Breaking News

প্রেয়সী | পার্ট: ৫

হঠাৎ অর্পিতা আমাকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিলো, পিছনে তাকালাম দুর্জয় মেয়েটিকে নিয়ে গাড়িতে উঠে চলে যাচ্ছে দেখে সস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। অর্পিতা আমার বুকের শার্ট খামছে ধরেছে, ভয়ে ভয়ে ওর চোখের দিকে তাকালাম।
অর্পিতা: কে আপনি?
.
আমি: মানে? পাগল হয়ে গেছেন নাকি?
নাকি স্মৃতি হারিয়ে ফেলেছেন বাংলা সিনেমার মতো?
অর্পিতা: একটু আগে কি করলেন? জড়িয়ে ধরেছিলেন কেন আমায়?
আমি: আমার কথা…
অর্পিতা: জড়িয়ে ধরার কথা বাদ দিন, আপনি একটু আগে আমাকে অর্পি বলে ডাকছিলেন, কেন?
আপনি কে? কি করে জানলেন আমার এই নাম?
আমার অর্পি নাম তো কারো জানার কথা না।
(কি বলছে ও এসব? আমি কি সত্যিই ওকে অর্পি বলে ডেকেছিলাম?
আর ডাকলেই বা সমস্যা কি? হয়তো তাড়াহুড়ো করে অর্পিতা নামকে শর্টকাট
করে অর্পি বলে ডেকে ফেলেছি)
অর্পিতা: বলুন আপনি আমার এই নাম জানলেন কিভাবে?
আমি: শার্ট ছাড়ুন মানুষজন দেখছে, বলছি আমি।
অর্পিতা: হুম বলুন।
আমি: আপনার আরেক নাম যে অর্পি আমি সেটা সত্যিই জানতাম না।
আসলে তখন তাড়াহুড়োর মধ্যে আপনার অর্পিতা নামটা শর্টকাট করে অর্পি বলে ডেকে ফেলেছি।
অর্পিতা: ওহ। (অর্পিতা মন খারাপ করে গাড়িতে গিয়ে বসলো।
আচ্ছা মেয়েতো কখন কি কারণে মন খারাপ করে ফেলে বুঝতেও পারিনা।
কি আর করার আমিও এসে গাড়িতে বসলাম)
.
আমি: আইসক্রিম খাবেন?
অর্পিতা: উঁহু ইচ্ছে করছে না।
আমি: একটু আগেই তো বলছিলেন আইসক্রিম খেলে নাকি মন ভালো হয়ে যায়।
অর্পিতা: হুম মন ভালো হয় কিন্তু আশার আলো যখন নিভে যায় তখন আর মন ভালো হতে চায় না। একটা একটা করে আশার আলো দেখি আর একটা একটা করে মিথ্যে হয়ে যায়।
আমি: কিসের আশার আলো?
অর্পিতা: কিছুনা বাসায় চলুন।
আমি: অর্পি নামটা কিন্তু দারুণ,
অনুমতি দিলে আমি আপনাকে অর্পি বলে ডাকতে পারি।
অর্পিতা: যদিও এই নামের সাথে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে তবুও আপনার
মুখে নামটা শুনতে কেন যেন খুব ভালো লাগে। আর…
আমি: আর?
অর্পিতা: আর আপনার মুখ থেকে তুমি শব্দটা শুনতে ভালো লাগে।
তাছাড়া আমিতো আপনার থেকে বয়সেও ছোট।
মুচকি হেসে গাড়ি স্টার্ট দিলাম। সত্যি তো অর্পি নামটা দারুণ,
কিন্তু নামের সাথে কিসের স্মৃতি জড়িয়ে থাকতে পারে?
.
বাসার সামনে এসে মনে হলো অনেক দেরি করে ফেলেছি ফিরতে,
এতক্ষণে হয়তো আম্মুরা চলে এসেছেন। আমি অর্পিতাকে নিয়ে বাইরে গিয়েছিলাম
শুনলে তো আম্মু খুব রেগে যাবে। এসব ভাবতে ভাবতে কলিংবেল বাজাচ্ছিলাম
হঠাৎ চাঁচি এসে দরজা খুলে দিলেন। আমাকে আর অর্পিতাকে
একসাথে দেখে চাঁচি হা করে তাকিয়ে আছেন।
আম্মু: কে এসেছে?
