তবুও ভালোবাসি | পর্ব -২০



আজ ঘুম থেকে উঠতে অনেক দেরি হয়ে গেছে তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে পরনের ড্রেসটা চেঞ্জ করে অফিসের উদ্দেশ্যে দৌড় দিলাম।
ফুফু: আনিশা নাশতা করে যা। (ড্রয়িংরুমে আসতেই ফুফু পিছন থেকে ডাকলেন, কিছু মুখে না দিয়ে গেলে উনি আমার পিছু পিছু ছুটবেন তাই টেবিলের কাছে আসলাম)
আমি: তাড়াতাড়ি কিছু একটা দাও অনেক দেরি হয়ে গেছে আজ।
ফুফু: চুপ করে বস এখানে।
আমি: ফুফু!
ফুফু: বস বলছি। (ফুফুকে রাগিয়ে লাভ নেই তাই চেয়ার টেনে চুপচাপ বসে পড়লাম)
ফুফু: কতোদিন বলেছি রাত জেগে কাজ করিস না, কে শুনে কার কথা রাতে কাজ করে দেরিতে ঘুমাস আর সকালে তাড়াহুড়ো করে না খেয়েই অফিসে দৌড়স।
আমি: তুমি কি কথা বলে যাবে নাকি খাবার দিবে?
ফুফু: দিচ্ছি তো, আর এই বেশে অফিসে যাচ্ছিস কেন চুল গুলোও তো আছড়াসনি।
আমি: লাগবে না দাওতো একটা পরোটা খেয়ে চলে যাই।
চাঁচি: আনিশা কাজে খুব মন দিয়েছে।
ফুফু: হ্যাঁ দেখতে দেখতে একটা মাস পেরিয়ে গেল আর এই এক মাসে আমাদের আনিশা কতো বদলে গেছে। যে চঞ্চল আনিশা সারাদিন ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করতো সে এখন পুরো একটা কোম্পানি একা সামলাচ্ছে।
আমি: আসছি আমি।
ফুফু: সাবধানে যাস।
তাড়াতাড়ি বেরিয়ে আসলাম, ফুফুর সামনে বেশিক্ষণ থাকলে ফুফু বুঝে ফেলবেন আমি যে বদলে যাইনি।

মধ্যে কেটে গেছে এক মাস, আচ্ছা ভালোবাসার মানুষকে ভুলার জন্য কি এক মাস যথেষ্ট সময়? নিজেকে কাজে ডুবিয়ে রেখেছি ব্যস্ত থেকেছি শুধু মাত্র আদিলকে ভুলার জন্য কিন্তু পারিনি। হাজার ব্যস্ততার মাঝেও প্রতি মুহূর্তে আদিলকে মনে পড়ে, আদিলের সাথে কাটানো মুহূর্ত গুলো স্মৃতি হয়ে মনে এসে উঁকি দেয়। ভুলতে পারিনি আমি আদিলকে আজো ভালোবাসি ওকে, আদিল আমাকে ঠকিয়েছে কিন্তু ওকে এই মন তবুও ভালোবাসে।
গাড়ি চালাচ্ছিলাম আর এসব আনমনা হয়ে ভাবছিলাম কখন যে অফিসের সামনে চলে এসেছি বুঝতেই পারিনি। অফিসে কাজ করতে হবে তাই মাথা থেকে আদিল নামটা ঝেড়ে ফেলে দিলাম।

প্রান্ত: মেডাম আসবো? (বসে বসে ফোন টিপছিলাম প্রান্তর ডাক শুনে মাথা তুলে তাকালাম আর ইশারায় ওকে ভিতরে আসতে বললাম)
প্রান্ত: ম্যানেজার নিয়োগ দিতে বলেছিলেন কিছু সমস্যার কারণে একটু দেরিতে দিতে হয়েছিল। আমরা পাঁচজন বাছাই করেছি এর মধ্যে থেকে আপনি ইন্টার্ভিউ নিয়ে একজনকে বাছাই করে নিন।
আমি: আজই ইন্টার্ভিউ?
