Breaking News

গল্পঃ চড়ুইপাখির অভিমান। পর্ব - বোনার্স পর্ব (৮ এর পর)


এতো বৃষ্টি, যে শাড়ি পড়ে যাতা একটা অবস্থা হয়ে উঠেছে সবার জন্য। আমি এক নজর জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আবার সুন্দর করে বসে পরলাম। এই বৃষ্টিতে আমি গাড়ি থেকে নামবো না কিছুতেই না। আমাদের এখানে থেকে ষোলো টা হাইজ ও দুইটা মাইক্রো ভরে হলুদে এসেছি মাহিন ভাইয়াদের বাসায়। আমি স্পর্শের গাড়িতে আছি। আমার পাশে স্পর্শ ড্রাইভ করছে। পেছনে মোহিনী ভাবি ও সীফা আর সামির ভাইয়া( স্পর্শের বড় ভাই‌)
.
মাহিন ভাইয়া দের বাসা থেকে অনেক লোক আসছে ছাতা হাতে আমাদের ভেতরে নিয়ে যেতে। আমি অবাক হয়ে শুধু একটা কথাই ভাবছি আজ এই অসময়ে বৃষ্টি না এলে কি হতো না। আজ না একটু আকাশ কালো ছিল না একটু মেঘের গর্জন ছিল। সারাটা দিন কতো সুন্দর আকাশ ছিল বৃষ্টির কোন হদিস ছিল না। হঠাৎ করে এই মুহুর্তে বৃষ্টি কেন এলো। বাসা থেকে আমার বের হ‌ওয়ার সময় ও মনে হয়নি বৃষ্টি হতে পারে। মাঝ রাস্তায় হুট করেই বৃষ্টি চলছ এসেছে। এখন আমি বাসার ভেতরে কি করে যাব। যদি শাড়ি পড়ে না আসতাম তাহলে না হয় যেতে পারতাম। কিন্তু আমাকে যে আমার শত্রু এই শাড়িটা পড়ে আসতে হয়েছে এখন আমি এই কাঁদা ময় রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাব কি করে। ঠাস করে আমি এই কাঁদায় পড়ে গড়াগড়ি খাব। ইশ আমার কিছুতেই নামবো না। মাহিন ভাইয়ারা যে কেন এই গ্রামে আসতে গেছিলো বিয়েটা শহরে হলে কতো ভালো হতো আমাকে এই অবস্থায় পরতে হতো না।
.
দুজন লোক এসে মোহিনী ভাবি ও সীফাকে নিয়ে গেল। আরেকজন এসে সামির ভাইয়াকে ও নিয়ে গেল। এখন আমি আর স্পর্শ আছি শুধু গাড়িতে। আমার দিকে নামার কোন লক্ষণ না পেয়ে স্পর্শ জিগ্যেস করলেন,
‘ তূমি এমন আয়েশিভঙ্গিতে বসে আছো কেন? নামবে না দরজা খুলে বসো ওই ছাতা নিয়ে আসছে। নাকি দরজা খুলতে পারছো না আমি কি হেল্প করবো?’
আমি বললাম, ‘ দরকার নাই। আপনি চলে যান দরজা আটকে। আমি এই এতো সুন্দর রাস্তা দিয়ে হাঁটতে পারবো না। আমি তাই যাব‌ই না।’
আমার এমন কথা শুনে স্পর্শ হতভম্ব হয়ে গেল,
‘ হোয়াট? তুমি যাবে না মানে কি?’
‘ সিম্পুল আমি গাড়িতেই সবার জন্য ওয়েট করবো। হলুদ পর্ব শেষ হ‌ওয়া পর্যন্ত। আমি শাড়িতে এমনিতেই হাঁটতে পারি না তার উপর এই এতো সুন্দর কাঁদা ময় রাস্তা দিয়ে এক কদম ও হাঁটতে পারবো না।’
‘ তুমি এইখানে একা থাকতে চাইছো। আর ইউ ম্যাড?’
আমি কিছু বলতে যাব তখন একটা ছেলে আমার পাশের জানালার কাছে এসে বলল,
‘ তারাতাড়ি বেরিয়ে আসুন। সবাই ভেতরে চলে গেছে শুধু আপনারাই আছেন।’
আমি উনাকে বললাম, ‘ আমি যাব না। ওনাকে নিয়ে যান আপনার সাথে।’
বলেই স্পর্শ কে দেখিয়ে দিলাম। স্পর্শ উনাকে নিজের পাশে ডাকলো। তারপর বলল,
‘ আমাকে একটা ছাতা এনে দিন আমরা সেটা করে যাব প্লিজ।’
ছেলেটা স্পর্শের কথা শুনে মাথা দুলিয়ে চেঁচিয়ে কার কাছে জানি ছাতা চাইতে চাইতে এগিয়ে গেল। স্পর্শ আমাকে বলল,
.