চাঁচি: তোমার গুণধর ছেলে উনার বউকে নিয়ে ঘুরেফিরে এখন বাসায় ফিরেছে।
(চাঁচির কথা শুনে আম্মু দরজার দিকে এগিয়ে আসলেন)
আম্মু: কোথায় গিয়েছিলি?
আমি: ভিতরে তো আসতে দাও তারপর নাহয় বলছি।
চাঁচি: বলার কি আছে বৌমা আমাদের সব বলেছে। (ভাবি? ভাবি আবার কি বলল?)
চাঁচি: তুই এই মেয়েকে নিয়ে ঘুরতে গিয়েছিলি কোন সাহসে?
(চাঁচির প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সোফায় এসে বসলাম,
অর্পিতা চুপচাপ নিজের রুমের দিকে চলে গেল)
.
আম্মু: আয়াস কোথায় গিয়েছিলি?
আমি: ডিভোর্স এর ব্যবস্থা করতে।
(আমার কথা শুনে আম্মু বেশ অবাক হলেও চাঁচি খুব খুশি হয়েছেন)
আম্মু: কিন্তু আমিতো ওকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সময় দিয়েছিলাম।
আমি: হুম সিদ্ধান্ত নিয়েছে তো।
আম্মু: কি সিদ্ধান্ত?
আমি: ছয়মাস ও আমাদের বাসায় থাকবে তারপর ডিভোর্স হলেই চলে যাবে।
আর ছয়মাসে অবশ্যই ওর মা সুস্থ হয়ে উঠবেন।
চাঁচি: ছয়মাস? এত সময় কেন?
আমি: কারণ ছয় মাসের আগে ডিভোর্স কোনো ভাবেই সম্ভব না।
চাঁচি: কিন্তু ডিভোর্স এর প্রয়োজন হচ্ছে কেন? তোদের বিয়েটাই তো হয়নি।
আমি: তোমরা মেনে নাওনি বলে যে বিয়েটা হয়নি এমন তো নয়,
রেজিস্ট্রি হয়ে গেছে তাই আইন অনুযায়ী অর্পিতা আমার স্ত্রী।
চাঁচি: স্ত্রী না ছাই। (চাঁচি রাগ দেখিয়ে চলে গেলেন,
কলিংবেল বাজছে শুনে দরজার দিকে এগিয়ে গেলাম)
তনিমা: বাব্বাহ্ এই সময় বাসায়?
আমি: তো কোথায় থাকবো?
.
তনিমা: না আগে তো এই সময়টায় বন্ধুদের সাথে থাকতিস কিন্তু ভাবি আসার পর থেকে বাসা থেকে বেরুচ্ছিসই না।
আমি: ভাবি ডাকা ছাড়াবো। আর শুন এতসব ঝামেলার মধ্যে বেরুতে পারছি না। (তনিমা বাসার ভিতরে ঢুকতে যাবে হঠাৎ হা করে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো)
আমি: কি দেখছিস?
তনিমা: রুমে চল।
আমি: মানে কেন?
তনিমা: চল বলছি। তনিমা আমার হাত ধরে টেনে আমাকে রুমে নিয়ে আসলো,
দরজা বন্ধ করে আমার সামনে এসে দাঁড়ালো।
তনিমা: এসব কি?
আমি: কোন সব?
