তবুও ভালোবাসি | পর্ব -১৮



সারাদিন পেরিয়ে রাত নেমে আসলো তবুও আদিলের ফোন আসলো না, আদিলের ফোনের অপেক্ষায় ড্রয়িংরুমে বসে আছি। এতোক্ষনে তো আদিলের পৌঁছে যাওয়ার কথা তাহলে আদিল ফোন দিচ্ছে না কেন? আদিল কি বুঝতে পারছে না আমি ওর ফোনের অপেক্ষায় অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি?
ফুফু: আর কতক্ষণ এভাবে বসে থাকবি?
আমি: জানিনা।
ফুফু: বললাম তো ফোন আসলে তোকে বলবো।
আমি: ফুফু প্লিজ!
ফুফু: তুই বরং একটা ফোন কিনে নে তাহলে হাতের কাছে থাকবে সবসময়।
আমি: আমি কিনে কি করবো আদিলের তো ফোন নেই।
ফুফু: তাহলে দুইটা কিন, আদিল আবার আসলে দিয়ে দিবি।
আমি: এইটা ভালো আইডিয়া।
ফুফু: পাগলী মেয়ে এবার রুমে গিয়ে একটু রেস্ট নে।
আমি: না।
ফুফু: উফফ বসে থাক তাহলে।
ফুফু রেগে চলে গেলেন, রুমে গিয়ে কি করবো আদিলের ফোন না পাওয়া পর্যন্ত তো মন স্থির করতে পারছি না তাছাড়া মিতুর কি হয়েছে জানতে হবে তো। হঠাৎ ফোনের রিংটোনে কেঁপে উঠলাম নিশ্চয় আদিল ফোন করেছে।

দৌড়ে এসে ফোন রিসিভ করলাম।
আমি: হ্যালো।
নীরব: ভাবি আমি নীরব।
আমি: হ্যাঁ বলো কেমন আছ তোমরা? মিতুর কি হয়েছে?
নীরব: আদিল আমাকে সব বলেছে আসলে মিতুর তেমন কিছু হয়নি সামান্য জ্বর।
আমি: মা যে বললেন...
নীরব: আম্মু আদিলকে বাসায় আনার জন্য মিথ্যে বলেছে।
আমি: কিন্তু মা জানলেন কিভাবে আদিল যে আমাদের বাসায় ছিল?
নীরব: সেটা তো আমিও বুঝতে পারছি না। (তাহলে কি আমার ধারণা ঠিক? মা আর সিহাব ভাইয়ার মধ্যে যোগাযোগ আছে আর ভাইয়া মা'কে এখানের সব খবর দেয়?)
নীরব: তোমার ফোন রুমে রেখে গিয়েছিলে আম্মু সেটা পেয়ে ভেঙ্গে ফেলেছে আর আদিলকে নিষেধ করেছে তোমাকে যেন ফোন না করে, আমি লুকিয়ে তোমাকে ফোন করেছি। ভাবি আমি যতটুকু বুঝতে পেরেছি আম্মু চায় না তোমার আর আদিলের এই বিয়ের সম্পর্কটা ঠিকে থাকুক তবে কেন চায় না কি কারণ সেটা বুঝতে পারছি না।
আমি: কারণ তো অবশ্যই একটা আছে নাহলে কোনো মা সন্তানের ক্ষতি চাইবে কেন? আচ্ছা নীরব আমাকে একটা কথা বলতো!
নীরব: কি?
আমি: উনি তো আদিলদের আসল মা নয় তাহলে উনি কে? উনার আসল পরিচয় কি?
নীরব: মানে? আসল মা নয়...
আমি: ওহ তুমি জানোনা তাহলে।
নীরব: আমিতো ছোটবেলা থেকে জেনে এসেছি উনিই আদিলের মা।
আমি: এইটা আদিলের থেকে জেনে নিবো।
নীরব: আদিল তোমার সাথে যোগাযোগ করতে পারবে কিনা জানিনা।
আমি: মানে?
নীরব: হ্যাঁ আম্মু আদিলকে নিষেধ করেছে আর আদিলকে চোখে চোখেও রাখছে।
আমি: আদিল আমাকে ঠিক ফোন করবে আমি জানি।
নীরব: এখনো এতো বিশ্বাস?
