Breaking News

দ্যা ভ্যাম্পার কিং । পর্ব -৩



“ক্রিস তোমাকে আমি একটা দায়িত্ব দিয়েছি,ভ্যাম্পায়ার ডাইরী খুঁজার।
কিন্তু মাসের পর মাস পার হয়ে যাচ্ছে তুমি ডাইরীটা খুঁজে বের করতে পারলে না।
তুমি একটা অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন ভ্যাম্পায়ার।
বুদ্ধিমত্তার কারণে পুরো ভ্যাম্পায়ার জগত তোমার প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
নিজের ক্ষমতা কাজে লাগাও। আমাকে হতাশ করো না। ফলাফল জানো তুমি কতটা ভয়ঙ্কর হবে।
’ ক্রিসের দিকে অসন্তোষজনক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে কথাটা বলল ইওবার্ড।
“মহামান্য বাদশার কাছে কিছু দিন সময় পাচ্ছি।
আশা করি আমাকে কিছু সময় দিয়ে মহামান্য বাদশাকে পরবর্তীতে পস্তাতে হবে না।’’
“তোমার উপর আমার বিশ্বাস রয়েছে, দু’দিন সময় দিলাম।
আশা করি সময়ের যথোপযুক্ত ফল আমি পাব।
আশা করি তোমাকে সময় দিয়ে আমার পস্তাতে হবে না।
আর যদি হয় তোমার বংশ আমি নিবংশ করে দিব।
কথাটা মগজে দাগ কেটে স্থায়ী করে রাখো।’’ শান্ত গলায় বলল ইওবার্ড।
ক্রিস তার হিংস্র রূপ ধারণ করে রাজ মহল থেকে বেরিয়ে পড়ল,
উদ্দেশ্য ভ্যাম্পায়ার ডাইরী সন্ধান।
সে তার দল মায়ান টেরর নিয়ে পুরো ভ্যাম্পায়ার রাজ্যে তল্লাশির কাজ শুরু করে দিল।
“ইওবার্ড, তুমি নব রাজা। তুমি অতন্ত আবেগি, ভ্যাম্পায়ার রাজাদের কঠোর হতে হয়।
তোমার উচিত ছিল ক্রিসের মাথাটা দেহে থেকে আলাদা করে ফেলা।
কিন্তু তুমি তা না করে দ্বিতীয় সুযোগ দিয়েছ।’’
“বাবা, প্রথম সুযোগ সর্বদাই সকল প্রাণী অবহেলায় পার করে।
প্রথম সুযোগ চলে গেছে যাবার পর সে দায়িত্ববান হয়
তখন সে দ্বিতীয় সুযোগের আশায় বসে থাকে। একবার পেলে নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে দেয়।
কথায় আছে, দায়িত্বের ভার যখন কোনো ব্যক্তির সোজা মেরুদণ্ডকে জমিনে নুয়ে দেয় তখনই সে দায়িত্ববান হয়।
তখন সে নৌকার পালের মতো বাকা মেরুদণ্ড সোজা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
কেউ সফল হয় তো কেউ বিফল হয়।
আমি জানি ক্রিসের সফল হবার সম্ভাবনা খুব কম।
আর এও জানি সে খালি হাতে এখনই আমার সামনে এসে দাঁড়াবে না।
যথা সময়ের মধ্যে ভ্যাম্পায়ার ডাইরী না পেলে সে নিজেই আত্মহত্যা করবে।
তুমি চিন্তিত হয়েও না, খুব শীঘ্রই ভ্যাম্পায়ার ডাইরী আমাদের হাতে আসবে।’’
ইওবার্ডের কাঁধে চাপড় মেরে এডওয়ার্ড সহমত প্রকাশ করলেন।
.
.
