Breaking News

ধনীর মেয়ে বস্তির ছেলে । পর্ব - ০৭ এবং শেষ



মায়া বিছানা থেকে নেমে আমার পিছনে গিয়ে দাড়ালো? তারপর আমার মাথায় হাত বুলাতে লাগলো?

আমিঃ কি হলো এরকম করছিস কেনো?
মায়াঃ যাওয়ার সময় কি বলে গিয়েছিলে?
আমিঃ কোন সময়?
মায়াঃ মনে নেই! ওয়াশরুম এ আমাকে কি বলে গিয়েছিলে?
আমিঃ তুই ধিরে ধিরে বুদ্ধিমান হইতাছত? এটাই বলে গেলাম?
মায়াঃ আমি ঐ কথাগুলো কেনো বলছিলাম জানিস?
আমিঃ না! কেনো?

মায়াঃ কারণ এগুলো বললে তোর একটু মায়া হবে আর তুই আমাকে সিমপিথি দিবি? কিন্তু কুত্তা তুই তো একটুও দরদ দেখালি না!
আমিঃ তো এখন কি করবো আমি?
মায়াঃ তোর কিছুই করতে হবে না যা করার আমিই করবো?
আমিঃ কেনো কি করবি তুই?
মায়াঃ এটা করবো। (বলেই!
মায়াঃ এটা করবো? (বলেই আমার চুলগুলো পিছনের দিকে টেনে ধরলো)
চুলগুলো টানতেই মাথাটা উপরের দিকে আর মায়ায় তার মাথাটা নিচের দিকে নামিয়ে আমার চুলগুলো আকড়ে ধরে আমার ঠোটগুলো কে কামড়ে ধরলো?
আর সমানে চু*মু আকতে থাকে? আর ওর চুলগুলো ছাড়া ছিলো তাই চুলগুলো নিচের দিকে ঝুকে পড়ে আমার মুখটা চারদিক থেকে ঘিরে রাখলো!
আর এতে মায়াও তার কাজও চালিয়ে গেলো? এভাবে কতক্ষণ ছিলাম তা বলতে পারবো না
হঠ্যাৎ মায়া আমাকে ছেড়ে দিয়ে দিলো এক দৌড় সোজা চলে গেলো বাহিরে?
আর আমি ভাবতে লাগলাম এতক্ষণ আমার সাথে কি হলো? কি কঠিন সময় গেলো আমার? আরেকটু হলে শ্বাস আটকে মারা যেতাম?

যাই হোক এসব চিন্তা বাদ দিয়ে উঠে চলে গেলাম ফ্রেশ হতে? ফ্রেশ হয়ে এসে চলে তুষারের এর কাছে?
তুষারঃ কিরে কি খবর?
আমিঃ পিছনে বাশ থাকলে না মানুষ খুব আরামেই থাকে?
তুষারঃ ওহ! তাহলে তো তুই ভালোই? তা এখানে আসতে বলার কারণটা কি বল?
আমিঃ আসলে মায়া তো আমাকে শেষ করে দিতেছে?
তুষারঃ কেনো কি করেছে মায়া?
আমিঃ তাহলে শুন? (বলেই তুষারকে সব খুলে বললাম)
তুষারঃ সবকিছু তো তোর কথা মতোই চলতেছে তাহলে সমস্যা কোথায়? ওও তো তোর বউয়ের মতো কাজ করে যাচ্ছে?
আমিঃ আরে ওর কষ্ট হইতেছে? তাও সবকিছু মুখ বুঝে সহ্য করে যাচ্ছে? কিছুদিন পর সহ্যের বাধ ভেঙ্গে গেলে তখন দিবে আরেক মোড়?
তুষারঃ তাহলে তুই আরো কিছুদিন দেখ? আর এদিকে ওর অভ্যাস হয়ে গেলে তখন নাহয় ওকে কবুল করে নিস?

আমিঃ ওকে? (বলেই ওর থেকে বিদায় নিয়ে বাসায় চলে আসলাম)
এভাবে চলে গেলো কিছু দিন? পরিক্ষা শেষ করে একটা কোম্পানিতে চাকরি করি?
আর এদিকে মায়াও আমাদের ঘরের একটা মেয়ে হয়ে গেছে? সব চলাচল আমাদের মতোই?
কিন্তু কেনো জানি ওকে মেনে পারতেছি না?
এক সকালে,
তুষারঃ কিরে আর কতো ঘুমাবি?
আমিঃ তুই আসলি কখন?
তুষারঃ সবার সাথেই আসছি? তা উঠ সবাই তোর জন্য অপেক্ষা করতেছে?
আমিঃ কিসের?
তুষারঃ আজকে তোর আর তানহার না বিয়ে তাই তো সবাই এসেছে উঠ তাড়াতাড়ি?
আমিঃ তোর মাথা ঠিক আছে আমি মায়াকে বিয়ে করবো?
তুষারঃ আবে উঠ তুই করবি তোর চৌদ্দগুষ্ঠি করবো। মেয়েটারে ফাউ আর কত খাটাবি? এবার তো মেনে নে?
আমিঃ মায়া কই ওর সাথে আমার কথা আছে?

