Breaking News

অবহেলিত প্রেমিক যখন বিমান বাহিনীর বড় অফিসার । পর্ব -০২

রাইসা রাসেলের হাতে কাগজ দেখেই রাগী লুক নিয়ে ঠাসসসসস ঠাসসসস!করে দুইটা থাপ্পড় লাগিয়ে দেয়,যেটা দেখে সবাই অবাক রাফিতো যেনো বাক রুদ্ধ হয়ে গেছে আর রাসেলের কথা কি বলমু বুঝতেই পারতেছেন মানুষ হাজার ভোল্টের শক খেলে যেমন হয়।

রাইসা:-এই আপনার লজ্জা করেনা নিজের গার্লফ্রেন্ড থাকা সত্বেও আমাকে লাভ লেটার দিচ্ছেন।
রাসেল যেইনা কিছু বলতে যাবে অমনি সেখানে ইসরাত চলে আসে,আর রাসেলের মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বলে। ইসরাত:-রাইসা কি হয়েছেরে যে তুই এভাবে ওর গায়ে হাত তুললি।
রাইসা:-আর বলিসনা,তুইতো একটা লম্পট কে ভালোবেসেছিস,
তুই থাকা সত্বেও আমাকে ভালোবাসার লাভ লেটার দিতে আইছে।
রাইসার কথা শুনে ইসরাত রাসেলের থেকে কোনো কথা না শুনেই
ঠাসসসস ঠাসসসসস করে থাপ্পড় লাগিয়ে দেয়,আর চিল্লান দিয়ে বলে।
ইসরাত:-আমি জানতাম তোর চরিত্রের ঠিক নাই,
তাই বলে তুই এইভাবে আমি থাকা সত্বেও আমার বান্ধবী কে ভালোবাসার কথা বলতে আইছোস।
রাসেল কোনো কথা বলছেনা,কি করে বলবে বলেন দুইজনের থাপ্পড়ে ওর ঠোঁট দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে,
সবাই যেনো বিনা পয়সাই সিনেমা দেখতেই ব্যস্ত,রাফি আর দূরে দাঁড়িয়ে থাকতে না
পেরে কাছে আসে আর বলে।

রাফি:-অনেক হয়েছে আর না,রাইসা তুমি যে ওর গালে হাত তুললে,একটা বার কি
কাগজ টা হাতে নিয়ে খুলে দেখেছো ভিতরে কি আছে।
রাইসা:-না আর কেনো দেখবো ওর মতো মানুষ এইগুলা ছাড়া তো আর কিছুই দিবেনা সাভাবিক।
ইসরাত:-হা রাইসা তো ঠিকই বলেছে,আমি ওর তো কোনো ভূল দেখছিনা।
রাফি:-না ও লম্পট না,আসলে আমার ভূল হয়েছে ওকে দিয়ে কাগজ টা পাঠানো,যদি আমি জানতাম এমনটা হবে তাহলে কখনো দিতাম না।
ইসরাত:-মানে (অবাক হয়ে)

রাফি:-আমি অনেক দিন ধরেই তোমার বান্ধবী রাইসা কে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসি,কিন্তু রাইসা যদি রাজি না হয় বা ওর যেই রাগ কিছু করে ফেলে তাই ভালোবাসি কথাটা বলার সাহস হয়ে ওঠেনি,আজকে রাসেল কে দিয়ে আমার মনের কথা কাগজে লিখে পাঠিয়েছি,আর এইসব হয়ে গেলো।
রাফির কথা শুনে রাইসা তো লজ্জায় লাল হয়ে যায়,আর এইদিকে রাসেল উঠে।
রাসেল:-রাফি তুই থাক আমি গেলাম ভালো লাগছেনা।
রাসেলের কথা শুনে রাফি যে কিছু বলবে সেটা আর হলোনা কেননা রাসেল বলেই চলে যায়,এইদিকে রাইসা ও ইসরাত একটু অপরাধ বোধ করে।

