Breaking News

বিষাক্ত শিরদাঁড়া

স্বচ্ছ কাচের তৈরি, সিলিন্ডার আকৃতির বায়োকেমিক্যাল ফ্লাক্সের ভেতর থাকা সবুজ বর্ণের তরল
পদার্থে ডুবে আছে একটা দেহ। তরল পদার্থের কারণে দেহটা ঠিক কিসের তা বুঝা যাচ্ছে না।
তবে ভেতরে থাকা দেহটি মানব দেহ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ মুখ
আর বুক ছাড়া দুটো পা এবং দুটো হাত দেখা যাচ্ছে। পুরো রুম জুড়ে রয়েছে হরেক
রকমের কাচের জার। জারগুলো বিভিন্ন রং এর খুব ঘন তরল পদার্থে পরিপূর্ণ। রুমের
মধ্যে সাদা এপ্রন পরিধেয় পাঁচজন লোক ঘুরঘুর করছে। এটি একটি বায়োকেমিক্যাল
ল্যাব। এপ্রন পরিধেয় এক লোক আচমকা বায়োকেমিক্যাল ফ্লাক্সটির সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন।
লোকটা কাচের সাথে নিজের মুখটা ঠেসে ধরে ভেতরে উঁকি দিলেন। কিছুক্ষণ
এভাবে চেয়ে থাকা পর তিনি নিজের মুখটা সরিয়ে নিলেন। পাশে থাকা ডেস্কে গিয়ে একটা
নোট বুকে কিছু লিখলেন; যথাসম্ভব পর্যবেক্ষণ করে প্রাপ্ত তথ্য। একে একে রুম
থেকে এপ্রন পরিধেয় পাঁচজন বেরিয়ে গেলেন। বায়োকেমিক্যাল ল্যাবটি এখন পুরো ফাঁপা।
মিনিট দুয়েক পর, সবুজ জামা পরিধান করা এক লোক এসে রুমের তাপমাত্রা
কমিয়ে দিয়ে চলে গেলেন। শীতল কক্ষে এখন তরলে দ্রবীভূত একটি দেহ ছাড়া আর কিছুই নেই।
.
.
বায়োকেমিক্যাল ফ্লাক্সটি আচমকা বিকট একটা শব্দ করে ভেঙ্গে গেল।
পুরো মেঝে কাচের ছোটো ছোটো টুকরো এবং ফ্লাক্সের ভেতর থাকা সবুজ
বর্ণের তরল পদার্থে নিমজ্জিত হলো। ফ্লাক্সের ভেতর থাকা দেহটি ধপ করে
মেঝেতে পড়ে গেল।দেহটি একটা মানুষের! ধীরেধীরে দেহটি নড়তে শুরু করল।
বুকের উপর ভর করে হামাগুড়ি দিয়ে দেহটি দরজার দিকে এগিয়ে যেতে লাগল।
.
.
.
“তোমরা কী হাঁদারাম নাকি? একেকটা অকালকুষ্মাণ্ড! তোমরা গবেষক হলে কী করে?
বায়োকেমিক্যাল ফ্লাক্স থেকে কী করে দেহটি চুরি হতে পারে?
