Breaking News

বিরহ মিছিল । পর্ব - ২০



সারার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখে আমেনা বলে উঠলো, "আমায় চিনতে পারছিস না সারা? "

অতি চেনা কন্ঠস্বর ঠেকে সারার কাছে৷ মুগ্ধতা ভয়ে ডরে এক শেষ! সারা অবাক কন্ঠে বললেন,
" আমার নাম ও জানেন দেখছি।"
মুগ্ধতা ধাতস্থ হলো এই ভেবে ইনি তার মায়ের পরিচিত। আমেনা মুখে থেকে নিকাব কিঞ্চিৎ উপরে তুললেন। সারা আমেনার বদন দেখে
আৎকে উঠে শুধালেন,
" আমেনা! তুই? কেমন আছিস।"
চঞ্চল নেত্রপল্লবে মুগ্ধতার দিকে চেয়ে মুগ্ধতার মাথায় হাত রেখে পূর্নবার বললেন,
"এটা তোর মেয়ে না?"
আমেনা হালকা হেসে বললেন,
"হুম আমার মেয়ে।"
"এতো বড় হয়ে গেছে।"
আমেনা সেসব কথা না ঘাঁটিয়ে বললেন,
" অনেক বছর পর দেখা। চল আমার সঙ্গে বাড়িতে। গল্পসল্প হবে।"
সারা আপত্তি জানালেন,
" আজ তাড়া আছে। সময় করে যাবো এক দিন। "
আমেনা জোড়াজুড়ি করলেন না। আওড়ালেন,
" আচ্ছা। কোথায় থাকিস এখন?"
"কুমিল্লায় আছি পরিবার নিয়ে।"
আমেনা দুচোখ ভরে সারা কে দেখলেন। পরিবর্তন আকাশ জমিন এখন। সেই চঞ্চল সারা আজ বিদ্যমান নেই। চেহারায় কড়া পরিবর্তন এসেছে৷
রাস্তায় এতো কথা বলা সম্ভব নয় বিধায় সারা নাম্বার নিলেন আমেনার। আমেনারও সারার নাম্বার নিলেন। তারপর সারা হ্যান্ড ব্যাগ থেকে কাগজে বের করে আমেনার বাড়ির ঠিকানা জিজ্ঞেস করে লিখে নিলেন। বিদায় লগ্নে সারা মিষ্টি হেসে মুগ্ধতা কে জিজ্ঞেস করলেন,
" ভারি মিষ্টি দেখতে তুমি৷ কোন ক্লাসে পড়ছো?"
মুগ্ধতা থতমত কন্ঠে বলল,
" জি আমি ক্লাসে না! ভার্সিটিতে পড়ছি। এই বার অনার্স প্রথম বর্ষে।"

ভোর পাঁচ টা। চারপাশে এখনো ভালোভাবে আলো ফোটে নি। আদিল চোখেমুখে পানি দিয়ে পড়ার টেবিলে বসলো। কয়েকঘন্টা পর তার দু'বছরের সাধনার পরিক্ষা। উচ্চমাধ্যমিক।
পারভিন ফজরের আজান দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আজকে উঠেছেন। ভাতের চাল ধুয়ে চুলায় বসালেন। গরম গরম ভাত খেয়ে ছেলে পরিক্ষা দিতে যাবে। রান্না ঘরে ত্যাগ করে কয়েক কদম ফেলে ছেলের ঘরে গেলেন।
আদিল টেবিলে বসে পড়ছে। আদিলকে বিরক্ত করতে ইচ্ছে করলো না ডাক দিয়ে। শব্দহীন পায়ে আদিলের বিছানায় বসলেন। অনেক পরে আদিলের চোখ বিছানায় গেল। পারভিনের ছেলের দিকে এক দৃষ্টি স্থির।
আদিলে সাহিত্যপাঠ বইয়ে চোখ রেখে বলল,
" কখন এলে মাম?"
আমেনা হাসলেন একটুখানি৷ তৎপর বললেন,
"এইতো কিছুক্ষণ আগেই। পরিক্ষার পিপারেশন কেমন?"
আদিল সাহিত্যপাঠ বইয়ের গদ্যর একটা পৃষ্ঠা উল্টিয়ে আওড়াল,
" সব রিভিশন দেওয়া হয়েছে কালকেই। আজকে শুধু চোখ বুলাচ্ছি।"
পারভিন বিছানা থেকে নেমে ছেলের দিকে এগিয়ে এলেন। আদিলের চুলে মৃদু হাত বুলিয়ে আশ্বাস সহিত বললেন,
" কোন ব্যাপারে টেনশন করিস না। নিজের উপর ভরসা রাখ। পরিক্ষা ভালো হবে।"
আদিল মাথা নেড়ে সহমত পোষণ করলো। যদিও অল্প টেনশন হচ্ছে মগ°জে।