আমি: হুম।
নীরব: ঠিক আছে আমি ওকে বলবো ফোন করতে রাখছি এখন।
আমি: আচ্ছা।
ফোন রেখে সোফায় এসে বসলাম, আমি যা সন্দেহ করেছিলাম সেটাই সত্যি হলো। মিতু তেমন অসুস্থ নয় কিন্তু মা এইটাকে ইস্যু করে আদিলকে ঠিক আমার থেকে দূরে সরিয়ে নিলেন। মা এমন কেন করছেন? শুধু কি রাইমা আর ভাইয়ার মৃত্যুই কারণ নাকি অন্যকিছু? কলিংবেল এর শব্দে আমার ভাবনায় ছ্যাদ পড়লো, আশেপাশে কেউ নেই দেখে আমিই দরজা খুলতে গেলাম।

দরজা খুলে দেখি সিহাব ভাইয়া আর চাঁচি দাঁড়ানো। চাঁচি এসেছেন এবার সিহাবের ব্যবস্থা করতে পারবো।
চাঁচি: কেমন আছিস মা?
আমি: এইতো চাঁচি তুমি কেমন আছ?
চাঁচি: আমাকে তো রিসিভ করতে এয়ারপোর্টেও গেলি না।
আমি: তোমার ফ্লাইট কয়টায় কখন আসবে ভাইয়া তো আমাকে কিছুই জানায়নি।
চাঁচি: সিহাব..
ভাইয়া: আসলে আম্মু আনিশাকে সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম।
আমি: চাঁচি ভিতরে এসো।
চাঁচি: বাকি সবাই কোথায়?
আমি: চাঁচি আমাদের বাসায় থাকবে তো? নাকি আবার নিজের ছেলের কাছে চলে যাবে?
চাঁচি: ছেলের কাছে গেলে তোকে সাথে করে নিয়েই যাবো। (চাঁচির কথা শুনে উনার দিকে তাকালাম উনি হাসিমুখে সোফায় বসলেন সাথে সিহাব ভাইয়াও হাসছে)
আমি: আমাকে নিয়ে যাবে মানে?
ফুফু: ভাবি কখন এলে?
চাঁচি: এইতো এখনি।
ফুফু আর চাঁচি কথা বলছেন, আমার মাথা থেকে তো চাঁচির কথাটা কিছুতেই যাচ্ছে না। কেন বললেন উনি এই কথা? আমি যে সিহাব ভাইয়ার বাসায় যাই না সেটা তো চাঁচি ভালো করে জানেন।

আমি: চাঁচি তুমি যখন এসেছ এবার হিসাবনিকাশটা করা প্রয়োজন। (খাবার টেবিলে বসে কথাটা বললাম, চাঁচি বেশ অবাকই হলেন)
চাঁচি: সেদিনও তুই এই কথাটা বলেছিলি, আচ্ছা তুই কি সিহাবকে সন্দেহ করিস?
আমি: সন্দেহ করছি না আসলে সবকিছুর দায়িত্ব আমি নিতে চাইছি।
আব্বু: আনিশা এসবে জড়ানোর কি প্রয়োজন?
আমি: প্রয়োজন আছে আব্বু।
চাঁচি: ঠিক আছে তুই চাইলে হিসাব করতে পারিস কিন্তু তার আগে আমি একটা কথা বলতে চাই সবাইকে।
আমি: হুম বলো।
চাঁচি: ভাইয়া আনিশার ব্যাপারে সিহাব আমাকে সবকিছু বলেছে আমি চাচ্চি আনিশার ডিভোর্স হলে পর ওকে সিহাবের সাথে বিয়ে দিতে। (চাঁচির কথা শুনে হা হয়ে তাকিয়ে আছি উনার দিকে, আব্বু আর ফুফুও অবাক হয়ে একে অপরের দিকে তাকাচ্ছেন)
চাঁচি: এতে এতো অবাক হওয়ার কি আছে? বিয়েটা তাড়াহুড়ো করে হওয়াতে ছেলে ভালো পড়েনি শাশুড়ি দজ্জাল আর এমন বাড়িতে তো আমরা আমাদের মেয়েকে রাখতে পারিনা।
আমি: চাঁচি এসব তোমাকে কে বলেছে?
চাঁচি: সিহাব তো বললো তোর শাশুড়ি দজ্জাল জামাই তোকে ভালোবাসে না আ...
