Breaking News

স্মৃতির বধ্যভূমি / ছেলেবেলা

স্মৃতির বধ্যভূমি

স্মৃতির বধ্যভূমি হয় যদি যন্ত্রণার কাটা

কত যত্নে লালিত ছিল
মোদের প্রেমের ফুলদানিটা
কালবৈশাখীর কালো ঝড়ে
প্রেমের ফুলদানিটা যদি ছিটকে না পড়ে
জড়িয়ে থাকে মোর বাহু ডোরে
সে প্রেমের নাম কি দিব বলো মোরে ?
বর্ষার ঢল নামে যদি চোখের কোঠায়
কান্নার প্লাবনে ভাসে যদি আঁখি
তবুও তোমাকে পারব না দেখতে প্রেম দুঃখী
অনুতাপের উত্তপ্ত তোপে
হাজার ব্যথার স্রোতে
রক্তধারা বহে যদি এই বুকে
তবুও হাত দুটি ছাড়তে পারব না
শত কষ্টের মুখে ।
অনাবৃষ্টি আর খরার দাবানলে
যদি মাঠ ঘাট চৌচির হয়ে পড়ে
তোমার আমার ছোট্ট নিরে
ভালোবাসা যদি শ্রাবণ হয়ে ঝরে
সে প্রেমের নাম কি দিব বলো না মোরে ।
স্মৃতির বধ্যভুমি হয় যদি যন্ত্রণা আর কাটা
আকাশে তারার ভিড়ে
অভিমানে লুকিয়ে যাবে চাঁদটা
রাতের পর রাতের প্রহরে
কেঁদেছ কত প্রেম বিরহেে
জোসনার আলো সাক্ষী হয়ে
দেখেছিল তা দুচোখ ভরে
সে প্রেমের নাম কি দিব বলো মোরে ??
স্মৃতির বদ্ধভূমি হয় যদি যন্ত্রনার কাটা
সাগরে লোনাজল ক্ষিপ্ত হয়ে উঠবে জোয়ার ভাটায়
জলে থাকা প্রাণী সব
ক্রুদ্ধ মনে সাগর থেকে উঠবে ফেটে
ভালোবাসার কলঙ্ক যদি পৃথিবীতে না মিটে,
ভাল লাগার এই ভালবাসা
মায়ার জালে আজ বেঁধেছে বড় বাসা
ছাড়তে পারিনা যাকে
বেঁচে থাকার নেশায়
সে প্রেমের নাম কি দেবো
পাইনা খুঁজে কোন ভাষা ।
জলে ভাসা পদ্ম যদি
জলেই ফোটায় ফুল
ফুলের গন্ধে জলের মাঝে
কত সুন্দর অপরূপ সাজে
প্রেম পিরিতির এমন রীতি
পৃথিবীতে নাই আর দ্বিতীয়টি ।
মানুষ কেন ভালোবেসে?
মানুষের মর্যাদা হারায় শেষে
এ প্রশ্ন আজ আমার সবার কাছে ??

ছেলেবেলা

কিচিরমিচির শব্দ কথায় কৃষ্ণচূড়ার ডালে
পাখির মেলা বসতো রোজই পড়ন্ত বিকেলে।
ডাহুক পাখির কলরবে কাঁপতো মাছের প্রাণ
মগডালেতে দুষ্টু কোকিল করতো কুহুতান।
রক্তরাঙা পলাশ শিমূল যেন লাজুক বঁধু
মৌমাছিরা বৃথাই তাতে খুঁজে ফিরতো মধু।
জৈষ্ঠ মাসের প্রখর রোদে ধান শুকাইতো মাসী
গাছের ছায়ায় পরম মায়ায় গা জুড়াইতো চাষী।
চৈত্র দিনে বকুলতলায় দোয়েল পাখির নৃত্য
রাখাল ছেলে গলা খুলে গেয়ে উঠতো গীত্য।
বষা'কালে বৃষ্টি হলেই উথাল জলের টান
রাত নিশিতে সাপের কাছে ব্যাঙের অাহ্বান।
শাপলা ফুলের মালা গেঁথে বন্য কিশোর দল
কড়া চোঁখের মায়ের শাসন সব যেন বিফল।
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে দিন কেটেছে বেশ
ভুলেই যেতাম কোন খেয়ালে বেলা হতো শেষ।
পাকা জামের কাঁচা আমের কী যে মধুর রসে
চুরির ভয়ে খাটাশ মোড়ল রাত কাটাইতো বসে।
পাল তুলিয়া ঘাটের মাঝি জারী গানের সুরে
পাড়ি দিতো বহু দুর পথ বাঁশের ভেলায় চড়ে।
জোছনা রাতে উঠোনেতে গল্প করতো দাদী
ডালিম কুমার পাড়ি দিলো তেরোখানা নদী।
মাঠের পরে মাঠ পেরিয়ে সবুজ ঘাসের বন
দুচোঁখ মেলে দেখলে পরে ভরে উঠতো মন।
ইট পাথরের এই শহরে কী জানি কী নাই
ইচ্ছে করে অাবার যদি ছেলেবেলা পাই।

No comments

info.kroyhouse24@gmail.com