তবুও ভালোবাসি | পর্ব -০৭



মাথাটা প্রচন্ড ভারী লাগছে খুব ব্যথাও করছে আস্তে আস্তে চোখ খুলে তাকালাম, আদিল আমার পাশে বসে আছে। একটু নড়তেই বুঝলাম আমার কপালে জলপট্টি দেওয়া, নীরব সোফায় বসে আছে আর মিতু পাশে দাঁডানো।
মিতু: এইতো ভাবির জ্ঞান ফিরেছে। (মিতুর কথায় আদিল আমার দিকে তাকালো নীরবও উঠে বিছানার দিকে আসলো)
মিতু: আম্মুকে আর দাদুকে বলে আসি আমি।
আদিল: পাগলামি করার শাস্তি পাচ্ছ তো এখন?
নীরব: আদিল ওকে একদম বকবি না।
আদিল: না বকবো না আদর করবো, জ্বর কতোটা বেড়ে গেছে দেখেছিস আর ডক্টর কি বলে গেছে নিজেই তো শুনলি। (ডক্টরও এসেছিল? আমিতো বুঝতেই পারিনি)
মা: কোথায় বজ্জাত মেয়ের জ্ঞান নাকি ফিরেছে?
নীরব: আম্মু শান্ত হও প্লিজ!
মা: এই মেয়ে ভালো করে শুনে রাখো আমার বাড়িতে এসব ন্যাকামি চলবে না। আজ ডক্টর এনেছি ভবিষ্যৎ এ এমন কিছু করলে সোজা বাবার বাসায় পাঠিয়ে দিবো। (মায়ের বকা শুনে নিশ্চুপ হয়ে রইলাম, কি করবো অন্যায় করেছি যখন মা তো বকবেই)
মা: জ্বর গায়ে নিয়ে মাঝরাতে ভিজা যত্তোসব আহ্লাদী কাজ।
দাদু: শিরিন হয়েছে আর না এবার মেয়েটাকে রেস্ট নিতে দে।
মিতু: আম্মু তুমি রুমে চলো।  (মিতু মা'কে টেনে নিয়ে গেল, দাদু আমার মাথার পাশে এসে বসলেন)
দাদু: আর কখনো এমন কাজ করলে তখন কিন্তু শিরিন এর সাথে আমিও বকবো বলে দিলাম। এতো অল্পতেই ভেঙে পড়িস কেন লড়াই করতে পারিস না? বিশ্বাস নেই নিজের ভালোবাসার উপর?
নীরব: দাদু অনেক হয়েছে এবার চলো তুমি ঘুমাবে নাহলে তোমার আবার শরীর খারাপ করবে।
দাদু: হ্যাঁ চল।
নীরব: আদিল ওকে কিন্তু একদম বকবি না।
নীরব দাদুকে নিয়ে বেরিয়ে গেল।