আমাদের ল্যাবের ঠিকানা তোমরা পাঁচজন ছাড়া আর কেউ জানে না।
অন্তত এই পৃথিবীর কেউ জানে না। হতচ্ছাড়াগুলা।’’
কোর্ট, প্যান্ট পড়া বছর ষাটেকের এক লোক ল্যাবে থাকা
এপ্রন পড়া গবেষকদের বকছেন। তাঁর ভাস্য মতে এই বায়োকেমিক্যাল ল্যাব থেকে কোনো ভাবেই গবেষণা
কেন্দ্রিক দেহটি চুরি হওয়ার কথা নয়। কারণ তিনি এবং
গবেষকরা ছাড়া আর কেউই ল্যাবের প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে অবগত নয়।
সুতরাং চুরি হবার প্রশ্নই উঠে না।
কোর্ট পড়া লোকটা পাশে থাকা ডেস্কের উপর চাপড় মেরে বললেন, ‘
আমি এই প্রোজেক্টের উপর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেছি। হাড় বিহীন একটা মানব দেহ তৈরি করেছি।
জীবিত মানব দেহ! বিবর্ধনের নতুন এক অধ্যায় চালু করার খুব নিকটে ছিলাম আমি।
আমাদের গবেষণা সফল ছিল। হাড় বিহীন দেহটির ভেতর জীবন ছিল।
হাজার বছর ধরে কৃত্রিম জীবিত মানব দেহ তৈরি প্রচেষ্টা চলছে। কিন্তু কেউ সফল হয়নি।
একমাত্র আমরা হয়েছিলাম। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে আমার সফলতা অন্য কেউ ছিনিয়ে নিলো।
আমি জানি না, তোমরা চব্বিশ ঘণ্টার ভেতর অক্ষত অবস্থায় দেহটি ল্যাবে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে।
যা ইচ্ছে করো ,যা যা প্রয়োজন আমি দেবো। যত টাকাই লাগুক না
কেন আমার দেহটি চাই। যেকোনো মূল্যে চাই। প্রয়োজনে খুন করো, কোনো সমস্যা নেই।’
লোকটা হনহন করে ল্যাব থেকে বেরিয়ে গেলেন। ল্যাবের ভেতর থাকা
পাঁচ গবেষকের মধ্যে তত্ত্বকথা শুরু হলো। সকলের কথোপকথনের প্রসঙ্গ হলো,
কিভাবে হাড় বিহীন দেহটি খুঁজবে।
“বস আমাদের উপর রেগে আছেন। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে দেহটি না
খুঁজে বের করতে পাড়লে বস আমাদের মেরেই ফেলবেন।’’
“হ্যাঁ, চলো। খুঁজাতে শুরু করি। আমাদের বস জনাব রফিক উদ্দিন তো দিন দুপুরে মানুষ খুন করেন।
আমাদের কখন করে বসেন ঠিক নেই। দ্রুত দেহটি খুঁজতে হবে।’’
.
.
রফিক উদ্দিন সাহেব গাড়িতে উঠে বসলেন। বিড় বিড় করে তিনি অকথ্য গালি দিচ্ছেন।
“হারামি, হতচ্ছাড়া, কু**……’’
রফিক উদ্দিনের ফোনটা বেজে উঠল।
কিছুক্ষণ ফোনের স্ক্রিনের দিকে তিনি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন।
সেকেণ্ড দশেক পর তিনি ফোন ধরলেন।
ফোনের ওপাশ থেকে রাগান্বিত গলায় এক লোক বললেন, ‘শুনলাম দেহটি নাকি চুরি হয়েছে।
দু’দিনের ভেতর যদি দেহটি না খুঁজে বের করতে পারো তাহলে আমি তোমাকে টুকরো টুকরো করে নদীতে ফেলে দেবো। মনে রেখ এই প্রোজেক্টের এক-তৃতীয়াংশ অর্থের জোগান আমি দিয়েছি।’
ফোন কেটে গেল। রফিক উদ্দিন ফোনটা গাড়ির জানলা দিয়ে বাহিরে ছুড়ে মারলেন।
বিড় বিড় করে তিনি বললেন, ‘পোড়া কপাল!’
.
.
ফাহিমের করুণ গলার তীব্র আর্তনাদ শুনে ডাক্তার স্তম্ভিত। সে চিৎকার করে বলছে, ‘
আমার শিরদাঁড়া ফেটে যাচ্ছে….! দয়া করে বাঁচাও।’
চিৎকার দিতে দিতে এক সময় ফাহিম জ্ঞান হারালো। তার অবস্থা দেখে ডাক্তার চিন্তিত হলেন।
তিনি হুটহাট করে কোনো রোগের নাম উচ্চারণ করলেন না।
কিছুক্ষণ ভেবে তিনি ব্যথা প্রশমনের কিছু ঔষধ লিখে দিলেন। এরপর তিনি চলে গেলেন।
যাওয়ার পূর্বে তিনি বলে যান, ফাহিমকে যেন ভালো কোনো ডাক্তার দেখায়।
সাথে এও বলেন ফাহিমকে চিকিৎসা করা তাঁর সাধ্যের বাহিরে।
.
.
