে?” মিম বলল,
– “সেটা কোনো ব্যাপার না! আমি জাস্ট অবাক হয়েছি ওই লোকের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা দেখে,যাগগে বাদদে,কালে যা বলার বলবো আমি বি.এম.এ পরিচালক জেনারেল ইমাদ চৌধুরী স্যারের কাছে।” সকালে অফিসারদের দু’টি টিমের মধ্যে ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ায় মিমের কথা বলা হয়নি জেনারেল ইমাদ সাহেবের সাথে।
তবে ম্যাচ খেলার শেষে মিম’কে গালে হাত দিয়ে বসে থাকতে দেখে ইমান বিরক্ত হয়ে ক্যাপ্টেন কাইয়ুম’কে বলে,
– “বুঝিনা,এই মেয়ের এতো কারেন্ট আসে কোথা থেকে? অসুস্থ মানুষ তুই শুয়ে-বসে রেস্ট করবি তা না চিনে জোঁকের মতো সব জায়গায় লেগে আছে?” কাইয়ুম ইমানের কথা শুনে হাসতে হাসতে বলে,
– “বড় ভাই, আপনি হঠাৎ রেগে গেলেন কি দেখে?” ইমান কিছু বলল না,সবাই ট্রফি দেখতে ভীর জমাতেই মিম এসে ইমান’কে অনুরোধ করে বললো,
– “স্যার! আমি একটু নিবো ট্রফিটা হাতে? একটা ছবি তুলেই দিয়ে দেবো জাস্ট আর কিছুই না।” কিন্ত ইমান ট্রফি টা তুলে নিয়ে দেয় সিলভানার হাতে,সিলভানা ইমানের গালে চুমু খেলো,মিম বিরক্ত হলো,ইমান বলল,
– “ভীড় বাড়াচ্ছ কেন? যাও এখান থেকে?” মিম রাগ করে চলে গেলো,তবে রাতে ইমাদ সাহেব মিটিং এ ডেকে পাঠালো ওকে।তারপর জিজ্ঞেস করলো,
– “এখন কেমন আছো তুমি আম্মু? কষ্ট হচ্ছে না তো?”
– “না স্যার ঠিক আছে।”
.
– “আম্মু একটু খুলে বলবে আবার? তুমি কি দেখে ছিলে গতকাল রাতে?” মিম আবারও সবটা জেনারেল ইমাদের কাছে খুলে বলল,সবাই বেশ অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল মিমের দিকে।মিম শেষে বলল,
– “স্যার তবে এখানে একটা ‘কিন্তু’ আছে?” ইমাদ অবাক হয়ে বললেন,
– “কেন কিন্তু মা? কি হয়েছে?” মিম সবাই’কে অবাক করে দিয়ে বললো,
– “স্যার,আমি অজ্ঞান হয়েছিলাম ছায়া আপুদের রুমের কাছে,আমাকে তো দোতলার সিঁড়িতে পাওয়ার কথা না? আপনারা আমাকে সিঁড়িতে পেলেন কিভাবে? আর যখন পেলেন? তখন কেন আমি বলার পরও চেকিং করাননি রুম গুলোতে? আপনারা এতো দায়িত্বজ্ঞানহীন কি করে হন?”
– “আম্মু তুমি ভুল বুঝছ আমাকে,আমরা চুপ করে বসে নেই এই কেসের সাথে পুলিশের পাশাপাশি আমাদের যথাযোগ্য একজন অফিসার দায়িত্বে আছে।”
– কত যে সে তার দায়িত্ব পালন করছে,আমি তা দেখতে পাচ্ছি তা স্বচক্ষে,আপনারা সি.সি.টিভি ফুটেজ চেক করছেন? কিছু পাননি তাতে?”
– “আম্মু সি.সি.টিভি ফুটেজে কিছু পাওয়া যায়নি।”
– “পাবেন কিভাবে?”
– “কেন?”
– “আপনার দায়িত্বশীল,দায়িত্ববান অফিসারদের জিজ্ঞেস করুণ,ওই ক্যামেরা দু’টো নষ্ট হয়ে আছে।” জেনারেল ইমাদ অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো,মিম হনহন করে বেড়িয়ে গেলো কনফারেন্স রুম থেকে,সবাই বুঝতে পারলো মেয়ে টা চুপচাপ বসে নেই,সে অনেক দূর এগিয়ে গেছে।
.
রাতে মিম একা-একা পানি নিতে এসেছিল,ডাইনিং এরিয়ার কাছে।তখন কাওকে অন্ধকারের মধ্যে দেখতে পেলো,
তবে হঠাৎ সে যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো সাথে সাথে।যদিও মিম তাকে পাত্তা দিলো না,গার্লস কোয়ার্টারের দিকে পা বাড়াতেই ওর মনে হলো যেন কেউ ফলো করছে ওকে?
ও চুপচাপ সামনের দিকে এগিয়ে গেলো,তখন কেউ একজন হঠাৎ তাড়া করতে লাগলো ওকে।মিম যদিও তাদের ছেড়ে দিলো না উল্টো জুতো পেটা করলো অন্ধকারে ছেলে দু’টোকে।ওরা দু’জনে মার খেয়ে পালিয়ে গেলো, সকালে ইমান অবাক হলো সাফিন আর জাহিন’কে দেখে,জাহিন বলল,
– “স্যার শুধু ভয় দেখাতে বলেছিলেন,তাতে মে’রে মে’রে মুখের এই অবস্থা করেছে? যদি চেহারা দেখতে পারতো না জানি কি করতো?”
– “মানে? লজ্জা করে না তোমাদের,তোমরা মা’র খেয়ে এসেছ একটা একরত্তি মেয়ে’র কাছে?” দুপুরে মিম হাসতে হাসতে ওর বান্ধবীদের বলল,
– “শালারা মানকিটুপি পরে এসেছিল গতকাল রাতে।”
– “কেন?”
– “কেন আবার ভয় দেখাত? সাহস কত? ভয় দেখাতে এসেছিল তাও মার্সাল আর্টস এ ব্লাক বেল্ট পাওয়া এই মেয়ে টা কে? দিয়ে দিয়েছি একদম,জীবনে আর মনের ভুলেও ভয় দেখাতে যাবে না কোনো মেয়ের কাছে।” কথা গুলো শুনে ইমান অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো,নীলাসা ওরা হাসতে হাসতে,বললো,
– “বান্ধবী,তোর এলেম আছে।”
.
চলবে,,,

No comments

info.kroyhouse24@gmail.com