তুষারঃ হুম তুই বস? আমি ওকে পাঠাচ্ছি? (বলেই তুষার চলে গেলো)
কিছুক্ষন পর মায়া আসলো?
মায়াঃ আমারে ডাকছিলি?
আমিঃ হুম?
মায়াঃ কেনো?
আমিঃ দেখ আমি এই বিয়েটা করতে পারবো না? কারণ আমি চাইনা তোর একটু পাগলামির জন্য তোর লাইফটা নষ্ট হয়ে যাক?
আমাকে বিয়ে করলে তোকে সারাদিন কাজ করতে হবে? আর যদি তুই এসব পাগলামি বাদ দিয়ে ভালো কোনো ছেলেকে বিয়ে করিস, তাহলে সেখানে তোর কথাই সব চলবে?
দেখ পাগলামি না করে এবার একটু বুঝতে শিখ? নাহলে সারাজীবন তোকে প্রস্তাতে হবে?
তাই বলতেছি যা গিয়ে বিয়েটা আটকে দিয়ে নিজের মতো করে বাচ? আর এই কয়েকদিনে তুই বুঝতে পেরেছিস যে মধ্যবিত্ত লাইফটা কত কষ্ট?
মায়াঃ দেখ আমি কিসে খুশি তা কি তুই আমার থেকে বেশি বুঝিস? (মায়ায় চোখগুলো ছলছল করতেছে)
আমিঃ দেখ পাগলামি করিস না!
মায়াঃ তুই কি খুশি আমি যদি বিয়েটা ভেঙ্গে দেই?

আমিঃ হুম?
মায়াঃ ঠিক আছে? (মায়া বলেই চলে গেলো)
কিছুক্ষণ পর তুষার রুমে আসলো?
তুষারঃ কিরে তুই কি বললি মায়াকে যে ওও বাহিরে গিয়ে বিয়ে করবে না বলতেছে?
আমিঃ আরে ওরে কিছুক্ষন বুঝি বললাম? ওও হয়তো বুঝতে পেরেছে?
তুষারঃ তোর কথায় ঘাবলা আছে রে?
আমিঃ কোনো ঘাবলা নেই? সবই তোর মনের ভুল?
তুষারঃ আচ্ছা তুই থাক আমি গেলাম? (বলেই তুষার চলে গেলো)
তারপর সারাদিন এভাবেই কেটে গেলো? মায়াও ও নিজের বাসায় চলে গেছে? বিকেলে তুষার কল দিয়ে দেখা করতে বললো?
আমিঃ কিরে ডাকলি কেনো? (রাজ)
তুষারঃ তোর সাথে কথা আছে? চল ঐ রুমটায় গিয়ে বসি? (সাকুয়াত)
আমিঃ হুম চল? (বলেই ওর সাথে একটা রুমে ডুকলাম)
রুমে ডুকতেই ও দরজাটা লাগিয়ে দিলো? আর তখনই কয়েকজন লোক মিলে আমাকে উড়াধুরা মারতে লাগলো? আমি বুঝতেছিলাম না ওরা কারা বা কেনোই মারতেছে আমাকে?
মেরে আমাকে একদম শুয়ে দিয়েছে?

তুষারঃ সালা ভালো ভাবে এতদিন বলছি কথা কানে নেস নাই? এখন কেমন লাগে বল? (সাকুয়াত)
আমিঃ তুষার তুই? এভাবে আমাকে মারতে পারলি?
তুষারঃ কালকে মায়াদের বাসায় যদি বিয়ের প্রস্তাব না পাঠাবি নাহলে একেবারে জানে মেরে দিবো?
আমিঃ …
তুষারঃ যদি নিজের ভালো চাস তাহলে এখনি ফোন করে মায়াকে বিয়ের কথা বল?
আমিঃ ….
তুষারঃ মেয়েটা না খেয়ে সারাদিন কাদতেছে? তাই এখন যেই মারগুলো দিলাম সেগুলো তার প্রতিশোধ?
আমিঃ ….
তুষারঃ এবার ফোন বেড় কর আর ফোন দে মায়া কে?
আমিঃ হুম দিতেছি? (বলেই পকেট থেকে ফোন বেড় করে ফোন দিলাম মায়াকে?)
মায়াঃ কি হলো আবার ফোন দিলি কেনো?
আমিঃ বিয়ে করবি আমাকে?
মায়াঃ কিহ!