প্রান্ত: না আপনি যেদিন বলবেন সেদিন। এখানে সবার ফরম গুলো আছে একটু দেখে নিন।
আমি: ঠিক আছে।
প্রান্ত: মেডাম একটা কথা বলবো যদি রেগে না যান?
আমি: বলুন।
প্রান্ত: পাঁচজন থেকে তো আপনি একজনকে বাছাই করবেন যে যোগ্য তাকেই বাছাই করবেন জানি কিন্তু...
আমি: আমতাআমতা না করে স্পষ্ট ভাবে বলুন।
প্রান্ত: একজন আমাকে ফোন করেছিল তার নাকি চাকরিটা খুব প্রয়োজন যদি আপনি একটু...
আমি: যে যোগ্য সেই চাকরিটা পাবে।
প্রান্ত: আমি উনার কাগজপত্র দেখেছি আমার মনে হয় উনিই পাঁচজনের মধ্যে সেরা। আপনি একবার উনার ফরমটা দেখুন নাম ফারাবী আহমেদ আদিল, আসলে উনি খুব রিকুয়েস্ট করছিলেন... (আদিল নাম শুনে চমকে উঠলাম)
প্রান্ত: কি হলো মেডাম চমকে উঠলেন যে?
আমি: হুম না কিছুনা। (আমিও না নাম শুনে চমকে উঠার কি আছে? এক নামে তো কতো মানুষ হয়)
প্রান্ত: আমার বিশ্বাস আপনি সবকিছু দেখার পর উনাকেই রাখবেন ইন্টার্ভিউ এর আর প্রয়োজন হবে না। (প্রান্তর কথা শুনে একবার ফরমটা দেখার ইচ্ছে হল, চারটা ফরম সরানোর পর আদিলের ছবি দেখে বেশ অবাক হলাম। আদিল আমার কোম্পানিতে জয়েন করতে চাইছে কিন্তু ওর চাকরির কি হলো?)
আমি: আচ্ছা উনি আগে কোথায় চাকরি করতেন?
প্রান্ত: তাতো জানিনা তবে উনি বলেছিলেন কি একটা কারণে চাকরিটা বাদ হয়ে গেছে, উনি সত্যিই খুব প্রবলেমে আছেন নাহলে এতোটা...
আমি: উনাকে আজ একবার অফিসে আসতে বলুন।
প্রান্ত: আপনি কথা বলবেন?
আমি: হ্যাঁ।
প্রান্ত: ঠিক আছে আমি এক্ষণি বলে দিচ্ছি এক ঘন্টার মধ্যে যেন চলে আসে। মেডাম ওর চাকরিটা কনফার্ম তো?
আমি: আগে কথা বলি?
প্রান্ত: ঠিক আছে।
প্রান্ত চলে গেল, এবার আদিল আসার অপেক্ষা। আমিতো ভেবে পাচ্ছি না আদিল আমাদের কোম্পানিতে জয়েন করতে চাইছে কেন? আচ্ছা আদিল কি জেনেশুনে আমার কোম্পানিতে আসছে নাকি না জেনে? এই প্রশ্নের উত্তর আদিল আসলে তবেই পাওয়া যাবে।

তানিয়া: আমি কোনো বাহানা শুনতে চাই না আমার বিয়েতে তোকে আর ফারজানাকে আসতে হবে ব্যস।
আমি: বিয়ের তো আরো এক সপ্তাহ বাকি আছে তখন নাহয়...
তানিয়া: তোকে আগে বলার কারণ হচ্ছে তুই যেন সময় বের করে আসতে পারিস।
আমি: বিয়ের আগে কোনো অনুষ্ঠানে যেতে পারবো কিনা জানিনা তবে বিয়ের দিন যাওয়ার চেষ্টা করবো।
তানিয়া: আনিশা ভালো হবে না কিন্তু।
আমি: বুঝার চেষ্টা কর প্লিজ!