রাজার পূর্বের উপদেষ্টা উইলিয়ামকে অমায়িক নির্যাতন করা হচ্ছে।
একের পর এক তার পিঠে চাকু দ্বারা আঘাত করা হচ্ছে।
উইলিয়াম দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে যাচ্ছে। বন্দিশালার টর্চার কেন্দ্রে প্রবেশ করলেন এডওয়ার্ড।
তাকে প্রবেশ করতে দেখেই রক্ষী ভ্যাম্পায়াররা মাথা ঝুকিয়ে অভিবাদন জানাল।
কেউ আর মাথা তুলছে না।
এডওয়ার্ড উইলিয়ামের চুল হাতের মুঠে নিয়ে জোরে টান দিলো, বললেন, ‘ভ্যাম্পায়ার ডাইরী কোথায়।’
“মরে গেলেও বলব না। আমি মহামান্য চার্লসের নির্দেশ ছাড়া কিছুই করিও না, বলিও না।’’
“ভুলে যাচ্ছ! নতুন রাজা ইওবার্ড। আর রাজার আদেশ তুমি মান্য করতে বাধ্য।
কারণ তুমি রাজ্যে উপদেষ্টা ছিলে। ’’
উইলিয়াম তাচ্ছিল্যের সুরে হাসল। তার কাটা ঠোঁট বেয়ে টকটকে লাল রক্ত টপটপ করে গড়িয়ে পড়ছে।
জমিনে পড়ার কিছুক্ষণ পর ধীরেধীরে রক্ত জমাট বেঁধে কালো বর্ণ ধারণ করল।
“হাসালেন! আমি মহামান্য বাদশা চার্লসের উপদেষ্টা ছিলাম।
বর্তমানে আমি উপদেষ্টা নই। আমি আপনাদের নির্দেশ মানতে বাধ্য নই। অ…’’
উইলিয়াম আর কিছু বলার সুযোগ পেল না।
এডওয়ার্ড তার গলা এত শক্ত করে চেপে ধরল যে কট করে একটা শব্দ হলো।
উইলিয়ামের গলার হাড় এডওয়ার্ডের হাতের চাপে ভেঙে গেছে, চাপটির মতো হয়ে
গেছে উইলিয়ামের মোটা গলাটা । উইলিয়াম মৃদু আর্তনাদ করতে লাগল।
এডওয়ার্ডের সেদিকে বিন্দু মাত্রও ভ্রুক্ষেপ নেই, সে আর জোরে গলা চেপে ধরল।
দরজার সিটকানি মারার মতো একটা শব্দ হলো,
পরমুহূর্তে উইলিয়ামের দেহটা মাথা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ধপ করে মাটিতে পড়ে গেল।
দৃশ্যটা দেখে বন্দিশালার এক রক্ষী মৃদু গোঙানির শব্দ করল।
চোখের পলকে এডওয়ার্ড সেই রক্ষীর ঘাড়ে তার লম্বা সুচালো দাঁত বসিয়ে দিলে। মিনিট দুয়েক
পর রক্ষীর রক্ত শূন্য নিথর সাদা দেহটা মাটিতে পড়ে গেল। আশপাশের সব রক্ষী ভয়ে
থরথর করে কাঁপছে। এডওয়ার্ড হাত দিয়ে নিজের ঠোঁটে লেগে থাকা রক্তটা মুছল, তিনি বললেন,
‘কাজের সময়ের অবাঞ্ছনীয় শব্দ আমার খুবই অপছন্দ। বড্ড রাগ হয়।
তোমরা সবাই আমার কথাটা স্মরণে রেখ। ’ কথাটা বলেই এডওয়ার্ড বন্দিশালা থেকে প্রস্থান করলেন।
.
ঘাতকের ন্যায় ক্রিস একের পর এক সন্দেহভাজন ভ্যাম্পায়ারদের হত্যা করেই চলেছে।
চার্লসের সাথে সদেহে যারা সামনাসামনি কথা বলেছে তাদের মধ্যে কেউই আর বেঁচে নেই।
ভ্যাম্পায়ার ডাইরী খোঁজাতে গিয়ে সবার প্রিয় বীর ভ্যাম্পায়ার আজ ঘাতক।
ভ্যাম্পায়ার ডাইরীতে অমরত্ব লাভ থেকে শুধু করে ভ্যাম্পায়ার জগত থেকে মানব জগত
তথা পৃথিবীতে যাবার উপায় বর্ণিত রয়েছে। শুধু তাই নয়, এর সাথে রয়েছে দু’পায়ে ভর দিয়ে চলা
প্রাণীদের ভ্যাম্পায়ার করার উপায়। কথায় আছে, ক্ষমতা সততাকে দূষিত করে ;
ক্ষমতার লোভ যেকোনো সৎ, নিষ্ঠা ব্যক্তিকে মুহূর্তের মধ্যে অহংকারী ও লোভী করে তুলে।
.