নিশ্চুপ হয়ে পাশ ফিরে শুয়ে আছি, গায়ে জ্বরটা বেশ ভালোই এসেছে অসহ্য লাগছে সবকিছু। হঠাৎ দূর থেকে আযানের ধ্বনি ভেসে আসলো অবাক হয়ে দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকালাম, ভোর হয়ে গেছে কিন্তু আমিতো বারোটার সময়...
আদিল: অবাক হচ্ছ তো এতো সময় পার হয়ে গেল ভেবে?
আমি: (নিশ্চুপ)
আদিল: আরে বাবা কথাও বলবেনা নাকি? এতো বড় শাস্তি সামান্য একটা ভুলের জন্য? মানহা আমার প্রেমিকা ও তো আমার বুকে একটা কিস করতেই পারে। (ওর দিকে রাগি চোখে তাকালাম, নির্লজ্জের মতো আবার বলছে এসব। আসলেই ও একটা লুচু ছেলে, ওর প্রেমিকাও চাই আবার বউকেও চাই)
আদিল: এতো রেগে আছ কেন? জানো তুমি দরজা খুলছিলে না বলে কতোটা ভয় পেয়েছিলাম? তারউপর আবার তোমার কোনো সাড়াশব্দ পাচ্ছিলাম না। নীরব আর আমি দরজা ভেঙে ভিতরে গিয়ে দেখি তুমি অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছ, এতো রাতে যে একজন ডক্টর পেয়েছিলাম এটাই তো ভাগ্যের ব্যাপার। শুনো আর একদম পাগলামি করবে না, ডক্টর বলেছে জ্বর আবার বেড়ে গেলে তোমাকে হসপিটালে ভর্তি করাতে হবে
আমি: (নিশ্চুপ)
আদিল: এতো গুলো কথা বললাম তাও চুপ হয়ে থাকবে?
আমি: ঘুমাবো আর একটাও কথা বলবেন না। (আদিলের দিকে তাকাতে গিয়ে সোফায় রাখা ওর শার্টের উপর নজর পড়লো, ইচ্ছে হচ্ছে শার্ট'টা...)
আদিল: আরে উঠছ কেন কি প্রয়োজন আমাকে বলো।
আমি: চুপ করে এখানে বসে থাকো। (শার্ট হাতে নিয়ে ভাবছি এইটা কি করা যায়, এখন তো আগুন পাবো না। হঠাৎ বাতরুমের দিকে নজর পড়লো)
আমি: পেয়েছি।
আদিল: কি পেয়েছ আর হাসছ কেন? (শার্ট নিয়ে বাতরুমের দিকে আসলাম)
আদিল: আনিশা কি করবে আমার কথা শুনো। (আদিল আমার পিছু পিছু আসলো কিন্তু আমার কাছে আসার আগেই আমি শার্ট কমেডে ফেলে দিলাম)
আদিল: পাগল হয়ে গেছ কি করছ এসব?
আমি: দেখে যাও শুধু।
আদিল: হারপিক দিয়ে কি করবে? (শার্টের উপর হারপিক ঢেলে দিলাম, আহ এবার শান্তি লাগছে। মানহার চুমু টয়লেটে হাহাহা)
আদিল: আমার এতো সুন্দর শার্ট...
আমি: শার্টও গেছে সাথে মানহার চুমুও টয়লেটে গেছে, ভবিষ্যৎ এ মানহার থেকে কিস নেওয়ার আগে আজকের কথাটা মাথায় রেখো। (রুমে আসতে যাবো তখনই মাথা ঘুরে উঠলো, তাড়াতাড়ি দেয়াল ধরলাম)
আদিল: পরে যাবে তো। (আদিল আমার একটা হাত ওর কাধে নিয়ে আমাকে ধরে ধরে রুমে নিয়ে আসলো, বেচারা শার্ট হারালো আবার আমার সেবাও করছে হিহিহি)
আদিল: খুব হাসি পাচ্ছে তাই না? আমার এতো সুন্দর শার্ট...
আমি: কাঁদে না লুচু জামাই আমি তোমাকে এর থেকে অনেক সুন্দর শার্ট এনে দিবো।
আদিল: আমি লুচু?
আমি: একদম পাক্কা লুচু। (বিছানায় শুতে শুতে ওর দিকে তাকিয়ে বললাম, ও তো মিটিমিটি হাসছে। আদিল দরজা বন্ধ করে এসে লাইট অফ করে আমার পাশে শুয়ে পড়লো, আমিতো ওর কান্ড দেখে পুরো থ)
আমি: আজ সোফায় ঘুমাবেন না?
আদিল: তুমিটাই ভালো ছিল।
আমি: মানে?
আদিল: রেগে গিয়ে যে এতোক্ষণ আমাকে তুমি করে বলছিলে ওইটাই ভালো ছিল, এখন আপনি শব্দটা কেমন যেন পানসে পানসে লাগছে।
আমি: হুহ। (পাশ ফিরে চুপচাপ শুয়ে পড়লাম। পাগলামি তো ঠিকই করি কিন্তু আমার মনের ভিতর কি চলছে সেটা তো শুধুমাত্র আমি জানি, কেন যে আদিলকে ভালোবাসতে গেলাম)
আমি: আচ্ছা আপনি যে আমার পাশে ঘুমাচ্ছেন এইটা মানহা জানলে রাগ করবে না?
আদিল: তুমিতো আমার শার্ট টয়লেটে ফেলেছ ও জানলে আমাকে কেটে কুচিকুচি করে সমুদ্রে ভাসিয়ে দিবে।
আমি: এইটা মানহা নয় আমিই করবো, আর যদি তোমার মুখে মানহা নাম শুনেছি তাহলে তোমাকে কেটে কুচিকুচি করে সমুদ্রে ভাসিয়ে দিবো আর যে দুটু চোখ দিয়ে আমাকে না দেখে মানহাকে দেখো সে চোখ দুটু দিয়ে আমি মারবেল খেলবো।
আদিল: ওরে বাবা মরে যাচ্ছি আমার গলা ছাড়ো প্লিজ! (দুহাতে আদিলের গলা চেপে ধরেছিলাম ওর কষ্ট হচ্ছে দেখে ছেড়ে দিলাম, আদিল সাথে সাথে আমার কোমড় জড়িয়ে ধরলো)
আদিল: এমন দজ্জাল বউ যেন প্রতিটি পুরুষের কপালে জুটে আর যাই হউক পরকিয়া বলতে কিছু থাকবে না হাহাহা। (ও জোড়ে জোড়ে হাসছে দেখে ইচ্ছে হচ্ছে একটা ঘুষি মেরে দেই)
আমি: ছাড়ো আমি ঘুমাবো।
আদিল: এখানে ঘুমানো যায় না? (আদিল ইশারা দিয়ে ওর বুক দেখালো, অনেকটা সময় দুজন দুজনের চোখের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম। আদিল দুহাতে আমাকে জড়িয়ে ধরেছে দেখে চুপচাপ ওর বুকে মাথা রেখে শুয়ে পড়লাম)

