তবুও ভালোবাসি | পর্ব -১৬
বাইরে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে, ভোরবেলা চারদিকে একটু একটু করে আলো ফুঁটতে শুরু করেছে। আমি জানালার কাছে দাঁড়িয়ে উদাসীন হয়ে বৃষ্টি দেখছি, মনে হচ্ছে ভোরের আলো ফুটার সাথে সাথে আমি অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছি আমার আশা ভালোবাসা স্বপ্ন সব যেন গভীর অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে। আদিলের সাথে কাটানো সুন্দর মুহূর্ত গুলোর কথা মনে পড়ছে, খুব মিস করছি আদিলকে। আচ্ছা আদিলও কি আমায় মিস করছে?
ফুফু: আনিশা আনিশা... (ফুফু আসছেন তাড়াতাড়ি চোখের পানি মুছে নিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক করে নিলাম)
ফুফু: আসার পর থেকে এখানে ঠাই দাঁড়িয়ে আছিস আর কি যেন ভাবছিস ফ্রেশ হবি না? ভাইয়া এসে কিছু খায়নি তুই না খেলে ভাইয়া খাবে না জানিসই তো।
আমি: (নিশ্চুপ)
ফুফু: আনিশা আমি তোর সাথে কথা বলছি আর তুই বাইরে তাকিয়ে আছিস? যা ফ্রেশ হয়ে খেতে আয়।
আমি: খাবো না খিধে নেই।
ফুফু: কেন জিদ করছিস? যা হয়েছে এর পর ভাইয়া তোকে ওই বাসায় রাখবে না।
আমি: ফুফু বলতে পার এতে আমার কি দোষ? আমি আর আদিল কেন কষ্ট পাচ্ছি?
ফুফু: আদিল চাইলেই সবটা সামলে নিতে পারতো, আসলে ও তোকে ভালোই বাসে না তাই তখন কিছু বলেনি। (ফুফুর দিকে তাকালাম, সত্যি কি আদিল আমাকে ভালোবাসে না?)
ফুফু: সারারাত জার্নি করে ভোররাতে বাসায় পৌঁছেছিস আর তখন থেকে এখানে ঠাই দাঁড়িয়ে আছিস, যা মা ফ্রেশ হয়ে খেয়ে একটু ঘুমিয়ে নে।
আমি: ইচ্ছে করছে না।
ফুফু: আমি কিন্তু ভাইয়াকে গিয়ে বলবো।
আমি: যাও আসছি।
ফুফু: তাড়াতাড়ি আয়।
আমি: হুম।
ফ্রেশ হয়ে ড্রয়িংরুমে আসলাম আব্বু সোফায় বসে পত্রিকা পড়ছেন, আমার উপস্থিতি টের পেয়ে পত্রিকা নামিয়ে আমার দিকে তাকালেন।
আব্বু: এখনো মুখ মলিন করে রেখেছিস কেন? যা হয়েছে ভুলে যা।
আমি: (নিশ্চুপ)
আব্বু: আমি তোর খারাপ চাই না, আদিল যদি তখন তোর হাত ধরতো তাহলে আমি মেনে নিতাম কিন্তু আদিল তো বোবার মতো বসে ছিল। তুই বল যেখানে শাশুড়ি রাখতে চায় না স্বামী কোনো দায়িত্ব পালন করে না সেখানে তোকে আমি রেখে আসি কিভাবে? (সত্যিই তো আদিল তো তখন কোনো কথা বলেনি, তখন যদি একবার আদিল আমাকে রাখতে চাইতো তাহলে হয়তো আব্বু এতোটা রেগে যেতেন না)
আব্বু: খেয়ে নে আর দুশ্চিন্তা না করে রেস্ট নে সারারাত গাড়িতে কেটেছে।
আমি: হুম। (চুপচাপ এসে টেবিলে বসলাম, ফিরোজ চাচ্চু খাবার ভেড়ে দিচ্ছেন আমি চুপচাপ খেয়ে নিচ্ছি। আর ভাববো না আদিলের কথা, কেন ভাববো ও কি আমার কথা ভেবেছে?)
