গল্পঃ অবহেলা । পর্ব-২য়

আমি মাথা নাড়লাম কেবল..। ওর কথা শুনে আমার
চোখে অশ্রু ভীড় করছে…। আমি নিচু করে
আছি
মাথাটা। ওকে বুঝতে দিব না তাই। আমার মাথা
নাড়ানো
দেখে, ও আবার বললো, তবে এবার একটু
রেগে গিয়ে বললো,
> তোমার কী কিছুই বলার নেই.??
>> হুম। আছে…।
খুব ছোট্ট করে ভাঙ্গা গলায় বললাম….।
> হ্যা বলো কী বলবে…?
>> ভালো ভাবে পরীক্ষা দিয়ো। টিক মতো
খেয়ো। সময় মতো ঘুমিয়ো…। নিজের যত্ন
নিয়ো..।
> তোর কী এসব ছাড়া কোনো কথা নেই….।
আমি আমার মতো থাকবো তাতে তোর
কী….??
আর তুই আমার খোঁজ করবি না। তো কেয়ার
গুলো
আজ আমার বিরক্ত লাগছে….। আমাকে মুক্তি দে
তুই এসব থেকে….।।
.
এই বলে ও হনহনিয়ে চলে গেলো…।। আমি
কান্না ভেঁজা চোখ নিয়ে ওর গমন পথের দিকে
তাঁকিয়ে থাকলাম। ও আঁড়াল হয়ে যাবার সাথে
সাথে
ডুকরে কেঁদে উঠলাম। হয়তো অনেকেই
হাঁসছে। কিন্তু তারা তো আমার কষ্ট বুঝবে না।
কেউ
একজন এসে আমার পিঠে হাত দিয়ে মাথায় হাত
দিলো।
আমি চোখগুলা বাম হাত দিয়ে মুছে তাকালাম…..।।।
দেখলাম একটা ছেলে আমার দিকে তাঁকিয়ে
আছে। আমি চোখ তুলে তাকানোতে বললো…
— ভাইয়াএভাবে কেঁদো, একসময় ঠিক হয়ে
যাবে…??
>> সত্যিই কী ঠিক হবে ভাইয়া…।। চাইলেই কী
সব ঠিক হয়…(ভাঙ্গা কণ্ঠে বললাম)
— বাসায় যান আর কাঁদবেন না….।। সবাই
তাকাচ্ছে…!!!
>> হুম….
.
বাসায় চলে আসলাম….।
এসে আম্মু আর আব্বুকে ধরে খুব কাঁদলাম…।
>> আম্মু তোমার ছেলেতো কাউকে কষ্ট
দেয় নি। না জেনে.?? তাহলে সবাই আমাকে
কেন
কষ্ট দেয়.??
– কী হয়েছে তোর বাবা…..?? তুই এভাবে
কাঁদছিস
কেন.?? আমাকে বল.?(আম্মু)
আমার সাথে আম্মুও কেঁদে দিলো…।
>> আম্মু তুমি তোমার পাগল ছেলেটাকে মাফ
করে দিয়ো। তোমায় না বলে কষ্ট দিয়েছি
কতো.??
– কী বলছিস যাতা…। তুই এরকম তো করিস না
কখনো.?( আম্মু কান্নাভেঁজা কণ্ঠে খুব কষ্টে
বললো..)
.
বাবাকেও বললাম…
>> বাবা আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো…?? আমি
তোমায়
কতো কষ্ট দিয়েছি…???
বাবা এবার আমার কথা শুনে কেঁদে ফেললো…
— কী বলছিস বাবা তুই এসব…।। এমন করছিস
কেন…?? (বাবা)
>> না বাবা। তোমাকে আর মাকে তো খুব জ্বালাই,
আর তোমরাও আমার দেয়া কষ্ট গুলো সহ্য
করো।
আমার নিজেকে খুব একা লাগছে..।
নিজেকে যেন হাঁরিয়ে ফেলেছি…।।
— না বাবা। না। কী বকছিস তুই….?? তুই আমার
একমাত্র
ছেলে…
আর কিছু বলতে পারলেন আব্বু আম্মু। দু’জনেই
সমানে কাঁদছেন। আমিও কাঁদছি…..।
.
একটু পর তাদেরকে ছেড়ে রুমে চলে
আসলাম..। ফ্রেশ হয়ে না খেয়ে শুয়ে পড়লাম।
আম্মু এসে ডাকতে শুরু করলো। আব্বু দরজা
খুলতে বললো। আমি দরজা খুলে দেখি। আব্বু
ভাতের প্লেট হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে…।
রুমে ঢুকে বেডে বসলো, আমাকে তার
পাশে
বসিয়ে নিজ হাতে খাঁইয়ে দিলো.। আম্মু পানির
গ্লাস
নিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে আছে…।। হয়তো চলে
যাবো বলেই আম্মুর আর আব্বুর একটু কষ্ট
হচ্ছে…..।।
.
এরমধ্যে আমার অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার সময় চলে
এসেছে। সামনের সপ্তাহে চলে যাবো।
নিজেকে একটু গোছাতে নিঝুমের খোঁজ
নেওয়া হয় নি…। তবে ওর অনেক গুলো
পরীক্ষাই শেষ হয়েছে…। তবে পরীক্ষা
গুলো কেন জানি ভালো হয় নি…। তাই চলে
যাওয়ার
আগে যদি একটু দেখা করা যেতো। কিন্তু ওর
পরীক্ষা….। ও না করেছিল…!.
