স্টেডফাস্ট কুরিয়ার — চার্জ তালিকা (২০২৬ আপডেট)

স্টেডফাস্ট কুরিয়ার লিমিটেড বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও দ্রুতগতির কুরিয়ার সার্ভিস। ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানি মূলত ই-কমার্স ও অনলাইন বিজনেসের জন্য বিশেষায়িত। ঢাকায় সদর দপ্তর অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের ৬৪টি জেলা ও প্রায় ৫০০ উপজেলায় সেবা প্রদান করে। হোম ডেলিভারি ও ক্যাশ অন ডেলিভারি (COD) সার্ভিসের জন্য খুব দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বর্তমানে তাদের ৩ লাখেরও বেশি রেজিস্টার্ড মার্চেন্ট রয়েছে।

স্টেডফাস্টের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মার্চেন্ট-ফ্রেন্ডলি সেবা। তারা আনলিমিটেড ফ্রি পিকআপ, দ্রুত পেমেন্ট সেটেলমেন্ট, রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং এবং সহজ অ্যাপ-ভিত্তিক ড্যাশবোর্ড প্রদান করে। ঢাকার ভিতরে অনেক ক্ষেত্রে ৪ ঘণ্টার মধ্যে ডেলিভারি সম্ভব। পিক-এন্ড-ড্রপ, ওয়্যারহাউজিং এবং প্যাকেজিং সল্যুশনও তাদের অতিরিক্ত সেবার মধ্যে রয়েছে। ফলে ফেসবুক শপ, ওয়েবসাইট ও ছোট-বড় অনলাইন ব্যবসায়ীরা এদের উপর বেশি নির্ভর করে।

তবে সব সার্ভিসের মতো স্টেডফাস্টেরও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কিছু কাস্টমারের অভিযোগ অনুসারে পিকআপে দেরি, দূরবর্তী এলাকায় ডেলিভারি সময় বেশি লাগা এবং কাস্টমার সাপোর্টে মাঝে মাঝে ধীরগতি দেখা যায়। তারপরও তাদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও মার্চেন্টদের জন্য সুবিধাজনক পলিসির কারণে তারা বাজারে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।

সার্বিকভাবে, যারা নিয়মিত অনলাইন ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং দ্রুত COD সেবা চান, তাদের জন্য স্টেডফাস্ট একটি ভালো অপশন। সঠিক প্যাকিং ও স্পষ্ট কমিউনিকেশনের মাধ্যমে এর সেবা থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা নেওয়া সম্ভব। যেকোনো অনলাইন বিজনেসের বৃদ্ধিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

স্টেডফাস্ট কুরিয়ার — চার্জ তালিকা (২০২৬ আপডেট)

নিচে সহজ টেবিল আকারে স্টেডফাস্টের সাধারণ মার্চেন্ট ডেলিভারি চার্জ দেওয়া হলো (আনুমানিক, অফিসিয়াল প্রাইস ক্যালকুলেটর অনুসারে)।

সাধারণ পার্সেল চার্জ (১ কেজি পর্যন্ত)

  • ইনসাইড ঢাকা (হোম ডেলিভারি)=৭০ টাকা (পয়েন্ট ডেলিভারি)=৫০-৬০ টাকা - সবচেয়ে সস্তা
  • ঢাকা সাবার্বান (হোম ডেলিভারি) =৯০-১০০ টাকা (পয়েন্ট ডেলিভারি)=৭০-৮০ টাকা -সাভার, নারায়ণগঞ্জ ইত্যাদি
  • আউটসাইড ঢাকা (হোম ডেলিভারি)=১২০-১৩০ টাকা (পয়েন্ট ডেলিভারি)=১১০-১২০ টাকা -সব জেলা শহরে
  • দূরবর্তী উপজেলা (হোম ডেলিভারি)= ১৪০-১৬০ টাকা (পয়েন্ট ডেলিভারি)=১৩০-১৫০ টাকা -এলাকাভেদে পরিবর্তনশীল

অতিরিক্ত ওজন চার্জ (প্রতি কেজি)

  • ইনসাইড ঢাকা অতিরিক্ত প্রতি কেজি= ১০-১৫ টাকা
  • ঢাকা সাবার্বান অতিরিক্ত প্রতি কেজি =১৫-২০ টাকা
  • আউটসাইড ঢাকা অতিরিক্ত প্রতি কেজি= ১৫-২৫ টাকা