সকালে আদিলের ডাকে ঘুম ভাঙলো, চোখ খুলে তাকিয়ে আদিলের হাতে স্যুপের বাটি দেখে চোখ বড় বড় করে তাকালাম।
আমি: এসব কি আমি এসব খাইনা আমিতো সকালে কফি খাই।
আদিল: তুমি অসুস্থ তাই এসবই খেতে হবে।
আমি: এসব খাবো না আমি।
আদিল: আম্মুকে ডাকবো? আম্মু আসলে কিন্তু জোড় করে খাওয়াবে।
আমি: দজ্জাল শাশুড়ির হাতে খাওয়ার চেয়ে লুচু জামাইর হাতেই খাওয়া ভালো। (আমার কথা শুনে আদিল মুচকি হাসলো)
আদিল: আম্মু কিন্তু এতোটাও খারাপ না আম্মুর মনটা অনেক নরম, দেখোনা তুমি অসুস্থ বলে নিজের হাতে স্যুপ বানিয়ে দিয়ে গেছেন।
আমিতো চাই এমন একজন শাশুড়ি যে আমাকে মেয়ের মতো ভালোবাসবে আর আমি তাকে মায়ের মতো ভালোবাসবো।

বিছানায় আধশোয়া হয়ে ফোন টিপছি আর আদিল অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছে। হঠাৎ আমার ফোন বেজে উঠলো, আব্বু ফোন দিয়েছেন।
আমি: হ্যালো আব্বু।
আব্বু: শুভ জন্মদিন মা।
আমি: মনে আছে তাহলে?
আব্বু: এই দিনটা কি ভুলার?
আমি: আব্বু আজকের দিনেও তুমি কাঁদবে? আমার জন্মদিন বুঝি তোমার কাছে কিছুই না? ও তোমার কাছে সবকিছু তাই না?
আব্বু: নারে পাগলী, আচ্ছা তোর কন্ঠ এমন শুনাচ্ছে কেন?
আমি: একটু জ্বর...
আব্বু: আমাকে বললি না যে?
আমি: কমে যাবে আব্বু টেনশন করো না।
আব্বু: তোকে আজ খুব দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে, তোর ফুফুও বারবার তোকে দেখতে চাইছিল।
আমি: এতো দূরে থেকে কিভাবে সম্ভব আব্বু? কিছুদিন পর মা'কে বলে আসবো।
আব্বু: তোর শাশুড়ি মা তো আমার সামনেও আসেনা আবার কথাও বলেনা নাহলে উনাকে আজ একবার বলে দেখতাম।
আমি: আব্বু মা তো পর পুরুষের সামনে যান না, শুধু তাই না বাইরের কারো সামনেই যান না।
আব্বু: এইটা খুব ভালো।
আমি: হ্যাঁ, ফুফুকে বলো আমার গিফট পাওনা রইলো।
আব্বু: বাসায় এসে পেয়ে যাবি।
আমি: আচ্ছা রাখছি এখন।
ফোন রাখতেই কল লিস্টে চোখ পড়লো, তানিয়া ফারজানা দুজনেই কল দিয়েছিল কিন্তু কথা বললো কে?

