তবুও ভালোবাসি | পর্ব -১৭
মোমবাতির আলোতে আদিলের জন্য খাবার বেড়ে নিয়ে ওর জন্য অপেক্ষা করছি, আদিল ফ্রেশ হচ্ছে আর আমি বসে বসে মোমবাতির আগুনে আঙ্গুল দিয়ে খেলা করছি। হঠাৎ দরজা খুলার শব্দে পিছন ফিরে তাকালাম, মোমবাতির আবছা আলোতে আদিলকে দেখা যাচ্ছে ও আমার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে।
আমি: হাসছ কেন?
আদিল: মোমবাতির আলোতে তোমার মায়াবী মুখটা আরো বেশি মায়াবী লাগছে কেমন যেন মাতাল করে দি... (কারেন্ট চলে আসলো আদিল অসহায়ের মতো লাইটের দিকে তাকিয়ে আছে)
আদিল: এই কারেন্টকে এখনি আসতে হলো?
আমি: এবার ভালো করে মোমবাতির আলোতে মায়াবী মুখ দেখে মাতাল হও।
আদিল: বেশি হেসো না লাইট অফ করে ফেলবো।
আমি: এই একদম না। (এতোক্ষণে আদিলের বুকের দিকে নজর পড়লো, বুকের পশমে ফোটা ফোটা পানি জমেছে আর লাইটের আলোতে সেগুলো চিকচিক করছে)
আদিল: কি দেখছ? (আদিল যে কখন আমার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে বুঝতেই পারিনি)
আমি: কই কিছু নাতো।
আদিল: আমি জানিতো তুমি এই বুক দেখেই বারবার আমার উপর ক্রাশ খাও হাহাহা।
আমি: বয়েই গেছে আমার।
আদিল: তুমি বললে আমি প্রমাণ করে দিতে পারবো।
আমি: করো তো। (আমার কথা শেষ হতেই আদিল আমার হাত ধরে টান দিয়ে আমাকে ওর বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলো)
আদিল: তিনদিন তুমি এই বুকে ছিলে না জানো কতোটা শূন্যতা অনুভব করেছি? বুকের বা পাশটায় একবার কান পেতে শুনো শুধু তোমার নাম শুনতে পাবে (আদিল আমার মাথায় চুমু দিচ্ছে আর আমি ওর ভেজা বুকে নাক ঘষছি)
আদিল: মেডাম আর কতক্ষণ এভাবে নাক ঘষবে আমার কিন্তু বড্ড খিধে পেয়েছে। (আদিল আমার কানের কাছে মুখ এনে কথাটা বলতেই লজ্জা পেয়ে ওর থেকে দূরে সরে আসলাম, কি যে করিনা আমি এবার তো লজ্জায় ওর দিকে তাকাতে পারছি না)
আদিল: প্রমাণ করে দিলাম তো? এবার বুঝতে পেরেছ তুমি এই বুক দেখে কতোটা মাতাল হও?
আমি: (নিশ্চুপ)
আদিল: লজ্জা পেলে তোমার গাল দুটু লাল হয়ে যায়, ঠোঁট দুটু কাঁপে, চোখের পাপড়ি গুলো মিটমিট করে আর সবগুলো মিলিয়ে তোমাকে অনেক বেশি সুন্দর লাগে। (আদিল ফিসফিস করে কথাগুলো বলে মুচকি হেসে সোফায় গিয়ে বসলো, এখনো লজ্জায় ওর দিকে তাকাতে পারছি না আড়চোখে ওকে দেখছি শুধু)
আদিল: এতো লজ্জা না পেয়ে আমাকে খাইয়ে দিলেই তো পারো লজ্জাটাও কেটে যায় আমারো খাওয়া হয়ে যায়।
আমি: পারবো না।
হনহন করে হেটে বারান্দায় চলে আসলাম, বেশ বুঝতে পারছি আমার লজ্জা পাওয়া দেখে আদিল এখনো মুচকি হাসছে।
বারান্দায় দাঁড়িয়ে আনমনা হয়ে আদিলের কথা ভাবছিলাম হঠাৎ ও এসে আমাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো। আমার পেটের উপর রাখা আদিলের দুহাতের উপর আমার দুহাত রাখলাম, এখনো যেন ভাবনার রেশ কাটছে না বারবার একটা ভয় মনের মধ্যে উঁকি দিচ্ছে কি হবে আমাদের দুজনের এই ভালোবাসার পরিণতি?