বিশেষ সার্ভিস চার্জ

  • পিক অ্যান্ড ড্রপ মিনিমাম -৮০ টাকা -প্রতি পিকআপ
  • COD চার্জ  -১% (কালেক্টেড অ্যামাউন্টের) সব COD পার্সেলে
  • রিস্ক ম্যানেজমেন্ট চার্জ ১% অতিরিক্ত নিরাপত্তা
  • রিটার্ন চার্জ ফ্রি (সাধারণত) ৩ বার ট্রাইয়ের পর

বড় পার্সেল / আম ডেলিভারি চার্জ (প্রতি কেজি)

  • সারাদেশ (জেলা/সিটি) পয়েন্ট ডেলিভারি -১৬ টাকা/কেজি।
  • হোম ডেলিভারি- ২৪ টাকা/কেজি
  • সারাদেশ (উপজেলা)পয়েন্ট ডেলিভারি - ১৮ টাকা/কেজি
  • হোম ডেলিভারি- ২৬ টাকা/কেজি

গুরুত্বপূর্ণ নোটস:

  • সব চার্জ ভ্যাট ও ট্যাক্স ব্যতীত।
  • বড় সাইজ বা ভারী পার্সেলে অতিরিক্ত চার্জ হতে পারে।
  • চার্জ পরিবর্তন হতে পারে। সবসময় অফিসিয়াল প্রাইস ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন: https://steadfast.com.bd/pricing
  • মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট থাকলে বিশেষ ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়।

স্টেডফাস্ট কুরিয়ারের লস্ট পার্সেল পলিসি (মার্চেন্টদের জন্য)

স্টেডফাস্ট কুরিয়ার অফিসিয়াল টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনস অনুসারে লস্ট ও ড্যামেজড পার্সেলের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা আছে। নিচে সহজ ও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করছি।

১. লস্ট পার্সেল (হারিয়ে গেলে)

  • পার্সেল হ্যান্ডওভারের পর যদি হারিয়ে যায়, তাহলে ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়।
  • ক্ষতিপূরণের পরিমাণ: ডিক্লেয়ার্ড ভ্যালু (আপনি যে মূল্য ঘোষণা করেছেন) অনুসারে নির্ধারিত হয়।
  • সাধারণত ফুল ডিক্লেয়ার্ড ভ্যালুর উপর ভিত্তি করে ক্ষতিপূরণ দেয়, তবে কোম্পানির পলিসি অনুসারে সীমা থাকতে পারে।
  • ডেলিভারি চার্জও সাধারণত রিফান্ড হয়।

২. ড্যামেজড পার্সেল (ক্ষতিগ্রস্ত হলে)

  • পার্সেল হ্যান্ডওভারের পর ক্ষতিগ্রস্ত হলে মার্চেন্টকে সর্বোচ্চ ৫০% পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেয়া হয় (ডিক্লেয়ার্ড ভ্যালুর উপর ভিত্তি করে)।
  • উদাহরণ: আপনি ১০,০০০ টাকার পণ্য ডিক্লেয়ার করলে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন।

গুরুত্বপূর্ণ শর্ত:

  • অবশ্যই পার্সেল বুকিংয়ের সময় সঠিক ডিক্লেয়ার্ড ভ্যালু দিতে হবে। না দিলে ক্ষতিপূরণ কম বা নামমাত্র হতে পারে।
  • ফ্র্যাজাইল (ভঙ্গুর), লিকুইড বা বিশেষ ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে অনেক সময় কোনো ক্ষতিপূরণ দেয় না (অফিসিয়ালি উল্লেখ থাকে)।
  • পার্সেল ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পেলে সাথে সাথে ছবি তুলে প্রমাণ রাখুন।

৩. ক্লেইম করার প্রক্রিয়া

  • ড্যাশবোর্ডে লস্ট/ড্যামেজ দেখলে অথবা আপনি নিজে রিপোর্ট করুন।
  • কাস্টমার সাপোর্টে যোগাযোগ করুন:
    • হেল্পলাইন: 09678-045045
    • মার্চেন্ট অ্যাপ/ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টিকেট তৈরি করুন।

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট:

  • পার্সেল ট্র্যাকিং নম্বর
  • ডিক্লেয়ার্ড ভ্যালুর প্রমাণ
  • ক্ষতির ছবি/ভিডিও (ড্যামেজের ক্ষেত্রে)
  • ইনভয়েস/প্রোডাক্টের মূল্যের প্রমাণ
  • ক্লেইম প্রসেসিংয়ে সাধারণত ৭-৩০ দিন সময় লাগতে পারে।

৪. সুবিধা ও সতর্কতা

সুবিধা:

