Breaking News

আইসিটি স্যার যখন বর । পর্ব - ২৪



জানালারর দিকে কিছু পরে যাওয়ার শব্দ শুনে তাকিয়ে দেখি জাহিদ ভাইয়া দাঁড়িয়ে আছে। জাহিদ ভাইয়াকে এই ভাবে দেখে আমার শরীর কেমন জানি ভয়ে শিউরে উঠছে।তাও চাপা হাসি দিয়ে বললাম,

ফারহাঃ আরে ভাইয়া আপনি? দরজা দিয়ে না এসে এই ভাবে জানালা দিয়ে আসলেন কেন? দরজা দিয়ে আসলেই তো পারতেন।
জাহিদ ভাইয়া কথার উত্তর না দিয়ে এক পা এক পা করে আমার দিকে এগুচ্ছে। ওনার আগানো দেখে আমার ভয়ে কলিজার পানি সব শুকিয়ে যাচ্ছে।
ফারহাঃকি হলো ভাইয়া চুপ করে আছেন কেন? কথা বলুন আপনি এখানে এভাবে কেন এসেছেন? কথা বলছেন না কেন ভাইয়া?

জাহিদ ভাইয়া কিছু না বলে আমার একদম সামনেই আসতেছে। আমি পিছুতে পিছুতে দেওয়ালের সাথে এসে ঠেকলাম, ওনি তাও আমার সামনে এগুচ্ছেন। আগাতে আগাতে একদম আমার সামনে এসে দাঁড়ালেন তারপর আচমকা পকেট রুমাল বের করে আমার মুখে চেপে ধরেন আমি অনেক ছাড়ানোর চেষ্টা আর চিৎকার দেওয়ার চেষ্টা করতেছি।

কিন্তু কোনো ভাবে কিছু করতে আমি সক্ষম হতে পারছি না,আমার অনেকটা দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রমে তাও নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতেছি। কিন্তু বেশিক্ষণ তাও আর করা সম্ভব হচ্ছে না, আমার শরীরের যতটুকু শক্তি আছে সব আসতে আসতে আসতে লোপ পাচ্ছে, মাথাটা কেমন জানি ঘুরতেছে। তারপর! তারপর আর কিছুই মনে নেই।

যখন জ্ঞান ফিরে আসে তখন নিজেকে একটা অন্ধকার রুমে আবিষ্কার করলাম। মাথাটা কেমন ধরে আছে, মাথায় হাত দেওয়ার জন্য হাত উঁচু করতেই চোখে পড়লো আমার হাতটা বাধা। একটা চেয়ারে সাথে বেধে রেখেছে। কিন্তু জাহিদ ভাইয়া এইসব কেন করছেন? ওনার সাথে তো আমার সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে গেছে? তাহলে!

এইসব ভাবছিলাম হঠাৎ মনে হলো দরজার দিক দিয়ে আলো প্রবেশ করতেছে। একটু একটু করে দরজাটা খুলে গেলো, দরজা কেউ একজন রুমে প্রবেশ করতেছে। মুখটা স্পষ্ট না হলেও আমি বেশ বুঝতে পারছি এইটা জাহিদ ভাইয়া। ওনাকে দেখে আমার রাগের মাত্রা বেড়ে গেলো

ফারহাঃ এইসবের মানে কি? আপনি আমাকে এই ভাবে তুলে এনেছেন কেন?
আমার কথা শুনে উনি বিকট একটা হাসি দিলেন। মনে হচ্ছে যেন আমি উনাকে মস্ত বড় একটা জোকস বলেছি। ওনার এই রকম হাসি দেখে আমি অনেক ভয় পেয়ে যাই সাথে অনেক রাগও হচ্ছে।
ফারহাঃ কি ব্যাপার কথার উত্তর না দিয়ে এই রকম পাগলের মত হাসতেছেন কেন?
এইবার ওনার হাসি উদাও হয়ে মুখে রাগ স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। তারপর আমার সামনে এসে চুলের মুঠি চেপে ধরেন। ব্যাথায় আহহ করে উঠলাম,

জাহিদঃ তোর এতবড় সাহস! তুই আমাকে পাগল বললি? অবশ্য তোর সাহসটা বরাবরি একটু বেশি, এজন্যই তোকে আমার এত ভালো লাগে। কিন্তু একটা কথা কি জানিস বেশি সাহসী হওয়া ভালো না, এই যে দেখ তোর সাহস বেশি তাই তুই আমাকে সবার সামনে অপমান করলি থাপ্পড় মারলি, তোর আশিককে দিয়ে আমার মার খাওয়ালি। এখন এই সাহসটাই তোর জীবনের কাল হলো।
ফারহাঃ আপনি এই গুলা কি বলছেন? এইটা নিয়ে তো আমাদের মাঝে সব মিটমাট হয়ে গিয়েছিল। তারপরও এমন কেন করছেন?
জাহিয়াঃ মিটমাট!হুহ! এইটা তো একটা সাজানো নাটক ছিলো, ভেবেছিলাম সুস্থ হয়ে তারপর তোকে উচিত শিক্ষা দিবো তার জন্য তোর সাথে আগে বন্ধুত্ব করেছি। কিন্তু মাঝখান থেকে তুই এই বিয়েটা করে আমার সব প্লান নষ্ট করে দিচ্ছিলি। কিন্তু আমি কি তা হতে দিতে পারি? তাই তোকে তুলে নিয়ে এলাম। প্রত্যেক বার বেচে যাস কিন্তু এইবার আমার হাত বাঁচতে পারবি না। কেউ তোকে বাঁচাতেই আসবে না কারণ সবাই ভাবতেছে তুই বিয়ের আসর তোর বয়ফ্রেন্ডের সাথে পালিয়েছিস। এতক্ষণে হয়তো তোর বাবা মা তোকে ঘৃণা করা শুরু করে দিয়েছে। হাহাহা

