Breaking News

ভালোবাসার ফুল । পর্ব-০৩

আমি মোবাইলটা হাতে নিতেই দেখি My love লিখা নামটা মোবাইল স্ক্রিনে ভেসে উঠছে।

আমি বার বার লাইন টা কেটে দিচ্ছি।
আর বার বার ফোনটা বেজেই যাচ্ছে।
অনেক বার রিং বাজার ফলে আমি ফোন টা রিসিভ করি।

-হ্যালো,
-হ্যালো তিতিশ্মা,আমি পবন বলছি,
শিশির এখন হসপিটালে।
ও তোমার সাথে দেখা করার জন্য যখন বের হয়েছিলো তখনই আচমকা এক বাস এসে ওকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।
আর তখন ওকে দ্রুত ওখানকার লোকজন হসপিটালে ভর্তি করে।
হয়তো তুমি ওকে ভুল বুঝেছো,হয়তো বিয়েও করে নিয়েছো।আমি চাইনা আমার বন্ধু নিরপরাধী হয়েও সারাজীবন বেঈমান নামক টাইটেল টা বহন করে বেড়াক।
তাই তোমাকে জানিয়ে দিলাম।

ওর অবস্থা খুবই আশংকাজনক।
প্লিজ ওর জন্য দোয়া করো।
আমি রাখছি।
ইচ্ছে হলে একবার ওকে দেখে যেও।

পবন ভাইয়া ফোন টা রেখে দেয়।

আমার চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়তে থাকে।
আমি দম নিতে পারছিনা।
বুক টা কষ্টে যেন ফেটে যাচ্ছে।
কেন হলো আমার সাথে এমন?
কি পাপ করেছি আমি আল্লাহ্‌।

তখনই মিহাদ ঘরে প্রবেশ করে।
মিহাদের মুখে লজ্জা ভরা হাসি।
অনেক টা খুশি মনে হচ্ছে ওকে দেখে।

আমি খাট থেকে উঠেই মিহাদকে জড়িয়ে ধরে জোরে শব্দ করে কাঁদতে থাকি।

-কি হয়েছে তিতিশ্মা?
কি হয়েছে তোমার?
বাবা মায়ের জন্য মন খারাপ হচ্ছে?
বলো আমাকে প্লিজ।

-না,
-তাহলে কি হয়েছে?এই ভাবে কাঁদছো কেন?
চুপ করে থেকোনা,বলো প্লিজ আমাকে।
আমার খুব চিন্তা হচ্ছে।

-শিশির,
-শিশির?
-শিশিরের অবস্থা খুব খারাপ।
ও এক্সিডেন্ট করেছে।
-ও আচ্ছা,তোমার বন্ধু বুঝি?
কখন এক্সিডেন্ট করেছে?কিভাবে করেছে?
-বিকেলে করেছে এক্সিডেন্ট।
আর ও আমার বন্ধু না।আমার ভালবাসা।
আমার ভালবাসা ও মিহাদ।

আমি এই কথা বলে আরো জোরে কাঁদতে লাগলাম।

মিহাদ যেন আমার কথা শুনে কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলো।

তারপর আমার কান্নার শব্দে বলে উঠলো:
-তুমি কোন চিন্তা করোনা।
ও ঠিক হয়ে যাবে।
কেঁদোনা প্লিজ,তুমি কাঁদলে আমার কষ্ট হয়।

-আমি ওকে দেখতে যাবো।আমাকে এক্ষুণি ওর কাছে নিয়ে চলুন।প্লিজ নিয়ে চলুন আমাকে ওর কাছে।

-এখন অনেক রাত তিতিশ্মা।এখন আমি।তোমাকে নিয়ে বাসার বাইরে গেলে মানুষ নানান কথা বলবে,নানান কথা জিজ্ঞেস করবে।তাছাড়া তোমার এই অবস্থা দেখে সবাই জিজ্ঞেস করবে কি হয়েছে।
আমি তখন কি জবাব দিবো?
প্লিজ একটু শান্ত হও,সকাল হলেই আমি তোমাকে তার কাছে নিয়ে যাবো।

-না আমি এখনই যাবো,প্লিজ আমাকে নিয়ে চলুন।

-তিতিশ্মা,একটু বোঝার চেষ্টা করো।বাড়ী ভর্তি লোক জন।
তোমাকে নিয়ে বেরুতে গেলেই নানান প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে।

