Breaking News

বিরহ মিছিল । পর্ব - ০৩

মুগ্ধতা কে ফ্লোর থেকে কোলে উঠিয়ে বিছানায় শোয়ালেন আরিফ আহমেদ। আমেনা কে মেয়ের সাথে ঘেঁষতে দিলেন না। মুগ্ধতার এখনো জ্ঞান ফেরে না। সবার ধারণা অতিরিক্ত ব্যথায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। আদিল ট্রি টেবিল থেকে পানি ভর্তি গ্লাস হাতের মুঠোয় পানি নিয়ে মুগ্ধতার মুখে ছিটিয়ে দিল। বোঝার উপায় নেই তার মনে কি চলছে। সকল কিছুতে মাথা ঠান্ডা রাখে সে। হাইপার হয় না। তবে আজকে আদিলের মাঝে ব্যতিক্রম কিছু দেখা গেল। মৃদু হাত কাঁপছে।

মুখশ্রী তে পানি ছিনিয়ে আদিল গালে হাত রেখে আঘাত করার মতো করে বলল,
" এই মেয়ে।"
মুগ্ধতার জ্ঞান ফিরলো না। আরিফ আহমেদ মেয়ের মাথায় হাত রেখে আওড়ালেন,
" মামনী উঠো। তোমাকে আর মারবে না আমেনা। বাবা আছে পাশে, আদিল আছে ।"
মুগ্ধতা আগের ন্যায়। আদিল মুগ্ধতার মুখবিবরে পূর্ণ দৃষ্টি রাখলো। কিছু বোঝার চেষ্টা করলো। শরীরে বেশ কিছু স্থান কালসিটে দাগ মুগ্ধতার। আঘাতপ্রাপ্ত জায়গা গুলো কিঞ্চিৎ ফেঁপে গেছে।
আরিফ আহমেদের এতক্ষণে জমিয়ে রাখা কান্না নির্গত হলো।
" তুমি আমার মেয়ে কে এভাবে মারলে আমেনা। সামান্য একটা কারণে। আমার মেয়ের কিছু হলে আমি তোমায় ছাড়বো না।"