আমি: দেখেছ আব্বু আমি বলেছিলাম না এই সিহাবের ভিতরে ঘাপলা আছে।
চাঁচি: সিহাব তোকে পছন্দ করে তাই ডিভোর্স এর পর...
আমি: আমাদের ডিভোর্স হচ্ছে না চাঁচি, আমি আর আদিল দুজন দুজনকে ভালোবাসি। তোমার ছেলেকে মানসিক হসপিটালে ভর্তি করো ওর মাথা পুরোটাই গেছে।
চাঁচি: কিন্তু সিহাব যে আমাকে বললো তোর ডিভোর্স খুব শীঘ্রই হয়ে যাবে ও তোকে পছন্দ করে তাই বিয়ে করতে চায়। তাছাড়া তোদের সবকিছু তো সিহাব দেখাশোনা করে তাই ও বলছিল...
আমি: তাই ও বলছিল আমাকে বিয়ে করে সবকিছুর মালিক ও হয়ে যাবে। আব্বু ফুফু মিললো তো আমার কথা আমি বলেছিলাম না ওর মতলব ভালো না।
ভাইয়া: আনিশা তুই কিন্তু আমাকে ভুল বুঝছিস তোর ডিভোর্স হলে পর তোর জীবনটা নষ্ট হয়ে যাবে তাই...
আমি: আমাদের ডিভোর্স হচ্ছে না আর হলেও জীবন নষ্ট হতে যাবে কেন ডিভোর্সি নারীরা মানুষ নয়?
ভাইয়া: আনিশা তুই কিন্তু কথাটার অন্য মানে বের করছিস।
আমি: চুপ, এখন আমি বুঝতে পারছি আমার শাশুড়ি মায়ের সাথে তোমার যোগাযোগ আছে আর তুমিই এমন কিছু মা'কে বলেছ যার কারণে মা আমার উপর এতোটা ক্ষেপে আছে।
ভাইয়া: তুই কিন্তু এবার সত্যি বাড়াবাড়ি করছিস।
আমি: একদম চুপ।
আব্বু: আনিশা আস্তে।
আমি: তোমাদের কারণে ওর সাহস এতোটা বেড়েছে আব্বু, চাঁচি তুমি জানো ও কাল আদিলকে গুন্ডা দিয়ে পিটিয়েছে?
চাঁচি: কি?
ভাইয়া: আম্মু সব মিথ্যে।
আমি: কাল সকাল দশটার মধ্যে আমি সবকিছুর হিসাব চাই, আর চাঁচি ওকে বলে দিও আমি যদি জানতে পারি আমার শাশুড়ির সাথে ওর কোনো যোগাযোগ আছে তাহলে কিন্তু ওকে আমি পুলিশে দিবো।
ফুফু: আনিশা খেয়ে যা মা।
রাগে গজগজ করতে করতে রুমে চলে আসলাম।

আমার সাথেই কেন এতো ষড়যন্ত্র হচ্ছে? একদিকে জানতে পারছি না মা কেন এমন করছেন অন্যদিকে নিজের চাচাতো ভাই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এখন তো আমার মনে হচ্ছে সিহাব আমাকে বিয়ে করার জন্যই মা'কে উস্কিয়েছে, আমাকে বিয়ে করে সিহাব একা সবকিছুর মালিক হতে চায় এটাই ওর ভাবনা। সিহাবকে নাহয় চাঁচি শাস্তি দিবেন কিন্তু মা'কে আমি কি করে বুঝাবো? কি করে বুঝালে মা বুঝবেন আমি যে আদিলকে খুব ভালোবাসি?
ফুফু: আনিশা আনিশা... (বিছানায় শুয়ে শুয়ে এসব ভাবছিলাম হঠাৎ ফুফুর ডাকে উঠে বসলাম, এই মাঝরাতে ফুফু এতো রেগে আছেন কেন?)
ফুফু: ঘুমিয়ে গেছিস নাকি দরজা খুলছিস না কেন?
আমি: আসছি। (দৌড়ে এসে দরজা খুললাম, ফুফু আমার হাত চেপে ধরলেন। ফুফুকে তো কখনো এতোটা রাগতে দেখিনি, হঠাৎ এই মাঝরাতে কি এমন হলো?)
