Breaking News

কলেজের রাগী অহংকারী মেয়েটি। পর্ব- ০৪

আদিবা আমার বুকে লাথি দিয়ে বলতে লাগলো–
ছোটলোকের আবার সপ্ন?? তোদের মত ছোটলোকের কোনো সপ্ন থাকতে পারে না।।
তখনই আদিবার এক বান্ধুবি বলতে লাগলো —
—- দোস্ত আমাদের তো বিনোদনের জন্যও কলেজে কাউকে দরকার তাই না?? ওকে দিয়ে সব কাজ করাবো।। আর বিনোদন ও পাবো।। তাই বলি কি ওকে কলেজ থেকে বের করিস না।।
আদিবাঃ ঠিক বলছিস এই ছোটলোকটাকে কলেজ থেকে বের করা যাবে না।। আজ থেকে ও হবে আমাদের কলেজের বিনোদনের মাধ্যম।
তারপর আদিবা আমাকে বলতে লাগলো—
—-এই ছোটলোকের বাচ্চা তোকে এবারের মতো মাফ করলাম।। আর কখনও যেনো এই ভুল না হয়।। আর আমরা যখন যা বলবো তখনই তোকে তা করতে হবে।। তবেই তুই এই কলেজে থাকতে পারবি।।
—- আপনারা যা বলবেন আমি তাই করবো।। তবুও আমাকে এই কলেজ থেকে বের করবেন না।। তাহলে যে আমার মায়ের সপ্ন পূরন হবে না।।।
আদিবাঃ ছোটলোক কোথাকার (হাসতে হাসতে বললো) শোন এখন তুই আমাদের প্রত্যেকের পায়ের জুতা পরিষ্কার করে দিবি।। বলেই সবাই হাসতে লাগলো।
— আমার দু-চোখ বেয়ে শুধু পানি পরছে।। এছাড়া যে আর কিছুই করার নেই।। মায়ের সপ্ন পূরনের জন্য আমাকে এই কলেজে থাকতে হবে।। আর এই কলেজে থাকতে হলে আদিবাদের সব কথা মেনে চলতে হবে।। তাই চুপচাপ সকলের জুতা পরিষ্কার করতে লাগলাম।। আর তারা সবাই হাসতে লাগলো।।
আদিবাঃ এই ছোটলোকের বাচ্চা যা এখন।। আর শোন যখন যা বলবো তাই করতে হবে তোকে।। মনে থাকে যেনো??
—– ঠিক আছে।।
তারপর ক্লাসে চলে আসলাম।। পিছনের বেন্চে গিয়ে বসলাম।। স্যার ক্লাসে এসে আমাকে দাড়াতে বললো। তারপর বলতে লাগলো—
—- এতদিন ক্লাসে আসো নি কেনো??
—- অসুস্থ ছিলাম স্যার।।
—- আচ্ছা। বসো।
ক্লাস করে রুম থেকে যখনই বাহির হবো তখনই সাকিব সামনে এসে দাড়ালো আর বলতে লাগলো—-
—- এত কিছু হওয়ার পরও তুই কলেজে আসছিস?? তোর তো মনে হয় কই মাছের প্রান।। তা না হলে ঔদিন যে মাইর খাইলি তারপর তোর বেঁচে থাকারই কথা না।। হাসতে হাসতে কথা গুলো বললো।। আর আমি মাথা নিচু করে রয়েছি।।
যাইহোক ঔইদিন তোকে ঔইভাবে মার খেতে দেখে একটু খারাপ লাগছিল।। তাই আজকে কথা বললাম।। যা এখন।।
তারপর কলেজ থেকে বের হয়ে রাস্হায় হাটতেছি আর ভাবতেছি।। একটা মেয়ে কি করে এত অহংকারী আর নির্দয়ী হতে পারে।। তা আদিবাকে না দেখলে বুজতেই পারতাম না।
একদিন ওকে আমার সাথে করা অন্যায়ের ফল পেতে হবে।।
বাসায় আসার পরই মা জিগ্গেস করলো—
—- তোকে এমন দেখাচ্ছে কেনো বাবা?? তোর কি কিছু হয়েছে??
—- মায়ের কথা শুনে আমি অবাক হয়ে গেলাম।। না মাকে কিছু বুঝতে দেওয়া যাবে না।। আমার সাথে যা হয়েছে তা মাকে বলা যাবে না।। তাহলে মা অনেক কষ্ট পাবে।।