এই খানে তোমাকে একা রেখে আমি ভেতরে যেতে পারবো না মারিয়া‌।
তুমি শাড়ির আঁচল আর কুঁচি ভালো করে উঁচু করে ধরে আমার সাথে
যাবে কিচ্ছু হবে না আমি তোমার সাথে থাকবো।’
‘ আমি যাব না। কেন আমাকে এতো ঝামেলায় ফেলছেন বলুন তো।
আপনি জানেন এই শাড়ি পড়ে আমি কতোটা পেরেশানিতে আছি।
তার মধ্যে আবার এই বৃষ্টি সব কিছু আমাকে এটাই বলছে আমার ভেতরে যাওয়া উচিত না।
এজন্য এতে বাঁধা আসছে।’
‘ অযুক্তিক কথা বলো না। তুমি একাই এই অবস্থায় পরো নি।
সবাই এই অবস্থার সম্মুখীন হয়েছে আর পরিস্থিতি সামলে নিয়েছে।
তুমি একা এমন দ্বিমত পোষণ করতে পারো না।’
‘ আপনি আমাকে কেন জোর করছেন আমি যাব না।’
‘সামান্য এই রাস্তা পার হওয়ার ভয়ে যদি তুমি নিজেকে সব আনন্দ থেকে বঞ্চিত করতে চাও করো।
আমার কি? তোমার কাছে আনন্দ কিছুই না এই রাস্তা পার হওয়াটাই বড়।
ওখানে সবাই যে তোমার ওয়েট করছে তোমার দুলাভাই মাহিন তাকে
তুমি সবার আগে হলুদ দিবে এতো এতো প্লান সব নষ্ট করবে ওকে তাহলে থাক।
আমি যাই ওই যে ছাতা চলে এসেছে।’
.
এমনিতেই এতোক্ষণ মনটা খারাপ হয়ে ছিল।
পরিক্ষার জন্য ঠিকমত ইনজয় করতে পারছি না
এখন আবার এই বৃষ্টি এসেছে আমার আনন্দ মাটি করতে।
সব কিছু একসাথে ঘটতে হবে। ধুর ছাই ভাল্লাগে না। এখন তো যাইতেও মন চাইছে।
কিন্তু যাব কি করে? আচ্ছা স্পর্শের কথা শুনে কি আমার উচিত এই রাস্তা পার হওয়ার
সিদ্ধান্ত নেওয়া‌। আমি ঢোক গিলে রাস্তায় দিকে তাকালাম।
স্পর্শ নেমে গেছে। আমি হুট করেই তাকে ডেকে উঠলাম।
‘ স্পর্শ আমি যাব।’
.
এই প্রথম আমি তার নাম ধরে ডাকলাম।
স্পর্শ আমার মুখে নিজের নাম শুনে থমকে দাঁড়ায়।
পেছনে ঘুরে আবার আমার কাছে এসে আমার পাশের দরজা খুলে বেরিয়ে আসতে বলে।
আমি কাচুমাচু মুখ করে বেরিয়ে আসি। স্পর্শের মুখে হাসি তিনি মিটিমিটি করে হাসছে।
আমি তার হাসি দেখতে গিয়ে উল্টে পরতেছিলাম একটুর জন্য।
আঁচল আর কুঁচি ধরে হাঁটছিলাম তখন স্পর্শের দিকে তাকাতে গিয়ে আমি এক গর্তে পড়ে যাচ্ছিলাম।
তখন স্পর্শ আমার হাতের কবজি কেটে ধরে।
‘ আমাকে পরেও দেখতে পারবে আগে সাবধানে হেঁটে চলো।’
আমি লজ্জা পেয়ে বললাম, ‘ আপনাকে দেখতে আমার বয়েই গেছে। আপনি হাসছেন কেন জিজ্ঞেস করতে চাইছিলাম।’
‘ ওহ আচ্ছা।’
.
রাস্তা পার হতে আমার পাশে ছায়ার মতো ছিল স্পর্শ যার জন্য আমি ঠিক ভাবে
মাহিন ভাইয়া দের বাসায় এসে পৌঁছেছি। কতোবার যে পরতে গিয়েছি স্পর্শ আমাকে সামলে নিয়েছে।
সন্ধ্যার অনেক আগে আমরা এখানে এসেছি অনেক দূরের রাস্তা বলে আগেই বেরিয়ে পরেছিলাম।
আবার সন্ধ্যার পর পর‌ই বিদায় নিয়ে নিলাম। এখন বৃষ্টি নাই কিন্তু রাস্তা তো এখন শুকায় নি।
সীফাদের সাথে এবার হাঁটছি। স্পর্শ আমার সাথে নাই। তাকে খুঁজতে গিয়ে
এবার আমি সত্যি কারের আছড় টা খেলাম।
শরীরে বেশি লাগে নি কারণ আমি শক্ত এক জায়গায় পরেছি। এখানে কাদা মাটি নাই‌।
আমার মামাতো ফুফাতো ভাই বোনরা আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করতে লাগলো।
আমি লজ্জা মাটির সাথে মিশে যাচ্ছি।‌এই অন্ধকারে আমি কি
কিছু ঠিক মতো দেখতে পেয়েছি পায়নি। তাই তো পরে গেলাম না হলে এবার আমি পরতাম না।
আমাকে টেনে তুললো স্পর্শ কোথা থেকে এসে। আর ফট করেই
সবার সামনে আমাকে কোলে তুলে নিলো। আমি চোখ বড় করে স্পর্শের দিকে তাকালাম।
তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বলল,
‘ সরি আমার তোমার দিকে খেয়াল রাখা উচিত ছিল। ব্যাথা কি বেশি পেয়েছো?’