ইসরাত:-ইস আমি পাগল টার সাথে এতো বরো ভুল করে ফেললাম,একটাবার বুঝতেও চেষ্টা করলাম না।
রাফি:-বুঝবে কি করে এখন যে অন্য কে পেয়ে গেছো,আমার বন্ধু হয়ে গেছে পর,মনে রেখো একদিন ঠিক এর হিসাব কসতে হবে,কিন্তু সেদিন কোনো ফরমুলা দিয়েই ফল মিলাতে পারবেনা।
বলেই রাফিও সেখান থেকে চলে যায়,এইদিকে রাইসা তো মনে মনে সেই খুসি যে রাফি ও ওকে ভালোবাসে,কেননা রাইসাওআগে থেকেই রাফি কে পছন্দ করে।
ইসরাত:-দূর ওর জন্য আমি কেনো কষ্ট পাচ্ছি,একটু পরেই তো আবার ঠিকই আমার কাছেই চলে আসবে।
রাইসা:-হুম তা হয়তো আসবে কারণ রাসেল ভাই যে তোকে একটু বেশিই ভালোবাসে,কিন্তু আমি রাফির ভালোবাসার উত্তর টা দিতে পারলাম না।
ইসরাত:-কিরে তাহলে তুইও কি ডুবে ডুবে রাফি ভাইয়ের প্রেমে জল খাচ্ছিস নাকি হুম।
রাইসা:-হুমরে আমি ও যে ওকে অনেক আগে থেকেই ভালোবাসি,কিন্তু অজানা ভয়ে বলতে পারিনি, আজকে সেই খুসি যেটা তোকে বলে বুঝাতে পারবো না।
ইসরাত:-তুই তো খুসিটাকে ঠিকই পেলি মাঝখান থেকে আমার পাগল টা শুধু শুধু গুণে গুণে চারটা থাপ্পড় খেলো,ঠোট কেটে রক্ত বের হয়েগেছে।
রাইসা:-হুম ভাইয়ার থেকে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে,আমার ভালোবাসার কথা জানাতে এসে বেচারা নিজেই ফেসে গেলো।

ইসরাত:-আরে দূর ওর মতো ফকিরের কাছে আবার কিসের ক্ষমা,ওর কাছে ক্ষমা চেয়ে তুই কি তোর সম্মান টা নষ্ট করবি নাকি।
রাইসা:-তুইনা ভাইয়া কে ভালোবাসিস তাহলে এই কথা কিভাবে বলছিস হুম,তোর লজ্জা করতেছেনা নিজের ভালোবাসার মানুষের সম্পর্কে এইসব কথা বলতে।
ইসরাত:-ভূল তো সেখানেই করেছিরে ওকে ভালোবেসে,তখন কি আর বুঝতাম যে ওর সাথে আমার রিলেশন করাটাই ভূল,এই দুই বছরে কোনদিন একটা জিনিস কি গিফট করেছে বল,কখনো কোনো রেস্টুরেন্টে খাওয়াতে পযর্ন্ত নিয়ে যেতে পারেনি,তাহলে ওর সাথে রিলেশন করে আমার জিবন টা কেনো নষ্ট করবো।
রাইসা:-এখন তুই কি করতে চাইছিস বলতো,আমার মাথায় তো কিছুই ঢুকছে না।
ইসরাত:-ও আমাকে এতোটাই ভালোবাসে যে হুট করে কিছু করে বসতে পারে,তাই ওকে ধিরে ধিরে দূরে সরিয়ে দিচ্ছি,লোকে কি বলে একটা এতিম গ্যারেজের ছেলে এই ইসরাত চৌধুরীর বয়ফ্রেন্ড,এটা শুনে আমার সম্মানের আঠারো টা বেজে বিশটার কাছাকাছি চলে যায়।

রাইসা:-দেখ ইসরাত এটা করা ঠিক হবেনা,ভাইয়া গরিব হলে মানুষ হিসাবে খুব ভালো,এতোটাই সহজ সরল যে তুই যেই দিকে বলিস সেই দিকেই থাকে।
ইসরাত:-তোর ইচ্ছা হয়,তুই ওকে তোর বিএফ বানিয়ে নেগা যা,দুই বন্ধু একজনের বয়ফ্রেন্ড হাহাহা।
রাইসা:-ইসরাত হেসেনে একদিন এমনো দিন আসবে যেই বুঝবি রাসেল ভাইয়া তোর জীবনের কতোটা অংশ জুড়ে ছিলো।
এইভাবে আরো অনেক কথা বলে ইসরাত ও রাইসা চলে যায় ক্লাস করতে,এইদিকে রাসেল এসে নদীর ধারে গাছের গোড়াই শিকরের উপরে বসে চোখের পানিতে বুক ভাসিয়েই যাচ্ছে,রাসেলের মনে গহিনে জমানো কষ্টের পরিমাণ টা যখনি বৃদ্ধি পায়,তখনি এইখানে চলে আসে,যেনো প্রকৃতির সাথে ওর ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গেছে,রাসেল এক মনে নদীর স্রোতের দিকেই তাকিয়ে ভাবছে।

