চৈত্ররজনী । পর্ব-২

সকালে ঘুম থেকে উঠে আজ চিৎকার চেচামেচি শুনলাম।নীলা ভাবীকে কেউ বকছে।কে হতে পারে।দরজায় দাড়ীয়ে দেখলাম।মি. প্রভাত।ওনাদের কথা শুনে বুজলাম।চিৎকারের কারন ওভ্রাত।ও নীলা ভাবীর কোলে কান্না করছে।মি. প্রভাত নীলা ভাবীকে বলছে।ও মেয়ে কি করতে এসেছে এ বাড়ীতে।পায়ের উপর পা তুলে থাকতে।বাচ্চা কান্না করবে সে সকালে পরে পরে ঘুমাবে।
,
এগিয়ে কড়া কিছু বলতে ইচ্ছে করছিলো।
কিন্তু আমার আগেই মি.প্রভাত চলে গেলো।
ড্রয়িং রুমে গিয়ে ভাবীর কাছ থেকে ওভ্রাতকে নিতে নিতে বললাম
“ও যখন ঘুম থেকে উঠে কান্না করছিলো।তখন আমাকে ডেকে দিলেই পারতে।ভাবী”
কেমন একটা দৃষ্টি নিঃক্ষেপ করে তাকালো নীলা।
তার দৃষ্টিতে স্পষ্ট বিরক্ততা।
বলল,
” তোমাকে ডেকেছিলাম তুমি বেঘোরে ঘুমাচ্ছিলে।”
অবাক না হয়ে পারলাম না।আমি কখনও।এমন গভীর ভাবে ঘুমই না।তাহলে,আমার ঘুম যথেষ্ট্য পাতলা।
,
দুপুরে খাবার সেরে একটা গভীর হিসাব কসতে বসলাম।হিসাবে ফলাফলা শূন্য এলো।কি হচ্ছে আমার সাথে বুজতে পারছি না।
,
মি. প্রভাতের সঙ্গে দেখা একদম কম হয় বলেই চলে।নিজেক মানিয়ে নেওয়া আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি কিন্ত বারবার দুপুরের কথা মনে পরছে।ছেলেটা কি করছে কে জানে।অফিস গেলেও জাবার আগে একবার।ফোন দিয়ে বের হতো ওর আবার আমার গলার স্বর না শুনলে দিনটা ফাকা ফাকা লাগে।
,
নিজের কেবিনে।বসে।রোদেলার ছবির দিকে তাকিয়ে বলল।
“এই তোমার কি বাসর হয়ে গেছে।আমার সাথে যে ভাবে দুষ্টুমি করতে,এখন কি?করে সেটা।তুমি না বলতে বিয়ের পর এটা করবো ওটা করবো।আচ্ছা।বিয়ের পরের দিন টাতে কি তুমি।তোমার সেই পছন্দের নীল শাড়ীটা পরেছিলে?যেটা আমাকে লুকিয়ে কিনলে।আমি টুপ করে দেখে নিয়েছিলাম।তবে সেটা তুমি জানো না।আচ্ছা,,আাচ্ছা,,,”
একটা দির্ঘস্বাস ছেরে।মনের কথা মনেই ঢেঁকুর তুলে নিলো।
দুপর আর পারছে না।এতো এতো স্বপ্ন কিভাবে ভেঙে গেলো।একটা কাচের গ্লাসের মতো ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেলো।
বুকের ভিতর ভিষন কষ্ট হয়।নিজের রুমে যেতে ইচ্ছে করে না।রকিং চেয়ারটার দিকে তাকালে।চোখ দুটো ফুলে ওঠে কান্নায়।একদিন ইমুতে কল দিয়ে রোদেলা বলল।আমার কিন্তু খুব সখ।বিয়ের পর বেলকুনিতে রকিং চেয়ারে দোল খেতে খেতে উষ্ণ কফির মগে ছোটো ছোটো চুমুক দিবো।দুপুরের চোখ বেয়ে দুফোটা জল গরিয়ে পরলো।
ছেলেদের আবার কান্না আছে,তবে দুপুর কাদে।দুপুর তো আর পাচটা ছেলেদের মতে নয়।