ফুফু: একা খেয়ে নিচ্ছিস ভাইয়াকে ডাকবি না?
আমি: আব্বু তো আমার উপর রেগে আছেন।
ফুফু: তো রাগ করবে না? এই মহিলা তোর উপর অত্যাচার করেছে অথচ তুই আমাদের জানাসনি।
আমি: ফুফা একদিন মাতাল হয়ে তোমার গায়ে হাত তুলেছিল আর তুমি সেটা আব্বুকে ফোন করে কেঁদে কেঁদে বলেছিলে ব্যস আব্বু তোমাকে বাসায় নিয়ে এসেছেন। তোমাদের ডিভোর্স করিয়েছেন, শুধু তাই নয় ফুফার বিরুদ্ধে মামলা করে উনাকে পাঁচ বছর জেলে রেখেছেন। আমিতো সব জানি, সব জেনেশুনে আব্বুকে কি করে বলতাম এসব? তাছাড়া আমি আদিলকে ভালোবাসি ও...
আব্বু: ভালোবাসা বলতে দুনিয়ায় কিছু নেই এসব ভুলে যা। আর সায়মাকে আমি বারবার বলেছিলাম বিয়ের কথা কিন্তু ও রাজি হয়নি, ওর একটাই কথা ছিল রাইমা আর আনিশাকে আগলে রেখে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিবে। তখন সায়মার কথা শুনলেও এখন তোর কথা শুনবো না, ওই মহিলা ডিভোর্স পেপার পাঠালে আমি তোর আবার বিয়ে দিব।
আমি: আব্বু?
আব্বু: চিৎকার করে লাভ নেই চুপচাপ খেয়ে নে।
আমি: খাবো না।
কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে রুমের দিকে চলে আসলাম।
বিছানায় শুয়ে কাঁদছি আর আব্বুর বলা শেষ কথাটা ভাবছি। আদিল কেন করল এরকম কাল অব্ধি তো আদিল বলছিল মায়ের অন্যায় কথা ও মেনে নিবে না তাহলে কেন মেনে নিল? তাহলে কি আদিল আমাকে ভালোবাসে না সব মিথ্যে ছিল? এখন যদি সত্যি ডিভোর্স হয়ে যায় আর আব্বু আমাকে আবার বিয়ে দেন? ভাবতে পারছি না এসব মাথা ঘুরছে। দরজায় কেউ একজন নক করছে শুনে উঠে বসলাম।
আমি: কে?
ভাইয়া: আমি।
আমি: ওহ সিহাব ভাইয়া। (দরজা খুলে দিয়ে আবার বিছানায় এসে বসলাম, ভাইয়া সোফায় এসে বসলো)
আমি: তুমি এতো সকালে?
ভাইয়া: ফুফু ফোন করে সব বললো তাই তোকে দেখতে এসেছি।
আমি: (নিশ্চুপ)
ভাইয়া: যা হবার হয়েছে সব ভুলে যা আবার সবকিছু নতুন করে শুরু কর।
আমি: দেখো আমার ব্যাপারে অন্য কেউ কথা বলুক সেটা আমি পছন্দ করিনা।
ভাইয়া: মাঝেমাঝে ইচ্ছে না হলেও পছন্দ করতে হয়।
আমি: তুমি ব্যবসা সামলাচ্ছ সেটাই করো আমাকে সামলাতে এসো না।
ভাইয়া: আদিল খুব খারাপ ছেলে বুঝার চে...
আমি: একদম চুপ আদিলের নামে একটাও বাজে কথা বললে...
ভাইয়া: তুই শুধু শুধু রেগে যাচ্ছিস আমিতো...