"মেডাম আসবো" (তানিয়ার সাথে ফোনে কথা বলছিলাম প্রান্তর কন্ঠ শুনে দরজায় তাকালাম আদিল আর প্রান্ত দাঁড়িয়ে আছে। আদিল আমার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে। ইশারায় ওদের ভিতরে আসতে বললাম)
আমি: তানিয়া কাজ আছে এখন রাখছি।
তানিয়া: ঠিক আছে মনে রাখিস এক সপ্তাহ পর আমার বিয়ে।
আমি: হুম মনে থাকবে। (ফোন রেখে আদিলের দিকে তাকালাম আদিলের বিস্ময় যেন এখনো কাটছে না)
প্রান্ত: উনিই ফারাবী আহমেদ আদিল।
আমি: হুম আপনি যান আমি কথা বলছি।
প্রান্ত: ঠিক আছে।

আদিল আমার সামনের চেয়ারটায় মাথা নিচু করে বসে আছে। আমি ওকে এক দৃষ্টিতে দেখছি, অনেক শুকিয়ে গেছে, চুলগুলো উসকোখুসকো, কেমন যেন রোগা রোগা লাগছে। কতোদিন পর আদিলকে দুচোখ ভরে দেখছি।
আদিল: আনিশা সরি। (আদিলের কথায় ভাবনায় ছ্যাদ পড়লো, চোখ সরিয়ে নিলাম ওর থেকে। কতোদিন পর আদিলের কন্ঠ শুনতে পেলাম)
আমি: কেন?
আদিল: আমি জনতাম না এই কোম্পানি তোমাদের আর তুমি মালিক।
আমি: জানলে আসতেন না?
আদিল: (নিশ্চুপ)
আমি: আমিতো শুনেছি চাকরিটা আপনার খুব প্রয়োজন।
আদিল: হ্যাঁ।
আমি: আগের চাকরি কি হয়েছে?
আদিল: ঠিকমতো অফিসে যাইনি বলে চলে গেছে।
আমি: এখানে ঠিকমতো আসতে পারবেন?
আদিল: চাকরিটা কি হবে? (আদিল অবাক হয়ে তাকালো আমার দিকে)
আদিল: সত্যি চাকরিটা খুব প্রয়োজন।
আমি: হুম আগামীকাল থেকে আসবেন।
আদিল: ঠিক আছে।
আমি: একটা ব্যক্তিগত প্রশ্ন করতে পারি?
আদিল: আনিশা এভাবে কেন কথা বলছ?
আমি: এখানে আমি বস আর আপনি ম্যানেজার।
আদিল: হুম সরি, বলুন কি প্রশ্ন।
আমি: বাসার সবাই কেমন আছে?
আদিল: ভালো। (আদিল কিছুটা অবাক হয়েই উত্তর দিলো)
দুজন নিশ্চুপ হয়ে বসে আছি আর একে অপরকে আড়চোখে দেখছি। ভাগ্যের এই নির্মম খেলা দেখে বড্ড হাসি পাচ্ছে, ভাগ্য আমাকে আদিলকে দিবে না আবার আমি ওর থেকে পালিয়ে আসতে চাইলে সেটাও হতে দিবে না, ঠিক আদিল আবার আমার সামনে এসে দাঁড়ালো। আমি যতো ভুলতে চাই ভাগ্য আমাকে ততোই আদিলের মুখোমুখি করে দিচ্ছে। ভাগ্যের খেলা বুঝা সত্যিই অসম্ভব। আদিলের দিকে নজর পড়লো চুপচাপ উঠে চলে যাচ্ছে, আমি তাকিয়ে আছি এক দৃষ্টিতে, মুহূর্তের মধ্যেই আদিল চোখের আড়াল হয়ে গেল। ফোনের মেসেজটোনে স্তম্ভিত ফিরে পেলাম, অচেনা নাম্বার থেকে মেসেজ এসেছে "এলোমেলো চুলে তোমাকে দারুণ লাগে এককথায় এলোকেশী, কিন্তু এলোমেলো চুলগুলো প্রিয় মানুষটার সামনে মানায় অফিসে নয়" কে দিয়েছে এই মেসেজ আদিল নয়তো?