.
নীলান্তিকার অফিসে আজ এক নতুন লোক এসেছে। লোকটার বয়স পঁচিশ ,ছাব্বিশ হবে।
তাকে সুদর্শন বলা যেত, তার মধ্যে সুদর্শন হবার সকল গুণ থাকলেও একটি গুণ নেই।
সেটি হলো চোখ, তার চোখগুলো শীতল ;যেন নিষ্প্রাণ।
তবে চেহারায় এক অমায়িক মায়া রয়েছে। প্রথম দেখায় যেকোনো নারীই মুগ্ধ হবে।
তার দেহখানি সিনেমার নায়কদের মতো- পুরো ফিটফাট।
তবে নীলান্তিকার লোকটার বাহ্যিক গঠন পছন্দ হলেও, অন্তরে রস কষ না থাকায় তার লোকটাকে তেমন
একটা পছন্দ হয়নি। লোকটা খুব গম্ভীর প্রকৃতির, যেন কথাই বলতে জানে না।
তবে তার একটা ভালো দিকও রয়েছে, প্রথম দিন অফিসে এসেও সে সব কাজ খুব ভালো ভাবে করছে।
যেন অনেক দিন যাবত এই অফিসের কাজগুলো সে করে যাচ্ছে।
ফলে কারো কাছ থেকে সাহায্যও চাইতে হচ্ছে না।
.
.
টিফিনের সময়ে ক্যানটিনে অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা ঘটে গেল।
নীলান্তিকা খালি একটা টেবিলে বসে ছিল, সেই নতুন ছেলেটা আচমকা এসে নীলান্তিকা বলল
, ‘আমি কি এই টেবিলের খালি চেয়ারটায় বসতে পারি?’ এই প্রথম নীলান্তিকা
ছেলেটার কণ্ঠস্বর শুনল। নীলান্তিকা কিছুক্ষণের জন্যে স্তব্ধ হয়ে গেল।
তার কাছে মনে হলো এর চেয়ে মধুর কণ্ঠ আর হতেই পারে না।
কিছুক্ষণ পর নীলান্তিকা কাঁপা গলায় বলল, ‘জ্বি, বসতে পারেন।’ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে
নীলান্তিকার বরাবর সামনের চেয়ারে বসে পরল। চেয়ারের বসার পর ছেলেটা নীলান্তিকার
দিকে একটি বারও তাকালো না, কিন্তু নীলান্তিকা অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে ছেলেটার দিকে।
মনে মনে সে ভাবছে, ‘এত মুগ্ধতা কোনো ব্যক্তির মাঝে থাকা আদৌ কী সম্ভব?’
.
.