আমিঃ বিয়ে করবি আমাকে?
মায়াঃ হুম! কিন্তু তুই তো সকালে না করে দিলি আমাকে?
আমিঃ ঐসব কথা বাদ এখন বল বিয়ে করবি কিনা?
মায়াঃ হুম? তুই যখন বলবি তখনই হবে বিয়ে! বল কখন বিয়ে করবি আমাকে?
আমিঃ পরশু! সারাদিন খেয়েছিস কিছু?
মায়াঃ হুম? তুই খেয়েছিস?
আমিঃ এখন কয়েকটা খা নাহলে আমাকে আরো খেতে হবে?
মায়াঃ কি খেতে হবে তোকে আরো?
আমিঃ তুই জেনে কি করবি? তুই খাওয়া-দাওয়া করে বিয়ের জন্য রেডি হ?
মায়াঃ আচ্ছা? (বলেই ফোনটা কেটে দিলো)
আমিঃ নে হয়েছে এবার?
তুষারঃ হুম তবে আরো একটা কথা?
আমিঃ কি কথা?
তুষারঃ বিয়ের ঠিক তিন মাসের মাথায় যদি সুখবর না আসে আমার কানে তাহলে আবার তোকে এমন আপ্যায়ন করা হবে বুঝলি? মানে মায়াকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে হবে বুঝচ্ছস?
আমিঃ হুম?

তুষারঃ তাহলে এবার চল ডাক্তারের কাছে? মারগুলো হজম করাতে হবে?
তারপর কয়েকজন ধরে নিয়ে ডাক্তারের হালকা চিকিৎসা করিয়ে বাসায় দিয়ে আসলো?
দেখতে দেখতে বিয়েটা হয়ে গেলো?
সবাই অনেক খুশি শুধু আমি বাদে না জানি ভবিষ্যৎ কি হয় আমার জীবনে?
চিন্তা শুধু একটাই মায়া আবার বিরক্ত না হয়ে যায় এই মধ্যবিত্ত লাইফটাতে? কি যেনো হয় আমার জীবনে উপর ওয়ালাই জানে?
আসলে মায়াকে আমিও ভালোবাসি তবে হারানো ভয়ে কোনোকিছু স্বাভাবিক ভাবে ভাবতে পারি না?
মধ্যরাত্র এসব ভাবতেছিলাম ছাদে দাড়িয়ে তখনই পিছন থেকে আব্বু ডাক দিলো?
আব্বুঃ কি হলো এতো রাতে বাহিরে কি করো? বউমা ঘরে একা একা যাও ঘরে যাও?

আমিঃ হুম! (বলেই নিচে চলে আসলাম)
রুমে ডুকে দরজা লাগিয়ে দিলাম। পিছনে ফিরতেই মায়া আমাকে নিজের সব শক্তি দিয়ে জড়িয়ে ধরলো?
মায়াঃ ভালোবাসি হুসাইন তোকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসি?
আমিঃ হুম আমিও বাসি? তবে কোনোদিন ছেড়ে যাবি না তো?
মায়াঃ ছেড়ে যাবো? তবে জীবন থাকতে না? মরার পর যাবো?
তারপর মায়াকে কোলে করে বিছানায় নামিয়ে দিলাম? আর ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম?
মায়াঃ কি হলো এভাবে তাকিয়ে আছিস কেনো?
আমিঃ এমনি?
মায়াঃ আদর করবি না আমাকে?
আমিঃ হুম?
মায়াঃ তাহলে তাকিয়ে না থেকে এখানে আয়? (বলেই মায়া আমাকে একটানে শুয়িয়ে দিলো?)
তারপর যা হলো আমি বলতে পারবো না? কারণ আমি এখনো সিঙ্গেল। তাই কিভাবে আদর করতে হয় আমি যানি না। যারা বিয়ে করেছেন।বুঝে নিয়েন তাদের সাথে।

১ ঘন্টা পরে।
মায়া আমার উপরে উপরে শুয়ে আছে? আর আমি মায়ায় মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেছে?
মায়াঃ একটা কথা বলবো হুসাইন?
আমিঃ হুম বল?
মায়াঃ তুই তো বিয়ে করবি না বলে সকালে না করে দিয়েছিলি তা বিকেলে আবার রাজি হলি কারণ টা কি বলতো?
আমিঃ ঐ কথাটাই আর বলিস না? ঐ বিকেলে তুষার আমাকে ফোন দিয়ে ডাকে। (তারপর সব বললাম মায়াকে)
মায়াঃ কিহ ওও আমার স্বামীরে মারছে রাখ ওর এখনি খবর নিতাছি? (বলেই মায়া তুষারকে ফোন দিলো)
মায়াঃ ঐ তুই হুসানরে মারলি কেনো?

তুষারঃ সোজা কথায় কাজ হইছিলো না তাই আঙ্গুলটা একটু বাকা করছিলাম আরকি? আর তোকে না ওয়াদা দিছিলাম যে কোনো ভাবেই হোক না কেনো হুসাইনকে তোর করে দিবো?
মায়াঃ যা করার করছোত এখন থেইকা আর কোনো কিছুই। করবি না? এখন থেকে ওও শুধুই আমার যা করার আমি করবো ওকে? বুঝচ্ছত?
তুষারঃ হুম? গুড নাইট এন্ড হ্যাপি মেরিড লাইফ? (বলেই ফোনটা কেটে দিলো)
মায়াঃ গুড নাইট? (বলেই ফোনটা রেখে দিলো)
তারপর আমাকে জড়িয়ে ধরে গুমিয়ে গেলো মায়া? আমিও আস্তে-আস্তে হারিয়ে গেলাম ঘুমের রাজ্যে?

<>সমাপ্ত<>

No comments

info.kroyhouse24@gmail.com