রাসেল:-নদীর এই অঝোর ধারাই বয়ে চলা স্রোতের ও নিদিষ্ট একটা জায়গা আছে যেখানে
গিয়ে অন্য দিকে মোর নেয়,কিন্তু আমার জিবন নামক নদীতে যেই স্রোত হামেসাই বয়ে চলেছে,
তার কি কোনো নিদিষ্ট জায়গা নেই,ঐ আল্লাহ আমাকে যদি এই পৃথিবীতে একা
করে রাখবে তাহলে,আমাকে এই স্বার্থপর পৃথিবীতে পাঠিয়েছো কেনো,যানো
যখন সবাই আমাকে এতিম বলে,তখন মনে হয় আমার এই ছোট্ট কলিজাটা কসাইখানাতে
গরুর কলিজা কেটে টুকরো টুকরো করার মতো লাগে,
তারা কেনো বোঝেনা আমি কি নিজে থেকে এতিম হয়েছি,নাকি তুমি আমাকে এতিম করে
পাঠিয়েছো,আমার বাবা মা তো আমাকে এই পৃথিবীর আলো দেখিয়ে বেচে গেছে,
রেখে গেছে আমাকে এই দুখের সাগরে ভাসতে ভাসতে জিবন সংগ্রাম করার জন্য,জানিনা
এই পৃথিবীর বুকে আজো তারা আছে নাকি তোমার কাছে থেকে আমার কষ্ট দেখে মজা নিচ্ছে।
রাসেল একমনে এইসব ভেবেই যাচ্ছে,এইদিকে অনেক টা সময় ধরেই রাফি কাজে ব্যস্ত থাকার
কারণে রাসেলের খবর নিতে পারেনি,হটাৎ রাসেলের কথা মনে হলে ফোন করে,
রাসেল রাফির নাম্বার দেখে চোখের কোণে জমে থাকা পানি মুছে ফোনটা রিসিভ করে।
রাসেল:-হ্যা দোস্ত বল।
রাফি:-কোথায় তুই এখন।
রাসেল:-লোকালয়ে তো আমার থাকতে ভালো লাগেনা,তাই কোলাহল মুক্ত জায়গায় নিল আকাশের নিচে নদী কে সঙ্গী বানিয়ে বসে বসে তার সাথেই নিজের কষ্ট গুলাকে ভাগ করে নিচ্ছি,যদি নদীর স্রোতের মতো আমার বুকে জমে থাকা কষ্টগুলো ভেসে যেতো।
রাফি:-দেখ এইভাবে বলিস না,আমার ভুল হয়েছে তোকে ওখানে পাঠিয়ে,আমি যদি আগে একটা বার ভেবে দেখতাম এমন টা ঘটবে তাহলে কখনোই তোকে যেতে দিতাম না।
রাসেল:-তুই মিছা মিছা নিজেকে দোষারোপ করছিস,আমার আল্লাহ যে ঐটা আমার জিবন খাতায় আগেই লিখে রেখেছিলো,যেটা কেউ পরিবর্তন করতে পারেনা।
রাফি:-তোর সাথে কথাবলে কোনদিন পেরে উঠিনি আজকে তাহলে কিভাবে পেরে উঠবো,আচ্ছা তুই চলে আই ওখানে থাকতে হবেনা।

এভাবে আরো কিছু সময় কথা বলে রাফি কল কেটে দিলে রাসেল সেখান থেকে উঠে
গ্যারেজে এসে কাজ করতে লাগে,কাজ করতে করতে সন্ধ্যার আধার ঘনিয়ে আসে,রাসেল
কাজ শেষ করে বাসাই চলে আসে,বাসাই রেধে খাবার মতো কিছুই নেই শুধু ফ্রিতে পাওয়া
পানি ছাড়া,আবার এখন তো এই পানিও অনেক জায়গায় ফ্রিতে পাওয়া যায় না,রাসেল
পেটের খুদাকে পাথর চাপা দিয়ে এক গ্লাস পানি খেয়ে শুয়ে পরে,ভিষণ মনে
পরছে ইসরাতের কথা তাই বিছানার পাশে পরে থাকা ফোনটা হাতে নিয়ে
ইসরাতের নাম্বারে কল দেয়,কিন্তু ঐযে কথায় আছেনা কপাল ভালো থাকলে সব কিছুই
পাওয়া যায়,তেমনি রাসেল ও পেলো ঐপাশ থেকে একটা সুন্দরী মেয়ের মিষ্টি কন্ঠে,
আপনে যেই নাম্বারে কল করেছেন সেটা এই মূহুর্তে বন্ধ আছে,দয়াকরে একটু পরে
আবার চেষ্টা করুণ,রাসেল বার বার দিতেই থাকে কিন্তু ভয়েজের কোনো পরিবর্তন হয় না,
তাই কি আর করবে বুকের মাঝে কষ্টকে লুকিয়ে রেখে ঘুমিয়ে পরে,আজকে যেহেতু কলেজ
বন্ধ কোনো এক কারণে তাই আর কলেজে যেতে হলোনা,দোকান থেকে পাঁচ টাকা দিয়ে
একটা রুটি আর একটা চা নিয়ে রুটি ভিজিয়ে খেতে থাকে,যেটা ইসরাতের চোখে পরে যায়।
ইসরাত:-দেখো দেখো কিভাবে একটা হরেকমাল রুটি চায়ের কাপে চুবিয়ে চুবিয়ে খাচ্ছে,
ছি আমার ভাবতেই ঘৃণা লাগে যে ওর মতো ফকিরের সাথে প্রেম করেছি,কতো ছেলে আমার পিছনে ঘোরে সেটা একটাবারের জন্য ভাবিনি।