আমি: ফুফু কি হয়েছে?
ফুফু: চল আমার সাথে।
আমি: কোথায়?
ফুফু: ভাইয়ার রুমে।
আমি: কিন্তু কেন?
ফুফু: চল বলছি।

ফুফু আমাকে টেনে আব্বুর রুমে নিয়ে আসলো, আব্বু চেয়ারে বসে কাঁদছেন ফুফু আমাকে ধাক্কা দিয়ে আব্বুর পায়ের কাছে পেলে দিলো। আমি কিছু বুঝতে না পেরে আব্বুর দিকে তাকিয়ে আছি, আব্বু কাঁদতে কাঁদতে চোখ দুটু লাল করে ফেলেছেন।
আমি: আব্বু কি হয়েছে কাঁদছ কেন?
ফুফু: তোকে ছোট থেকে মায়ের ভালোবাসা দিয়ে আগলে রেখেছি যখন তখন তো শাসন করার অধিকার অবশ্যই আছে।
আমি: ফুফু এভাবে কেন বলছ? আমি বা রাইমা কেউই তো কখনো তোমার কথার বিরুদ্ধে চলিনি।
ফুফু: আশা করি আজ থেকে চলবিও না।
আমি: কি হয়েছে বলবে তো?
ফুফু: এই মানুষটা তোদের কি দেয়নি? যখন যা চেয়েছিস তাই পেয়েছিস আর আজ তোর জন্য এই মানুষটাকে এতো কাঁদতে হচ্ছে কেন?
আমি: আমি কি করেছি ফুফু?
ফুফু: ভাইয়া কখনো কারো কাছে ছোট হয়নি আজ শুধুমাত্র তোর চোখের পানি সহ্য করতে পারছে না বলে আদিলের মা'কে ফোন করেছিল কিন্তু উনি কিছু বুঝার চেষ্টা করেননি উল্টো ভাইয়াকে যা ইচ্ছা তাই শুনিয়ে দিলো, অপমান করেছে ভাইয়াকে। এই বুড়ো বয়সে এসে তোর জন্য ভাইয়া অপমান সহ্য করবে কেন?
আমি: মা আব্বুকে অপমান করেছে?
ফুফু: হ্যাঁ করেছে আর সাথে এইটাও বলেছে তুই খারাপ মেয়ে তাই আদিলের কাছে তোকে আমরা জোড় করে দিতে চাইছি।
আমি: (নিশ্চুপ)
ফুফু: আনিশা এখনো সময় আছে নিজের মনকে বুঝা, যে মানুষটা তোদের জন্য এতোকিছু করেছে তাকে এই বয়সে এসে কাঁদাবি? আর আদিল কেমন ছেলে মায়ের কথামতো চলে? হ্যাঁ মানছি মা বাবার কথা শুনা উচিত কিন্তু তাই বলে অন্যায় কাজ মুখ বুজে মেনে নিবে? মায়ের অন্যায় কথায় নিজের স্ত্রীকে ভুলে যায় এমন ছেলের জন্য কান্না করিস লজ্জা করে না তোর?
আব্বু: সায়মা চুপ কর।
আমি: না আব্বু ফুফুকে বলতে দাও এসব শুনে যদি আমার বেহায়া মন একটু শক্ত হয়।
আব্বু: আমি তোর জন্য কিছুই করতে পারলাম না, অনেক বুঝিয়েছি তোর শাশুড়িকে কিন্তু উনি আমাকে অপমান করলেন।
আমি: আব্বু কেঁদো না প্লিজ! তুমি তো আমাদের জন্য অনেক করেছ আর কি চাই? স্বামী সংসার আমার লাগবে না আমি তোমাদের কে নিয়ে বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে পারবো।
আব্বু: কিন্তু আনিশা...