ফোন হাত থেকে রেখে আদিলের দিকে তাকালাম, ও মুখ গোমড়া করে সোফায় বসে আছে।
আমি: অফিসে যাবে না?
আদিল: হুম।
আমি: তাহলে মুখ প্যাঁচার মতো করে বসে আছ কেন?
আদিল: ভাবছি।
আমি: কি?
আদিল: শার্ট'টা মানহা গিফট করেছিল, মানহা যদি হুট করে জিজ্ঞেস করে শার্ট কোথায় তাহলে কি বলবো।
আমি: হিহিহি...
আদিল: তোমার হাসি পাচ্ছে তাই না?
আমি: তোমার মানহার গিফট টয়লেটে আর আমি হাসবো না তা আবার হয় নাকি?
আদিল: ছাড়াচ্ছি তোমার হাসি। (আদিল আমার দিকে এগিয়ে আসছে দেখে আমি দৌড়ে জানালার কাছে চলে গেলাম, আদিল অনেক্ষণ আমাকে দৌড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ধরে ফেললো। এক হাতে আমার কোমড় জড়িয়ে ধরে অন্যহাতে প্যান্টের পকেট থেকে কি যেন বের করলো)
আদিল: হ্যাপি বার্থডে। (আমার সামনে এক গুচ্ছ লাল গোলাপ ধরে রেখেছে, অবাক হয়ে একবার আদিলের দিকে তাকাচ্ছি আবার গোলাপের দিকে তাকাচ্ছি)
আদিল: ফুল গুলো পছন্দ হয়নি? আরে বাবা গিফট দিবো, আমিতো সকালে জানতে পেরেছি আজ যে তোমার বার্থডে।
আমি: কে বলেছে?
আদিল: তোমার ফ্রেন্ডসরা মেসেজ করেছিল আমি সেটা তোমার ফোনে দেখেছি তারপর তো তোমার বান্ধবীরা ফোনও করেছিল।
আমি: তুমিই তাহলে ওদের সাথে কথা বলেছ? (আদিল মুচকি হেসে মাথা নাড়লো)
আদিল: আনিশা পাগলীর মুখে তুমি ডাকটা খুব সুন্দর মানায়। (আমার নাকে নাক ঘষে দিয়ে দুষ্টু হাসি হাসছে)
আমি: আমি যা গিফট চাই তা দিবে?
নীরব: মোটেও না। (নীরবের কন্ঠ শুনে আদিল আমাকে ছেড়ে দিয়ে দূরে সরে দাঁড়ালো, আমি ফুল গুলো হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি)
নীরব: আদিল আমি জানি আনিশা তোর কাছে কি চাইবে।
আদিল: কি?
নীরব: কি আবার সব মেয়েরা যা চায়।
আদিল: মানে?
নীরব: একটা পুঁচকে বাচ্চা হাহাহা। (নীরব আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে, আমি লজ্জা পেয়ে আদিলের দিকে তাকালাম, আদিল ভয়ে চুপসে গেছে)
আমি: ভয় নেই আমি কোনো বাচ্চা চাইবো না, যে আমাকে ভালোই বাসে না তার কাছে আবার বাচ্চা চাইবো এতোটাও বোকা নই আমি।
ফুল গুলো বিছানার উপর রেখে চুপচাপ বারান্দায় চলে আসলাম।

নীরবের দুষ্টুমিতে আদিল এতোটা ভয় পেয়ে গেল? আদিল কি তাহলে সত্যি আমাকে ডিভোর্স দিয়ে মানহাকে বিয়ে করবে?
নীরব: আমি আনিশার সামনে দুষ্টুমি করেছি আসলে ও ডিভোর্স চায়।
আদিল: মানে?
নীরব: হ্যাঁ ও গতকাল দাদুকে বলছিল গিফট হিসেবে তোর কাছে মুক্তি চাইবে। আদিল এখনো সময় আছে পরে কিন্তু পস্তাতে হবে।
আদিল: কিন্তু নীরব আমি অন্য কাউকে ভালোবাসি, আমি ওকে ঠকিয়ে আনিশাকে মেনে নিতে পারবো না। (বারান্দায় দাঁড়িয়ে ওদের কথা শুনছিলাম, আদিল মনে হলো শেষ কথাটা একটু জোড়েই বলেছে)
নীরব: ভেবে বলছিস তো? পরে কিন্তু পস্তাতে পারবি না।
আদিল: হুম ভেবেই বলছি।
নীরব: তাহলে আনিশাকে একা থাকতে দে অজতা মায়া বাড়াস না।
রুমের দিকে তাকালাম, নীরব রাগ দেখিয়ে চলে গেছে। আদিল তারমানে মানহাকেই বিয়ে করবে, আমি শুধু শুধু ওকে নিয়ে স্বপ্ন বুনছি।