আসলে ইসরাত ঐখান দিয়ে গাড়ি নিয়ে কোথাও যাচ্ছিল আর তখনই খাওয়া দেখতে পায়,রাসেল সেখান থেকে গ্যারেজে চলে আসে আর প্রতিদিনের মতো কাজ করতে থাকে,হটাৎ ইসরাত গাড়ি নিয়ে সেখানে চলে আসে,যেটা রাসেল খেয়াল করেনি।
ইসরাত:-আমার গাড়িটা একটু দেখোতো,কি যেনো হয়েছে শুধু শব্দ করে।
ইসরাতের কথা শুনি রাসেল পিছনে ফিরেই তো অবাক কেননা সত্যি সত্যি তো ইসরাত।
রাসেল:-আরে তুমি এখানে কিভাবে,আর রাতে কতো বার কল দিলাম কিন্তু তোমার ফোন বন্ধ ছিলো।
রাসেল একটা মোড়া ইসরাতের দিকে এগিয়ে দিতে দিতে বলে উপরে কথাগুলো।
ইসরাত:-আমি এক জায়গায় গিয়েছিলাম আর সেখান থেকেই শুরু হলো এই কাহিনি গাড়ির সাথে,আর রাতে আমার ফোনে চার্জ না থাকার কারণে বন্ধ ছিলো।
রাসেল:-ও আচ্ছা বুঝতে পারছি কোনো সমস্যা নেই,আচ্ছা তুমি এখানে বসো,আমি তোমার গাড়ি এখনি ঠিক করে দিচ্ছি।
ইসরাত:-এইটাতে বসবো আমি এটা তুই ভাবলি কি করে হুম,এটাতে তো আমার বাড়ির কুকুর ও বসেনা।
ইসরাতের কথা শুনে রাসেলের হাসিমাখা মুখটা নিমিষেই মলিন হয়ে যায়,আসলেই তো এই মোড়াই কি আর সবাই বসতে পারে।

রাসেল:-এটা ছাড়া তো আর কিছু এখানে নেই,আচ্ছা তুমি গিয়ে গাড়িতেই বসে থাকো,বাইরে থাকতে হবেনা।
ইসরাত:-ঠিক আছে তুই তারাতারি গাড়ি ঠিক কর,আমি গাড়িতেই বসে রইলাম।
রাসেল আর কোনো কথা না বলে গাড়ি টা কাজ করতে লাগে,কিছুটা সময় পরে রাসেল গাড়ির কাজ শেষ করে।
রাসেল:-তুমি গাড়ি টেষ্ট করবে নাকি আমি টেষ্ট করবো কোনটা।
ইসরাত:-তোর ঐ নোংরা হাতে আমার গাড়ি চালাইতে আসলে তো গাড়ি টাই নোংরা হয়ে যাবে,আমি দেখছি।
ইসরাতের কথা শুনে রাসেল মন খারাপ করে বলে।
রাসেল:-আচ্ছা তোমার গাড়ি তুমি দেখো।
ইসরাত গাড়ি চালিয়ে দেখলো ভালো হয়েছে,তাই ব্যাগ থেকে কিছু টাকা বের করে বললো।
ইসরাত:-এইনে ধর তোর কাজের মুজুরি,আর বাকি যেটা আছে সেটা দিয়ে খেয়ে নিস,একটা রুটি আর চা খেয়ে যে কারো দিন পার হয় সেটা ভাবতেই কেমন লাগে।
রাসেল যে কিছু বলবে সেটার কোনো সুযোগ না দিয়েই ইসরাত গাড়ি নিয়ে চলে যায়,রাসেল অবাক নয়নে টাকা গুলোর দিকে তাকিয়ে ভাবে।
রাসেল:-এই কাগজের নোটের জন্য মানুষ কেমন হতে পারে সেটা ইসরাত কে না দেখলে বোঝাই যেতো না,ও কেনো বোঝেনা যে এই নোট গুলো শেষ হয়ে যাবে কিন্তু ভালোবাসা কখনো শেষ হবেনা।
রাসেল কথাগুলো ভাবছে ঠিক তখনই গ্যারেজের মালিক এসে এমন একটা কাজ করে বসে যেটা দেখে উপস্থিত সবাই অবাক কেননা.....

চলবে.....

No comments