মেসেজের কথা ভাবতে ভাবতে খাবার নিয়ে বসলাম, দুপুরের খাবারটা ফুফু ড্রাইভারকে দিয়ে পাঠিয়ে দেয়। খাবার মুখে দিতে যাবো তখনি পিয়ন দৌড়ে এসে রুমে ঢুকলো।
পিয়ন: মেডাম..
আমি: কি হয়েছে আপনি হাপাচ্ছেন কেন?
পিয়ন: আদিল স্যার আর সিহাব স্যার ঝগড়া করছে।
আমি: কোথায়?
পিয়ন: আদিল স্যার এর রুমে। (আশ্চর্য আদিল এখনো বাসায় যায়নি অফিসে কি করছে ও? ওর তো কাল থেকে আসার কথা)
পিয়ন: তাড়াতাড়ি চলুন নাহলে খারাপ কিছু হয়ে যেতে পারে।
খাবার রেখে আদিলের রুমের দিকে দৌড় দিলাম।

সিহাব: ভালো হচ্ছে না কিন্তু তুই আমার অফিসে এসে আমাকে মারছিস।
আদিল: তোর অফিস কোথা থেকে আসলো রে? এইটা আমার বউয়ের অফিস জেনেই আমি এখানে এসেছি। তোর কি মনে হয় আমি চাকরি করার জন্য এসেছি? আমি আনিশার জন্য এখানে এসেছি কারণ তোর জন্য দুজন পুরো একটা মাস ধরে আলাদা আছি।
সিহাব: আমি আনিশাকে সব বলবো।
আদিল: কি বলবি তোকে মেরেছি? সেদিন রাতে যেমন তুই আমাকে মেরেছিলি কিন্তু কোনো প্রমাণ ছিলনা আজো আমি তোকে মারছি কিন্তু কোনো প্রমাণ থাকবে না। (দরজায় দাঁড়িয়ে ওদের মারামারি দেখছিলাম এবার মনে হচ্ছে আদিলকে আটকাতে হবে, ভাইয়ার কপাল থেকে রক্ত ঝরছে)
আদিল: তোর জন্য আমার জীবনের সব সুখ নষ্ট হয়ে গেছে তোর জন্য আমি আনিশার ভুল ভাঙাতে পারছি না, তোর জন্য দুজন আলাদা হয়ে আছি, শুধুমাত্র তোর জন্য চাকরি ছেড়ে এখানে এসে চাকরি করতে হচ্ছে।
আমি: আদিল কি হচ্ছে ছাড়ো ভাইয়াকে।
আদিল: ওকে ভাই বলতে তোমার ঘৃণা করেনা? আমাদের আলাদা করার জন্য ও কতো কি করেছে।
আমি: আদিল ছাড়ো বলছি। (আদিল ভাইয়াকে ছেড়ে দিল ভাইয়া চুপচাপ বেরিয়ে গেল)
আমি: তোমাকে চাকরি দিয়েছি কি অফিসে মারামারি করার জন্য?
আদিল: আমি এখানে চাকরি করলে ওর প্রবলেম কোথায়? কেন এসে আমাকে শাসায়? (আদিল আমার দিকে ঘুরে তাকাতেই দেখি ওর ঠোঁটের পাশে অনেকটা জায়গা কেটে গেছে, হাত নাড়ছে দেখে হাতের দিকে তাকালাম হাতও তো কেটে গেছে)
আমি: নিজের কি হাল করেছ দেখেছ?
আদিল: কিছু হবে না।
পিয়ন: এই নিন কাটা জায়গায় ব্যান্ডেজ করে দিন। (পিয়ন ওষুধের বক্সটা এগিয়ে দিল)
আমি: এখানে বসো। (আদিল চুপচাপ বসে আছে আর আমাকে এক দৃষ্টিতে দেখছে আমি ব্যান্ডেজ করে দিচ্ছি)
আমি: কি প্রয়োজন ছিল মারামারি করে নিজের রক্ত ঝরানোর?