আমি: আব্বু আমাকে ক্ষমা করে দাও কথা দিচ্ছি আর কখনো আদিলের জন্য কাঁদবো না, যারা তোমাকে অপমান করেছে তাদের কাছে ফিরে যেতে চাইবো না।
আব্বু: আমি তোকে কি ক্ষমা করবো তুই পারলে আমাকে ক্ষমা করিস বাবা হয়ে মেয়ের চোখের পানি দেখতে হচ্ছে।
ফুফু: ভুল তো আমরা আগেই করেছি ভাইয়া ভালোভাবে খুঁজ না নিয়ে আনিশাকে বিয়ে দিয়ে দিলাম আর এখন শাশুড়ি দজ্জাল। যা হবার হয়েছে ভাইয়া আনিশা আমাদের কাছেই থাকবে।
আব্বু: ও দজ্জাল নয় ও তো প্রতিশোধ নিচ্ছে।
ফুফু: কে? (আব্বু আনমনে কথাটা বলে ফেলেছিলেন ফুফুর প্রশ্নে হকচকিয়ে উঠলেন)
আব্বু: হ্যাঁ কেউ না।
আমি: আব্বু একটা প্রশ্ন করবো?
আব্বু: কি?
আমি: তুমি কি আমার শাশুড়ি মা'কে আগে থেকে ছিনতে? (আমার প্রশ্ন শুনে আব্বু কিছুটা ঘাবড়ে গেলেন, তাহলে কি সত্যি আব্বু মা'কে আগে থেকে ছিনেন?)
আব্বু: না না আমি ছিনবো কিভাবে? তোর শাশুড়িকে তো সেদিন দেখলাম এর আগে কখনো দেখিনি।
আমি: সেদিন মা ঘোমটা সরানোর পর তুমি চমকে উঠেছিলে কেন?
আব্বু: কোকোথথায় নানাতো।
আমি: তোমার চোখই বলে দিচ্ছে তুমি কিছু লুকাচ্ছ।
ফুফু: ভাইয়া? (ফুফুর ডাকে আব্বু ফুফুর চোখের দিকে তাকালেন, ফুফু কি বুঝলেন জানিনা তবে ফুফুর মুখ কেমন যেন মলিন হয়ে গেল)
ফুফু: আনিশা অনেক রাত হয়েছে ভাইয়ার ঘুমানো প্রয়োজন নাহলে অসুস্থ হয়ে পড়বে তুইও চল ঘুমাবি। আর হ্যাঁ আর কখনো যেন তোর মুখে আদিল নামটা না শুনি।
আমি: হুম।
আব্বু: যা ঘুমিয়ে পড়, চিন্তা করিস না একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে। (আব্বু আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন, খুব কষ্ট হচ্ছে যে আব্বু আমাদের এতো ভালোবাসেন তাকে কিনা আমার জন্য আজ অপমানিত হতে হলো)
ফুফু: কি হলো চল।
আমি: হুম চলো।
আব্বুর দিকে আর একবার তাকিয়ে চলে আসলাম। আব্বুর চোখে এখনো পানি টলমল করছে, অপমানের কষ্ট যে খুব যন্ত্রণাদায়ক।

রাতের নিস্তব্ধতায় বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি আর চোখের পানি মুছছি, আজ নাহয় আদিলের জন্য শেষ চোখের পানি ঝরিয়ে ফেলি আর কখনো কাঁদবো না। যে আমাকে ভালোবাসে না তাকে আমি কেন ভালবাসবো? যে আমাকে ভুলে থাকতে পারে তাকে আমি কেন ভুলে থাকতে পারবো না? যে মায়ের অন্যায় কথায় আমার থেকে দূরে থাকতে পারে তার থেকে আমি কেন আমার আব্বুর জন্য দূরে থাকতে পারবো না? আদিল যেমন ওর মা'কে ভালোবাসে আমিও তো আমার আব্বুকে ভালোবাসি। আমার আব্বু তো ওর মায়ের মতো খারাপ নয়, আব্বু খুব ভালো তাইতো আমার কষ্ট সহ্য করতে না পেরে নিজেকে আদিলের মায়ের কাছে ছোট করেছিলেন আর ওই মহিলা আব্বুকে অপমান করল। আব্বুর অপমানের কথা আমি কখনো ভুলবো না, আর কখনো আদিলকে মনে করে কাঁদবো না। আজকের এই অন্ধকার রাত কাটার সাথে সাথে কেটে যাবে আমার জীবনের সব দুঃখ কষ্ট আর যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতি গুলো। ভোরের আলো ফুটার সাথে সাথে আমার জীবনেও শুরু হবে নতুন অধ্যায়। নতুন করে শুরু করবো আমার একা পথচলা, যে পথচলায় থাকবে না আদিল নামের কোনো মরীচিকা...

চলবে😍
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url