.
সময় চলার পথে। আস্তে আস্তে আমার চলে
যাওয়ার দিন চলে এসেছে….। নিজেকে একা
লাগছে….।
আম্মু-আব্বু আর নিঝুমের আম্মু-আব্বু ও
এসেছেন….!.
>> আম্মু আমার জন্যে দোয়া করো।।।
এই বলে কেঁদে দিলাম….। আম্মুও আমাকে
জড়িয়ে ধরে ঢুকরে কেঁদে দিলেন।
– বাবা টিক মতো খাওয়া-দাওয়া করিস.। নিজের
খেয়াল
নিস।
>> হুম।
এই বলে চোখ মুছে বাবা বলে জড়িয়ে কেঁদে
দিলাম। পৃথিবীতে বাবা মানুষটাই হয়তো এমন যাকে
খুব কমই কাঁদতে কম দেখা যায়।
>> বাবা আমার জন্যে দোয়া করো। আর আম্মু
আর
নিজের খেঁয়াল রেখো..।
— কাঁদছিস কেন বাবা.?? কাঁদিস না…। আমরা
ভালো
থাকবো। নিজের যত্ন নিস। আর আমাদের
জন্যে
দূর্চিন্তা করিস না।
>> আচ্ছা বাবা। সময় মতো নিজের ঔষূধ গুলো
খেয়ো…।
আন্টি আর আঙ্কেল কে বললাম,
>> আপনাদের অনেক মিস করবো।।। আম্মু-
আব্বুকে একটু দেখে রাখবেন.??
—- আরে তুমি সে নিয়ে ভেবো না।। তুমি
ভালো
থাকলেই আমাদের ভালো….।
>> আমার জন্যে দোয়া করবেন..? আর নিঝুমকে
এই জিনিসটা দিবেন….।
.
আন্টির হাতে একটা চিঠি দিলাম নিঝুমের কাছে
থেকে বিদায় নিতে। আব্বু-আম্মুকে নিচু হয়ে
সালাম করে বিদায় নিলাম। পিঁছু ফিরে আঁকাশের
দিকে
তাকিয়ে হাঁটতে লাগলাম। আজ আঁকাশ টা খুব
মেঘলা।
হয়তো আমার মনের মতো ওর মনটাও খারাপ….।।
.
নিঝুমের আম্মু নিঝুমকে দিলেন চিঠিটা।
নিঝুম খুলে নিয়ে পড়তে শুরু করলো…
.
নিঝুম
হয়তো ভাববে প্রিয় বলে ডাকিনি কেন.?? কারণ
তুমি
আমার কাছে প্রিয় হলেও। আমি যে তোমার
কাছে
প্রিয়টি নেই। ভালোই আছে আমায় ছাড়া। আমিও
ভালো
থাকবো যেমন তোমায় ছাড়া থাকার কথা। আজ
আমি
তোমার থেকে অনেক দূরে চলে গেলাম।
অনেক দূরে। তোমাকে আর ফোন দিয়ে
ডিস্টার্ব করবো না। আমার মতো আর কেয়ার
করবে কী না জানি না। খুব মিস করবো তোমার
বকা
গুলো। চাইলেও আর শুনতে পারবো না। তুমি
তোমার
নিজের মতো করে কাউকে খুঁজে নিয়ো। যে
তোমার মনের মতো হবে। আমি হয়তো ছিলাম
খুব
বাঁজে। কিন্তু আমার ভালােবাসাটা তুমি দেখোনি।
আমি
তোমাকে হয়তো নিজের করে পাই নি। তবে
তোমার স্মৃতিগুলো নিজের। যা দিয়ে আমি
আজীবন কাটিয়ে দিবো। আর কোনো বিরক্ত
কর কণ্ঠটা শুনতে পাবে। দোয়া করি তুমি যেন
আমার চাইতে ভালো কাউকে পাও। যে তোমাকে
খুব ভালোবাসবে তোমার মতো করে। আমার
ভালোবাসা না পাওয়ায় থাক, তাতে দুঃখ নেই।
কিন্তু
তোমার কষ্টে যে আমার বুক ফেঁটে যাবে।
আমার দেয়া কষ্টগুলোকে জীবনের খারাপ
মুহূর্ত
মনে করে ভূলে যেয়ো। আমি দূর থেকেই
তোমাকে ভালোবাসবো। তুমি নিজেকে সুখী
করো।।
আর কিছু বললাম। তুমি বিরক্ত হবে….। আর বিরক্ত
করবো না। ক্ষমা করে দিয়ো এই পাগলটাকে ।
যে
তোমাকে ভালোবাসতে পারে নি। হারিয়ে
গেলাম
আজ থেকে চিরতরে…..। ভালো থেকো
তুমি…।
খুব ভালে….
বাই। বাই ফর এবার.
.
ইতি
পাগল এবং বিরক্তিকর মানুষটা…
হয়তো তোমার / হয়তো বা না.
.
চিঠিটা পড়তে পড়তে ঝাপসা হয়ে নিঝুমের
চোখে। দু’ফোঁটা অশ্রু টুপ করে ঝরে
পড়লো। চিঠির ভাজে। খুব কান্না পাচ্ছে….। আজ
খুব কাঁদবে। কারণ ওর তো খুশি হওয়ার কথা, কিন্তু
একটা কীসের শূন্যতা অনুভব করছে, হৃদয়ের
গহীনে …..।।।

আজকের মতো শেষ,,,,,,,,,,