তবুও ভালোবাসি | পর্ব -০৫



মধ্যে কেটে গেছে দুটু দিন। আজ সকালেই আব্বুকে রিলিজ করে দিয়েছে, আব্বু এখন মোটামুটি সুস্থ আছেন। এবার আমাকে ফিরে যেতে হবে, আবারো অত্যাচার শুরু হবে। আব্বু তো কখনো কষ্ট কি বুঝতে দেননি তাই ওদের অবহেলায় একটু বেশিই কষ্ট হয়, বিশেষ করে আদিলের অবহেলায়। প্রিয় মানুষের অবহেলা সত্যি খুব যন্ত্রণাদায়ক। অবশ্য ওকে প্রিয় মানুষ বললে ভুল হবে ও তো শুধু মানহার, আমার নয়। বারান্দায় রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আনমনা হয়ে এসব ভাবছিলাম হঠাৎ দরজা খুলার শব্দে বাস্তবে ফিরে আসলাম। আদিলের গোসল হয়তো শেষ তাই রুমের দিকে পা বাড়ালাম, একটু আগেই হসপিটাল থেকে বাসায় ফিরেছি ফ্রেশ হতে হবে।

রুমে এসে দেখি আদিল আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তোয়ালে দিয়ে চুল মুছছে, এই দুদিন আদিলের সাথে প্রয়োজন ছাড়া কথা বলিনি। এবারো চুপচাপ ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়ালাম।
আদিল: আনিশা...
আমি: হাত ছাড়ুন।
আদিল: আমাকে ইগনোর করছ কেন? আমাকে দেখেও না দেখার ভাণ করছ, কথা বলছ না, কেন এরকম করছ?
আমি: গোসল করবো দেরি হয়ে যাচ্ছে আমার হাত ছাড়ুন। (অন্যদিকে তাকিয়েই আদিলের কথার জবাব দিচ্ছিলাম, আচমকা আদিল আমার হাত ধরে জুড়ে টান দিয়ে আমাকে ওর কাছে নিয়ে গেল। আদিল একহাতে আমার কোমড় জড়িয়ে ধরে রেখেছে অন্যহাত আমার গালে রেখে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে এক দৃষ্টিতে)
আদিল: সেদিন আমি এতোটা রেগে গিয়ে কথা গুলো বলতে চাইনি বিশ্বাস করো।
আমি: রাগ করে হলেও তো সত্যিটাই বলেছেন, আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছেন আমি আপনার ভালোবাসার মানুষ নই আমি হলাম কাগজে কলমে সই করা আপনার স্ত্রী যাকে আপনারা অত্যাচার করার জন্য...
আদিল: আচ্ছা আমি কি তোমার উপর অত্যাচার করেছি? যা করার আম্মু করছে তো।
আমি: মা আমাকে যতোটা কষ্ট দেন তারচেয়ে বেশি কষ্ট পাই আমি আপনার একটু অবহেলায়। (আদিল কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থেকে আমাকে ছেড়ে বিছানায় গিয়ে বসলো)
আমি: মা চাইছেন আমি ফিরে যাই যেন উনি আমার উপর অত্যাচার করতে পারেন, হুম আমি যাবো তবে আপনাকে আর কখনো ভালোবাসি বলবো না। আপনার আর মানহার মাঝে দেয়াল হয়ে আর দাঁড়াবো না, আপনার প্রতি মিছিমিছি মায়াও বাড়াবো না। আপনি যেদিন ডিভোর্স পেপার এনে সাইন করতে বলবেন আমি কোনো প্রশ্ন ছাড়া সাইন করে দিয়ে ফিরে আসবো আব্বুর কাছে। আর হ্যাঁ প্লিজ আমি আপনাকে ভালোবাসি বলে আপনার প্রতি আমার দূর্বলতাটাকে ব্যবহার করবেন না, একবার কাছে টেনে নেওয়া আবার ইচ্ছে হলে ছুড়ে ফেলে দেওয়া এসব কোনো সুপুরুষ এর কাজ নয়।
আদিল আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, পিছন ফিরে চোখের পানি মুছতে মুছতে ওয়াশরুমে চলে আসলাম।