তনিমা: ভাইয়া তোর শার্টে লিপস্টিক আর কিসব যেন লেগে আছে। (তনিমার কথা শুনে শার্টের দিকে তাকালাম, শার্টে আইসক্রিম আর লিপস্টিক লেগে আছে। অর্পিতাকে জড়িয়ে ধরার সময় হয়তো লেগে গেছে)
আমি: তনিমা আসলে…
তনিমা: ভাইয়া আমি বুঝতে পেরেছি। কিন্তু চাঁচি বা আম্মু দেখলে কি হতো বলতো।
আমি: কিভাবে যে লেগে গেছে বুঝতেই পারিনি।
তনিমা: লুকিয়ে প্রেম করলে এমনই হয়।
আমি: থাপ্পড় খাবি, কিসের প্রেম? একটা প্রয়োজনে অর্পিতাকে জড়িয়ে ধরেছিলাম।
তনিমা: বুঝি বুঝি সবই বুঝি, কত বাহানা দেখিয়ে জড়িয়ে ধরা…
আমি: যাবি তুই?
তনিমা হাসতে হাসতে দৌড়ে চলে গেল। আমি শার্ট খুলে লিপস্টিক এর দিকে তাকালাম, আমার শার্টে লিপস্টিক এর দাগ বড্ড হাসি পাচ্ছে। শার্ট’টা আলমারির এক কোণে ছুড়ে ফেলে রেখে গোসল করতে চলে গেলাম।
নামাজ পড়ে জায়নামাজেই বসে আছি হঠাৎ মনে হলো কেউ দরজায় এসে বারবার উঁকি দিচ্ছে। কে হতে পারে? আস্তে আস্তে দরজার কাছে আসলাম, দরজায় হাত রাখতেই ধরে ফেললাম। অর্পিতা মাথা নিচু করে আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
আমি: বারবার উঁকি মারছিলেন কেন?
অর্পিতা: আপনাকে না বলেছি আমাকে তুমি করে বলতে।
আমি: ঠিক আছে। উঁকি মারছিলে কেন?
অর্পিতা: আপনি নামাজ পড়ছিলেন তাই রুমে এসে ডিস্টার্ব করতে চাইনি, বারবার দেখছিলাম নামাজ শেষ কিনা।
আমি: কোনো প্রয়োজন?
অর্পিতা: মায়ের কাছে কল দিবো কিন্তু…
আমি: বালিশের কাছে ফোন।
অর্পিতা: হুম।
অর্পিতা কথা বলে বারান্দা থেকে হন্তদন্ত হয়ে রুমে এসে ঢুকলো, ও হাপাচ্ছে দেখে বেশ অবাক হলাম।
আমি: কি হলো?
অর্পিতা: আমি বাড়ি যাবো।
আমি: কেন?
অর্পিতা: দুর্জয় অসুস্থ।
আমি: কি? (দুর্জয় নাটক করছে নাতো? একটু আগেই তো ওকে অন্য একটা মেয়ের সাথে দেখলাম)
অর্পিতা: কি একটা কাজে যেন শহরে এসেছিল আর ফেরার পথে এক্সিডেন্ট করেছে।
আমি: তাই?
অর্পিতা: এমন ভাবে বলছেন যেন আপনি বিশ্বাস করছেন না?
আমি: হতেও পারে এইটা ওর নাটক।
অর্পিতা: বিড়বিড় করে কি বলছেন?
আমি: কিছুনা। আজই যেতে হবে? আগামীকাল যাই।
অর্পিতা: দুর্জয় এক্সিডেন্ট করেছে শুনেও আমি এখানে বসে থাকবো? পারবো আমি এখানে শান্তিতে থাকতে?
আমি: একটা প্রশ্ন করতে পারি?
অর্পিতা: বলুন।
আমি: তুমি দুর্জয়কে যতোটা ভালোবাস দুর্জয়ও কি তোমাকে ততোটা ভালোবাসে? (আমার প্রশ্ন শুনে অর্পিতা বেশ অবাক হয়ে আমার দিকে এগিয়ে আসলো। আমার একদম কাছে এসে আমার চোখের দিকে তাকালো)
অর্পিতা: সন্দেহ আছে তাতে? একটা ছেলে তখনি কাঁদে যখন সে খুব বেশি কষ্ট পায়। দেখেছিলেন তো বিয়ের দিন দুর্জয় কতোটা কাঁদছিল? মিথ্যে হতে পারে ওর এই কান্না?
আমি: হতেও পারে। সবসময় যে সব কান্না সত্যি হয় এমন তো না।
অর্পিতা: আপনি কিন্তু এবার বাড়াবাড়ি করছেন। নিয়ে যাবেন আমাকে?