আমি: বের হও আমার রুম থেকে, আমাকে নিয়ে কারো ভাবতে হবে না।
ভাইয়া আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে রুম থেকে বেরিয়ে গেল, মাথাটাই গরম করে দিয়েছে। সাতসকালে আসছে আদিলের নামে বদনাম করতে। হঠাৎ মনে হলো যে সিহাবকে কোনো কাজ ছাড়া এই বাসায় আনা যায় না সে সিহাব আজ শুধুমাত্র এসব শুনে নিজের ইচ্ছায় চলে আসলো তাও আবার সাতসকালে? কেমন যেন রহস্য রহস্য লাগছে, নিজেকে শান্ত করে নিলাম। ভাবছি এই সাতসকালে ভাইয়া শুধু কি এসব ঘটনা শুনে এসেছে নাকি অন্য কোনো কারণ আছে? আবির ভাইয়া সুইসাইড করলো মা আমাকে দায়ী করে বাসা থেকে রাতেই বের করে দিলেন আর আজ সাতসকালে ভাইয়া এসে আমার কাছে আদিলের নামে বদনাম বলছে, সবকিছু কেমন যেন অদ্ভুত লাগছে। আচ্ছা দুটু বিষয়ে কোনো রহস্য নেই তো?
সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে এসেছে আমি ছাদে বসে আদিলের কথা ভাবছি। ড্রয়িংরুম থেকে বেরিয়ে এসেছিলাম তাই ফোনটা আনা হয়নি আর এনেই বা লাভ কি আদিলের তো আর ফোন নেই। আচ্ছা আদিল কি আমার ফোনটা রুমে পায়নি? ও তো পারে আমাকে একটা ফোন করতে, তাহলে কি সবার কথাই ঠিক আদিল আমাকে ভালোবাসে না? তাহলে এতোদিন সব মিথ্যে ছিল? কিন্তু আদিল তো বলতো ও আমাকে বিয়ের আগে থেকে ভালোবাসে। আসলে আমিই ভুল ছিলাম আদিল আমাকে ভালোবাসে না, যদি ভালবাসতো তাহলে কাল এভাবে চুপ হয়ে থাকতে পারতো না মায়ের অন্যায় কথায় প্রতিবাদ করতো।
ফিরোজ চাচ্চু: আনিশা মা তোমার শশুড় বাড়ি থেকে ফোন এসেছে। (কথাটা শুনে চমকে উঠে পিছন ফিরে তাকালাম, নিশ্চয় আদিল ফোন করেছে)
ফিরোজ চাচ্চু: তোমার ফুফু কথা বলছে দেখে তোমাকে বলতে আসলাম, তুমি নিচে যাও।
আমি: যাচ্ছি।
দৌড়ে নিচে আসলাম, এতোক্ষণ কিসব আজেবাজে চিন্তা করেছি এইতো আমার আদিল ফোন করেছে।
ফুফু: আর একবার ভেবে দেখলে হয় না? মেয়েটা আপনার ছেলেকে খুব ভালোবাসে আর আমি যতোটুকু বুঝতে পেরেছি আদিলও আনিশাকে ভালোবাসে। কেন শুধু শুধু দুটু নিষ্পাপ মন ভাঙতে চাইছেন? (ফুফুর কথা শুনে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছি, ফুফু যে মায়ের সাথে কথা বলছেন সেটা খুব ভালো ভাবেই বুঝতে পারছি। মা ফোনের অপর পাশ থেকে কি বলছেন কিছুই শুনা যাচ্ছে না কিন্তু এই মহিলা ফোন করলো কেন?)