গোসল সেড়ে তোয়ালে দিয়ে চুল বাঁধতে বাঁধতে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসলাম, আড়চোখে আদিলের দিকে তাকালাম এখনো বিছানাতেই বসে আছে। আমি রুমে ঢুকেছি বুঝতে পেরে আমার দিকে তাকালো, এমন ভাবে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে মনে হচ্ছে ও আমাকে...
আমি: আরে কি করছেন? (আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই আদিল দ্রুত আমার কাছে এসে চুল থেকে তোয়ালেটা খুলে নিলো)
আমি: এইটা কি হলো চুলগুলো ভেজা তো।
আদিল: এভাবে থাকো, একদম চুলে তোয়ালে বাঁধবে না।
আদিল তোয়ালেটা ছুড়ে সোফায় ফেলে দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল, আমি হা হয়ে তাকিয়ে আছি ওর এমন অদ্ভুত আচরণে, কেন এমন করলো ও?

আদিল: আব্বু আমাদের ফিরে যেতে হবে, আমার ছুটি শেষ অফিসে জয়েন করতে হবে তাছাড়া আম্মুও আনিশাকে দেখার জন্য বারবার ফোন করে ফিরে যেতে বলছেন। (আদিলের শেষ কথাটা শুনে ফিক করে হেসে দিলাম। আব্বুর পাশে বিছানায় বসে আদিল আব্বুকে এসব বলছে। মা নাকি আমাকে দেখার জন্য ফিরে যেতে বলছে, না হেসে পারলাম না)
আব্বু: কিরে আনিশা হাসছিস কেন?
আমি: কই নাতো।
আদিল: আব্বু কি করবো?
ফুফু: আর দুটু দিন থেকে গেলে হয় না? ভাইয়ার এই অবস্থা...
আমি: না ফুফু আজকেই যেতে হবে। (আমার মুখে চলে যাওয়ার কথা শুনে আব্বু আর ফুফু বেশ অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। ওদের কি করে বুঝাই মন না চাইলেও আমাকে যেতে হবে নাহলে মা আবার আব্বুকে ফোন করে এসব বলবে)
ফুফু: কিরে আনিশা তুই...
আব্বু: ঠিক আছে চলে যা তবে তোর শাশুড়িকে বলে আবার আসিস।
আমি: হুম আসবো।
আদিল: তাহলে আমরা আজ বিকেলেই চলে যাই?
আব্বু: সকালে যাও বাবা, বিকেলে গেলে রাত তো রাস্তায় কাটাতে হবে।
আদিল: সমস্যা নেই, রাতের মধ্যে যেতে পারলে সকালে অফিসে যেতে পারবো।
আব্বু: ঠিক আছে।

জানালার কাছে দাঁড়িয়ে বাইরে আনমনা হয়ে তাকিয়ে আছি, আদিল সব গুছাচ্ছে একটু পর চলে যেতে হবে সেই অচেনা নীড়ে, যেখানে ভালোবাসার কোনো চিহ্ন নেই আছে শুধু অবহেলা আর অত্যাচার। যেখানে অচেনা মানুষ গুলোকে আরো বেশি অচেনা মনে হয়, যারা আমাকে তিলেতিলে যন্ত্রণা দিয়ে শেষ করে দিচ্ছে।
আদিল: আনিশা রেডি হবে না?
আমি: (নিশ্চুপ)
আদিল: আনিশা প্লিজ এমন করো না এমনি অনেক দেরি হয়ে গেছে, রাতের বাসে যেতে হবে আর পৌছতে ভোর হয়ে যাবে।
আমি: আমি যদি আপনার কাছে কিছু চাই তাহলে দিবেন?
আদিল: চেয়ে দেখো।
আমি: হুম চাইবো কিন্তু আজ না, এমন কোনো এক দিনে চাইবো যে আপনি না দিয়ে পারবেন না। (আদিল ব্যাগে কাপড় রাখছিল আমার কথা শুনে আমার দিকে বেশ অবাক হয়ে তাকালো)
আমি: ভয় নেই ভালোবাসা চাইবো না।
আদিলের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে রেডি হতে চলে আসলাম।