  • ডিক্লেয়ার্ড ভ্যালু অনুসারে ক্ষতিপূরণের সুযোগ আছে।
  • মার্চেন্ট ড্যাশবোর্ডে সহজে ট্র্যাক করা যায়।

সতর্কতা:

  • সবসময় সঠিকভাবে প্যাকিং করুন এবং ভ্যালু ডিক্লেয়ার করুন।
  • উচ্চমূল্যের পণ্যের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ইন্স্যুরেন্স নেওয়া ভালো (যদি অপশন থাকে)।
  • বাস্তবে অনেক মার্চেন্ট অভিযোগ করে যে ক্ষতিপূরণ পেতে দেরি হয় বা পুরো টাকা পাওয়া যায় না। তাই ছোট ছোট টেস্ট করে দেখুন।

পরামর্শ:

  • উচ্চমূল্যের বা ভঙ্গুর পণ্য স্টেডফাস্টে পাঠানোর আগে তাদের সাপোর্টের সাথে কথা বলে নিন।
  • ভালো প্যাকিং (বাবল র‍্যাপ, স্ট্রং বক্স) ব্যবহার করুন যাতে ড্যামেজ কম হয়।

আপনার কোনো নির্দিষ্ট প্রশ্ন আছে? যেমন:

  • কীভাবে ডিক্লেয়ার্ড ভ্যালু দিতে হয়?
  • উচ্চমূল্যের পণ্যের জন্য টিপস?
  • কোনো নির্দিষ্ট কেসের অভিজ্ঞতা?

স্টেডফাস্ট কুরিয়ারের ট্র্যাকিং সিস্টেম কীভাবে কাজ করে?

স্টেডফাস্ট কুরিয়ার একটি রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করে, যা খুবই সহজ এবং আধুনিক। প্রত্যেক পার্সেলের জন্য একটি ইউনিক ট্র্যাকিং নম্বর (Consignment ID) দেওয়া হয়। এই নম্বর দিয়ে আপনি যেকোনো সময় পার্সেলের অবস্থান জানতে পারবেন।

ট্র্যাকিং করার সহজ উপায়:

  • ট্র্যাকিং নম্বর, পার্সেল আইডি অথবা কাস্টমারের ফোন নম্বর দিন।
  • ট্র্যাক বাটনে ক্লিক করুন।

মোবাইল অ্যাপ দিয়েও ট্র্যাক করা যায় (কাস্টমার ও মার্চেন্ট উভয়ের জন্য আলাদা অ্যাপ আছে)।

ট্র্যাকিং সিস্টেম কীভাবে কাজ করে (স্টেপ বাই স্টেপ):

  • বুকিংয়ের সময়: পার্সেল বুক করার সাথে সাথে সিস্টেমে এন্ট্রি হয় এবং "Booking Received" স্ট্যাটাস দেখায়।
  • পিকআপ: ডেলিভারি ম্যান পার্সেল সংগ্রহ করলে স্ট্যাটাস হয় "Picked Up"।
  • সর্টিং হাবে: পার্সেল ঢাকা বা অন্য হাবে পৌঁছালে স্ক্যান হয় এবং আপডেট দেখায়।
  • ট্রানজিট: জেলায় যাওয়ার সময় বিভিন্ন পয়েন্টে স্ক্যান হয় (রিয়েল-টাইম আপডেট)।
  • ডেলিভারি অ্যাটেম্পট: কাস্টমারের কাছে পৌঁছালে "Out for Delivery" দেখায়।
  • ডেলিভারি সম্পন্ন: ডেলিভারি হলে "Delivered" স্ট্যাটাস হয় এবং COD টাকা কালেকশনের আপডেটও দেখা যায়।
  • রিটার্ন: কাস্টমার না নিলে "Return" স্ট্যাটাস হয়।

অতিরিক্ত সুবিধা:

  • মার্চেন্ট ড্যাশবোর্ডে সব পার্সেল একসাথে দেখা যায়।
  • SMS/নোটিফিকেশন আসে গুরুত্বপূর্ণ আপডেটে।
  • লাইভ GPS ট্র্যাকিং (কিছু ক্ষেত্রে) মার্চেন্ট অ্যাপে পাওয়া যায়।
  • থার্ড-পার্টি সাইটেও (যেমন 17track.net) ট্র্যাক করা যায়।

টিপস: ট্র্যাকিং নম্বর সবসময় সংরক্ষণ করুন। দেরি হলে কাস্টমার কেয়ারে (+880 9678-045045) যোগাযোগ করুন।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url