আদিল: ওর এই মার খাওয়াটা খুব প্রয়োজন ছিল।
আমি: হ্যাঁ আর আব্বুকে যদি গিয়ে বলে?
আদিল: কোনো প্রমাণ তো নেই।
আমি: আমিতো দেখেছি।
আদিল: আমার বউ আমার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিবে নাকি?
আমি: ছাড়ো বলছি। (আদিল আমার কোমড় জড়িয়ে ধরে আমার পেটে নাক ঘষছে আমি চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছি)
আমি: আমাকে মিথ্যে বললে কেন?
আদিল: কোন মিথ্যে।
আমি: তুমি নিজের ইচ্ছায় চাকরি ছেড়ে এসেছ অথচ আমাকে বলেছ চাকরিটা চলে গেছে এই চাকরিটা খুব প্রয়োজন।
আদিল: এই কথা না বললে তুমি আমাকে চাকরি দিতে? ঢাকা আসার কোনো সুযোগ পাচ্ছিলাম না, হঠাৎ একদিন তোমাদের কোম্পানির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পেলাম ব্যস এই সুযোগ কাজে লাগালাম। চাকরি ছেড়ে দিয়ে আম্মুকে বলেছি চাকরি চলে গেছে আর নতুন একটা চাকরি ঢাকায় আছে এইটায় জয়েন করতে হলে ঢাকা আসতে হবে, আম্মুর তো আর কিছু করার নেই গতকাল সবাই ঢাকার বাসায় উঠেছি।
আমি: মিতু নীরব দাদু সবাই কেমন আছে?
আদিল: বাসায় গিয়ে নিজে দেখে এসো আমি বলবো না।
আমি: যেতে পারবো না বলে ঠাট্টা করছ?
আদিল: এই মন খারাপ করছ কেন আমি মজা করে বলেছি।
আমি: আদিল আমি আর ফিরে যেতে চাই না, আমিতো তোমাকে ভুলে গেছিলাম কেন ফিরে এসেছ?
আদিল: সত্যি কি ভুলতে পেরেছিলে? (আদিল আমার দুগাল দুহাতে ধরে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে, সত্যিই তো ভুলতে পারিনি ওর চোখের দিকে তাকিয়ে মিথ্যে বলবো কিভাবে?)
আমি: ছাড়ো আমাকে হঠাৎ কেউ চলে আসবে।
আদিল: আনিশা আমাকে কিছুদিন সময় দাও কথা দিচ্ছি আমি সব সমস্যা সমাধান করে আম্মুকে বুঝিয়ে তোমাকে বাসায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবো।
আমি: (নিশ্চুপ)
আদিল: এইটুকু ভরসা আমার উপর করতে পারবে না? শেষ বার বিশ্বাস কর প্লিজ! (মন তো তোমার উপর ভরসা করতে চায় আদিল কিন্তু এখন যে আব্বু আর ফুফুও আমাদের পক্ষে নেই তাছাড়া তুমি তো মায়ের সামনে একরকম আর আমার সামনে একরকম)
আদিল: আমার দিকে তাকিয়ে কি এতো ভাবছ?
আমি: আদিল প্লিজ আমাকে একা থাকতে দাও, এসব আর নিতে পারছি না আমি। এখন একটু একা থাকতে চাই।
আদিল: এক মাস একা থেকেছ হয়নি? আর একা থাকতে দিতে পারবো না।
আমি: আদিল প্লিজ ছাড়ো। (আদিলকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলাম ও হা হয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে)
আদিল: এতো পরিবর্তন?
আমি: হ্যাঁ, আর পরিবর্তন হতে তুমি বাধ্য করেছ আমাকে।
আদিল: আনিশা আমি...