আমি: হুম, আম্মুর থেকে পারমিশন নিয়ে আসছি।
অর্পিতা: ঠিক আছে।
আম্মুর রুমে এসে উঁকি দিলাম, আম্মু কি যেন করছেন পিছন ফিরে। ডাকবো কিনা ভাবতে ভাবতে ডাক দিলাম।
আমি: আম্মু?
আম্মু: হুম আয়।
আমি: কি করছ?
আম্মু: কিছু বলবি?
আমি: হ্যাঁ।
আম্মু: বল।
আমি: আসলে আম্মু অর্পিতা বাড়িতে যেতে চাচ্ছে।
আম্মু: হ্যাঁ যাবে তো আগামীকালকে।
আমি: ও আজ যেতে চাইছে কিন্তু তোমাকে ভয়ে বলতে পারছে না।
আম্মু: আজ নয় কাল যাবে। (আম্মু আমার দিকে তাকিয়ে কড়া ভাবে কথাটা বলে দিলেন। কি করবো এবার? দুর্জয় এর কথা বলে দিবো?)
আম্মু: কি দাঁড়িয়ে আছিস কেন?
আমি: আসলে আম্মু অর্পিতা যাকে ভালোবাসে সে এক্সিডেন্ট করেছে তাই ও আজই যেতে চাইছে। (আম্মু আমার দিকে অবাক হয়ে তাকালেন)
আমি: যার সাথে ওর বিয়ে ঠিক হয়েছিল, ওরা দুজন দুজনকে ভালোবাসে।
আম্মু: ওহ।
আমি: কি হলো মন খারাপ করে ফেললে যে?
আম্মু: ভেবেছিলাম দুবছর পর বুঝি আল্লাহ্‌ আমাদের দিকে মুখ তুলে তাকিয়েছেন। আল্লাহ্‌ বুঝি অর্পিতাকে তোর জীবনে পাঠিয়েছেন তোর অতীত ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য। প্রথমে রাগ করলেও আস্তে আস্তে নিজের মনকে বুঝিয়ে নিয়েছিলাম এইটা ভেবে যে অর্পিতাকে আল্লাহ্‌ পাঠিয়েছেন তোর জীবনে, তোর জীবনটাকে অর্পিতা নতুন করে সাজাবে, নতুন করে তোর জীবনে ও ভালোবাসা নিয়ে আসবে কিন্তু…
আমি: আম্মু আবার কাঁদছ তুমি? এবার কিন্তু আমিও…
আম্মু: তোর চোখে পানি আমি সহ্য করতে পারবো না। এই দেখ চোখের পানি মুছে নিলাম। ওখানে কিছু শপিং ব্যাগ আছে অর্পিতাকে দিয়ে দিস।
আমি: শপিং…
আম্মু: ও তো আসার পর থেকে তনিমার ড্রেস পড়ছে তাই আজ ওর জন্য কিছু শপিং করে নিয়ে আসলাম।
আমি: তুমি শপিং করেছ যখন তুমি নিজের হাতে ওগুলো ওকে দাও অনেক খুশি হবে ও।
আম্মু আমার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন। আমি শপিং ব্যাগ গুলো হাতে নিয়ে আম্মুকে ডাকলাম, আম্মু আমার পিছু পিছু আসলেন।
অর্পিতা চুপচাপ জানালার কাছে দাঁড়িয়ে আছে, আমি ওকে ডাকলাম।
আমি: অর্পি? (অর্পি নামটা শুনে ও হন্তদন্ত হয়ে পিছন ফিরে তাকালো, অর্পি নামটা ওর এতো ভালো লাগে? তাহলে তো ওকে সবসময় অর্পি বলেই ডাকা উচিত। আজ থেকে নাহয় ওকে আমি অর্পি বলেই ডাকবো। কিন্তু এই নামের সাথে কি স্মৃতি জড়িয়ে আছে?)
অর্পি: আন্টি আপনি?