আমি: কিসের প্রতিশোধ নিচ্ছে ওরা? সত্যি করে বলুন প্লিজ! (নীরবের রুমে এসে প্রশ্নটা ওকে করেই ফেললাম, আর কেউ তো বলছে না আমায়)
নীরব: জানতাম তুমি আমার কাছে এইটা জানতে চাইবে।
আমি: বলুন না ওরা আমার থেকে কিসের প্রতিশোধ নিচ্ছে, আমাকে ওরা তিলেতিলে কষ্ট দিয়ে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে দিচ্ছে কিন্তু কেন?
নীরব: আমি তোমাকে একটা প্রশ্ন করবো তুমি যদি উত্তরটা সঠিক দিতে পারো তাহলে তোমার উত্তরের মধ্যেই তোমার করা প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবে।
আমি: কি প্রশ্ন?
নীরব: কখনো কি কারো সাথে...
আদিল: আনিশা তুমি এখানে আর আমি... (আদিল আসছে দেখেও পাত্তা দিলাম না)
আমি: প্লিজ প্রশ্নটা বলুন।
আদিল: আনিশা মানহা তোমার সাথে কথা বলতে চায়। (আদিল আমার দিকে ফোন এগিয়ে দিলো, নীরবের দিকে তাকালাম ও ইশারা দিয়ে কথা বলতে বললো)

ফোনটা যতো কানের কাছে নিচ্ছি ততোই যেন হার্টবিট বাড়ছে, জানিনা এই মেয়ে কি বলবে আবার।
আমি: হ্যালো।
মানহা: কেমন আছ?
আমি: ভালো আপনি?
মানহা: ভালো, কি করছ?
আমি: কিছুনা।
মানহা: আদিল বলছিল তুমি ওকে ভালোবে...
আমি: না আমি ওকে ভালোবাসি না।
মানহা: কিন্তু আদিল যে বললো তুমি ওকে ভালোবেসে ফেলেছ ও কি করবে বুঝতে পারছে না তাই তো আমি তোমাকে ফোন দিলাম।
আমি: না না আমি কাউকে ভালোবাসি না।
মানহা: আমি ওকে সত্যি অনেক ভালোবাসি, আমি আদিলকে ছাড়া বাঁচবো না। প্লিজ আনিশা তুমি...
আমি: ভয় নেই আমি আপনার ভালোবাসার দিকে হাত বাড়াবো না।
মানহা: হুম।
ফোন রেখে ফোনটা আদিলের দিকে এগিয়ে দিলাম।

নীরবের রুমেই চুপচাপ সোফায় বসে আছি, আদিল নীরব দুজনেই বিছানায় বসে আছে। ভেবেছিলাম মানহা নামের বুঝি কোনো অস্তিত্বই নেই কিন্তু...
নীরব: আদিল এভাবে চলতে পারেনা, শুধুমাত্র প্রতিশোধের নেশায় তোরা একটা মেয়ের জীবন নিয়ে এভাবে খেলতে পারিস না। তুই আনিশার হাত ছেড়ে দে নাহয়...
আদিল: আমি ওর হাত ধরেছিলাম কবে? (আদিলের মুখে এই কথা শুনে পুরো থ হয়ে গেলাম, তারমানে এতোদিন আমার প্রতি আদিল সহানুভূতি দেখাচ্ছিল?)
নীরব: তাহলে এতোদিন... (আদিলের চোখের সামনে থাকতে ইচ্ছে হলো না তাই উঠে চলে আসতে চাইলাম কিন্তু নীরব আমার হাত ধরে ফেললো)
নীরব: আনিশা আই লাভ ইউ। (নীরবের মুখে এই কথা শুনে আদিল আমি দুজনেই বেশ অবাক হলাম)
নীরব: প্রথম যখন দেখেছিলাম তোমাকে তখনই ভালো লেগেছিল কিন্তু বন্ধুর স্ত্রী বলে সাহস পাইনি। কিন্তু আজ যখন আদিল তোমাকে ছেড়েই দিচ্ছে তাহলে আমার আর বলতে...
আদিল: পাগল হয়ে গেছিস কিসব বলছিস?
নীরব: সত্যি বলছি আনিশা আমি তোমাকে ভালোবাসি। আদিল তোমাকে ডিভোর্স দিলে আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই, আর এতে যদি ওদের কারো সমস্যা হয় তাহলে আমি তোমাকে নিয়ে বাহিরে চলে যাবো। আর...
নীরবের আর কোনো কথা আমার কানে এসে পৌঁছচ্ছে না, নীরব এখনো আমার হাতটা ধরে আছে দেখে হাতের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকালাম। আচ্ছা আমি কি নিজের অজান্তে কোনো পাপ করেছিলাম যে এখন এতো শাস্তি পাচ্ছি? কেউ প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আমাকে বিয়ে করেছে আবার নিজের ভালোবাসার জন্য আমাকে ছুড়ে ফেলে দিচ্ছে, আর অদ্ভুত ভাবে তারই বন্ধু ছুড়ে ফেলা দেয়া আমাকে লোফে নিচ্ছে। সত্যি কি আমি এতোটাই সস্তা...

চলবে😍
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url