ভ্যাম্পায়ার জগতে এক বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে গেল। ক্রিস চার্লসের কবর খুড়ে ভ্যাম্পায়ার ডাইরী পেয়ে গেল।
কেন জানি, আচমকা ক্রিসের কাছে মনে হলো পুরো ভ্যাম্পায়ার জগতের
শুধু মাত্র একটি স্থান সে খুঁজে দেখিনি আর সেটা হলো চার্লসের কবরটা।
চার্লসের কবর খুড়ার কাজ শুরু হতেই ভ্যাম্পায়ার জগতের সকল ভ্যাম্পায়ার বিশেষ করে যুবক
ভ্যাম্পায়ার ক্রিসের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করে। এক বিশাল যুদ্ধ হয়,
যেখানে প্রচুর সাধারণ ভ্যাম্পায়ার মারা যায়। ইওবার্ড এবং এডওয়ার্ড কেউই ক্রিসকে বাঁধা দেয়নি।
সময় যত গড়াচ্ছে ক্রিসের ভেতরকার মানুষ্যত্ব সত্ত্বা ধীরে ধীরে পশুত্ব সত্ত্বায় বদলে যাচ্ছে।
ক্রিস হাঁটু গেঁড়ে বসে ভ্যাম্পায়ার ডাইরী ইওবার্ডের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, ‘
মহামান্য বাদশা এই নিন ভ্যাম্পায়ার ডাইরী।’
ইওবার্ড ডাইরীটা হাতে নিয়ে ক্রিসকে বলল, ‘তুমি এখন যেতে পারো।
আগামীকাল তোমাকে বিশেষ একটি পুরস্কার দেওয়া হবে।’
ক্রিস অভিবাদন জানিয়ে ইওবার্ডের কক্ষ হতে প্রস্থান করল।
এডওয়ার্ড ইওবার্ডের কাছে ছুটে এসে বললেন, ‘এবার আমাদের স্বপ্ন পূরণ হবে।’
এডওয়ার্ড ইওবার্ডের কাছ থেকে ডাইরীটা নিয়ে বললেন, ‘
এবার আমি অমর হবো, রাজ্যত্ব করব ভ্যাম্পায়ার ও সমগ্র মানব জগতে।
আমার যৌবন আমি ফিরে পাবো।
আর আমাকে কেউ ঝুলা চামড়ার দুর্বল ভ্যাম্পায়ার বলার সাহস পাবে না।’
ইওবার্ড খুব শান্ত তবে ভয়ানক গলায় বলল, ‘বাবা, এক রাজ্যে শুধু
এক অমর রাজাকেই মানায়। ক্ষমা করে দিও আমাকে, দুঃখ প্রকাশ করছি।’
পরমুহূর্তে একটা করুণ আর্তনাদের শব্দে পুরো রাজ মহল কেঁপে উঠল।
এডওয়ার্ড মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। ইওবার্ডের হাতে একটা ছোট্ট ছুড়ি যার ধাতব দেহে বিষাক্ত বিষের আবরণ।
এডওয়ার্ড মাটিতে লুটিয়ে পড়ে কাতরাতে লাগলেন। ইওবার্ডের এডওয়ার্ডের মুখের ওপর ঝুঁকে বলল,
‘তোমার কবরটা আমি লাল পাথর দিয়ে বাঁধাই করব। লাল পাথরের মাজার হবে।
আর তোমার মাজারটা তোমার আপন ভাই চার্লসের পাশেই করব। চার্লস ও এডওয়ার্ড!
পাশাপাশি দুই ভাইয়ের কবর। দেখেছ তোমাদের নাম এক সাথ করলে কেমন জানি অভাবনীয়
শক্তিধর নাম লাগে – চার্লস এডওয়ার্ড। দেখেছ,
তোমাদের দুজনের নামই চায় না তাদের মাঝে ও শব্দ আসুক। তাই আমি তোমাকে
তোমার ভাইয়ের নিকটই পাঠিয়ে দিলাম। এতে ও শব্দের আধিপত্য কিছুটা কমবে।’
এডওয়ার্ড করুণ গলায় বললেন, ‘নিজের পিতাকে হত্যা করতে তোর হাত কাঁপেনি?’
“কেন কাঁপবে? তুমি নিজের ভাইকে মারতে পারো, আর আমি নিজের বাবাকে
মারতে পারব না? তুমি তোমার ভাইকে ধোঁকা দিয়েছ,
যে ভাই যুদ্ধে তোমার জীবন নিম্নে শতাধিক বার বাঁচিয়েছে।
তুমি ধোঁকাবাজ, ধোঁকাবাজের পুত্র ধোঁকাবাজই হয়।’
এডওয়ার্ড অকথ্য একটা গালি দিল। এরপর সে মারা গেল।
ইওবার্ড বিড় বিড় করে বলল, ‘দু জগতের অমর রাজা হবার স্বপ্ন দেখে!
আমি হবো দুজতের একমাত্র রাজা।’
চলবে…

No comments