Breaking News

অবহেলিত প্রেমিক যখন বিমান বাহিনীর বড় অফিসার । পর্ব - ০১

কলেজের পিছনের বড় বট গাছটার নিচে বসে চোখের পানিতে শার্ট ভিঝিয়েই যাচ্ছে আমাদের গল্পের নায়ক রাসেল,কোনো বাধাই যেনো মানছে না চোখের পানি,রাসেল ডান হাতের উলটো পিঠ দিয়ে চোখের কোণে লেগে থাকা পানি মুছে আর সামনের পুকুরটার দিকে তাকিয়ে আনমনে কিছু একটা ভাবতে থাকে,এমন সময় ওর বন্ধু রাফি সেখানে চলে আসে।

রাফি:-তুই আজকে ও কান্না করতেছিস,তোকে কতোবার বলেছি ঐ মেয়েকে ভুলে যেতে,কিন্তু তুইতো নাছর বান্দা ভাঙ্গবি তবুও মচকাবিনা।
রাসেল:-কি করে ভুলবো ওকে বল,আমি নিজেকে যতোটা ভালো না বাসি তার থেকে হাজার গুণ বেশি ভালো ওকে বাসি,ইসরাত যে আমার বেচে থাকার উৎস,ওকে ছাড়া আমি টাকেই পৃথিবীকে অন্ধকার মনে করি এতো আলো থাকার মাঝেও।
রাফি:-কিন্তু তুই কি বুঝিস না ও তোকে দেখতে পারেনা কতোটা অবহেলা করে,সে আর আগের মতো নেই অনেক বদলে গেছে।
রাসেল:-করুক না তাতে কি,অবহেলা করাটা ওর অধিকার আর অবহেলা সহ্য করাটা আমার কর্তব্য।
রাফি:-তা আজকে আবার তোর সাথে ইসরাত কি করেছে সেটা একটু খুলে বলতো।
রাসেল:-আজকে দেখলাম ইসরাত অন্য একটা ছেলের সাথে একসঙ্গে বাইকে বসে ঘুরছে,আমি কি এতোটাই খারাপ বল যে আমাকে ভালোবাসা না দিয়ে এতো এতো অবহেলা দিচ্ছে।
রাফি:-কেনো ঘুরবেনা বল,তুই যে একটা এতিম সেটা কি ভুলে গেছিস,তুই কোথায় আর ও কোথায় একটা বার সেই কথাটা চিন্তা করে দেখেছিস,কখনো কি ওকে ভালো রেস্টুরেন্টে নিয়ে খাওয়াতে পেরেছিস দুইবছরে,যে আজকাল মেয়েরা এই জিনিস টাই বেশি পছন্দ করে।
রাসেল:-তুইও এতিম বলছিস,আর বলবিই না কেনো আমি তো সত্যি একটা এতিম,আচ্ছা এই পৃথিবীতে কি টাকাই সব,আমার মতো মানুষের কি কোনো মূল্যেই নেয়।
রাফি:-সরি তোকে এতিম বলতে চাইনি শুধু মনে করিয়ে দিলাম,আর টাকাই যদি সব না হতো তাহলে যে তোকে এতো ভালোবাসে সে কেনো দূরে সরে যাচ্ছে ধিরে ধিরে।
রাসেল:-না তুই এভাবে বলিস না আমি ওকে ছাড়া একটা সেকেন্ড ও ভাবতে পারিনা,যানিস তো গাছ যেমন মানুষের থেকে বের হওয়া কার্বন ডাইঅক্সাইড ছাড়া বাচতে পারেনা, তেমনি করে ইসরাত হলো আমার বেচে থাকার একমাত্র অক্সিজেন,তাহলে তুই বল আমি সেই অক্সিজেন ছাড়া কিভাবে বেচে থাকতে পারি।
রাফি:-থাক তুই তোর এই দেমাগী ইসরাত কে নিয়ে,অবহেলায় পুড়ে পুড়ে মর, আমি গেলাম।
রাফি রাগ দেখিয়ে সেখান থেকে চলে যায়,রাসেল এক ধ্যানে রাফির যাওয়ার দিকেই পলকহিন চোখে তাকিয়ে থাকে,আপনেরা তো কিছুই বুঝতেছেন না তাইতো,আর বুঝবেনি বা কি করে বলেন,কারণ এই অতিথীপাখি যে বুঝিয়ে বলেইনি এখনো,তাহলে চলেন ভালো করে বুঝে আসি,রাসেল হলো এই গল্পের নায়ক,একটা এতিম বাবা মা এই পৃথিবীতে আছে কিনা সেটা আজো অজানা,হয়তো লেখক সাহেব জানে হাহাহা,রাসেল অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ে,ছাত্র হিসেবে খুবই মেধাবী আবার সকলের অবেহেলা পাওয়াতেও যেনো টপ পজিশনেই আছে,কেননা বুঝতেই পারেন গরিবদের এই সমাজ কোনো দাম নেই,আর রাফি হলো বড়লোক বাবার একমাত্র সন্তান,রাসেল কে রাফি নিজের ভাইয়ের থেকেও বেশি ভালোবাসে,তাইতো রাসেল আজো এই কলেজে পড়তে পারছে,নাহলেই কবেই চলে যেতে হতো,হয়তো ওর কপালে পড়াশোনা শব্দ টাই বিলীন হয়ে যেতো,এইরে আপনাদের সাথে কথা বলতে বলতে রাসেলের কথা তো ভুলেই গেছি,চলেন রাসেলের কাছে ফিরে যায়,রাসেল পকেট থেকে পুরোনো বাটুন ফোনটা বের করে ইসরাতের নাম্বারে কল দেয়,একবার রিং হয় কিন্তু কল রিসিভ করেনা,দুই বার দেবার পরে ৪৪০ ভোল্টের রাগ নিয়ে কলটা রিসিভ করে বলে।
ইসরাত:-কি জন্য এখন আবার ফোন করেছো,তুমি জানোনা আমার সামনে পরিক্ষা।
রাসেল:-ওহহহহ তোমার সামনে তো পরিক্ষা আমার সেটা মনেই ছিলো না,তা একটু ভালো করে বললেও পারতে।
ইসরাত:-তোমার সাথে এতো প্রেমের সুরে কথা বলার সময় বা ইচ্ছা কোনো টাই নেই,আমাকে যখন তখন ফোন দিয়ে বিরক্ত করবেনা বলে দিলাম।
রাসেল:-আমি কি সত্যিই তোমার বিরক্তের কারণ,আমার সাথে একটু মন খুলে কথা বলতেও কি ইচ্ছে করেনা তোমার।
ইসরাত:- না করেনা,তোর সাথে কথা বলে আমার সময় নষ্ট করতে চাচ্ছিনা,এখন তুই নিজেই ফোন কাটবি নাকি,দারোয়ান ডেকে কল কাটবো কোনটা।
রাসেল:-না না সেটার দরকার নেই সিম কোম্পানির স্যারেরা তো আছেই কল ডিসকানেক্ট করার জন্য,তুমি শুধু লাল বোতাম টা চাপ দিলেই হবে।