দিন দুয়েক পার হলো। আজ ফাহিমকে তার বাবা-মা একজন নামকরা ভালো ডক্টরের নিকট নিয়ে আসলেন। ডক্টর ফাহিমকে কিছু প্রশ্ন এবং টেস্ট দিলেন।
“আজই টেস্টগুলো করাবেন এবং রিপোর্ট এসে আমাকে দেখাবেন। ’’
ডক্টরের কথা মতো ফাহিমের বাবা-মা তৎক্ষণাৎ ফাহিমের পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো করিয়ে নিলেন।
ঘণ্টাখানেক পর তারা আবার ডক্টরের কাছে গেলেন। রিপোর্টগুলো বার বার দেখলেন ডক্টর।
কিছুক্ষণ পর তিনি ফাহিমকে বললেন, ‘তুমি সম্পূর্ণ সুস্থ। সাধারণ কিছু পরীক্ষা ছিল।
মেরুদণ্ড তোমার অক্ষত। শিরদাঁড়া অর্থাৎ মেরুদণ্ডে কিছুই হয়নি।
তোমার সমস্যাটা মাথায়। আমি হাড় বিশেষজ্ঞ , তুমি ভালো ব্রেইনের ডক্টরের কাছে যাও।’
“স্যার, আপনি কোনো ভালো ব্রেইনের ডক্টরের ঠিকানা যদি দিতেন।’’ নম্র গলায় ডক্টরের কাছে অনুরোধ করলেন ফাহিমের বাবা। ডক্টর হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়িয়ে তাঁর সামনে থাকা নোট প্যাডে কিছু একটা লিখলেন।
কাগজটা ফাহিমের বাবার দিকে এগিয়ে দিয়ে তিনি বললেন, ‘উনার কাছে যান। অনেক ভালো ব্রেইনের ডক্টর তিনি।’
ফাহিমের বাবা কৃতজ্ঞতা স্বরূপ ডক্টরকে অভিবাদন জানালেন। এরপর তারা ফাহিমকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন।
.
ফাহিমকে পরের দিন সকাল সকাল ব্রেইনের ডক্টরের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো।
ডক্টর সবকিছু শুনে কিছু ঔষধ দিলেন।
তাঁর ভাস্য মতে ঔষধগুলো নিয়মিত খেলে আর কোনো সমস্যাই হবে না।
তবে ঔষধগুলো সেবন করলে প্রচুর ঘুম হবে এবং ব্রেইন শিথিল থাকবে।
সেদিনের মতো ফাহিমকে নিয়ে তার বাবা-মা বাড়ি ফিরলেন।
ফাহিমের শিরদাঁড়া ব্যথা হয় প্রায় মাস খানেক ধরে।
প্রথম যেদিন তার মেরুদণ্ড বা শিরদাঁড়া ব্যথা করে সেদিনের পূর্বে তেমন কোনো বীভৎস ঘটনা ঘটেনি,
যেমন দুর্ঘটনা। আচমকা এমন এক বাজে রোগের কবলে পড়তে হলো ফাহিমকে।
সে নিতান্তই হাসিখুশি, সহজ-সরল ছেলে।
তার মানসিক সমস্যা হওয়া কোনো প্রশ্নই উঠে না। কিন্তু ডক্টরের কথা তো আর ফেলা দেওয়ার মতো নয়।
তাই ফাহিম এবং ফাহিমের বাবা-মা ধরে নিয়েছেন ফাহিমের মানসিক সমস্যা।
.
.
অন্ধকারাচ্ছন্ন এক রাত। হলদে ল্যাম্পপোস্টের আলোতে পিচ ঢালা সড়ক হলদে বর্ণ ধারণ করেছে।
একটা মানব দেহ বুকের উপর ভর করে সড়কের দ্বার ঘেঁষে এগিয়ে চলেছে।
মুখ তার বিকৃত! মুখে অসংখ্য সেলাইয়ের দাগ। প্রশস্ত কপাল, লম্বা চখা নাক, মোটা ছোটো কান।
মুখের দিকে তাকালে যে কেউ ভয় পেতে বাধ্য।
দেহটি কেমন স্পঞ্জের মতো। তুলতুলে নরম, বাতাসের মৃদু ছোঁয়ায় চামড়া নড়ছে।
ল্যাম্পপোস্টের নিচ দিয়ে দেহটি আচমকা দাঁড়িয়ে গেল।
পুরো দেহ কেমন শক্ত হতে লাগল। যেন মাংসের দলাটা ধীরেধীরে হাড়ে পরিণত হচ্ছে।
দেখতে দেখতে পুরো দেহটি হলদে বর্ণ ধারণ করল।
গিরগিটির ন্যায় নিজের রং বদলিয়ে ফেলল।
ল্যাম্পপোস্টের নিচে যে এখন একটি মানব দেহ রয়েছে তা বুঝার কোনো উপক্রম নেই।
.