সন্ধ্যার আকাশে চারদিকে মেঘ জমেছে মনে হচ্ছে বৃষ্টি হবে। ইচ্ছে হচ্ছে আদিলকে বলি আজ যাবো না কিন্তু মায়ের ভয়ে যেতে হচ্ছে। আকাশের অবস্থা দেখে আব্বু আর ফুফুও মন খারাপ করে আছেন কিন্তু আমার কিছু করার নেই, নিয়তি আমার হাত পা বেঁধে দিয়েছে।
আব্বু: ফিরোজ ওদের বাসস্টেন পর্যন্ত দিয়ে আয়।
আদিল: আব্বু আমরা যেতে পারবো।
ফুফু: বৃষ্টি হবে আর এই সময় তোমরা যাবে? আজ না গেলে হয় না বাবা?
আমি: ফুফু ছাড়ো না, আমরা ঠিক চলে যেতে পারবো।
ফুফু: হুম।
সবার থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। খুব রাগ হচ্ছে আদিলের উপর, আজ না গেলে কি মহা ভারত অশুদ্ধ হয়ে যেতো? নাকি আমাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য আমার দজ্জাল শাশুড়ি পাগল প্রায় হয়ে আছে যত্তোসব।

বাইরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে সাথে বইছে ঠান্ডা বাতাস, বাসে জানালার পাশে বসে আনমনা হয়ে বাইরে তাকিয়ে আছি নিস্তব্ধ রাত আর ঝিরিঝিরি বৃষ্টি দেখছি সাথে উপভোগ করছি ঠান্ডা বাতাস। মাঝেমাঝে ধমকা বাতাস এসে আমার অবাধ্য চুল গুলোকে উড়িয়ে নিয়ে আদিলের চোখেমুখে ফেলছে, ও বিরক্ত হলেও আমি সরানোর চেষ্টা করছি না, কেন করবো দোষ কি আমার চুলের? দোষ তো বাতাসের, ওর ইচ্ছে হলে বাতাসকে বকা দিতে পারে হিহিহি।
আদিল: মহারাণীর মন তাহলে ভালো হয়েছে।
আমি: (নিশ্চুপ)
আদিল: এইতো এক্ষণি হাসছিলে এখনই আবার মুখটা প্যাঁচির মতো করে নিলে?
আমি: কি আমি প্যাঁচি?
আদিল: যখন মুখ গোমড়া করে রাখো তখন প্যাঁচি মনে হয় আর যখন...
আমি: আর যখন?
আদিল: যখন হাসো তখন যেন পূর্ণিমার চাঁদের আলো সব তোমার মুখে উপছে পড়ে আর তোমার হাসির সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় হাজার গুণ।
আমি: নিস্তব্ধ রাতে এতো লম্বা জার্নি তার উপর আবার ঝিরিঝিরি বৃষ্টি একটু তো কবি হতে ইচ্ছে হবেই তাই না?
আদিল: পাশের সিটে এতো সুন্দরী রমণী থাকলে কবি কবি ভাব ভিতরে এমনি চলে আসে।
আমি: তাই?
আদিল: জ্বী।
আমি: কচু সুন্দরী, সুন্দরী হলে মানহার দিকে নজর দিতেন না।
আদিল: বিড়বিড় করে কি বলছ?
আমি: কিছুনা।