আদিল: বাব্বাহ্ এতো মনোযোগ দিয়ে কি ভাবা হচ্ছে?
আমি: ভাবছি সকালে যখন আব্বু তোমাকে দেখবেন তখন আব্বু কতোটা রাগ করবেন? তাছাড়া মা যখন জানতে পারবেন তুমি আমাদের বাসায় আছ তখন মা কতোটা রাগ করবেন ভাবতে পারছ?
আদিল: যে যেমন খুশি রাগ করুক আমি এসব পরোয়া করিনা, তুমি পাশে থাকলে আমি সব কষ্ট সহ্য করতে পারবো।
আমি: হ্যাঁ তুমি তো মায়ের আড়ালে এসব কথা বলো ঠিকই কিন্তু মায়ের সামনে বিড়াল।
আদিল: আমি বিড়াল?
আমি: হ্যাঁ।
আদিল: তাহলে তুমি বিড়ালের বউ হাহাহা..
আমি: ফাজলামো করো নাতো, সেদিন তুমি মায়ের অন্যায় কাজে প্রতিবাদ করলে না কেন? সেদিন কেন সবার সামনে বললে না তুমি আমাকে ভালোবাস?
আদিল: আম্মুকে আমি ভালো করে ছিনি তখন আমি আম্মুর বিরুদ্ধে গেলে আম্মু খুব রেগে যেতো যার ফলে তোমার আব্বুও রেগে যেতেন আর দুজনের রাগের শাস্তি পেতাম আমরা দুজন। আজ তো দুজন এক হতে পেরেছি আম্মুকে বেশি রাগালে আর কখনো এক হতে পারবো না। আমি আম্মুকে ছিনি তাই সেদিন চুপচাপ সবটা মেনে নিয়েছিলাম, আম্মু আর তোমার আব্বুর রাগ কমলে দুজন মিলে বুঝিয়ে বলবো এটাই আমার ভাবনা ছিল।
আমি: হুহ তাহলে সেদিন আমি চলে আসছিলাম দেখেও তোমার চোখে পানি ছিলনা কেন?
আদিল: বড় ভাইকে কবরে রেখে আসার ঠিক পরের মুহূর্তে নিজের স্ত্রীকে হারিয়ে ফেলা কতোটা কষ্টের বুঝতে পারছ? আমি সত্যি তখন পাথর হয়ে গিয়েছিলাম।
আমি: এসব নাহয় বুঝলাম কিন্তু সেদিন তুমি মানহাকে নিয়ে শপিং করতে গিয়েছিলে কেন?
আদিল: মানহা?
আমি: হ্যাঁ। (আদিল আমার চুলের খোঁপা খুলে দিয়ে চুল সহ ঘাড়ে নাক ঘষছে)
আদিল: আগেই তো বলেছিলাম মানহা নামে কেউ নেই।
আমি: কিন্তু মা যে সেদিন বললেন তুমি মানহাকে নিয়ে শপিং করতে গিয়েছ? আর মা এটাও বলেছেন আমাদের ডিভোর্স এর পর তোমার আর মানহার বিয়েটা তাড়াতাড়ি দিবেন।
আদিল: যে মহিলা আমাদের আলাদা করতে চায় তুমি তার কথা বিশ্বাস কর কেন? আর আমাদের ডিভোর্স এই জনমে হবে না বুঝেছ? আমি তোমাকে ভালোবাসি আর এই জনমের পর পরজনম বলতে যদি কিছু থেকে থাকে তাহলে সেই জনমেও আমি শুধু তোমাকেই ভালোবাসবো।
আমি: ইসস কত্তো ভালোবাসা।
আদিল: জ্বী আমি আমার আনিশা পাগলীকে অনেক ভালোবাসি।
আমি: (নিশ্চুপ)
বৃষ্টি ক্রমশ কমে আসছে আর তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃদু বাতাস। বৃষ্টির পর এই ঠান্ডা বাতাস খুব ভালো লাগছে, আমি বারান্দার রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে মৃদু বাতাস উপভোগ করছি আর আদিল দুষ্টুমি করে যাচ্ছে। আদিল আমার ঘাড়ে নাক ঘষছে চুমু দিচ্ছে আর পেটের শাড়ি সরিয়ে খালি পেটে আঙ্গুল দিয়ে খেলা করছে, ওর দিকে ঘুরে কিছু বলতে যাবো তখনি আমার দুঠোঁটে আঙ্গুল রেখে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো অপলক দৃষ্টিতে। কতক্ষণ দুজন একে অপরের দিকে তাকিয়ে ছিলাম জানিনা হঠাৎ আদিল মৃদু হেসে আমাকে কোলে তুলে নিলো। আদিল আমাকে নিয়ে রুমের দিকে এগুচ্ছে আর আমি দুহাতে ওর গলা জড়িয়ে ওর চোখের দিকে তাকিয়ে আছি।
