কবিতা: রঙিন শহর

এই শহরের মানুষগুলো ভীষণ রকম ব্যস্ত।
সকাল থেকে মাঝরাত অব্ধি ছুটতে অভ্যস্ত।
কারো দিকে কেউ ফিরেও চায়না।
চেনা মানুষও যেন অচেনা।

পাশাপাশি থেকেও তারা হয়না প্রতিবেশী।
দেখাদেখি হলেও কথা হয়না বেশী।
অতিথি দেখলে মুখে ভদ্রতার হাসি।
খেয়েদেয়ে চলে গেলে হাঁফছেড়ে বাঁচি।

বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ভেসে বেড়ায় বাতাসে।
রোগজীবাণু বাসা বাঁধে প্রতিটি নিশ্বাসে।
মশা, মাছি, ছারপোকার অবাধ বসবাস।
ডেঙ্গু আর চিকনগুনিয়ায় জীবন হয় নাশ।

অট্টালিকার পাশাপাশি গড়ে উঠে বস্তি।
গ্যাস, বিদ্যুৎ, জলের অভাবে পায়না তারা স্বস্তি।
নর্দমা আর নালা থেকে আবর্জনার গন্ধ।
যত্রতত্র ময়লা ফেলে যদিও লাগে মন্দ।

ছুটির দিনে পার্কগুলোতে লেগে থাকে ভীড়।
নির্জন স্থানে কথা বলতে প্রেমিক যুগল অধীর।
রাত্রিবেলা চারপাশে আলো ঝলমলে।
তরুণীরা নানা ছুঁতোয় ছুটে শপিংমলে।

খুনখারাপি, ছিনতাই বাদ যায়না কিছু।
গোয়েন্দারা লেগে থাকে অপরাধীর পিছু।
মানুষগুলো যন্ত্র যেন কুবুদ্ধি তাদের ঘটে।
অন্যের বিপদ দেখে উল্টোপথে হাঁটে।

দিনদুপুরে ভীড়ের মাঝে পকেট যায় কাটা।
হরেক রকম পোস্টারে দেয়ালগুলো সাঁটা।
হরহামেশা রাস্তায় লেগে থাকে যানজট।
নানা সুরের গাড়ির হর্ণ আওয়াজ করে বিকট।

একবুক স্বপ্ন নিয়ে তরুণেরা আসে।
মানবেতর জীবনযাপনে হতাশ হয় শেষে।
হাজারো মানুষ ভীড় করে জীবিকার খোঁজে।
জীবনযাপন নয়তো সোজা পা ফেলেই বুঝে।

গাড়ি বাড়ির মালিক যারা বিলাসিতায় মাতে।
দু’মুটো ভাতের জন্য ভিখারিরা হাত পাতে।
এত কিছুর পরেও মানুষ শহরমুখি হয়।
সব সমস্যা মেনে নিয়ে মুখ বুঝে রয়।

রঙিন শহর, রঙিন স্বপ্ন, রঙিন যেন মানুষ।
মনের রাজ্যে উড়ায় তারা রং বেরংয়ের ফানুস।