আবারো দুজনের মধ্যে নীরবতা নেমে আসলো। আমি বাইরে তাকিয়ে আছি আর আদিল হেডফোন কানে দিয়ে গান শুনছে। আচ্ছা আদিলের জীবনে যদি মানহা নামের কোনো অস্তিত্ব না থাকতো? ওর পুরোটা জুড়ে যদি শুধু আমার বসবাস হতো তাহলে আজকের এই জার্নিটা কেমন হতো? নিজের অজান্তেই ভিতর থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসলো।
আমি: ভাবছি আগামীকাল মানহার সাথে দেখা করবো। (হুট করে আদিলের দিকে তাকিয়ে কথাটা বলে ফেললাম, আদিল পানি খাচ্ছিল আমার কথা শুনে বড়সড় একটা বিষম খেলো)
আমি: কি যে করেন না পানিও ভালোভাবে খেতে পারেন না একদম বাচ্চা মানুষ। (পানি পড়ে ওর শার্ট ভিজে গেছে তাড়াতাড়ি শাড়ির আচল দিয়ে মুছে দিলাম)
আমি: এই শার্টটা চেঞ্জ করে নিন নাহলে ঠান্ডা লেগে যাবে।
আদিল: (নিশ্চুপ)
আমি: কি হলো আমার দিকে হা হয়ে তাকিয়ে আছেন কেন? চেঞ্জ করুন।
আদিল: বাসের মধ্যে?
আমি: তো?
আদিল: এতো গুলো মানুষ...
আমি: আপনার লোমশ বুকটা দেখার জন্য কেউ হা হয়ে তাকিয়ে থাকেনি।
আদিল: কেউ একজন তো আমার লোমশ বুক দেখলেই দুষ্টুমি শুরু করে দেয়। (আদিল ফিসফিস করে কথাটা বলেই মিটিমিটি হাসতে শুরু করলো, আমাকে খোঁচা দেওয়া হচ্ছে তাই না)
আমি: আমি চোখ বন্ধ করলাম চেঞ্জ করে নিন।
আদিল: একদম চোখ খুলবে না।
আমি: ওকে।
আদিল: দেখো একটা মেয়ে আমার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে। (আদিল আমার কানের কাছে ফিসফিস করে বলতেই আমি চোখ খুলে চারপাশে তাকালাম, কোথায় আশেপাশের সিটে কোনো মেয়ে নেই তো। আদিল আমাকে আচমকা টেনে নিয়ে ওর বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলো, শার্ট পড়েছে কিন্তু বোতামগুলো লাগায়নি। ওর লোমশ বুকে আমার গাল একদম লেপ্টে আছে)
আদিল: ধরো আদিলের জীবনে মানহা নামের কেউ নেই, আদিলের সবকিছু জুড়ে শুধু আনিশা, আজকের জার্নিটা তাহলে কেমন হতো? (আদিল আমাকে দুহাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রেখেছে, আমি এক হাত ওর বুকে রেখে চোখ বন্ধ করে ওর বুকের সাথে লেপ্টে আছি)
আদিল: বলোনা আনিশা প্লিজ!
আমি: জার্নিটা কেমন হতো আমি জানিনা তবে যদি সত্যিই মানহা নামের কেউ না থাকতো তাহলে আমি মায়ের সব অত্যাচার সহ্য করে আপনার সব অবহেলা সহ্য করে আপনাকে ঠিক আমার করে নিতাম।
আদিল: কিভাবে?
আমি: ভালোবাসা দিয়ে।
আদিল: পারতে?
আমি: ভালোবাসা দিয়ে সব জয় করা যায়।
আদিল: তাহলে ভালোবাসা দিয়ে আম্মুর মন জয় করে নিচ্ছ না কেন? আমার মন থেকে মানহা নামটা মুছিয়ে দিচ্ছ না কেন?
আমি: একদিন মায়ের মন আমি অবশ্যই জয় করবো।
আদিল: আর আমার ভালোবাসা?
আমি: ভালোবাসা জোড় করে হয় না, আপনি তো অন্য কাউকে ভালোবাসেন তাহলে আমি আপনার ভালোবাসা জয় করবো কিভাবে? (কথা বলতে পারছি না কান্না যেন গলায় দলা পেকে আসছে, আদিল আমার এতোটা কাছে তারপরও ওকে আমার বড্ড বেশি পর মনে হয়)
আদিল: আনিশা আমি...
আমি: কি বলুন।
আদিল: কিছুনা। (আদিল আমাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো, ও কাঁদছে বুঝতে পারছি কিন্তু কেন কাঁদছে সেটা বুঝতে পারছি না। আমি নাহয় ওকে ভালোবাসি বলে কাঁদছি কিন্তু ও কাঁদবে কেন? ও যা চেয়েছিল তাই তো হচ্ছে, আমি কষ্ট পাচ্ছি এতে তো ওর খুশি হওয়ার কথা)