আমি: এই অফিসে যেন তোমাকে আর না দেখি।
চলে আসলাম ওর চোখের সামনে থেকে। বিয়ের পর ওকে লুচু বলে ডাকতাম ঠিকই ডাকতাম আসলেই ও একটা লুচু, সামনে থাকলে একরকম চোখের আড়াল হলেই অন্যরকম।

আদিলের উপর খুব রাগ হচ্ছে যদি ভালোই বাসে তাহলে মায়ের অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারে না কেন? কেন আমাকে বাসায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারেনা? মা যা বলেন ও চুপচাপ তাই মেনে নেয়, যতো ভালোবাসা আছে সব আমার সামনে আসলেই উতলিয়ে পড়ে যত্তোসব। রুমে এসে চেয়ারে বসতে বসতে এসব ভাবছিলাম হঠাৎ দরজা লাগানোর শব্দে কেঁপে উঠলাম, আদিল রুমে ঢুকে দরজা লক করে ফেলেছে।
আমি: আদিল কি হচ্ছে দরজা লক করেছ কেন? (কিছুনা বলে চুপচাপ আমার দিকে এগিয়ে আসছে)
আমি: আদিল এইটা অফিস প্লিজ এখানে...
আদিল: সহজ ভাষায় যখন বলি ভালোবাসি তখন তো বিশ্বাস করো না উল্টো হাজারটা কথা শুনিয়ে দাও তাই এখন...
আমি: আদিল.. (কিছু বুঝে উঠার আগেই আমার গালে থাপ্পড় বসিয়ে দিল, আমি হা হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছি। আদিল আমার একহাত জোড়ে চেপে ধরে আমাকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরলো)
আদিল: তোমার মন যা বলে সবসময় সেটাই সঠিক এটাই তো ভাবো তুমি? একবারো জানতে চেয়েছ এই এক মাস আমার কিভাবে কেটেছে?
আমি: (নিশ্চুপ)
আদিল: এক মাস আগে ফোন করতে নিষেধ করেছিলে তারপর আর কখনো ফোন করনি বা আমার খোঁজ নাওনি এই তোমার ভালোবাসা? আমিতো তোমার মতো অভিমান করে বসে থাকতে পারিনি তুমি এই এক মাস কি করেছ কখন কোথায় গিয়েছ সবকিছুর খোঁজ আমি রেখেছি।
আমি: (নিশ্চুপ)
আদিল: একবারো জানার চেষ্টা করেছ আম্মু কেন তোমাকে সহ্য করতে পারে না? একবারো বুঝার চেষ্টা করেছ হয়তো আম্মুকে কেউ ভুল বুঝাচ্ছে? চেষ্টা করবে কেন তুমি তো ধরেই নিয়েছ আমি তোমাকে ভালোবাসি না। (নিশ্চুপ হয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছি, সত্যিই তো আদিলের উপর অভিমান করে একবারো জানার চেষ্টা করিনি মা এমন কেন করছেন। আদিল একহাতে আমার তুথুনি ধরে আমার চোখের দিকে তাকালো)
আদিল: আনিশা বিশ্বাস করো আমি তোমাকে ভালোবাসি। আম্মুর অন্যায়ে প্রতিবাদ না করারও কারণ আছে আর আম্মুর কথামতো চলারও কারণ আছে। আমাকে প্লিজ কিছুটা দিন সময় দাও আমি সব ঠিক করে নিবো।
আমি: (নিশ্চুপ)
আদিল: সরি এতো জোড়ে থাপ্পড় দিতে চাইনি কিন্তু এই থাপ্পড়টা না দিলে তুমি এভাবে শান্ত হয়ে আমার কথা গুলো শুনতে না। (আদিল আমার কপালে কপাল ঠেকিয়ে কাঁদছে, আমারো কান্না পাচ্ছে সত্যিই তো আমি অভিমানে একবারো আদিলকে বুঝার চেষ্টা করিনি, একবারো আমার মনে হয়নি যে আদিল হয়তো কোনো প্রবলেমে আছে)
আদিল: ব্যথা পেয়েছ তাই না?
আদিল আমাকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলো আমিও চুপচাপ জড়িয়ে ধরলাম ওকে। আমার জড়িয়ে ধরা দেখে বেশ অবাক হয়েই তাকালো আমার দিকে তারপর মুচকি হেসে আমার কপালে ওর ঠোঁট ছুঁয়ে দিলো...

চলবে😍
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url