ফুফু: আমার কি মনে হয় জানেন? আপনি খুব বেশি টেনশনে হিতাহিত জ্ঞান টুকু হারিয়ে ফেলেছেন নাহলে সদ্য বিয়ে হওয়া দুটু ফুলের মতো জীবন এভাবে ধ্বংস করতে পারতেন না। আর আপনি না ওদের মা তাহলে কিভাবে নিজের ছেলের কষ্ট সহ্য করতে পারছেন? আমিতো আনিশার ফুফু হই মা নই তবুও মেয়েটার মুখের দিকে তাকাতে পারিনা মেয়েটা সারাক্ষণ কাঁদে।
আমি: ফুফু আমার কাছে দাও। (ফুফুর থেকে ফোন আনলাম)
আমি: মা একবার বুঝার চেষ্টা করুন আপনি যা করছেন তা অন্যায়, প্লিজ আমাদের আলাদা করে দিবেন না।
মা: আমি এসব শুনতে ফোন করিনি আমি তোমাদের জানাতে ফোন করেছি যে ডিভোর্স পেপার আসতে দুমাস সময় লাগবে।
আমি: মা আদিলকে একবার ফোনটা দিবেন এক মিনিট কথা বলবো শুধু।
মা: আদিল বাসায় নেই মানহার সাথে শপিং এ গেছে।
আমি: মানহা?
মা: হ্যাঁ ভাবছি তোমাদের ডিভোর্স এর পরপরই আদিলের সাথে মানহার বিয়েটা সেরে ফেলবো।
আমি: কিন্তু মানহা নামে তো কেউ নেই।
মা: তুমি বড্ড বোকা আদিল বললো আর তুমি বিশ্বাস করে ফেললে।
আমি: আদিল আমাকে মিথ্যে বলেছে? না না এইটা কি করে সম্ভব?
মা: ছেলে যখন আমার তখন সবই সম্ভব।
আমি: আপনার ছেলে তো নয়।
মা: মানে?
আমি: আপনি ওদের আসল মা নন আমি জানি।
মা: এই মেয়ে কি বলতে চাইছ? ভালোভাবে কথা বলছি বলে সাহস বেড়ে গেছে? শুনো আমিই ওদের মা, এইটা নিয়ে একদম মাথা ঘামাতে এসো না।
মা ফোন কেটে দিলেন, ফুফুর দিকে একবার তাকিয়ে পাশে রাখা চেয়ারটা টেনে বসে পড়লাম। ভেবেছিলাম আদিল ফোন করেছে কিন্তু...
ফুফু: তখন ফোনে কি বলছিলি উনি ওদের আসল মা নয় মানে?
আমি: আদিল দুদিন বলেছে এই মহিলা ওদের আপন মা নয় কিন্তু উনি কে এসব ব্যাপারে কথা বলার সুযোগ হয়ে উঠেনি।
ফুফু: তাই হবে এই মহিলা ওদের আসল মা হতে পারেনা, নিজের মা হলে ছেলেকে এভাবে কষ্ট দিতে পারতো না।
আমি: আদিলকে ছাড়া আমি থাকতে পারবো না ফুফু।
ফুফু: দেখ আদিল যদি তোকে ভালবাসতো তাহলে নাহয় আমি ভাইয়াকে বুঝাতাম কিন্তু আদিল যেখানে তোকে ভালোবাসে না আমি কোন ভরসায় ভাইয়াকে বুঝাবো?
আমি: (নিশ্চুপ)
ফুফু: কাঁদিস না সব ঠিক হয়ে যাবে।
আমি: হুম।
মধ্যে কেটে গেছে দুটু দিন, দুটু দিন আদিলের একটা ফোনের অপেক্ষায় অধীর আগ্রহে কাটিয়েছি। আসলে আব্বু ঠিকই বলে আদিল আমাকে ভালোবাসে না, ভালোবাসলে ঠিক আমাকে ফোন করতো। আমার ফোন তো আদিলের কাছেই আছে ফোনে আব্বুর নাম্বার আছে বাসার নাম্বার আছে চাইলেই তো আদিল ফোন করতে পারে কিন্তু ও তো করেনি। আমিই বোকা মিথ্যে মরীচিকাকে আপন ভেবে এতোটা ভালোবেসেছি।
ভাইয়া: কিরে চা সামনে রেখে এতো গভীর ভাবে কি ভাবছিস? চা তো ঠান্ডা হয়ে যাবে। (সিহাব ভাইয়ার কথায় চমকে উঠে টেবিলের দিকে তাকালাম, সত্যিই তো চা সামনে রেখে আমি এসব ভাবতে বসেছিলাম)
ভাইয়া: একটা গুড নিউজ আছে।
আমি: কি?