-যা ইচ্ছে উত্তর দিয়েন আপনি।
আমাকে শুধু শিশিরের কাছে নিয়ে চলুন।
ওর অবস্থা খুবই খারাপ।

আমি বার বার মিহাদকে অনুরোধ করতে থাকি।
মিহাদ আমাকে বার বার শান্ত হতে বলে।

আমি মিহাদের কাছ থেকে দূরে সরে এসে মিহাদকে বলি,

-আপনি আমাকে নিয়ে যাবেন না তাইতো?
আই হেইট ইউ মিহাদ।হেইট ইউ।আমি শুধু শিশিরকে ভালবাসি,শুধু শিশির কে ভালবাসি।
আজ ওর এই অবস্থা শুধু মাত্র আমার জন্য।

আমি ওর জন্য ঘর ছেড়ে পালিয়েছিলাম।
ওর সাথে পালিয়ে যাবো বলে।
ও আসার পথে এক্সিডেন্ট করে।
আমি ওকে ভুল বুঝে সুইসাইড করতে গাড়ীর সামনে মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাই।
আর আপনার সাথে আমার দেখা হয়ে যায়,আর আপনি এসে আমাকে বাসায় নিয়ে যান।
তারপর আমাদের বিয়ে হয়ে যায়।
আর আমি আপনার সাথে এ বাসায় চলে আসি।

আর ওই দিকে আমার শিশির এক্সিডেন্ট করে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তে থাকে।
আমি তা জানতেও পারিনা।

আমি শুধু শিশিরকে ভালবাসি।
শুধু আমার শিশিরকে।
ওর কিছু হলে আমি মরে যাবো।একদম মরে যাবো।

কথা গুলো মিহাদ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অসহায়ের মত শুনছে।
আর হঠাৎ খেয়াল করলাম ওর চোখ থেকে যেন এক ফোটা পানি গড়িয়ে পড়লো।

-আচ্ছা,চ

ওর কথা টা সম্পূর্ণ হতে না হতেই
আমার মোবাইল টা বেজে উঠলো,
আমি দ্রুত ফোন টা হাতে নিয়ে রিসিভ করলাম।

-হ্যালো হ্যালো হ্যালো,কে?শিশির নাকি পবন ভাইয়া?
আমার শিশির কেমন আছে?

-তিতিশ্মা,শিশির আর নেই।এই মাত্র ও আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছে।তুমি ওকে ক্ষমা করে দিও তিতিশ্মা।
ক্ষমা করে দিও।
আমরা ওর লাশ ওর গ্রামের বাড়ীতে নিয়ে যাচ্ছি।ওখানেই ওকে দাফন করা হবে।
ভালো থেকো।নতুন জীবনে সুখী হও।

শিশিরকে ভেবে নিজের বিবাহিত জীবন টা নষ্ট করোনা।
ভালো থেকো।

কথা গুলো শুনে আমি ধপ করে নিচে বসে পড়লাম।
মোবাইল টা আমার হাত থেকে পড়ে গেলো।

-কি হয়েছে তিতিশ্মা,তুমি এমন করছো কেন?
-ডোন্ট টাচ মি,আমাকে টাচ করবেন না আপনি।
ছুঁবেন না আমায়( চিৎকার করে)

-এমন করছো কেন?আস্তে।লোক জন শুনলে মন্দ বলবে।
কি হয়েছে বলো প্লিজ।

-আমার শিশির এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেছে।
আমার শিশির মরে গেছে।
শুধু মাত্র আমার জন্য মরে গেলো আমার শিশির।
আর তোর জন্য আমি আমার শিশিরকে একটা বার দেখতে যেতে পারলাম না।
পারলাম না আমি আমার শিশিরকে একটা বার দেখতে।
তোকে আমি কোন দিন ক্ষমা করবোনা,
কোন দিন না,কোন দিন না।

যখন একা একা ঘরটায় বসেছিলাম,ভেবেছিলাম একদিন না একদিন হয়তো তোর জন্য আমার মনে ভালবাসার ফুল ঠিকই ফুটবে।
কিন্তু না,তোর জন্য আমার মনে কোন দিন ভালবাসার ফুল ফুটবেনা।
ফুটবে শুধু ঘৃণার ফুল।আই হেইট ইউ মিহাদ আই হেইট ইউ।

চলবে…

No comments