জাহিদ ভাইয়ার কথা শুনে আমার যেন পায়ের নীচ থেকে মাটি সরে গেলো। সত্যি কি আমার বাবা মা আমায় ভুল বুঝবে? কিন্তু ওনাদেরও দোষ কি? এইটা তো ভাবারি কথা, বরপক্ষ হয়তো আমার বাবা মাকে অনেক অপমান করতেছে। আমার আব্বু এই সব সহ্য করবেন কি ভাবে? দুচোখ দিয়ে শুধু পানি পরতেছে।
জাহিদঃ কি ব্যাপার বিলাপ করতেছিস কেন? এখনো তো কিছুই করি না তার মধ্যেই এত বিলাপ? পরের জন্য কিছু রাখ। এইবার শুধু দেখ আমি তোর এমন অবস্থা করবো না যে তুই সারাজীবন আমার পায়ের কাছে ঘুরাঘুরি করবি। সারাজীবন তোকে আমি আমার কৃতদাসী করে রাখবো।

ফারহাঃ জিহা ঠিকি বলেছিলো তুই কখনো শুধরানোর না।আমারি ভুল হয়েছে জিহার কথা না শুনে তোকে বিশ্বাস করে। কথায় আছে না, কুকুরের লেজ সারাজীবন সুরুঙ্গের মধ্যে থাকলে কখনওই সোজা হয় না, তুইও ঠিক তেমন যাই হয়ে যাক কখনো শুধরাবি না। কিন্তু তুই,,,,,
আর বলতে পারলাম না জোরে একটা থাপ্পড় মেরে দিলো। এত জোরেই মেরেছে যে ঠোট কেটে গিয়ে রক্ত পরছে। আমার কথা শুনে জাহিদ ভাইয়া হিংস্র জানোয়ারে পরিণত হয়েছে।
জাহিদঃ তুই এখনো বড় বড় কথা বলছিস? আর কি বললি আমি কুকুর? তো দেখ আজকে এই কুকুর তোকে কি করে।

অন্যদিকে
বর চলে এসেছে। বিয়ে কাজ শুরু করার জন্য ফারহাকে নিতে আসলে ফারহাকে রুমে না দেখে সবার মাথায় যেন বাজ পড়লো।
এই কথাটা সবার মাঝে আসতে আসতে ছড়িয়ে পরলো। সবার মুখে একটাই কথা ফারহা পালিয়েছে। আজকে দুইদিন ধরে যাকে নিয়ে সবার কোনো আনন্দের সীমা ছিলো না, এখন তাকে নিয়ে বাজে বাজে কথা বলতে কেউ একবারও ভাবছে না, এইটাই মানুষের নীতি।

ফারহা পালিয়েছে এই কথাটা বরের কানেও যায়। বরটা আর কেউ না রাহাত ছিলো। রাহাত আর জিহা মিলে এইসব প্লান করেছে, রাহাত আর জিহা হচ্ছে একেঅপরের কাজিন।রাহাত সে দিন ফারহাকে এই ভাবে অপমান করতো না যদি না জানতো যে ফারহা বন্ধুদের সাথে বাজি ধরে তার ভালোবাসা প্রকাশ করতেছে। রাহাত চাইলেই ফারহার থেকে ক্ষমা চেয়ে নিতে পারতো, কিন্তু সেটা করেনি কারণ ও হয়তো ফোনে জিয়ান আর রাহাতের কন্ঠ বুজে যেত। রাহাত তো চেয়েছিলো ফারহাকে সারপ্রাইজ দিতে।
জিহা আর রাহাত যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না যে ফারহা পালিয়েছে। রাহাত বিয়ের আসোর থেকে দৌড়ে ফারহার রুমে গেলো।

জিহা ফারহার মা বাবাকে সামলাচ্ছে। সবার মুখে এতো এতো বাজে কথা শুনে ওনারা অনেকটা ভেঙ্গে গেছে। ফারহা আম্মি আর তানহা কান্না করতেছে, ফারহা আব্বু একদম নিস্তব্ধ হয়ে আছে।
রাহাতঃ রুমে এসেই দেখি সত্যি ফারহা নেই। বুকটা কেমন জানি একটা শুন্য মনে হচ্ছে, কিন্তু ফারহা পালাবে কেন? ওতো আমায় ভালোবাসতো, আর আমি ওকে ইগনোর করায় তো এই বিয়েটা করতেছে তাহলে পালাবে কেন? মাথায় নানা রকম প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, হঠাৎ একটা ঘড়ী চোখে পরলো নিচে পরে আছে। হাতে তুলে নিলাম দেখি এই ঘড়ীর বেল্ট চিড়ে গেছে, হাতে নিয়ে দেখছিলাম।

জিহাঃ আন্টি আর চাচ্চুকে সামলাচ্ছিলাম তখন দেখি রাহাত ভাইয়া একটা ঘড়ী হাতে নিয়ে দেখতেছে। এরকম একটা ঘড়ী তো জাহিদ ভাইয়ার হাতে দেখেছিলাম আমি। তার মানে এই জাহিদটা কিছু করে নাই তো।
জিহাঃ ভাইয়া দেখি এই ঘড়িটা আপনি কোথায় পেলেন?
রাহাতঃ কি হলো জিহা? এইটা কার?
জিহাঃ ভাইয়া এরকম একটা ঘড়ী আমি জাহিদ ভাইয়ার হাতে দেখতেছি।
রাহাতঃকি! তার মানে এই জাহিদ,,,😡😡😡😡
রাহাত আর একমিনিটও দেড়ি না করে সেখান থেকে চলে আসে।

চলবে....

No comments

info.kroyhouse24@gmail.com