পরের দিন
রফিক উদ্দিন তিন সদস্য বিশিষ্ট একটা কমিটি গঠন করলেন। যাদের মূল কাজ হবে গবেষণা
কেন্দ্রিক দেহটি খুঁজে বের করা। কমিটি গঠনের পরপরই কমিটির সমদ্যগণ দেহটি খুঁজার
কাজে নেমে পড়ল। তারা ল্যাবের আশপাশের বড় বড় দালানগুলোর সি.সি.টিভি
ফুটেজ চেক করা শুরু করল। তবে এতে কোনো লাভ হলো না। দেহটি সম্পর্কে
কোনো তথ্য তারা জানতে পারেনি। আর তারা আশাও করেনি। কারণ তারা জানে
দেহটি সাধারণ কোনো মানব দেহ নয়। দেহটি একটি গিরগিটি, সাপ এবং মানবের সংমিশ্রণ।
সে রূপ বদলাতে পারে, বিষাক্ত সে। তার দাঁত মাত্র দুটো, দুটো বিষাক্ত দাঁত।
তার কামড়ে সেকেণ্ড দশেকের ভেতর যেকোনো মানুষ প্যারালাইজড হতে পারে এমনি মারাও যেতে পারে।
তবে সে হিংস্র হতো না, যদি পুরো গবেষণা সফলভাবে শেষ হতো।
কিন্তু এখন শেষ বিপদজনক কারণ তার ব্রেইনের পূর্ণ বিকাশ হয়নি।
.
.
বেলা বারোটা নাগাদ আজিমপুর গোরস্থানের প্রবেশ পথে আচমকা এক লোক অচেতন হয়ে পড়লেন।
জনবহুল এই স্থানে এই সময় মানুষের সমাগম খুব বেশি থাকে।
অচেতন লোকটাকে ঘিরে একটা ছোটো খাটো ভিড় জমল।
কয়েকজন শিক্ষিত যুবক লোকটার নার্ভ ধরে বললেন, লোকটা মারা গেছে।
তিন চারজন শিক্ষিত যুবকের একই মন্তব্যে উপস্থিত জন সমাগম
বিশ্বাস করে নিলেন লোকটা আসলেই মারা গেছেন। পুলিশকে খবর দেওয়া হলো।
বেশিক্ষণ সময় লাগল না। পুলিশ ঘটনাস্থলে মিনিট দশেকের মধ্যে পৌঁছালেন।
মানুষকে সরিয়ে দিয়ে লাশটি পোস্টমার্টমের জনে পাঠানো হলো।
পুলিশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ঘটনাস্থল থেকে চলে গেলেন।
.
.
“স্যার, লাশবাহী গাড়ি থেকে এই মাত্র খবর এলো লাশটি পুরো নীল বর্ণ ধারণ করেছে।’’
“লাশের পায়ের কব্জিতে আমি সাপের কামড়ের দাগ দেখেছি। লোকটা সাপের কামড়ে মারা গেছে। কিন্তু….’’
পুলিশ অফিসারকে থামিয়ে দিয়ে সহকারী বললেন, ‘কিন্তু এমন বিষধর সাপ তো পুরো বাংলাদেশেই নেই। আর আজিমপুর! এখানে তো সাপ থাকার সম্ভাবনা শূন্য।’
“আমিও তাই ভাবছি। জটিল কোনো রহস্য তো আছে। দেখা যাক ফরেনসিক রিপোর্ট কী আসে।’’
“কেসটা কী আপনি হ্যাণ্ডেল করবেন?’’
“হঠাৎ এই প্রশ্ন?’’
“না মানে স্যার আমার কাছে কেসটা গোয়েন্দাদের উপযুক্ত মনে হলো। যেহেতু এমন বিষধর সাপের কামড়ে লোকটা মরেছে যা দেশেই নেই সেহেতু আণ্ডারওয়ার্ডের মাফিয়াদের হাত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এসব টাইপের কেস তো অনেক লম্বা সময় ধরে চলে। আর এসব কেস তো গোয়েন্দারা সামলিয়ে থাকে তাই না।’’
“দিন দিন তোমার ব্রেইন বেশি শার্প হচ্ছে। আগে ফরেনসিক রিপোর্ট আনুক। আমরা তদন্ত করি। ফলাফল দেখি কোন দিকে যাচ্ছে। তারপর না হয় দেখা যাবে কেসটা আমরা সমালাব নাকি গোয়েন্দা সংস্থা। এখুনি এতকিছু ভাবা বোকামি। কথায় আছে অতি চালাকের গলায় দড়ি।’’
.