মাথায় চুমুর স্পর্শে ঘুম ভাঙ্গলো, চোখ খুলে তাকালাম। এখনো আদিলের বুকেই আছি, কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। আদিল এক হাতে আমাকে ওর বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে রেখেছে অন্যহাতে আমার চুলে বিলি কেটে দিচ্ছে। আমি ওকে বুঝার চেষ্টা করি কিন্তু একদম বুঝতে পারিনা, কখনো মনে হয় ওর জীবনে মানহা নামের কেউ নেই ও শুধু আমাকেই ভালোবাসে কিন্তু পরক্ষণেই আবার মনে হয় আমি ওর কেউ না ও মানবিকতার জন্য আমার সাথে ভালো ব্যবহার করে।
আদিল: ওহ ঘুম ভেঙেছে তোমার কিছু খাবে না? আমার কিন্তু বড্ড খিধে পেয়েছে। (মাথা তুলে আদিলের দিকে তাকালাম, ও আনমনা হয়ে প্যাকেট থেকে খাবার বের করছে। মাথাটা বড্ড যন্ত্রণা করছে ইচ্ছে হচ্ছে ওর কাধে মাথা রেখে বসে থাকি)
আদিল: আচ্ছা গাড়িতে ঘুমিয়ে পড়া কি তোমার অভ্যাস?
আমি: প্রিয়জনের বুকে কে না ঘুমাতে চায়...
আদিল: কি বিড়বিড় করছ?
আমি: কিছু নাতো।
আদিল: খেয়ে নাও।
আমি: ভালো লাগছে না খাবো না। (জানালা লাগানো দেখে খুলতে চাইলাম আদিল আমার হাত ধরে ফেললো)
আদিল: তোমার শরীরে জ্বর এসেছে জানালা খুলো না, বাইরের ঠান্ডা বাতাসে তোমার ক্ষতি হবে। (মৃদু হাসলাম)
আমি: এজন্যই বুঝি এতো ভালোবাসা দেখাচ্ছেন? (আমার কথা শুনে আদিল মৃদু হাসলো)
আদিল: খেয়ে নাও। (আমার মুখের সামনে খাবার ধরলো, চুপচাপ খেয়ে নিলাম)
আদিল: বাসায় তাড়াতাড়ি পৌঁছাতে হবে।
আমি: কেন?
আদিল: একজন এসেছে বাসায় আর আমাকে দেখতে না পেয়ে বড্ড রেগে গেছে, ফোন করে অনেক রাগ দেখিয়েছে।
আমি: কে সে?
আদিল: যাকে আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি, যাকে না দেখে আমি থাকতে পারিনা, যে আমার পুরোটা জুড়ে আছে, যে...
আদিল মুচকি হাসছে আর কথা গুলো বলেই যাচ্ছে, ওর কোনো কথা আর আমি শুনতে পাচ্ছি না। আদিলের পুরোটা জুড়ে অন্য কেউ আছে, ওর জীবনে তো আমার কোনো অস্তিত্বই নেই। আমার ভালোবাসার কোনো মূল্য নেই আদিলের কাছে।

চারদিকে ভোরের আলো ফুঁটতে শুরু করেছে, আদিল পাগলের মতো কলিংবেল চেপে যাচ্ছে আর আমি পাশে দাঁড়িয়ে ওর পাগলামি দেখছি। ভোরবেলা সবাই গভীর ঘুমে মগ্ন দরজা খুলবে কে? কিন্তু আদিল সেটা বুঝতে চাইছে না ও রেগে আছে, মনে হচ্ছে যে এসেছে তাকে দেখার জন্য ও পাগল হয়ে উঠেছে। আদিল কলিংবেল চাপছে আর আমি দেয়ালে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছি, ভাবছি রাতের কথা। আদিল আমার জীবনে থাকুক বা না থাকুক আজকের এই রাত এই জার্নি আমার কাছে স্বরণীয় হয়ে থাকবে। আজকের রাতটা কতোই না সুন্দর ছিল, আদিলের বুকে মাথা রেখে পুরোটা জার্নি, আদিলের হাতে খাবার খাওয়া, আদি...
আদিল: উফফ মাথাটাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
আদিলের চিৎকার শুনে ওর দিকে তাকালাম, রাগে ওর চোখ দুটু রক্তবর্ণ হয়ে গেছে। আচ্ছা কে এসেছে যাকে দেখার জন্য আদিল এতোটা উতলা হয়ে উঠেছে? কে এমন যে কিনা আদিলের পুরোটা জুড়ে আছে? মানহা নয়তো? নামটা মনে হতেই বুকের বা পাশে কেমন যেন চিনচিনে ব্যথা অনুভব হলো। সত্যি যদি মানহা হয় আমি নিজেকে সামলে রাখতে পারবো তো? পারবো তো আদিল আর মানহাকে একসাথে দেখে সহ্য করতে...

চলবে😍
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url