আমি মাকে বললাম
—- আমার কিছুই হয় নি।। তুমি অযথা আমাকে নিয়ে চিন্তা করো না।।
—– তোর খুব কষ্ট হয় তাই না বাবা?? পড়ালেখার খরচ চালাস আবার সংসার ও চালাস।।
—– আমি মাকে জড়িয়ে ধরে বললাম,, আমার কোনো কষ্ট হয় না।। কারন তুমি আমার সাথে আছো তো তাই।। তুমি আর কখনও এই কথা বলবা না।। খুবই ক্ষুদা লাগছে।। এখন কিছু খেতে দাও??
—– তুই হাত-মুখ ধুয়ে আয়।। আমি এখনই তোকে খেতে দিচ্ছি বাবা।।
তারপর ফ্রেশ হয়ে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।। ঘুম থেকে উঠে টিউশনিতে গেলাম।। টিউশনি করিয়ে রাস্তা দিয়ে হাটতেছি তখনই দেখলাম বেন্চের উপর একটা মেয়ে মাথা নিচু করে বসে আছে।। মেয়েটাকে কেমন জানি পরিচিত মনে হচ্ছে।। তাই কাছে গিয়ে জিগ্গেস করলাম —-
—– কে আপনি?? এই রাতে এখানে কি করেন??
—— মেয়েটি আমার কথা শুনে লাফিয়ে উঠলো।। তারপর যেই মাথা উচু করে কিছু বলতে যাবে তখনই আমাকে দেখে বলতে লাগলো—
—– ভাইয়া আপনি??
—– ( আরে এতো ঔই দিনের মেয়েটা যাকে আমি আদিবার ভাইয়ের হাত থেকে বাচিয়েছিলাম) তুমি এতো রাতে এখানে কি করো?? বাসা কোথায় তোমার??
—— আমার কোনো বাসা নেই ভাইয়া।। আসলে আমি ছোট থাকতেই আমার বাবা-মা মারা যায়।। তারপর থেকে চাচা– চাচির কাছেই আমি মানুষ হয়েছি।। অবস্য তাদের কাছেও আমি ভালো ছিলাম না তারা শুধু আমাকে কাজের মেয়েই ভাবতো।। বিনিময়ে শুধু খেতে দিত আর থাকতে দিত।। অনেক কষ্ট করে
এস.এস.সি পাশ করেছি।। আর এখন তারা টাকার লোভে এক গুন্ডা – বদমাইশের কাছে আমাকে বিয়ে দিতে চায়।। তাই তাদের কাছ থেকে পালিয়ে এসেছি।। কাঁদতে কাঁদতে বললো মেয়েটি।।
—– মেয়েটির কথা শুনে আমার চোখ দিয়ে পানি বেরিয়ে পরলো।। আমি মেয়েটিকে বললাম–
—– চলো আমার সাথে???
—- না ভাইয়া আপনাকে আর কষ্ট করতে হবে না।। এমনিতেই আপনি আমার জন্য অনেক করেছেন।। যানি না তার ঋন কখনও শোধ করতে পারবো কিনা।। আপনি চলে যান।।
—– থাপ্পর চিন।। তুমি আমাকে ভাইয়া বলছো না।। আজ থেকে তুমি আমার ছোট বোন।। আমার এই দুনিয়ায় মা ছাড়া আর কেউ নেই।। এখন থেকে আমার একটা বোনও আছে।। আর কখনও বলবে না যে তোমার কেউ নেই??
—- মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে আমাকে জড়িয়ে ধরলো।। আর বলতে লাগলো
—- আজ থেকে তুমি আমার ভাইয়া।।
—– আচ্ছা তোমার নাম কি??
—- মাইশা জান্নাত।।
—- কিন্তু আমি তোমাকে জান্নাত বলে ডাকবো।।
—– তোমার খুশি।।
তারপর মেয়েটিকে নিয়ে বাসার দিকে রওনা হলাম।। দরজায় নক করলাম।। মা এসে দরজা খুলে দিয়েই তো অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।। তারপর বলতে লাগলো—–
চলবে—–

No comments

info.kroyhouse24@gmail.com