সারার সঙ্গে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে কথা হচ্ছে পুরো দমে আমেনার। পুরানো বন্ধুত্ব আগের ন্যায়৷ নাম্বার না থাকার দরুন দুজনের কথা চলাচলি বন্ধ ছিলো দীর্ঘ কাল। কথায় কথায় সকালে সারা আমেনা কে ফোনে বলেছিলেন,
" হে রে মেয়ে তো তোর বড় হয়েছে। বিয়ে সাদির কথা ভেবেছিস কিছু।"
আমেনা ও প্রতুত্তরে বলেছিলেন,
" দেখছি ছেলে। মনের মতো ছেলে পাচ্ছি না রে।"
সারা প্রফুল্ল চিত্তে তৎক্ষনাৎ আওড়ালেন,
" আমার পরিচিত ভালো একটা পাত্র আছে। গাজীপুরে স্থানীয়। ছেলে সরকারি চাকরি করে। মাইনেও বড় অংকের। একবার দেখতে পারিস ছেলেকে।"
আমেনা কথাটায় গুরুত্ব দিলেন। বললেন,
" ঠিক আছে। "

আর দুটো পরিক্ষা অবশিষ্ট আছে আদিলের। আজকে পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র পরিক্ষা। তার দুদিন পর পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র।
নয়টার দিকে পরিক্ষার হলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলো আদিল। পরিক্ষা দশটায় শুরু।
পারভিন অতি আদরে আদিলকে নিজের হাতে খাইয়ে দিলেন। আদিল প্রয়োজনীয় ফাইল হাতে নিল সঙ্গে। পারভিন বোরকা পরতে নিজের ঘরের দিকে গেলেন। যাওয়ার আগ মুহূর্তে বললেন,
" তুই নিচে নামতে থাক আদিল, আমি আসছি এখুনি।"
আদিল মায়ের কথা মান্য করে ঘরে থেকে বেরিয়ে সিঁড়ির দিকে গেল। মুগ্ধতাদের ফ্লাট পেরিয়ে নিচে নামছে আদিল। ফ্লাট কেটে যেতে অবশ্য একবার দরজায় তাকিয়েছিল। চোখ সাক্ষী সাক্ষাৎ চায় মুগ্ধতার। মুগ্ধতা আজকে একটু বের হলে ক্ষতি হতো!
সুক্ষ্ম ব্যথা বক্ষে পুঁজি করে সিঁড়ি শেষ অংশে চলে এলো আদিল। সর্বপাশ না তাকিয়ে সিঁড়ির দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ। মুগ্ধতা এক তলার ফ্লাটের দরজায় দাঁড়িয়ে৷ আদিলের চোখ মুগ্ধতার দিকে গেল না। যেন চোখ অ°ন্ধ আদিলের। চারিপাশ দেখার ক্ষমতা তার নেই৷ কেঁচি গেট টেনে আদিল এক পা কেঁচি গেটের বাহিরে রাখল। অমনি মুগ্ধতা আকর্ষিত গলায় বলল,
" ভালো করে পরিক্ষা দিয়ো আদিল।"

চলবে...

No comments