ইসরাত:-হুম বুঝতে পেরেছিস তাহলে,এখন দূর হ আমার সামনে থেকে,সময় হলে কথা বলবো।
রাসেল:-তুমি যে বলছো পরিক্ষার জন্য কথা বলতে পারবে না কিন্তু ছেলেদের নিয়ে বাইকে করে ঠিকই ঘুরে বেড়াও।
ইসরাত:-তুই কি এখন আমাকে সন্দেহ করিস নাকি,আর ও আমার মামাতো ভাই ছিলো।
রাসেল:-তোমাকে সন্দেহ করার ক্ষমতা আমার নেই,আচ্ছা পরে সময় হলে কলদিও,অপেক্ষা করাই তো এখন আমার অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে।
রাসেল কলটা কাটার আগেই ইসরাত ঠাসসস করে কলটা কেটে দেয়,রাসেল আবারো চোখের পানি মুছে দির্ঘ একটা শ্বাস ফেলে সেখান থেকে চলে আসে গ্যারেজে,কারণ রাসেল এখানেই কাজ করে একমুঠো ভাত পেটে দিয়ে শান্তিতে ঘুমাতে পারে,রাসেলের আজকে কাজে আসতে লেইট হওয়াতে মালিক এসে ঠাসসস করে একটা থাপ্পড় দিয়ে বলে।
মালিক:-তোকে এইজন্য কাজে রাখিনি যে আমার ব্যবসার ক্ষতি করবি,কয়টা বাজে দেখেছিস,খুব তো বলেছিলি তোর দ্বারা আমার ব্যবসার উন্নতি হবে,এখন তো ব্যবসার লাল বাতি জ্বালাচ্ছিস।
রাসেল:-আসলে আজকে একটু বেশি সময় কলেজে থাকতে হয়েছে,তাই আসতে একটু লেইট হয়েছে,এমনটা আর হবেনা।

