Breaking News

সেইদিন । ৩য় পর্ব



কোন কিছু না ভেবে আমি ফোন দিলাম শানকে।
-হ্যালো শান….
-হ্যাঁ বলছি,
-আমার খুব বড় বিপদ হয়ে গেছে।
-কি হয়েছে?এমন করে কাঁদছো কেন?
-আমার বিয়ে হয়ে গেছে।
-মানে?
-মানে,আমার বেস্ট ফ্রেন্ড আমাকে ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ে করে ফেলেছে।তুমিতো চেনোই ওকে।
এখন আমি করবো বলো?
বদনাম যাতে না হয় আমি সেই জন্য তোমাকে পালিয়ে বিয়ে করলাম না।
তোমাকে এভয়েড করে গেলাম।
বাবা মায়ের পছন্দে বিয়ে করে নিতে চাইলাম।
আর এখন কিনা আমার সাথে এসবই হচ্ছে।
-কি করবো আমি বলে দাও প্লিজ।
আর বিশ্বাস করো,আমি আগের আমিই আছি।ও আমাকে একটুও স্পর্শ করেনি।
শুধু বিয়েটাই হয়েছে।
শান আমাকে বিশ্বাস করেনি।
ওর ধারণা আমি নিজে ইচ্ছেয় উৎসকে বিয়ে করেছি।
আর আমাকে সান্ত্বনা বা উপায় কি আর বলে দিবে,আমাকে যা তা বকতে লাগলো উল্টো।
আমি এখন কি করবো কিছুই বুঝতে পারছিনা।
চেয়েছিলাম বাবা মায়ের পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করতে তাদের মুখের দিকে চেয়ে,সেটাতো হলোই না।
এমনকি যাকে ভালবাসলাম তাকেও পেলাম না।
এদিকে নিজে না চাইতেও অপবাদের বোঝা আমার মাথায় এসে পড়লো।
পরিবার থেকে শুরু করে শানও আমাকে ভুল বুঝলো।
এদিকে যেই ছেলের সাথে বাবা মা আমার বিয়ে ঠিক করেছেন।
সেই ছেলে আমাদের বাসায় এসে উপস্থিত।
আমি কি করবো মাথা কাজ করছেনা।
ছেলেকে আমি একা রুমে ডেকে নিয়ে বল্লাম,
আপনার সাথে আমার কিছু কথা আছে।
-কি কথা বলো?
কিছু লাগবে?
-না।
-তাহলে?
আমি তাকে সব খুলে বললাম।
সে প্রথমে শুনে স্তব্ধ হয়ে গেলো।
তারপর কিছু ক্ষণ চুপ থেকে বল্লো,
সমস্যা নেই।
বিয়ে কেন।বাসর হলেও আমার সমস্যা নেই।
কারণ তুমি হয়তো জানোনা,আমি তোমাকে খুব ভালবাসি।
আমি ছেলেটার কথায় অবাক হয়ে গেলাম।
যেখানে নিজের প্রেমিক আমাকে বিশ্বাস করেনি।
একটা বার বলেনি,যা হয়েছে হয়েছে তুমি আমার কাছে চলে এসো।
সেখানে এই ছেলে আমাকে বলছে,
চলো আমার সাথে।
আমি তোমাকে এক্ষুণি আমার সাথে আমার বাসায় নিয়ে যাবো।
আর তারপরই বিয়ে করে নিবো।
আর এক তরফা ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দিবো।
ছেলে আমার পরিবারকেও একই কথা জানালো যে তার কোন আপত্তি নেই এই বিয়েতে।
এদিকে আমার আব্বু এক কাজির কাছে গেলেন।
গিয়ে সব খুলে বললেন ঘটনা।
কিন্তু কাজি বললেন,বিয়েটা খুব পাকা পোক্ত ভাবে হয়েছে।
ছেলে একেবারে কোর্ট ম্যারেজও করেছে।
এটা এক তরফা ডিভোর্স করাতে গেলে অনেক ঝামেলা হবে।
আর ছেলে ডিভোর্স না দিলে মেয়েকে অন্যত্র বিয়েও দিতে পারবেন না।
এটা হারাম হয়ে যাবে।
আপনি ছেলেকে ডেকে বলুন ডিভোর্স দিতে।
আর আমার তো মনে হয়না যে ছেলে এত ঝামেলা করে পোক্ত ভাবে বিয়ে করেছে,সেই ছেলে আপনার মেয়েকে ছাড়বে।
নিশ্চয় সে ছাড়ার জন্য আপনার মেয়েকে বিয়ে করেনি।
বাকিটা আপনার যা মনে হয় আপনি করুন।
এদিকে বাসায় এসে আব্বু আম্মুকে সব জানালেন।
আমাকেও রেগে গিয়ে বললেন,কিভাবে এত বড় ভুল হলো তোমার দ্বারা?
তুমি কি ছোট আছো এখনো?
কিছুই বুঝোনা তুমি?
আমি আব্বুকে বললাম,আব্বু বিশ্বাস করেন আমি বিয়েটা ইচ্ছে করে করিনি।
-মানলাম তুমি ইচ্ছে করে করোনি।
কিন্তু এই সমাজ?এই সমাজ কি তা বিশ্বাস করবে?
কে বিশ্বাস করবে বলো আমায়?
আমি আর কোন কথা বললাম না।
আমি জানি,কেউ আমাকে বিশ্বাস করবেনা।
এদিকে আমি এক ঘরে পড়ে রইলাম।
না কারো সাথে কথা বলি,আর না খাই ঠিক মত।
আম্মু দিন রাত আমাকে গালাগাল করে।