দুপুর তো রোদেলার দুপুর তাই।
,
রাতের খাবার থেকে শুরু করে সব কিছু রোদেলার এই ঘরে বসেই করতে হয়।কারন মি. প্রভাত সহ্য করতে পারে না ওকে আর ওভ্রাতকে।রাতে কেমন বেঘোরে ঘুম।তার উপর, গভির ঘুমে থাকা অবস্থ্যয় দেখে ওর ঘরে।কালো একটা ছায়া আসে।ওভ্রাতকে আদর করে।কে হতে পারে।ওমি আপুর কি আত্মা আসে।
রোদেলা মনে মনে বললো,,
— ধূর ধূর,,রোদেলা।কিসব ভাবছিস।আপুর আত্মা এ কেমন কথা।আত্মা তো অতৃপ্ত থাকলে ফিরে আসে।কিসব ভৌতিক কয়েকটা উপন্যাস ও তো পরলি।তারপর কিসব ভাবছিস।আপুর আত্মা অতৃপ্ত কেনো হতে যাবে।সে তো এক্সিডেন্টে মারা গিয়েছে!! সেটাই তো প্রথম কথা ওর মতো কেয়ারিং একটা মেয়ে কিভাবে গ্যসের চুলা অন রাখে।যে কিনা।কখনও কোনো কাজ ভুল করে না।আমি হলে একটা কথা হতো।কিন্তু ও!!”
চিন্তা জেকে বসেছে মাথার ভিতর গুন পোকার মতো খুঁটছে।তখনই নীলা ভাবী রুমে এসে বলল,
” ওভ্রাতকে আমার কাছে একটু দাও।সারা রাত তো তোমার কাছে থাকবে।এখন একটু আমার কাছে থাক।তুমি রেস্ট করো।”
দরজার কাছে গিয়ে পিছনে ঘুরে তাকিয়ে।
বলল,
” আর হ্য তোমার জন্য দুধ এনেছি।খেয়ে নাও।শুনলাম রাতের খবার খাওনি।”
” কে বলেছে আপনাকে”
” কে আবার তেমার বর বলেছে।বউ সোহাগি ছেলে যে।বউদের তো আবার চোখে হারায়।”
” মানে”
” কি মানে মানে করো তোমরা আজকালকার ছেলে মেয়েরা।”
কেমন সব গুলিয়ে গেলো কথা গুলো।আজকালকার ছেলে মেয়ে মানে।কথাটা খুব কানে বজলো ঝংকারের মতো করে।
আমি আজকালকার হলে উনিও তো কম রমনী না।বেশি জোর বয়স কতো হবে সাতাশ-আঠাশ।এ এমন কি বার্ধক্য।
,
নীলা ভাবীর স্বামী।মি. প্রভাতের বড় ভাই দুবাই থাকেন।৬ বছর হবে।দেশে আসেন না।ওনাদের কোনো ছেলে মেয়ে নেই।তাই নীলা ভাবীর ওভ্রাতের উপর অনেক মায়া।সেই জন্য তো।হাতের কাজ শেষ করে জলদি জলদি ওভ্রাতকে নিতে আসে।তবে নীলা ভাবীকে দেখে কেউ বলতে পারবে না সে স্বামী সোহাগি না।
,
দুধটা খবার অনিচ্ছা নিয়ে।পুরো গ্লাসটা শেষ করলাম।কেমন ঝীম ঝীম লাগছে মাথাটা।ঘুম আসছে কেনো এতো।বিছানায় গা এলিয়ে দিতে মনে পরলো।দুপুরে সাথে একবার কথা বলা যাক।
ফোনটা হাতে নিয়ে দুবার কল দিতে বাজতে বাজতে কেটে গেলো।তৃতীয়বার দেওয়ার সাহস না হলেও।নির্লজ্জের মতো আবার কল দিলাম।
রিং হচ্ছে, রোদেলা চোখ বেয়ে জল পরছে।
বিড়বিড় করে বলছে।
“প্লিজ রিসিভ করেন।ইঞ্জিনিয়ার সাহেব।”
ফট করে রিসিভ করলো দুপুর ফোনটা।
” হ্যালো”
” আমি রোদেলা বলছি”