ভাইয়া: আগামীকাল আম্মু আসছে।
আমি: সত্যি?
ভাইয়া: হুম তুই নাকি আম্মুকে বলেছিলি আসতে কি যেন হিসাবনিকাশ করবি।
আমি: হুম হিসাবনিকাশ তো কিছুটা করতেই হবে।
ভাইয়া: তুই আমাকে সন্দেহ করছিস?
আমি: হয়তো সন্দেহ করার মতো কোনো কাজ করেছ।
ভাইয়া: চাচ্চু চাচ্চু...
আমি: আব্বুকে ডাকছ কেন?
ভাইয়া: চাচ্চুর সাথে আমার কথা আছে।
আব্বু: সিহাব তুই এই সন্ধ্যা বেলায়? (আব্বু সিঁড়িতে থাকতেই ভাইয়া উঠে আব্বুর কাছে গেল, যতোই ভালো মানুষ সাজো না কেন তোমাকে আমার সন্দেহ হচ্ছে ব্যবসার কাজেও আদিল আর আমাকে আলাদা করার কাজেও)
ভাইয়া: আমাকে আনিশা সন্দেহ করছে, আচ্ছা চাচ্চু বলতো আমি কখনো এমন কাজ করেছি যাতে তোমার ক্ষতি হয়?
আমি: সেটা নাহয় হিসাব করার পর আমিই আব্বুকে জানিয়ে দিবো।
ভাইয়া: তুই কি ব্যবসার দায়িত্ব নিতে চাইছিস?
আমি: কেউ যদি আমানতের খিয়ানত করে তাহলে তো নিজেদের ব্যবসা নিজেকেই সামলাতে হবে।
ভাইয়া: পারবি তুই?
আমি: তুমি হয়তো ভুলে গেছ তোমার চেয়ে বড় ব্যবসায়ী আব্বু আর আমি উনারই মেয়ে তাছাড়া পড়াশোনা তো আর অজতা করিনি।
আব্বু: তোরা তো দেখছি ঝগড়া শুরু করে দিয়েছিস।
ভাইয়া: আসছি আমি।
ফুফু: সিহাব যাসনা আকাশে মেঘ জমেছে বৃষ্টি নামবে এখনি।
আমি: মেঘ তো এবার ওর মনে জমবে ফুফু।
ফুফু: শুধু শুধু ছেলেটাকে রাগাতে গেলি কেন?
আমি: শুধু শুধু যে নয় সেটা চাঁচি আসার পর সবকিছু হিসাব করেই আমি প্রমাণ করে দিব। আদিল আর আমাকে আলাদা করাতেও যে ওর হাত আছে সেটাও আমি প্রমাণ করবো।
ফুফু: সিহাব কেন তোদের আলাদা করতে যাবে?
আব্বু: সায়মা আনিশার সন্দেহ ঠিক হতে পারে কারণ সিহাবের অনেক কাজ আমার কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছে।
ফুফু: সেটা নাহয় ব্যবসার বেলায় কিন্তু তাই বলে আনিশার সংসারে?
আমি: হুম আমার সন্দেহ হচ্ছে।
ফুফু: অজতাই সিহাবকে দোষ দিচ্ছিস, তোর সংসার ভেঙেছে কারণ আদিল তোকে ভালোবাসে না তোকে চায় না।
আমি: ফুফু...