আদিল: উফফ তুমি এতো মোটা কেন কম খেতে পারো না? (আমাকে বিছানায় শুয়ে দিতে দিতে আদিল কথাটা বললো ওর দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছি)
আমি: আমি মোটা? আব্বু তো আমাকে সবসময় বকে আমি চিকনা বলে।
আদিল: তোমার আব্বু তোমাকে ভালোবাসেন তাই বলেন।
আমি: তারমানে তুমি আমাকে ভালোবাস না? (আদিল লাইট অফ করতে গিয়েছিল আমার কথা শুনে জিহ্বায় কামড় দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে)
আমি: এই নাও বালিশ তুমি সোফায় ঘুমাবে, যে আমাকে ভালোবাসে না তাকে...
আদিল: আমিতো মজা করছিলাম।
আমি: চুপ করে সোফায় ঘুমিয়ে পড়ো, আমি ঘুমালাম।
আদিল: রাগ করেছ? এইযে কান ধরছি আজ দূরে সরিয়ে দিওনা প্লিজ!
আমি: (নিশ্চুপ)
আদিল: ওওও বউ। (আদিলের দিকে তাকালাম এই প্রথম বোধহয় ও এভাবে বউ বলে ডেকেছে, আদিল কান ধরে বসে আছে দেখে বালিশ ছুড়ে মারলাম সাথে সাথে আদিল বালিশ সরিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরলো)
আদিল: আই লাভ ইউ আনিশা পাগলী।
আমি: (নিশ্চুপ)
আদিল: তুমি সত্যিই পাগলী, নাহলে কেউ দুষ্টুমি করাতে এতো রেগে যায়? আমিতো দুষ্টুমি করে বলেছিলাম।
আদিল আমার গলায় একের পর এক চুমু দিচ্ছে আর আমি চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছি। আদিল আমার কপালে গালে চুমু দিতে দিতে হুট করে আমার দুঠোঁটে ওর দুঠোঁট ডুবিয়ে দিলো।
জানালার পর্দা সরিয়ে দিয়ে আদিলের দিকে তাকালাম, সূর্যের কিরণ ওর চোখেমুখে পড়েছে আর ও বিরক্তি ভরা চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ওর থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে তোয়ালে দিয়ে চুল মুছছি, হুট করে আদিল এসে তোয়ালে কেড়ে নিলো।
আমি: এইটা কি হলো?
আদিল: আমাকে ঘুমুতে দাওনি তাই এখন দুষ্টুমি করবো।
আমি: আদিল...
আদিল একহাতে আমার কোমড় জড়িয়ে ধরলো অন্যহাতে আমার গাল ধরে আমার ঠোঁটের দিকে ওর ঠোঁট এগিয়ে নিয়ে আসলো। দরজায় টোকা পড়লো দুজনেই একসাথে দরজার দিকে তাকালাম, আদিল রাগি চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে আর আমি মুখ টিপে হাসছি। আদিল তোয়ালেটা সোফায় ছুড়ে ফেলে দিয়ে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লো, আমি দরজা খুলতে আসলাম।
ভেবেছিলাম ফুফু এসেছেন কিন্তু দরজা খুলে সিহাব ভাইয়াকে দেখতে পাবো ভাবতেই পারিনি।
আমি: কি ব্যাপার তুমি এতো সকালে তাও আবার আমার রুমে টোকা দিচ্ছ?
ভাইয়া: তোকে সাবধান করার জন্য এসেছি।
আমি: কোন বিষয়ে?