আম্মু: তোমার জন্য কিছু শপিং করেছিলাম ওগুলো দিতে আসলাম।
অর্পি: আপনি আমার জন্য…
আম্মু: কেন আনতে পারিনা? তুমি তো আমার মেয়ের মতোই। (আম্মুর কথা শুনে অর্পির দুচোখে পানি টলমল করছে হয়তো খুশি হয়েছে আম্মু ওকে পছন্দ করেছেন এইটা ভেবে)
আম্মু: বাড়িতে যাবে তো? আয়াস নিয়ে যাবে। দুদিন পর চলে এসো।
অর্পি: দুদিন মাত্র?
আম্মু: জানো তো তুমি আসার পর থেকে আমার ঘরটা কেমন আলোয় ভরে উঠেছে, তুমি না থাকলে ঘরটা খালি খালি লাগবে। (আম্মু চোখের পানি মুছতে মুছতে চলে গেলেন। তবে কি আম্মু অর্পিকে আমার স্ত্রী হিসেবে মেনে নিচ্ছিলেন? হবে হয়তো, কারণ আম্মু তো সবসময় চেয়েছেন কেউ একজন আসুক আমার জীবনে আর আমার জীবনটাকে আবার ভালোবাসায় ভরিয়ে…)
অর্পি: আন্টি কাঁদছেন কেন?
আমি: এমনি। তুমি রেডি হয়ে নাও আমি রেডি হয়ে আসছি।
অর্পি: ঠিক আছে।
ওয়াশরুমে এসে তাড়াতাড়ি চোখেমুখে পানির ঝাপটা দিলাম, কি করছেন আম্মু এসব? কেন বারবার আমার সামনে কান্না করে আমাকে দুর্বল করে দিচ্ছেন? আম্মু কাঁদলে তো সবকিছু আমার চোখের সামনে ভাসতে শুরু করে, আমি নিজেকে সামলাতে পারিনা আম্মু কি সেটা বুঝেন না? আমার যে স্মৃতি গুলো মনে পড়লে বড্ড কষ্ট হয়, বুকের ভিতরটা দুমড়ে মুচড়ে শেষ হয়ে যায়। আম্মু কেন অর্পিকে ওর সাথে গুলিয়ে ফেলছেন? কেন ওর জায়গায় অর্পিকে বসাতে চাইছেন?
তনিমা: ভাইয়া এই ভাইয়া? (তনিমার ডাক শুনে তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে আসলাম)
আমি: হুম কি হয়েছে?
তনিমা: তুই কাঁদছিলি?
আমি: নাতো কাঁদবো কেন?
তনিমা: তোর চোখ দুটো বলে দিচ্ছে তুই যে কাঁদছিলি।
আমি: এত পাকামো করতে হবে না, কেন এসেছিস বল।
তনিমা: আমি লক্ষ করেছি ভাবি তোর জীবনে আসার পর থেকে তুই আবার পাগলামি শুরু করেছিস, কেমন যেন আগের মতো হয়ে গেছিস। হয়তো ভাবির সাথে আপুকে গুলিয়ে ফেলছিস।
আমি: কে ভাবি হ্যাঁ? এই বিয়েটাই তো হয়নি তাহলে ভাবি ডাকছিস কোন অধিকারে? (আমার চিৎকার শুনে তনিমা কেঁপে উঠলো)
তনিমা: সব দোষ চাঁচির। তোদের বিয়েটা মেনে নিয়ে এক ঘরে থাকতে দিতো তোদের তাহলেই তোদের মধ্যে ভালোবাসা জন্ম নিতো।
আমি: তনিমা তুই কিন্তু…
তনিমা: চাঁচি বলেছে তাড়াতাড়ি রেডি হতে, অনেক দূর যেতে হবে তো রাত হয়ে যাবে তখন।
আমি: হুম।
তনিমা চলে গেল। সবকিছু মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে তাড়াতাড়ি রেডি হতে শুরু করলাম।
চাঁচি: ড্রাইভারকে দিয়ে মেয়েটাকে পাঠিয়ে দিলেই তো হয়, কেন শুধু শুধু আয়াসকে নিয়ে টানাটানি করছ? আয়াস ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও যাচ্ছে। (হাতে ঘড়ি লাগাতে লাগাতে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছিলাম হঠাৎ চাঁচির এমন কথা শুনে দাঁড়িয়ে গেলাম)
আম্মু: এ কি করে হয়? আয়াসের আব্বু শুনলে রাগ করবে। তাছাড়া অর্পিতার বাড়িতে সবাই জানে বিয়েটা আমরা মেনে নিয়েছি, এখন আয়াস না গেলে খারাপ দেখাবে না? (আম্মুর কাছে এসে আম্মুকে জড়িয়ে ধরলাম)
আম্মু: তাছাড়া আমিতো অর্পিতাকে মেনেই নিচ্ছিলাম কিন্তু নিয়তি আবারো আমাদের সাথে…
আমি: আম্মু কি হচ্ছে?