মালিক:-পড়ে কি করবি শুনি,নিজের পেটের ভাত জোগাড় করতেই পারিস না আবার পড়াশোনা করিস,যা কাজ কর।
রাসেল সেখান থেকে গিয়ে কাজ করতে লাগে,চোখের পানি কখনোই রাসেলের চোখ থেকে সরতেই চাইনা,সে যেনো ওর সারাজীবনের সঙ্গী হয়ে গেছে,রাসেল দুখি মনে কাজ করে রাতে বাসাই এসে,হাড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে দুমুঠো চাউল আর দুইটা আলু ছাড়া কিছুই নেই,কি আর করবে রাসেল চাউল ধুয়ে আলু দুইটা ভাতের মাঝে দিয়ে গোসল করে নেয়,ভাত রান্না শেষ করে আলুভর্তা করতে নিয়ে দেখে এক ফোটা শরিষার তেল ও নেই,কি আর করা অমনি লবণ মরিচ ডোলে ভর্তা করে খাবার খেতে বসে,তৃপ্তি সহকারে খাবার খেয়ে নেয়,খাবার রুচি দেখে মনে হচ্ছে যেনো রেস্টুরেন্ট থেকে কাচ্চি বিরিয়ানী এনে খেলো।
রাসেল:-হে আল্লাহ তোমার ভান্ডারে কি শুধু আমার জন্যই কষ্ট গচ্ছিত আছে,যদি সেটাই হয় তাহলে কষ্টের সাথে আমাকে সেই কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা কেনো দাওনি,আমার যে আর এই স্বার্থপর পৃথিবীতে বাচতে ইচ্ছে করেনা,কি করে বাচবো বলো,যেই মানুষটাকে আকরে ধরে বেচে থাকার স্বপ্ন দেখে ছিলাম সেও যে আজ দূরত্ব টা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

রাসেল এমন ভাবে কাদতে কাদতে ইসরাত কে কল দেয় কিন্তু ইসরাত বার বার কেটে দেয়,শেষ পযর্ন্ত ফোন সুইচ স্টপ করে রাখে,রাসেল চোখে পানি নিয়েই কখন যে ঘুমিয়ে যায় সেইটার কোনো হতিস নেই,সকালে ফযরের আযানের শব্দ শুনে রাসেল ঘুম থেকে উঠে মসজিদে গিয়ে নামাজ পরে নেয়,মসজিদ থেকে বাসাই এসে পেটে খুদা নিয়ে বইকে সামনে রেখে পড়তে বসে,ঘরে কিছু নেই যে রান্না করবে আবার পকেটে টাকাও নেই মাসের শেষ বুঝতেই পারেন,রাসেল পড়তেছে এমন সময় রাফি কল দেয়,রাসেল রাফির কলদেখে তারাতারি রিসিভ করে।
রাসেল:-হ্যালো দোস্ত,কেমন আছিস।
রাফি:-তোকে কষ্ট দিয়ে আমি কি করে ভালো থাকবো বল,কালকে তোকে একটু বেশি বলেছি,প্লিজ ইয়ার মাপ করেদিস।

রাসেল:-দূর বোকা কষ্টই যার জীবন সঙ্গী তার আবার নতুন করে কষ্ট কেনো হবে।
রাফি:-দেখ এইভাবে বলিস না,আমি জানি তোর অনেক কষ্ট হয়েছে আমার কথাশুনে।
রাসেল:-নারে তুই যেমনটা ভাবছিস তেমনটা আসলে মোটেও হয়নি,আচ্ছা বাদ দেতো এইসব এখন।
রাফি:-আচ্ছা ঠিক আছে,তা বশ সকালে নাস্তা করেছিস তো নাকি।
রাসেল রাফিকে যদি বলে নাস্তা করেনি তাহলে এখনি বাসাই খাবার নিয়ে আসবে,কিন্তু রাসেল সেটা চাইনা কেননা এমনিতেই রাফি ওর জন্য অনেক করে,তাই ভেবে চিনতে বলে।
রাসেল:-হুম আমি খেয়েছি তুই খেয়েছিস,নাকি রাইসার জন্য না খেয়েই দিন কাটাচ্ছিস।
ওহ আপনাদের তো বলাই হয়নি রাইসা হলো রাফির ক্রাশ,কিন্তু আফসোস রাফি মনের কথা এখনো রাইসা কে বলতে পারেনি,কারণ রাইসা অনেক রাগি কাউকে পাত্তা দেয়না,ইসরাতের বান্ধবী বলে কথা,এই দেখেন একজনের পরিচয় দিতে এসে আরেক জনের কথা মনে পরে গেলো,চলেন সেটাও শুনে নেই,পুরো নাম ইসরাত জাহান,সবাই ইসরাত বলেই ডাকে,ইসরাত এবার এন্টার প্রথম বর্ষে পড়ে, ইসরাত হলো ধনী বাবার একমাত্র আদরের মেয়ে,ওর বাবা এই দেশের নাম করা বিজনেসম্যানদের মধ্যে একজন মা ও ডাক্তার,তাই অহংকার টাও একটু বেশি এবার চলেন মুল গল্পে।