ভাইয়া: কাল তোর হাজবেন্ড কি যেন নাম? ওহ আদিল ও এসেছিল। আমিতো জানি ছেলেটা খারাপ তাই বাসায় ঢুকতে দেইনি, আজ যদি আসে তুই তাড়িয়ে দিবি যেভাবে তোকে ওরা তাড়িয়ে দিয়েছে। ছেলেটা সত্যি খুব খারাপ।
আমি: সত্যি আদিল খারাপ? (দরজা থেকে সরে দাঁড়ালাম, ভাইয়ার নজর খাটের উপর পড়তেই চমকে উঠলো)
ভাইয়া: এই ছেলে এখানে কিভাবে...
আদিল: হাই ভাইয়া। (ভাইয়া আদিলের দিকে রাগি চোখে তাকিয়ে আছে আমি আর আদিল ভাইয়ার অবস্থা দেখে হাসছি)
ভাইয়া: ফুফু ফুফু... চাচ্চু কোথায় তোমরা দেখে যাও।
আমি: ভাইয়া কি হচ্ছে সাতসকালে আমার রুমে ওদের ডাকছ কেন?
ভাইয়া: ওরা এসে দেখে যাক তুই কতোটা ভালো মেয়ে।
আমি: এখানে ভালো আর খারাপের কি আছে?
ফুফু: কি হয়েছেরে সিহাব? (ধ্যাত ফুফু সত্যি সত্যি চলে আসলো, আমার চুল থেকে পানি পড়ছে ভেজা তোয়ালেটা ওখানে ফালানো ফুফুর সামনে কি লজ্জাটাই না পেলাম)
ফুফু: জামাই কখন এসেছে? (ফুফু হাসি মুখে আদিলের কাছে গেলেন আদিলও ফুফুকে সালাম করলো)
আমি: রাতে এসেছে।
ভাইয়া: দেখেছ ফুফু তোমার আনিশা কেমন মেয়ে? রাতের বেলা একটা ছেলেকে ছিঃ ছিঃ!
ফুফু: একটা থাপ্পড় মারবো, ওর রুমে পরপুরুষ আছে নাকি ওর হাজবেন্ডই তো, এমন ভাবে বলছিস যেন...
ভাইয়া: কিন্তু ও তো খারাপ ছেলে।
আদিল: খারাপ হতে যাবো কেন ভাইয়া? আমি আপনার বোনকে ভালোবাসি। তাছাড়া কে খারাপ সেটা তো রাতে প্রমাণ হয়েই গেছে।
ভাইয়া: মানে?
আদিল: না বলাটাই ভালো, বাড়ির জামাইকে রাতে কেমন আদর করেছেন এইটা নিশ্চয় সবাই শুনলে খুব একটা খুশি হবে না। (আদিল নিশ্চয় রাতের মাইরের কথা বলছে, রাতে তো ভাইয়ার দুজন লোক ওকে মেরেছে। ভাগ্য ভালো ওর কোথাও কেটে যায়নি)
ফুফু: সিহাব তুই এই সাতসকালে আনিশার রুমে কি করছিস?
ভাইয়া: না মানে?
ফুফু: এখন দেখছি গতকাল আনিশা যা বলেছিল তাই সত্যি, যা নিচে যা।
ভাইয়া: হুম।
ফুফু: আনিশা তোরা ফ্রেশ হয়ে আয় আমি নাশতা রেডি করছি।
আমি: ওকে ফুফু।
ফুফু চলে যেতেই দরজা বন্ধ করে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম, আমিতো ভেবেছিলাম আদিলকে দেখে সবাই রেগে যাবে। আদিল হাসছে দেখে ইশারায় ফ্রেশ হতে যেতে বললাম।
আব্বু: তুমি যে এখানে এসেছ তোমার মা সেটা জানেন? (আব্বুর প্রশ্ন শুনে আদিল খাবার রেখে আমার দিকে তাকালো, আমিও খাবার রেখে চুপ হয়ে রইলাম কি বলবো এবার আব্বুকে?)
আব্বু: তুমি এ বাড়ির জামাই তাই আসতেই পারো কিন্তু তোমার মা সেদিন যা করেছেন তা...
আদিল: আম্মু জানেন না আর জানলেও কোনো প্রবলেম নেই আমরা তো স্বামী স্ত্রী।
আব্বু: হ্যাঁ সেটাই তোমরা স্বামী স্ত্রী কিন্তু আদিল সেদিন তুমি কোনো প্রতিবাদ করনি কেন?