-আম্মু চুপ হয়ে গেলেন।
বুঝতে পারছি না আম্মু অর্পির মধ্যে কি এমন দেখলেন যে…
আম্মু: আয়াস দেখ… (আম্মু সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে আছেন দেখে আমিও তাকালাম,
স্বপ্ন দেখছি নাকি সত্যি?
এইটা সত্যি অর্পি নাকি কোনো পরী?
ফর্সা গায়ের রঙে কালো শাড়িতে অর্পিকে বেশ সুন্দর লাগছে। চুলগুলো খোঁপা
করা, হালকা সাজসজ্জা আর হাতে কিছু চুড়ি, বাহ্ খুব সুন্দর লাগছে ওকে)
আম্মু: কি চোখ সরাতে পারছিস নাতো?
(আম্মুর কথা শুনে নিচের দিকে তাকিয়ে মাথা চুলকাতে শুরু করলাম)
আম্মু: দেখতে সুন্দর বলে বলছি না মেয়েটির মনও খুব সুন্দর, মুখটা মায়ায় ভরা।
তোর সাথে ওকে খুব সুন্দর মানাতো।
আমি: আম্মু আবার?
আম্মু: দেরি হয়ে যাচ্ছে বেরিয়ে পর, এরপর কিন্তু যেতে যেতে অনেক রাত হয়ে যাবে।
সবার থেকে বিদায় নিয়ে অর্পিকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম।
.
সন্ধ্যা নেমেছে, হালকা হিমেল বাতাস বইছে। গাড়ি ছুটছে অর্পিদের বাড়ির উদ্দেশ্যে।
আমি এয়ারফোন কানে গুঁজে গান শুনছি আর গাড়ির গ্লাস নামিয়ে বাইরের প্রকৃতি দেখছি আনমনা হয়ে।
হঠাৎ অর্পি আমার কাঁধে মাথা রাখলো, আমি অবাক হয়ে ওর দিকে তাকালাম,
অর্পি আমার একটা হাত জড়িয়ে ধরে আমার কাঁধে মাথা রেখে চোখ দুটো বন্ধ করে বসে আছে।
হয়তো এই হিমেল বাতাসে ওর ঠান্ডা লাগছে তাই আমাকে জড়িয়ে ধরে এমন জড়সড় হয়ে বসে আছে।
আমি গাড়ির গ্লাসটা লাগিয়ে দিলাম।
অর্পি একটু নড়েচড়ে আমাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো, বুঝতে পারলাম ও ঘুমের ঘোরে এমন করছে।
অর্পির শাড়ির আচলটা নিছে পরে আছে দেখে ঠিক করে দিতে গেলাম আর তখনি
ওর মায়াভরা মুখের দিকে নজর পড়লো।
মুগ্ধ হয়ে দেখছি ওকে, একটা মানুষকে ঘুমের মধ্যে এতোটা মায়াবী লাগতে পারে
অর্পিকে না দেখলে বুঝতে পারতাম না। অর্পি বারবার নড়েচড়ে
উঠছে আর আমাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরছে। আর আমি অপলক
দৃষ্টিতে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে ওর ঘুমন্ত মায়াবী মুখটা দেখছি…
চলবে…

No comments