ফুফু রাগ দেখিয়ে চলে গেলেন আব্বুও আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে চলে গেলেন, আমি এলোমেলো পায়ে রুমের দিকে এগুলাম। বড্ড বেশি কষ্ট হচ্ছে, আদিলকে আমি কখনো ক্ষমা করবো না ও আমাকে ঠকিয়েছে।
প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়েছে আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, কারেন্ট নিয়ে গেছে রুমে কোনো আলোর রেখা নেই। আগে এমন ঝড়-বৃষ্টি হলে ভয় পেয়ে রাইমাকে জড়িয়ে ধরে খাটের এক কোণে বসে থাকতাম আর আজ জানালার কাছে দাঁড়িয়ে আকাশে বিদ্যুৎ চমকানো দেখছি হাত বাড়িয়ে বৃষ্টি ছোঁয়ার চেষ্টা করছি। বেশি কষ্ট নাকি মানুষকে পাথর বানিয়ে দেয় আমিও হয়তো পাথর হয়ে গেছি তাই তো আজ ভয় পাচ্ছি না, আদিল আমাকে ভালোবাসে না জেনেও দুচোখ দিয়ে পানি আসছে না।
জানালার গ্রীলে কপাল ঠেকিয়ে উদাসীন হয়ে বৃষ্টি দেখছি হঠাৎ বারান্দায় কিসের যেন একটা শব্দ হলো, কেউ বারান্দায় লাফিয়ে পড়েছে কিন্তু এতো রাতে বারান্দায় কে আসবে আর বারান্দার দরজা তো লাগানো। আস্তে আস্তে বারান্দার দিকে এগুলাম তখনি দরজায় টোকা পড়লো, দরজা খুলবো কিনা ভাবতে ভাবতে খুলেই ফেললাম। আকাশে বিদ্যুৎ চমকানোর আলোতে আদিলকে এক ঝলক দেখেই চমকে উঠলাম, আদিল দরজার সামনে ঠাই দাঁড়িয়ে আছে আমি অন্ধকারেও ওকে অনুভব করতে পারছি।
আদিল: আনিশা... (আদিল আমাকে টেনে নিয়ে ওর বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলো, ও তো পুরো কাক ভেজা হয়ে আছে)
আদিল: কথা বলবে না আমার সাথে?
আমি: তুমি এতো রাতে আর এই ঝড়ের মধ্যে কিভাবে আসলে?
আদিল: আমিতো এসেছিলাম সেই সন্ধ্যাবেলায় কিন্তু তোমার চাচাতো ভাই সিহাব আমাকে বাসায় ঢুকতে দেয়নি উল্টো দুজনকে দিয়ে আমাকে পিটিয়েছে।
আমি: মানে?
আদিল: আমি তোমাকে সেদিনই বলেছিলাম এই ছেলের মধ্যে ঘাপলা আছে, নাহলে আমাকে বাসায় ঢুকতে দিবে না কেন? এতোক্ষণ লুকিয়ে ছিলাম সিহাব নিচে বসে আড্ডা দিচ্ছে বিশ্বাস নাহলে বাসার নিচে গিয়ে দেখো। আমি ওদের চোখ ফাঁকি দিয়ে পাইপ বেয়ে তোমার বারান্দায় এসেছি।
আমি: হ্যাঁ হিরোর মতো কাজ করেছ এবার যাও ভেজা ড্রেস চেঞ্জ করো।
আদিল: আমার উপর রেগে আছ? আমি তোমাকে সব বলবো শুধু একটু সময় দাও আমাকে প্লিজ!
আমি: হুম। (আমি রুমে চলে আসছিলাম আদিল আমাকে টেনে নিয়ে আবার জড়িয়ে ধরলো)
আদিল: এই তিনদিন তোমাকে ছাড়া কতো কষ্টে কাটিয়েছি তুমি জানো?
আদিল আমার দুগাল ধরে পাগলের মতো কপালে চোখে গালে চুমু দিচ্ছে আর কাঁদছে। এবার তো আমার নিজের উপর ঘৃণা হচ্ছে আদিল আমাকে এতোটা ভালোবাসে আর আমি কিনা ওকে ভুল বুঝেছিলাম। আদিলকে জড়িয়ে ধরলাম, যে যাই বলুক আর কখনো আমি ওকে ভুল বুঝবো না...
চলবে😍