.
“বায়োকেমিক্যাল হিউম্যান রিসার্চ সেন্টার। সংস্থাটি বাহির থেকে বিশুদ্ধ।
কিন্তু ভেতর দিয়ে পঁচা আঙ্গুরের মতো।
সংস্থাটি দাবি করে তারা মানব কল্যাণ সাধনের জন্যে বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কার করার কাজ করছেন।
কিন্তু আজও সংস্থাটি থেকে একটি টেবলেটও তৈরি হয়েছে বলে জানা যায়নি।
সম্প্রতি আমার একজন গুপ্তচর জানিয়েছে সংস্থাটি নাকি জীবিত মানব
দেহের উপর নানান ধরনের পরীক্ষা চালিয়ে থাকে। জীবিত মানব দেহ! অর্থাৎ তারা মানুষ
অপহরণ করে তাদের উপর গবেষণা করে। বেআইনি কাজ! তবে তাদের
বিরুদ্ধে তেমন কোনো প্রমাণ আমরা জোগার করতে পারিনি। পূর্ববর্তী গুপ্তচর দল ব্যর্থ হয়েছে।
তাই মিশনটা আমি তোমাদের অর্পণ করতে চাচ্ছি। কারণ তোমার প্রত্যেকে দুর্ধর্ষ, সাহসী এবং মেধাবী।
সম্প্রতি সাত মহিলা এবং নয় পুরুষ অপহরণের পেছনে এই সংস্থাটির হাত রয়েছে বলে আমি অনুমান করছি।
তোমাদের কাজ হবে সংস্থাটি মূলত কী কাজ করছে সেটি বের করা।
অপরাধ মূলক কাজ হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ জোগার করবে।
ব্যক্তিগত রক্ষার্থে তোমরা গুলি চালাতে পারবে। তো তোমরা প্রস্তুত?’’
সমস্বরে চারজন গুপ্তচর এক সঙ্গে বলল, ‘জি, স্যার। আমরা প্রস্তুত।’
.
গোয়েন্দা প্রধান একটা মুচকি হাসি দিলেন।
“তোমাদের দলের প্রধান কাকে করব? এক কাজ করি।
তোমারই নির্ধারণ করো কাকে তোমরা দল নেতা হিসেবে চাও।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সবকিছু গণতান্ত্রিক নিয়মেই হোক কী বলো?’’
চার জনের মধ্যে তিনজন একজনের দিকে হাত দিয়ে ইশারা করল।
যার দিকে ইশারা করেছে সবাই তার নাম নীলয় আহসান নীল।
“নীলয় আহসান নীলকে কেন তোমরা দল নেতা হিসেবে চাও?’’
প্রশ্ন করলেন গোয়েন্দা প্রধান।
“সে মেধাবী! ’’ বলল সাদেক।
“আমি যতদূর জানি সে অন্তত দায়িত্বশীল।’’ বলল যাবেদ।
“আমি ওর সাথে দুটো কেসে ছিলাম। সে কেস সংক্রান্ত একটা প্রমাণও হাত ছাড়া করে না।
সন্দেহভাজন প্রত্যেকের উপর সে নজর রাখে।
এতে কেস সমাধান হতে সময় লাগলেও কখন নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানির শিকার হতে হয় না।
বলল রকিব।
গোয়েন্দা প্রধান হেসে বললেন, ‘তোমাদের কথাগুলো আসলেই ঠিক ।
যাও এবার মিশনে নেমে পড়ো। আর নীল আশা করি তোমার নিয়ে যথেষ্ট সন্তুষ্ট।
তোমার টিমের সবাই তোমার মতই। তাদের চিন্তা চেতনা তোমার মতই।
আশা করি খুব শীঘ্রই সুসংবাদ নিয়ে আসবে।’
“ইয়েস, স্যার।’’ অভিবাদন জানিয়ে বলল নীল।
চলবে…

No comments