যে মা আমি না খেলে প্লেট হাতে করে খাবার নিজ হাতে খাওয়াতো।
আজ সে আমায় খেতেও ডাকেনা একবার।
আর দিন রাত শুধু বলে বেড়িয়ে যা বাড়ী থেকে।
ওইদিকে শান আমাকে ফোন দিয়ে গালাগাল করে।
আমি একদম অতিষ্ট হয়ে যাচ্ছিলাম আম্মুর আচরণে।
যেই ছেলের সাথে আমার বিয়ে ঠিক করেছে সেই ছেলে আমাকে নিয়ে যেতে এক পায়ে দাঁড়ানো।
কিন্তু আমি দিন রাত ভাবতে লাগলাম ভবিষ্যৎ কেমন হবে আমার এতে।
আমি যদি এই ছেলের সাথে চলে যাই তাহলে উৎস সবাইকে জানিয়ে দিবে বিয়ের কথা।
আর ওই ছেলের মা আর ছেলে সব জেনে চুপ থাকলেও ছেলের পরিবারের অন্য লোক জনেরা আমাকে খোটা দিবে,কথা শোনাবে।
এমনকি তার পাড়া প্রতিবেশীরাও বলবে ওর বউ এর আরেকটা বিয়ে হয়েছিলো।
দু বিয়ের সাইনবোর্ড আমার কপালে লেগে যাবে।
আমার যখন সন্তান হবে তখন যদি ওদের কেউ বলে আমার আগে একবার বিয়ে হয়েছিলো।
আমার সন্তানরা আমাকে নিয়ে নানান রকম চিন্তা করবে।
আর আশেপাশের মানুষ তো আছেই ঝামেলা করার।
তাছাড়া এই ছেলে আজ এমন ভালো আছে,কাল তো নাও থাকতে পারে।
বিয়ের পর সে যে আমাকে খোটা দিবেনা যে,তোর তো বিয়ে হইছিলো।
আরেক স্বামী ছিলো তোর ব্লা ব্লা।
এর কি নিশ্চয়তা আছে।
আমি যে উৎস কে ডিভোর্স দিয়ে একে বিয়ে করবো যদি আমি সুখী না হই।
আর সুখে বদলে যদি আরো বেশি দুঃখের সাগরে ভাসি।তখন কি হবে।
আমি যদি এ সংসার বেশি দিন না করতে পারি,তখন সবাই বলবে আমিই খারাপ।
কেননা দুইটা সংসার আমি করতে পারিনি।
এসব ভাবতে ভাবতে দিন রাত পাড় হয়ে যেতো আমার।
চোখের নিচে কালি পড়ে গিয়েছিলো।
আম্মুর জঘন্য চিল্লাচিল্লি তো আছেই।
একেকবার মন চাইতো মরেই যাই।
কিন্তু আত্মহত্যার ফলাফল জাহান্নাম বলে এই কাজ টা করিনি।
দিন রাত ভাবতাম,কেন আমি সেদিন উৎসর সাথে দেখা করতে গেলাম।কেন ও আমার এত ভালো বন্ধু হয়ে আমার এত বড় ক্ষতি করলো।কাউকে বিশ্বাস করা কি আসলেই ভুল?
এদিকে উৎস আমাকে ফোন দিতো দিন রাত।
আমি এভয়েড করে যেতাম।মাফ চাইতো মেসেজ লিখে।আমি সীন করে ফেলে রাখতাম।কারণ উৎসর জন্য বন্ধু হিসেবে যেই ভালবাসাটা ছিলো সেই ভালবাসা টা এখন তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ঘৃণায় রুপ ধারণ করেছে।
উৎস মানেই আমার জীবনের একটা অভিশাপ।
ওকে আমি প্রচন্ড ঘৃণা করি এখন।
ওর নামও সহ্য হয়না আমার এখন।ঘৃণা টা এতটাই বেড়ে গিয়েছিলো।
শুধু ভাবতাম,ও আমাকে ব্ল্যাকমেইল করেছে,
ওর কারণে আজ আমি বাবা মায়ের কাছে অপরাধী।
ওর জন্য তাদের চোখে জল।
ওকে আমি কোন দিন মাফ করতে পারবোনা।
কিন্তু এভাবে বসে থেকে আর কত দিন।
একদিন ভাবলাম,আল্লাহ্‌ আমার ভাগ্য কেমন হবে তাতো লিখেই রেখেছেন।
এখন আমার নিজের উঠে দাঁড়ানোর পালা।
যে আমার জীবন টাকে নষ্ট করে দিয়েছে।
তার জীবন টা নরক বানানোর পালা।
তাই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম,আমি এবার উৎসর বাড়ীতে পা রাখবো।
ওর জীবন টা যে আমার যন্ত্রণাময় করতেই হবে।
তাহলে বুঝবে যন্ত্রণা কি জিনিষ।
ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ে করার মজা কত।
আমি উৎসকে ফোন দিয়ে বল্লাম,
তোমার পরিবার নিয়ে আজই তুমি আমার বাসায় আসো।
আর এসে একটা বিয়ের ডেট ফিক্সড করো।
আমি অনুষ্ঠান করে তারপর তোমার বাড়ী উঠতে চাই।
যাতে আমার বাবা মায়ের কোন অসম্মান না হয়।
কেউ যেন না বুঝে যে আমাদের আগেই বিয়ে হয়েছিলো।
উৎস আমাকে বল্লো,
তুমি একদম চিন্তা করোনা।
আমি বিকেলেই আসছি আমার পরিবার নিয়ে তোমার বাসায়।
চলবে…

No comments

info.kroyhouse24@gmail.com