গলা উঁচিয়ে বললেন আরিফ আহমেদ।
আমেনার দৃষ্টি জোড়া বিছানার মাঝেই স্থির। তিনি ঠায় চুপ করে আছেন। আদিল মুগ্ধতার দিকে ঝুকে মুগ্ধতার নাক দু হাতে চেপে ধরলো। ত্রিশ সেকেন্ড গত পূর্বেই মুগ্ধতা নড়ে উঠলো। আরিফ আহমেদ উৎকন্ঠা স্বরে শুধালেন,
" মামনী, মামনী!"
মুগ্ধতা পিটপিট করে আঁখি পল্লব খুললো। আদিল গোপনে দীর্ঘ শ্বাস ফেললো। বলল,
" দাঁত লেগে গিয়েছিল মারের চোটে।"
~~~~
রাতেই মুগ্ধতা কে ডাক্তার দেখে ঔষধ দিয়ে গেলেন। সেই মোতাবেক আরিফ আহমেদ মেয়েকে ঔষধ খাওয়ান। মেয়ের জ্ঞান ফেরার পর ও আরিফ আহমেদের রাগ কমে না।
মুগ্ধতার সঙ্গে রাতে আরিফ আহমেদ ঘুমালেন। আমেনা অন্য ঘরে শুয়ে। আদৌও ঘুমিয়েছেন কিনা বোঝা যাচ্ছে না। রাত যখন গভীর, নিদ্রায় তলিয়ে বাবা মেয়ে। আমেনা তখন চুপিচুপি মেয়ের ঘরে ঢুকলেন। শব্দহীন পায়ে হেঁটে মুগ্ধতার পাশে বসলেন। মুগ্ধতা এক কাঁধ হয়ে ঘুমাচ্ছে। মেয়ের একটা হাত, হাতের আঁজলার মধ্যে নিলেন । চোখে ভর্তি পানি। কালসিটে দাগ গুলো এক হাতে ছুঁয়ে ছুঁয়ে ফুপিয়ে কেঁদে উঠলেন আমেনা। বড় বড় নিঃশ্বাস ফেলছেন।
আরিফ আহমেদ নিরবে পর্যবেক্ষণ করলেন। মুগ্ধতার বয়স টা সেনসিটিভ। মেয়েকে মারধর করে নয় আদর, যত্নে বোঝাতে হবে। উনি চান আমেনা সেটা বুঝুক। আমেনা ঘুনাক্ষরেও
জানতে পারলেন না, পাশে শুয়ে থাকা আরিফ আহমেদ জেগে।

সকালে ঘুম থেকে উঠে মুগ্ধতা দেখলো সারা গায়ে ব্যথায় টনটন করছে।
শরীর ভালো লাগছে না। তাই আবার বিছানায় শুয়ে পড়লো।
আদিলের ইংরেজি প্রাইভেট সকাল সাড়ে সাতটায়। আদিল সাড়ে সাতটার আগেই খেয়েদেয়ে,
স্কুলের পোশাক পরে বাড়ি থেকে বের হলো। এই বাড়িতে এখনো লিফটের ব্যবস্থা নেই।
যার কারণে সবাই কে সিঁড়ির মাধ্যমে যাতায়াত করতে হয়।
আদিল সিঁড়ির পথ ধরে নামতে শুরু করে। আদিলদের বাড়ি তিন তলায়।
মুগ্ধতাদের বাড়ি দুই তলায়। দুই তলার সিঁড়ি আসতেই আদিল দাঁড়িয়ে গেল।
মুগ্ধতাদের ফ্লাটের দরজার সামনে ভুজুংভাজুং চিন্তায় মশগুল আদিল।
হঠাৎ আমেনা দরজা খুললেন। দরজা খোলার শব্দে আদিলের সম্বিৎ ফিরে।
আমেনা কে দেখে অপ্রতিভ হলো আদিল। দোনোমোনো কন্ঠে আদিল শুধালো,
" আসসালামু আলাইকুম আন্টি।"
আমেনা মনে মনে সালামের উত্তর দিলেন।
আদিল দাঁড়াবে নাকি চলে যাবে বুঝতে পারছে না। আমেনা তন্মধ্যে বললেন,
" প্রাইভেট যাচ্ছো?"
" জি আন্টি।"
আমেনা একটু ভেবে বললেন,
" তোমার মাম বাসায়?"
"জি।"
" আচ্ছা, যাও।"
আদিল মাথা নাড়িয়ে সিঁড়ি তে বড় বড় কদম ফেললো।
এই খানে সময় ব্যয় করা মানে নিজের বিপদ যেচে আনা।

এক টানা চারদিন মুগ্ধতা স্কুলে গেল না। আজ রবিবার।
রাতেই ঠিক করে রেখেছে স্কুল যাবে। পৃথিবী তে ধস নেমে এলেও।
সকাল সকাল খেয়ে রেডি হয়ে গেছে সে। মেইন দরজা খুলে সোফায় হেলান দিয়ে বসলো মুগ্ধতা।
কাঙ্ক্ষিত আদিল কিছুক্ষণ পর এলো। মুগ্ধতা কাঁধে ব্যাগ চেপে বড় বড় কদম ফেলে নিচে নামলো।
বাড়ির সামনে আদিল রিকশা দাঁড় করিয়ে রিকশায় উঠে বসলো।
মুগ্ধতা কোথা হতে আকস্মিক এসে রিকশার আরেক পাশে বসলো।
আদিল ভড়কে গেল। মুগ্ধতা সে সবে পাত্তা দিল না। রিকশাওয়ালা কে বলল,
" মামা যাও।"
আদিল চারদিকে তাকিয়ে বলল,
" কি হচ্ছে কি, এই মামা থামো?"
" আপনি থামবেন না মামা।"
মুগ্ধতা কড়া কন্ঠে বলল। আদিল রাগান্বিত গলায় বলল,
" বাসায় জ্বালিয়ে হচ্ছে না? রাস্তায় সিনক্রিয়েট করছো কেন?
তোমার সাথে আমায় মানুষ দেখলে লোকে কত কি ভাববে জানো?"
মুগ্ধতা নিলিপ্ত গলায় আওড়াল,
" আমি সেটাই চাচ্ছি। আমায় নিয়ে লোকে তোমার সাথে কিছু ভাবুক।"
" মাথা খারাপ হয়ে গেছে তোমার। কি সব আবল তাবল বলছো।"
" হ্যা আমার মাথা খারাপ। তুমি তো ভালো। তাই তো তলে তলে ট্যাম্পু চালাচ্ছো।
কি ভেবেছ জানি না আমি? "
মুগ্ধতা কথা থামিয়ে ঘাড় টেরা করে আদিলের দিকে তাকালো।
নিষ্পাপ মুখ করে চোখের পল্লব বার দুয়েক ফেলে বলল,
" সাপ্তাহিক পরিক্ষায় হেল্প করছো মেয়ে সহপাঠী কে। ত্রিশ টা নৈবিত্তিক দাগিয়ে দিচ্ছ। এতো দয়ার শরীর তোমার। ইশ! ভেরি ইন্টারেস্টিং আদিল। "

চলবে~

No comments