রাফি:-আরে দোস্ত কি যে বলিস না,ওর চাদ মুখটা দেখলেই তো আমার পেট ভরে যায়,খাবারের প্রয়োজন থাকেনা।
রাসেল:-হাহাহা কি যে বলিস তুই,সেটাই যদি হতো ইসরাত তো সেই লেভেলের সুন্দরী কৈ আমার তো না খেলে পেট ভরেনা।
রাফি:-হ তোমার টার যেই অহংকার আর শরীর ভর্তি কারেন্ট,তাইতো ওর থেকে তোর কাছে পাওয়ার আসে না,তা হলে খুদা তোর না লেগে যাবে কোথায়।
রাসেল:-ভুলে যাসনা রাইসা ও কিন্তু ইসরাতের বান্ধবী আর বলতে গেলে রাগের দিক থেকে কেউ কমনা।
রাফি:-সেই জন্য তো আজো ওকে ভালোবাসি কথাটা বলার সাহস করতে পারতেছি না।
এইভাবে অনেক সময় কথা বলে রাফি রাসেল কে রেডি হয় বেড় হতে বলে ফোন কেটে দেয়,রাসেল ও কল কেটে দিয়ে সেই পুরোনো শার্ট আর প্যান্ট পরে বেড় হয়,একটু পরেই রাফি বাইক নিয়ে ওর সামনে এসে দাঁড়ায়।

রাফি:-মাম্মা তারাতাড়ি বাইকের পিছনে বস,সময় নেই হাতে বেশি।
রাসেল:-কেনো সময় আবার হাত থেকে কোথায় গেলো,নাকি আজকাল সময় কেও রাইসার কাছে রেখে দিস নাকি।
রাফি:-হাহাহা কি যে বলিসনা,আচ্ছা কথা পরে বলা যাবে আগে চল।
তারপর ওরা কথা বলতে বলতে চলতে শুরু করে,রাফি সোজা একটা রেস্টুরেন্টের সামনে এসে বাইক থামাই,যেটা দেখে রাসেল অনেক টাই অবাক হয়ে যায়,তাই অবাক নয়নে রাফির ধিকে তাকিয়ে জিগ্গেস করে।
রাসেল:-রাফি তুই কলেজে না গিয়ে এখানে বাইক থামালি কেনো হুম।
রাফি:-আরে বোকা তুই ভাবলি কি করে যে আমাকে মিথ্যে বললেই সেটা আমি বিশ্বাস করবো।
রাসেল:-মানে তো আমি ঠিক বুঝলাম না(অবাক হয়ে)
রাফি:-তুই যে সকালে একটু ও দানা পানি পেটে দিসনি সেটা আমি বুঝতে পেরেছি,এখন কথা না বলে চল খেয়ে নেই আমি ও খাইনি তোর সাথে খাবো বলে।
রাফির কথা শুনে রাসেল চোখে স্পষ্ট পানি চিকচিক করে,এমন বন্ধু থাকলে আসলেই কোনো কষ্ট কেই কষ্ট মনে হয় না,ওরা দুইজন গিয়ে খাবার খেয়ে আবার কলেজে চলে আসে,ওরা দেখতে পায় রাইসা একা বসে আছে।

রাফি:-দোস্ত তুই একটু এই কাগজ টা রাইসাকে দিবি আমার না ওর সামনে গেলেই হার্টবিট কমতে থাকে।
রাসেল:-তুই আমার বন্ধু আর আমি তোর জন্য এই টুকু করতে পারবোনা সেটা কিভাবে ভাবলি হুম,।
রাফি:-হুম তুইতো শুধু আমার কষ্ট টা বুঝিস।
রাসেল নিজের হাতে একটা চিঠি লিখে রাফিকে সেখানে রেখে একা রাইসার কাছে যায়।
রাসেল:-হাই রাইসা কেমন আছো।
রাইসা অন্য দিকে তাকিয়ে ছিলো রাসেলের কথা শুনে ওর দিকে তাকায়।
রাইসা:-হুম ভালো আছি,তা কি জন্য এসেছেন এখানে।
রাসেল হাত বাড়িয়ে কাগজ টা বেড় করে রাইসার দিকে দিতে নিলেই,রাইসা এমন একটা কাজ করে যেটা বিশ্বাস যোগ্য ছিলনা,কেননা রাইসা,,

চলবে...

No comments