আমি: আব্বু ও সেদিন চুপ হয়ে থেকে ভালোই করেছে নাহলে মা আরো বেশি রেগে যেতেন।
আব্বু: কিন্তু...
আমি: আব্বু তুমি এসব চিন্তা না করে তোমার সিহাবকে একটু সাবধান করে দাও।
ভাইয়া: আমি কি করলাম?
আমি: আমার বিষয়ে মাথা ঘামানো বন্ধ করো।
আব্বু: কি হয়েছে সেটা তো বলবি?
আদিল: আনিশা বাদ দাও না।
আমি: কেন বাদ দিব? ভাইয়া কতো বড় অন্যায় করেছে ও তো নিজেও সেটা বুঝতে পারছে না।
আব্বু: আনিশা স্পষ্ট করে বলবি কি হয়েছে?
আমি: কি হবে তোমার আদরের সিহাব সন্ধ্যায় আদিলকে বাসায় ঢুকতে দেয়নি উল্টো ওর দুজন লোককে দিয়ে আদিলকে পিটিয়েছে।
ভাইয়া: মিথ্যে কথা, চাচ্চু ও মিথ্যে বলছে।
আব্বু: আদিল এই কথাটা সত্যি?
আদিল: (নিশ্চুপ)
আমি: আদিল বলছ না কেন?
আব্বু: সিহাব তোর সাহস হল কিভাবে আমার মেয়ের জামাই... (ফোনের রিংটোন বেজে উঠলো সবার নজর ফোনের দিকে)
আমি: আমি দেখছি।
আমি: হ্য...
মা: আদিল তোমাদের বাসায়? (এবার কি বলবো সত্যিটা বললে তো মা রেগে যাবেন)
মা: আসলে আদিলের তো ফোন হারিয়ে গেছে আর গতকাল থেকে ও বাসায় নেই ওর জন্য সবাই টেনশন করছি। আদিলের জন্য টেনশন করে মিতু...
আমি: মিতু? কি হয়েছে মিতুর?
মা: চারদিন আগে বড় ভাই মারা গেছে কাল থেকে ছোট ভাইকে পাওয়া যাচ্ছে না এতো কষ্ট মেয়েটা সহ্য করতে পারেনি, আজ সকালে মিতু মাথা ঘুরিয়ে পড়ে গিয়েছিল। নীরব মিতুকে নিয়ে হসপিটালে গেছে।
আদিল: আনিশা মিতুর কি হয়েছে? ফোনটা দাও আমার কাছে।
মা: আদিলকে বলো তাড়াতাড়ি যেন চলে আসে। (মা ফোন কেটে দিলেন, সব কিছু কেমন যেন স্বপ্নের মতো লাগছে)
আদিল: আনিশা কি হয়েছে?
আমি: তুমি বাসায় বলে আসনি তো সবাই টেনশন করছিল আর মিতু সকালে মাথা ঘুরিয়ে...
আদিল: ফোনটা দাও আমি নীরবকে ফোন করছি। (আদিল আমার থেকে ফোন নিয়ে নীরবকে ফোন দিল)
আদিল: নীরবের ফোন তো সুইচড অফ বলছে।
আমি: তুমি চলে যাও মিতু তোমাকে দেখলে সুস্থ হয়ে যাবে দেখো।
ফুফু: হ্যাঁ বাবা তুমি চলে যাও।
আদিল: ঠিক আছে।
আদিল রেডি হচ্ছে আমি পাশে দাঁড়িয়ে ভাবছি সত্যিই কি মিতু অসুস্থ নাকি এইটা মায়ের নতুন নাটক?
আদিল: আসছি।
আমি: হুম।
আদিল: মন খারাপ করে আছ কেন? আমি গিয়েই তোমাকে ফোন করে সব জানাবো।
আমি: হুম।
আদিল: আর খুব শীঘ্রই আম্মুকে বুঝিয়ে তোমাকে বাসায় নিয়ে যাবো।
আদিল আমার কপালে একটা চুমু দিয়ে বেরিয়ে গেল, আমি ওর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছি। বারবার মনে শুধু একটাই প্রশ্ন জাগছে সত্যি মিতু অসুস্থ তো? নাকি মা নতুন কোনো নাটক করে আদিলকে আমার থেকে কেড়ে নিলেন...
চলবে😍