” তো আমি কি করবো”
রোদেলার বুকের ভিতর ধক করে উঠলো।
এই দুপুরকে সে কখনও চিনতো না।
দু চোখ বেয়ে অনবরতো জল গরিয়ে পরছে।কান্নার বেগে ওর গলা কাপছে।বেড সাইড টেবিলের উপর থেকে এক গ্লাস পানি খেয়ে।
গলা ঠিক করে বলল,
” আমার আপনার সাহায্য চাই, ইঞ্জিনিয়ার সাহেব”
দুপুর তিরিক্ষি মেজাজ দেখিয়ে বলল,
” স্যট আপ।ডোন্ট কল মি ইঞ্জিনিয়ার সাহেব।অ্যম নট ইঞ্জিনিয়ার সাহেব।”
” আমার আপনার হেল্প চাই।”
“সরি।আমি যার তার সাহায্য করি না”
” আমি যার তার আপনার কাছে।”
” হ্যা।ফেনটা রাখুন,আর কখনও আমায় কল দিয়ে ডিসট্রাব করবেন না।আমার আপনাদের মতো অজস্র সময় নেই।যে,আপনাদের মতো ফালতু মেয়েদের।ফোন কল এ্যন্সার করবো।”
দুপুর খট করে ফোনটা কেটে দিলো।
রোদেলা এপাশে ফোনটা হাতে নিয়ে কান্না শুরু করে দিলে।সেই কান্না কিছুতেই থামবে না।
,
প্রচুর ঘুম আসছে চোখে,রোদেলার।
হেলে দুলে চলতে নীলার রুমের সামনে দারালো।
দরজা ভিজিয়ে রাখা ছিলো নক করতে।নীলা ভিতর থেকে।ওভ্রাতকে নিয়ে এসে রোদেলার কাছে দিলো।রোদেলা ভ্রু কুচকে।সুক্ষ দৃষ্টিতে তাকিয়ে।নীলার কাছে জানতে চাইলো
” ভাবি তুমি সিগারেট খাও।”
নীলা বেস বিরক্ত হলে।কথায় না বুজলেও ওর চোখে মুখে তার স্পষ্ট ছাপ।
” আমি সিগারেট খাবো কেন”
” না ওই আরকি,তোমার রুম থেকে,কেমন কড়া সিগারেটের গন্ধ আসছে।”
” তোমাদের দুই বোনের কি জ্বিন ভূতের সমস্যা আছে।”
” মানে”
” তুমিও সিগারেটের স্মেল পাও।ওমিও বলতো সিগারেটের স্মেলের কথা।আসলে জ্বিন ভূতের সমস্যা থাকলে।এমন আজে বাজে গন্ধ নাকে লাগে তেনারা দেন।”
” অদভূত”
” অদভূত না ভূত।আমাদের বাড়ীতে কেউই তো সিগারেট খায় না।বাবা সেতো না ই।প্রভাত ওর কথা তো বাদ দিলাম”
প্রচুর ঘুম পাচ্ছে।তাই ভাবীর সাথে কথা না বাড়ীয়ে রুমে চলে এলাম।ওভ্রাতটাও ঘুমে বেঘোর।নবজাতক শিশুদের নাকি ঘুমালে।অনেক ভালো সাস্থ্য হয়।আমিও সেই মহা আনন্দে,আনুন্দিত।
যাক আর যাই হোক ওভ্রাতটা ভালো আছে।
,
মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে গেলো রোদেলার।ঝাপসা দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখলো।বাহিরে কেউ হাটছে।মেজেতে পা ঘসে হাটলে যেমন শব্দ হয় আরকি।
গলা চরাও করে বলল
” কে ওখানে,,,কে,,,।”
বলতে বলতে দরজার কাছে গিয়ে দাড়ালো।
রুম থেকে বাহিরে বেরিয়ে আসতেই।ও বুজতে পারলো।ওর পিছনে কিছু একটা আছে হয় তো।
পিছনে ঘুরে তাকাতে মাথা ঘুরে নিচে পরে গেলো।
,
,
চলবে,,,