আমি বললাম, ‘ না লজ্জা পেয়েছি খুব। আমি ব্যাথা বুঝার সময় ই পায়নি।’
‘ পাগলি।’
.
‘ এখনো পাচ্ছি আপনি এমন হুট করে কোলে কেন নিলেন। সবাই কি ভাবছে। বাসায় গেলে সবাই আমাকে চেপে ধরবে এজন্য। আর খুব লজ্জা দিবে!’
‘ তাহলে কি নামিয়ে দেবো? আমি তো তোমার অসুবিধার জন্য কোলে নিলাম! যাতে আর এমন করে পড়ে না যাও!’
‘ থাক, এখন তো নিয়ে ফেলেছেন।’
‘ এজ ইউর উইশ।’
.
বাসায় আসার পর থেকে সত্যি আমার সব ভাই বোনেরা আমাকে চেপে ধরলো।
আমি হব সময় ওদের বলতাম উনি আমায় পাত্তা দেয়না। ঠিক মতো কথা বলে না।
আর এখন এসব দেখে তাদের এক কথা,
‘ মারু তুই কি বলেছিলি স্পর্শ ভাইয়া নাকি তোর সাথে কথা বলে না।
দেখলেও না দেখার ভান করে চলে। কিন্তু আজ কি দেখলাম আমরা।
এসব দেখেও তোরা কেউ বল ওদের মধ্যে কোন গভীর সম্পর্ক নাই।
না হলে সবার সামনে এমন হুট করে কোলে তুলে হাঁটা যায়। হাউ রোমান্টিক।
এই সব কিছু মারু আমাদের লুকিয়ে আড়ালে করেছে। দুজনে চুটিয়ে প্রেম করছে
আর জিজ্ঞেস করলে বলে আমার তার সাথে কথা হয় না। তিনি আমার সাথে, সামনে
কি বা ফোন দুই মিনিট ও কথা বলে না। তিনি আমাকে পাত্তাই দেয় না। কতো বড় মিথ্যুক।’
আমাকে অপরাধী ন্যায় সামনে বসিয়ে রেখে নিজেদের আলোচনা চালাচ্ছে।
আমি তো সব সত্যি কথাই বলেছি কিন্তু ওদের কি করে বুঝাবো।
ওরা এই কোলে নেওয়া নিয়ে কতো কি ভেবে নিল আমার সব কথা মিথ্যা
ভাবছে কিন্তু আমি তো মিথ্যা বলিনি। স্পর্শ কেন যে দরদ দেখিয়ে কোলে
নিলো না হলে এসব আমাকে সহ্য করতে হতো না।
.
আজ আপুর বিয়ে। সেই খুশিতে আমি মজে ছিলাম তখন আমি আরেকটা কথাও শুনলাম।
তা শুনে আমি তো হতবিহ্বল হয়ে গেলাম। দৌড়ে আমি আম্মুর কাছে গেলাম।
এতো বড় একটা সিদ্ধান্ত কিনা আমাকে না জানিয়ে করে দিলো তারা।
আমার এতে সমস্যা নাই কিন্তু তাই বলে আগে থেকে আমাকে কিছু জানাবে না।
আমি মাহিন ভাইয়ার জুতা চুরি করে ছিলাম কেবল তখন এসব শুনেছি তাই জুতা সহ চলে এসেছি।
আম্মু কে এসেই জিজ্ঞেস করলাম, ‘ আম্মু আমি তো এখন আর
এই বিয়ে নিয়ে কোন দ্বিমত পোষণ করিনি।
আমি রাজি তাহলে এই কথাটা আগে কেন আমাকে জানালে না তোমরা।
আম্মু বলল, ‘ আমরা ই তো জানতাম না তোকে কি জানাতে যাব।’
‘ মানে কি তোমার জানতে না তাহলে এই সিদ্ধান্ত কার?’
‘ স্পর্শের।’
চলবে…..

No comments

info.kroyhouse24@gmail.com